
সিনিয়র_আপুর_সাথে_প্রেম
পার্ট_২
#রাজন
$$
$$
আমি আমার রুম ছেড়ে অন্য রুমে গেলাম😥
রুমে যেয়ে কাপড় চেঞ্জ করলাম,,,,।
একটু পর মাদার ইন্ডিয়ার ডাক পড়লো,,,,।
আমি নিচে গেলাম,,,,,,,,।
যেয়ে দেখি আন্টি,,আর মা,,,বসে থেকে গল্প করছে,,,,,,,।
মাঃ শাকিল শোন,,,,,,,,।
আমিঃ হুম বলো...।
মাঃ আজ থেকে তিন মাস সুমি আমাদের এখানে থাকবে। তার ফাইনাল এক্সাম-এর জন্যে..।
আমিঃ আচ্ছা। ঠিক আছে..।
মাঃ আর শোন ওকে সাথে করে প্রতিদিন দিয়ে আসবি আর নিয়ে আসতে হবে....।
আমিঃ ঠিক আছে আম্মু, তুমি যা বলবে..।
আমার যে কী পরিমান আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না...!!! তাই খুশিটা নিজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে তাড়াতাড়ি আম্মুর সামনে থেকে সরে গেলাম.😁😁😁😁
রুমে এসে দরজা বন্ধ করে,,শুরু করলাম লুঙ্গি ডান্স😜😜😜😜😜😜
তারপর ঘুমিয়ে গেলাম,,,,,,,,।
পরের দিন সকালে,,,,,,,,,,,,,,,।
সুমিঃ এই তাড়াতাড়ি উঠ..। কলেজ নিয়ে যাবি....?
আমিঃ যাও পারবো না..। আমি ঘুমাবো..😴
এই বলে আমি ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে মুখ ঢেকে শুয়ে পড়লাম..।
সুমিঃ আমি গেলাম আন্টিকে বলতে...। যে তুই আমাকে নিয়ে যাবি না কলেজ-এ..।
আমিঃ এইই্ই্..😱,,না না আমি নিয়ে যাচ্ছি বলিও না আম্মুকে...🥰
সুমিঃ হুম,, তাড়াতাড়ি উঠ,,,সময় কম আছে হাতে..।
আমিঃ উঠছি তো,,,, একটু আদর করে বললে হয় না🥰,,মিষ্টি করে ডাকলে কী হয়.??
সুমিঃ ঐ কিছু বললি.??
আমিঃ না কিছু না..।
সুমিঃ হুম,,,,,,তাড়তাড়ি আয়,,,,,।
এই বলে চলে গেলো.। এই মেয়ে যদি আমার জীবনে আসে জীবনটা তো একবারে স্বাদহীন হয়ে যাবে। ধ্যাত..। কী ভাবছি এসব,,,,, যেরকম-ই হোক না কেনো,,, ওকেই শুধু চাই.।।
ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট সারলাম..। দেখি ও রুম থেকে বের হলো সেঁজেগুঁজে..। আমি তো ওকে দেখে পলক ফেলতে ভূলে গেছি মনে হয়😍
ও কাছে এসে বললো,
সুমিঃ ঐ যাবি না নাকি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবি...??"
আমিঃ হ্যাঁ, তাইতো। চলো...!!
সিনিয়র বউকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হলাম🥰
রাস্তায় বের হয়ে কিছুক্ষণ হাঁটলাম..। সামনে থেকে রিক্সা নিবো..। আমি যেই বললাম,
আমিঃ চলো রিক্সায় করে যায়...।
সুমিঃ তোর সাথে🤨🤨🤨
আমিঃ কেন.? আমার সাথে গেলে কী ক্ষতি হবে শুনি...??
সুমিঃ না তোর সাথে এক রিক্সায় যাবো না😏
আমিঃ কেন.?? আমি আবার কী করলাম..??
সুমিঃ তোর সাথে হেঁটে কথা বলতে বলতে যাবো...।
আমিঃ বাব্বাহ্...!!! আমার সিনিয়র বউটা দেখি অনেক রোমান্টিক হচ্ছে দিনে দিনে🥰
আস্তে আস্তে বললাম। শুনলে তো আর নিস্তার নেই।
সুমিঃ আমায় কিছু বললি...।
((কান না অন্যকিছু মাইরি😱😱😱))
আমিঃ নাহ্..!! কিছু বলিনি তো...।
সুমিঃ গুড। একটা রিক্সা ডেকে আন...।
আমিঃ হুম.. ।
একটু রোমান্টিক করে বলা যায় না🤨🤨 কিছুদিন পরেই তো🙊🙊🙊
ওসব কিছু মাথা থেকে ঝেড়ে একটা রিক্সা নিয়ে আসলাম। আমি রিক্সা নিয়ে এসে আমি নেমে দাঁড়িয়ে রইলাম। আর সুমি রিক্সার বাম পাশে উঠে বসলো,,,, ও রিক্সাতে বসে আমাকে বললো,
সুমিঃ কীরে তুই রিক্সাতে উঠছিস না কেন.?
আমিঃ আমি😲
খুব অবাক হলাম আমি। আমাকে তার সাথে রিক্সায় উঠতে বলছে।
সুমিঃ আমি কী ? তাড়াতাড়ি আয়। স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে থাকে পরীক্ষক আর রুমে ঢোকতে দিবে না।
আমিঃ হুম।
আমি উঠে বসলাম রিক্সাতে। রিক্সা চলতে শুরু করলো। কিন্তু আমি আনইজি ফিল করতে লাগলাম। কোনো ভাবেই স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করছিলাম না। কখনো তো এমন হয় নি। আর রিক্সাতে যে প্রথম উঠেছি তা নয়। ফ্রেন্ডসদের সাথে একরিক্সাতে চারজন ও উঠেছি। কিন্তু এমন কখনো অনুভব হয় নি। আমি একটু একটু ঘামতে লাগলাম। হঠাৎ সুমি বলে উঠলো,
সুমিঃ এই শাকিল রিক্সা থেকে নাম,,,,,,,.।
আমাকে একটা ধাক্কা দিলো। আমি হকচকিয়ে উঠলাম।
আমিঃ কী হয়েছে গো আপু🥺🥺
আপু বলেই ডাকি সবার সামনে। না হলে সবার সামনে শাস্তি দিতে পারে। আবার তুমিও বলি। মাঝেমধ্যে ইচ্ছে হয় নাম ধরে ডাকতে। কিন্তু প্রচন্ড রাগী। তাই চাইলেও সম্ভব হয় না।
সুমিঃ নামবি নাকি বসেই থাকবি ? চলে এসেছি তো ?
আমিঃ হ্যাঁ,,,,,,নামো।
সুমিঃ কই হারিয়েছিলি ?
আমিঃ কোথাও না। চলো তোমার পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে,,,,, ।
সুমিঃ হু,,,,।
নিজের ভেতরের দুর্বলতা বুঝতে না দিয়ে পরীক্ষার হলে দিয়ে আসলাম।
আবার নাকি গিয়ে নিয়ে আসতে হবে। উনার আদেশ।
সুমিকে পরীক্ষার হলে দিয়ে এসে কেন্দ্রের বাইরে এসে ভাবছি এতো সময় কী করবো ?
বাসায় যাবো নাকি বসেই থাকবো ! সিদ্ধান্ত নিলাম বসে বসে অপেক্ষা করবো। রাস্তার পাশে দোকানে বসে বসে চা খাচ্ছি আর ওকে নিয়ে ভাবছি। কখনাে চা খেতে খেতে গান শুনি।
রনিঃ দোস্ত,,, কি খবর,,,,।
আমিঃ এইতো,,,সিনিয়র বউকে আনছি,,,,।
রনিঃ সিনিয়র মেয়ের লগে প্রেম করে,,কি লাভ,,,,,।
আমিঃ লাভ,,,অনেক লাভ,,,,,এখনকার জুনিয়র মেয়েরা তার বি এফকে অন্য মেয়ের লগে কথা বলতে দেখলে,,ব্রেকআপ,,,,,আর সিনিয়র জি এফ,,যদি এটা দেখে,,তাহলে ব্রেকআপ না,,,তকে শুধরানোর জন্য সবার সামনে ওখানেই অনেক ঝগড়া করবে,,,,।
রনিঃ সো,,গুড,,,,।
আমিঃ অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকাতে দিবে না,,,সব সময় শাসন করবে,,যেটা আমার খুব প্রিয়🥰🥰🥰🥰
রনিঃ তুই কর ভাই,,,,,।
আমিঃ সালা হারামি তুই এগুলোর মর্যাদা কেমনে জানবি,,,,যা ভাগ,,,,।
রনি চলে গেলো,,,,,।
এভাবে সময়টা পার করে দেই। আর ওর ও পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। সবাই যখন গেইট দিয়ে বেরুচ্ছে এই দেখে আমি গেইটের কাছে একটু এগিয়ে গেলাম। একটু এগোতেই দেখলাম ও গেইট দিয়ে বের হয়ে আসলো। কাছে আসতেই বললাম,
আমিঃ কেমন হলো আপনার পরীক্ষা ?
ও আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। অতঃপর বললো,
সুমিঃ হঠাৎ এতো রেসপেক্ট আসলাে কীভাবে ?
আমিঃ জানি না,,,, তবে এখন থেকে আপনি করে বলবো ।
সুমিঃ ওহ্ ! ভালো ।
ওর কণ্ঠে হতাশার ছোঁয়া।
আমিঃ পরীক্ষা কেমন হলো আপনার ?
সুমিঃ হয়েছে ভালোই।
আমিঃ হুম। ভালো হলেই ভালো।
সুমিঃ কেন ? তুই দোয়া করিস নি ?
আমিঃ হুম করেছি তো। আপনার জন্যে দোয়া করবো নাতো কার জন্যে করবো।
সুমিঃ বাহ্ ভালো। তাহলে ভালো রেজাল্ট হবেই।
আমিঃ হতেই হবে,,,, বউটা কার দেখতে হবে না😎😎😎(ধীরে)
সুমিঃ কীরে ? কিছু বললি ?
আমিঃ না কিছু বলি নি।
সুমিঃ তাহলে মনে মনে কী বলছিলি ?
আমিঃ না কিছু না।
সুমিঃ মিথ্যে বলছিস কিন্তু ?
আমিঃ অনেক্ষণ তো হাঁটলাম। চলুন রিক্সায় উঠি।
এতোক্ষণ হেঁটে হেঁটে কথা বলছিলাম
সুমিঃ না,,,,, বাকি পথ হেঁটেই যাবো,, পরীক্ষাটা ভীষন ভালো হয়েছে।
আমিঃ আমি আর হাঁটতে পারবো না।
সুমিঃ আমি মেয়ে হয়ে হাঁটতে বলছি আর তুই বলছিস হাঁটতে পারবি না !
আমিঃ না। আর হবে না আমার দ্বারা।
সুমিঃ আচ্ছা রিক্সাতে উঠি চল ?
আমিঃ হুম।
একটা রিক্সা ডেকে উঠে পড়লাম,,,,বসে আছি হঠাৎ উনি বলতে শুরু করলেন,,,,,,,,,,,,,,।
তারপর,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,।
একটা রিক্সা ডেকে উঠে পড়লাম। বসে আছি হঠাৎ উনি বলতে শুরু করলেন,
সুমিঃ তুই আজকে এতোটা সময় এখানে বসে থেকেছিস ?
আমিঃ না,,,,,আমি তো বাসা থেকে এসেই তোমাকে নিতে আসলাম।
সুমিঃ মিথ্যে বললি কেন ?
আমিঃ কী মিথ্যা বললাম ?
সুমিঃ তুই জানিস আমার হলরুমটা দো-তলায়,,,,,আর দো-তলা থেকে রাস্তার সবকিছু স্পস্ট দেখা যায়।
আমিঃ হুম।
আর কিছু বললাম না।
সুমিঃ ওখান থেকে স্পস্ট দেখা যায় তুই যেখানে বসেছিলি। আর এতোটা সময় বসে না থেকে বাসায় যেতে পারতি।
আমি শুধু মাথা নাড়লাম, ধরা পড়া অপরাধীর মতো। মাথা নিচু করে বসে আছি।
সুমিঃ দুপুরে কিছু খেয়েছিস ????
আমিঃ উহু না।
সুমিঃ তো এখানে বসে না থেকে বাসা থেকে খেয়ে আসতে পারতি না ?
আমি আবারো মাথা নাড়লাম। হয়তো সম্ভব ছিলো। কিন্তু আমি যাই নি। নিজের প্রিয় মানুষটাকে ওখানে রেখে কী করে যাই। তাই আর কিছু না বলে চুপ করে অন্যদিকে তাঁকিয়ে আছি।
তারপর বাসায় চলে আসলাম,,,,,,,,,,,।
প্রতিদিন-ই সুমি আপু কে নিয়ে যেতাম আর নিয়ে আসতাম। দিনে দিনে আপুর প্রতি অনেকটা উইক হয়ে পড়ি। বাসায় যখন এসাথে টিভি দেখি বা কোনো কাজ করি তখন আমি তাঁকিয়ে থাকি অপলকে। আর উনি দেখলেই চোখ ফিঁরিয়ে নেই। তার জন্যে অবশ্য বকা ও খেয়েছি অনেক।
আপুর সাথে অনেক ইজি হয়ে যাওয়ার পরে কেমন জানি লাগতো নিজেকে। ফাজলামোটা কমে গিয়েছে একেবারেই। একদিন আপুর সাথে রিক্সায় করে বাসায় ফিরছিলাম।
সুমিঃ আচ্ছা শাকিল তোকে একটা বলি,??
আমি খানিকটা অবাক হলাম। আপু তো কখনো অনুমতি চায় না। তাহলে কী বলতে চায় ? অনেক ভাবার পরে বললাম,
আমিঃ হুম বলো। এতে অনুমতি চাইছো কেন ?
সুমিঃ তুই আর আমাকে আপনি করে বলবি না,,,,,,,,তুমি করে বলবি ?
আমিঃ কেন ?
সুমিঃ তুমি বলতে বলেছি তুমি করেই বলবি,,, ব্যাস,,,🙄🙄🙄🙄
কথাটা রেগে বললো। তারপরে অন্যদিকে তাঁকিয়ে বললো,
সুমিঃ আপনি ডাকলে কেমন জানি বয়স্ক লাগে নিজেকে😒😒তাই আর আপনি বলবি না ঠিক আছে ?
আমিঃ হুম
এই বলে মাথাটা নাড়লাম,,,,,,, আপু আবার জোরে বললো,
সুমিঃ মুখে বলতে পারিস না। কী মাথা নাড়াচ্ছিস।
আমিঃ ঠিক আছে।
আস্তে করে বললাম। নিজেকে সুখী লাগছে। হয়তো আপু আমার ভালোবাসাটা ফিল করতে শুরু করেছে। হয়তো আমায় নিয়ে চিন্তা করে।
🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰
বাসায় এসে নিজের খুশিটাকে ছড়িয়ে দিতে একটা ছোট্ট পার্টির আয়োজন করলাম। কিন্তু আব্বু-আম্মু পার্টির কারণ জিজ্ঞাসা করলো কিন্তু বললাম না। সুমি আপু নিজেও কারণ জিজ্ঞাসা করলো, বলিনি। কারণটা এসে নিজেই কারণ জানতে চাইলে কী করবাে ? তারপরও আস্তে আস্তে করে বললাম, "তুমি ?"
সুমিঃ আমি পার্টির কারণ !
আমিঃ হুম।
আমি মাথা নাড়লাম আবার। এবার আপু বললো,
সুমিঃ শুধু মাথা না নেড়ে খুলে বল তো, তোর পার্টির কারণ আমি কেন ?
আমিঃ জানি না। তবে এটাই জানি তোমার জন্যে আয়োজন করেছিলাম।
সুমিঃ হুহ। ভালো তো।
এই বলে চলে গেলাে তার রুমে। আমিও আর এ নিয়ে মাথা ঘামালাম না।
আস্তে আস্তে পরীক্ষা শেষ হয়ে এলো আর মাত্র ২ টা পরীক্ষা বাকি। আমাকে যে করেই হোক প্রপোজ করতে হবে।
আমার বন্ধুদের কাছে থেকে সমাধান চাইলাম, কীভাবে প্রপোজ করা যায়। কিন্তু তাদের একটা যুক্তিও আপুর সামনে দাঁড় করাতে পারলাম না। তাই নিজের মনকে নিজের প্রবোধ দিলাম, নিজের মতো করে প্রপোজ করবো ।
বাকি দুইটা পরীক্ষাতে নিয়ে যাওয়া-আসার সময় একটুও কথা বলি নি। শুধু ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো কীভাবে প্রপোজ করবো।
সন্ধ্যায় বাসায় এসে দেখি আপু সবকিছু গুছাচ্ছে। কালকে সকালে চলে যাবে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে কালকে সকালেই প্রপোজ করবো।
সকালবেলা খুব ভোরে উঠলাম। এমন ভোরে আর কখনো উঠেছি বলে মনে হয় না। নিজেকে দ্রুত ফ্রেশ করে বারান্দায় আসতেই দেখি আপু খালি পায়ে বাগানে হাঁটছে। আর শিশির ভেঁজা ফুলগুলো হাত দিয়ে ছুয়ে দিচ্ছে। হয়তো ভেঁজা ঘাসটাও নিজেকে সুখী মনে করছে।
আপু আলতো পায়ে ভেঁজা ঘাসে হাঁঠতে লাগলো। আমি ও খালি পায়ে বাগানে নেমে গেলাম। নিঃশ্বব্দে আপুর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। একটা ছোট্ট কাঁশি দিলাম। কাঁশির শব্দে আপু উল্টো ঘুরে থাকালো। ঘুরে অবাক হয়ে আমার দিকে তাঁকিয়ে রইলো। এতোটা অবাক করা চোখ কখনো দেখি নি। পরে আমার দিকে চোখ নাচিয়ে বলতে লাগলো,
সুমিঃ ভূল কিছু দেখছি নাতো আমি🤨🤨আমার তো বিশ্বাস হচ্ছে না 😒😒
আমিঃ কেন হচ্ছে না !
সুমিঃ তুই তো এতো ভোরে কখনো উঠিস না তাই ?
আমিঃ আজকে না হয় উঠলাম।
সুমিঃ তা এতো ভোরে উঠার কারণটা কী জানতে পারি জনাবের ????
আমিঃ না বিশেষ কোনো কারণ নেই,,,তবে,,,,,,
সুমিঃ তবে কী ?
আমিঃ না কিছু না।
ভয়ে বললাম না। প্রপোজ করবো ভাবছি কিন্তু আমার হাত কাঁপছে । ভেতরে কেউ হাঁতুড়ি পিটাচ্ছে মনে হচ্ছে। এরই মধ্যে আপু বললাে,
সুমিঃ চল্ হাঁটি।
আমিঃ হুম।
সুমিঃ আমি তো চলে যাবো আর একটু পরে।
আমিঃ ওহ্হ্ !
সুমিঃ তোকে অনেক ধন্যবাদ। আমাকে প্রতিদিন নিয়ে যাওয়া-আসা করার জন্যে।
আমিঃ ধন্যবাদ দিও না। নিজের মানুষটার জন্যে এগুলো হয়তো কিছুই না।
সুমিঃ নিজের মানুষ !
আমিঃ একটু ওয়েট।
এই বলে পকেট থেকে পায়েল টা বের করলাম। তারপরে সাধারন ভাবেই প্রপোজ করলাম।
সুমিঃ পায়েলটা আমার হাতে দে,,,,।
আমিঃ না,,,, আমি পায়ে পরিয়ে দিবো,,,,,,।
এবাবার ধমক দিয়ে বলায় হাতে দিয়ে দিলাম ভয়ে। হাতে দিয়ে আমি উঠে দাঁড়ালাম। দাঁড়াতেই ঠাস্ স্ স্ করে একটা আওয়াজ হলো।
আমাকে চড় মারলো খুব জোরে। এতো ভাবলাম না। প্রিয় মানুষটাই তো মেরেছে । কিন্তু তারপরে ও যা বললো আমি শোনার পরে আর ঠিক থাকতে পারলাম না।
সুমিঃ তর মাথা গেছে,,না আছে,,, আমি তকে কেমনে ভালোবাসি,,আর আমি তকে ওরকম চোখে কোনোদিন দেখিনি,,সব থেকে বড় কথা হলো আমি একজনকে ভালোবাসি,,,,,,,,।
আমার ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো,,,,।
তারপরও আমি বললাম,
আমিঃ তুমি ভালো না বাসলেও আমি আজীবন বাসবো।
সুমিঃ দেখ শাকিল,,,পাগলামী করার একটা বয়স আছে। তোর এই বয়সটা পাগলামীর না। আর তোর-আমার সম্পর্ক সমাজ ভালো চোখে দেখে না,,,,,,,,,।
আমিঃ তুমি যদি চাও সমাজ থেকে দূরে থাকবো,,,,,,যেখানে সমাজটা হবে আমাদের দু'জনকে নিয়ে,,,,,,।
সুমিঃ শুধু সমাজ কেন ? আমিও তাের ভালোবাসা মানি না।
আমিঃ কেন ?
সুমিঃ বললাম না,,,,কেন-এর উত্তর জানতে চাইবি না। তোকে আমার অসহ্য লাগে। আর...
আমিঃ আর কী ?
সুমিঃ আর তুই কখনো আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবি না।
এই বলে ও চলে গেলো।
আমি ওখানেই হাটু গাড়ি দিয়ে বসে পড়লাম,,,।
নিজের অজান্তেই চোখ বেয়ে পানি আসলো,,,।
এই পানি যেন কোনো বাধা মানছে না,,,,।
চারিদিকে অন্ধকার দেখাচ্ছে,,,,,,,,।
ওখানে আর বসে না থেকে রুমে চলে আসলাম,,,,,,,,।
রুমে এসে দরজা বন্ধ করে,,,খাটের উপর বসে পড়লাম,,,,,,,,।
অনেক সপ্ন দেখছিলাম,,একে নিয়ে,,,সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো,,,,,।
পৃথিবীতে সবার সব সপ্নতো সত্যি হয় না,,,কিছু সপ্ন সপ্নই রয়ে যায়,,,,হয়তো আমারও এটাই হয়ছে,,,,,।
তবুও এই মন,,,কিছুই মানে না,,,,আমার সব খানে,,শুধু সুমি,আর সুমি,,,😥😥😥
তারপর সারাটাদিন রুমে বসে থেকে কাদতে কাদতে পার করলাম,,,,,,,,,,,,।
ত
রুমে এসে দরজা বন্ধ করে,,,খাটের উপর বসে পড়লাম,,,,,,,,।
অনেক সপ্ন দেখছিলাম,,একে নিয়ে,,,সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো,,,,,।
পৃথিবীতে সবার সব সপ্নতো সত্যি হয় না,,,কিছু সপ্ন সপ্নই রয়ে যায়,,,,হয়তো আমারও এটাই হয়ছে,,,,,।
তবুও এই মন,,,কিছুই মানে না,,,,আমার সব খানে,,শুধু সুমি,আর সুমি,,,😥😥😥
তারপর সারাটাদিন রুমে বসে থেকে কাদতে কাদতে পার করলাম,,,,,,,,,,,,।
পরেরদিন সকালে,, রুম থেকে বের হলাম,,,,।
চোখ দুটো খুব জলতাছে,,,,,,,,,,।
ঠিক করে তাকাতেও পারতাছি না,,,আর মাথাটা ঝিমঝিম করতাছে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,।
মাঃ কি রে,,,একি করছিস,,চিয়ারার,,,,🥺
আমিঃ কই,,,কি করছি😒😒
মাঃ সারারাত ঘুমাস নি,,,🥺🥺
আমিঃ হুম,,বাদ দাও,,,,সুমি আপু কি চলে গেছে,,,,,,,।
মাঃ না,,,,ওর নাকি কাল একটা কাজ আছে,,, তাই থেকে গেলো,,,,,,,।
আমিঃ কেনো,,,,🤨🤨
মাঃ দেখ,,আমি তর মা,,,তর মনে কি চলতাছে আমি একটু হলেও জানি,,,,,।
আমিঃ আমার মনটা ভেঙে যাচ্ছে গো মা,,🥺
মাঃ 🥺🥺🥺
আমিঃ হা হা হা😂😂
মাঃ তুই হাসছিস কেন,,,,,,,,।
আমিঃ হাসবো নাতো কাদবো,,,,,আমি রুমে গেলাম🙄🙄
মিথ্যে হাসি দিয়ে চলে এলাম,,,,,,,,,,।
রুমে এসে সুয়ে পড়লাম,,,,।
দরজার বাইরে থেকে আওয়াজ আসলো,,,,,,,।
--ঃ এই খোল,,,,।
আমি দরজা খুলে,,,,,,,।
আমিঃ আরে তরা,,,,,,।
ওবায়দুলঃ হুম,,,,এতদিন ধরে তরে কেউ দেখেনি,,,তাই চলে আসলাম,,,,,,,,।
আমিঃ মাই পেত্নী কই,,,,,,,,,,,।
বৃষ্টিঃ মরে গেছে,,,,,, ।
আমিঃ কি কইলি,,কুত্তী,,,,,,,,।
বৃষ্টিঃ কিছু না,,,,,।
আমিঃ তরা হঠাৎ,,,,,,,।
বৃষ্টিঃ তুই তো সিনিয়র জি এফ পেয়ে আমায় ভুলেই গেছোস,,,,।
আমিঃ হুম😥😥😥😥
বৃষ্টিঃ তর কি হয়ছে,,,আর মন খারাপ কেন,,,,।
ওবায়দুলঃ ছোট বোন,,,আগে চলো,,,আমরা আমাদের আড্ডা খানাই যায়,,,,,,।
বৃষ্টিঃ হুম ভাইয়া চলো,,,,,,।
আমিঃ তরা যা,,,আমি যামু না,,,,,,।
ওবায়দুলঃ তকে তো যেতেই হবে,,,,,।
তারপর পেত্নীরা আমায় জোর করে নিয়ে এলো,,,,,,।
বৃষ্টিঃ ওই কুত্তা,,, এবার ক,,,তর কি হয়ছে,,,,।
আমি ওদের সব বললাম,,,,,,,।
বৃষ্টিঃ এই ব্যপার,,,,কাজ হয়ে যাবে,,,,।
আমিঃ কাজ হবে মানে,,,,,।
বৃষ্টিঃ গাধারাম,,,তর সিনিয়র বউ তরই হবে,,,,।
আমিঃ কেমনে,,,,,।
বৃষ্টিঃ তুই কারো সাথে প্রেম করার অভিনয় কর,,,,,।
আমিঃ তাহলে কি হবে,,,,।
বৃষ্টিঃ সুমি আপু যদি তরে সত্যি ভালোবেসে থাকে,,,,তাহলে লুচির মতো ফুলবে,,,,,,,,।
আমিঃ তো,,, কার সাথে করি,,,,,।
বৃষ্টিঃ সেটাই তো চিন্তা,,,,,।
আমিঃ তর সাথে করি,,,,,।
বৃষ্টিঃ হারামি,,,সবাই জানে,,তুই আমার সব,,,আর আমাদের মাঝে সব ধরনের ফাজলামি হয়,,,সুমি আপু,,এটাকেও ফাজলামু মনে করবে,,,,।
আমিঃ তো কি করি,,,,,,।
বৃষ্টিঃ হ্যা,,,মিম,,,,মিম এটা পারবে,,,,।
ওবায়দুলঃ ওই,,,মিম তদের ভাবি লাগে,,,।
আমিঃ কেমনে,,,,,।
ওবায়দুলঃ আমি ওকে ভালোবাসি,,,,,,,।
আমিঃ কোনোদিন কইছিস,,,,।
ওবায়দুলঃ তর মতোই সাহস পাইনা,,,,,।
বৃষ্টিঃ ওই দেখ মিম আইছে,,,,,।
মিমঃ হাই,,,,,,,।
আমিঃ হাই ডার্লিং, 🥰🥰
মিমঃ ডার্লিং 🤨🤨🤨🤨
বৃষ্টি মিমকে সব খুলে বললো,,,,,,,,।
মিমঃ তো এই ব্যপার,,,,।
আমিঃ হ্যা,,,গো,,,,।
মিমঃ ঠিক আছে গো,,,,,।
এভাবে ওদের সাথে আড্ডা দিতে লাগলাম,,,।
মনটা একটু ফ্রেস হলো,,,,,আর এদিকে এখন ১২টা বাজে,,,,,,।
বৃষ্টিঃ শাকিল,,,দুপুর হয়ে এলো,, বাসায় যেতে হবে,,,নয়তো মা বকা দিবে,,,,।
আমিঃ ওকে পেত্নী,,, তরা যা,,,,,।
বৃষ্টিঃ ভালো থাকিস রে শয়তান,,,,,।
আমিঃ হুম,,,,।
তারপর ওরা চলে গেলো,,,,,,,,।
আমি একাই গাছের নিচে বসে রইলাম,,,,,।
বৃষ্টির কথায় আবার আমার মাঝে সুমির প্রতি ভালোবাসাটা জেগে উঠলো,,,,। সুমিকে পাবার একটা জেদ উঠলো,,,,,।
বসে বসে সুমি আপুর কথা ভাবছি,,,তখন মোবাইলের স্কীনে ভেসে উঠলো "" সিনিয়র বউ"" মানে সুমি আপু কল দিছে,,,।
প্রথমবার ধরলাম না,,,,২য় বারো ধরিনি,,,।
৩য় বার ধরলাম,,,,।
সুমি আপুঃ ওই কুত্তা,, হারামি,,বাদর,,বুড়া,,,কই আছোস,,,,।
আমিঃ আমি যেখানে ইচ্ছে সেখানে থাকতে পারি,,,তাতে আপনার কি,,,,,,।
সুমি আপুঃ তকে আমি খুন করুম,,,,।
আমিঃ করতে হবে না,,,একা একা হয়ে যাচ্ছি,,।
সুমি আপুঃ কি কইলি🥺🥺🥺
আমিঃ কিছু না,,,,ফোন রাখেন,,,,।
সুমি আপুঃ না,, রাখুম না,,,,কি করবি,,,,।
আমিঃ আপনি কানে ধরেই থাকেন,,,,।
আমি ফোন কেটে দিলাম,,,,,,,।
একটু পর আব্বুর ফোন থেকে ফোন আসলো,,,,,,।
আমিঃ হেলো,,,,আব্বু,,,।
সুমি আপুঃ আব্বু না,,,,তর জম,,,।
আমিঃ আবার আপনি,,,,।
সুমি আপুঃ ওই,,,কুত্তা,,, বাড়ি আসা বাদ দিয়ে তুই ওখানে কি করছিস,,,।
আমিঃ মরতে আইছি,,,,,আপনার কি,,,।
সুমি আপুঃ আমার কিছুই না,,,তুই মর গা,,।
একথা শুনে বুকে আরেকটু ব্যথা হলো,,,।
আমিঃ হুম,,,তো ফোন করছেন কেনো,,,,,।
সুমি আপুঃ তর খুজ নিতে,,,,,।
আমিঃ আমি এখন জাহান্নামে,,, বাই,,,।
ফোন কেটে দিলাম,,,,,।
একটু পর আবার আব্বুর নম্বার থেকে,,,,।
আমিঃ আপনার সমস্যা কি বলুন তো,,,,,।
আব্বুঃ কার কি সমস্যা,,,,।
আমিঃ আরে,,আব্বু তুমি, ,,।
আব্বুঃ হুম,,,তুই তাড়াতাড়ি বাসায় আই,,,,,।
আমিঃ ওকে আব্বু,,,,,,।
তারপর আর কি আব্বুর আদেশ বলে কথা,,,,।
চলে এলাম,,,বাসায়,,,,।
সোজা রুমে গেলাম,,,,,।
তারপর,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,।
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,।
গল্পটা আমি দুঃখের দিকে নিতে চাচ্ছি,,,, কিন্তু আবার খারাপ লাগতাছে,,,, আবার কনফিইউশনে আছি,,,,।
আপনারাই বলেন,,,কোন দিকে দিবো,,,,,
১| দুঃখ,,,,। ২| রোমান্টিক,,,,,,।
হয়ে যাগ ভোট,,,,,,,,,,,,,,,।
প্লিজ সবাই কমেন্টে মত দিবেন,,,,প্লিজ,,,🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আল্লাহ হাফেজ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,।