নরক জীবন #লেখকঃরনি হাসান #পর্বঃ৮

 #নরক জীবন 

#লেখকঃরনি হাসান

#পর্বঃ৮


কিছুক্ষণ পর রুমে এসে লক্ষ্য করলাম অদিতি হাটু মোড়ে কান্না করছে। থাপ্পড়ের পাচ আঙুলের দাগ স্পষ্ট তার গালে ফুটে উঠেছে। বিষয়টা কেন জানি খারাপই লাগতে শুরু করল। যাই হক অদিতিকে ও বুঝতে হবে আপনজনের অবহেলা গুলো কত কষ্টকর।  

এখন হইত আমার করুন অবস্থা দেখে অদিতি নিজেই নিজেকে দোষারোপ করছে 


তাছাড়া আমি কেন এসব ভাবছি। ও যা খুশি তাই ভাবুক তাতে আমার কি" আমার জগত জুড়ে শুধু নেশার প্রয়োজন (এসব আনমনে ভেবে কম্বল আর বালিশ হাতে নিবো


আচমকাই অদিতি আমার হাত ধরে বলল 


এখন কি আমাকে ফেলে অন্যরুমে থাকতে যাচ্ছো (ছলছল চোখে)


অদিতির কথা শুনে অবাক চোখে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলাম কিছুক্ষন আগে যাকে থাপ্পড় মারলাম সে আমার প্রতি রাগ না করে উল্টো আমাকে আটকাতে চেষ্টা করছে


হ্যা তাই যাচ্ছি (অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে) 

না গেলে হই না (অদিতি কান্না করে) 

আগের কথা তুমি ভুলতে পারো আমি ভুলেনি। চরিত্রহীন নরপশু শরীর খেকো নিজের ভাবির শরীরের দিকে লোভ করি এসব বলেই তো সেদিন আমার রুম থেকে অন্যরুমে থাকতে গিয়েছিলে মনে আছে (রেগে জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে অদিতির দিকে তাকিয়ে) 


প্লিজ চুপ করো। অতীতের জন্য আমি সত্যিই ক্ষমাপ্রার্থী (অদিতি কান্না করে) 


এখন এসব শুনতে খুব খারাপ লাগছে তাই না। যখন তুমি আমাকে বলছো তখন আমার কাছে কেমন লেগেছে একবারোও কি আমার অনুভূতিটা বুঝতে চেষ্টা করেছো


 তা তো করেনি। করেছো শুধু অবহেলা এবং আঘাত যুক্ত কথা যা শুনলে মনে হতো নিজেকে শেষ করে ফেলি। কিন্তু একটা কথা ভেবেই সুইসাইড করেনি" সেটা হলো আমি কোনো অন্যায় করেনি। তাহলে কেনো নিজেকে শেষ করে ফেলবো। সত্যটা একদিন জানাজানি হয়েই যাবে। 


ভাগ্যের কি পরিহাস দেখো।সত্যটা তুমি জানতে পেরেছো ঠিকই কিন্তু সেটা অনেক দেড়িতে (এই বলে কম্বল আর বালিশ অন্য রুমে যাবো ব্যস একইভাবে আবার ও অদিতি আমার পথ আটকিয়ে বলল


আমার ভুল আমি বুঝতে পারছি "তোমার যা ইচ্ছা আমাকে শাস্তি দাও তা আমি মাথা পেতে নিবো তবুও আমাকে রেখে অন্যরুমে থেকো না প্লিজ (অদিতি) 


তুমি যতই বলো না কেনো" তোমার সংস্পর্শে আমি থাকবোই নাহ। (এই বলে অদিতির হাত ঝটকানা মেরে ছাড়িয়ে নিয়ে পাশের রুমে চলে গেলাম.....


এইভাবেই অদিতির কাছ থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে নিই" অদিতি বার বার ক্ষমা চেয়ে আমার সংস্পর্শে আসতে চাইলে ও সে সুযোগ তাকে দেইনি... এবং তার হাতের বানানোর খাবার গুলো ও পযন্ত কখনো ছুয়ে দেখিনি। বাহিরে থেকেই সবসময় খেয়ে আসতাম  


বিকালে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেই মাথার কারনে বাড়িতে চলে আসলাম । বাড়িতে পা রাখতেই আত্নীয় স্বজনের আনাগোনা দেখতে পেলাম। ভাইয়াও মিষ্টি নিয়ে সবাইকে খাওয়াচ্ছে। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না দিয়ে আমি আমার রুমে দরজা ঠেলে প্রবেশ করতে লক্ষ্য করলাম অদিতি বিছানায় সুয়ে বালিশের মাঝে চোখের জল ফেলছে। কেন ফেলছে সেটা আমার ভালো করেই জানা " তো ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসতেই অদিতি আমার সামনে দাঁড়িয়ে কান্না মিশ্রিত কণ্ঠে বলল 


তুমি কি চাও না আমাদের মাঝে ছোট অতিথি আসুক (অদিতি) 

আমার নরক জীবনে নতুন অতিথি এনে তার জীবন আমি নষ্ট করতে পারবো না। সুতরাং তোমার মাথা থেকে এসব চিন্তা ভাবনা ঝেড়ে ফেলে দাও (আমি)


প্লিজ এক্টু বোঝার চেষ্টা করো (অদিতি কান্না করে) 


অদিতির কথার ভ্রুক্ষেপ না দিয়ে রুম থেকে বের হতে যাবো। এমন সময় মা আমার রুমে মিষ্টি নিয়ে এসে প্রথমই আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল


বাবা মিষ্টি মূখ কর নে আমি তোকে খাইয়ে দিচ্ছি (মা)

থামো থামো কিসের জন্য আমাকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছো (আমি)

তুই কাকাই হতে যাচ্ছিস। এর জন্যই এই মিষ্টি নে বাবা হা কর আমি তোকে খাইয়ে দিচ্ছি (মা অনেকটাই আনন্দিত হয়ে) 


রাখো এসব মিষ্টি টিষ্টি (মিষ্টিটা দুরে সরিয়ে দিয়ে বলতেই মা মন খারাপ করে বলল 


বাবা তুই খুশি হসনি (মা মন খারাপ করে )

খুশি হবো না কেনো।আমি কাকাই হচ্ছি এর চেয়ে খুশির খবর কি বা থাকতে পারে (আমি)

তাহলে মিষ্টিটা মুখে না দিয়ে সরিয়ে ফেললি কেন (মা) 

আমি এমনিতেই খুশি হয়েছি" মিষ্টি খেয়ে খুশি উৎযাপন করা কোনো দরকারই নেই (এই বলে বাহিরে চলে আসলাম


উপরদিকে 


বউমা আমার ছেলেটাকে হইত হারিয়ে ফেললাম।এতদিন হয়ে গেলো অথচ তার ইগো নিয়ে পড়েই আছে (মা ভিশন মন খারাপ করে)


মা ওযে আমার সঙ্গে ও কথা বলে না। আমার ছায়া পযন্ত সে দেখতে পারছে না। সবসময় এড়িয়ে চলে। (অদিতি)

 

অতীতে যা কিছুই হয়েছে না কেন সেটা Accidents তাছাড়া নিলা ও অনেক অনুতপ্ত ক্ষমাও চেয়েছে অনেকবার। একটা মানুষ যদি বার বার ক্ষমা চাই তো তাকে কেমনে ফিরিয়ে দিতাম তুমিই বলো (মা)


নিলা ভাবি তো এখন ভালোই আছে। মাঝখান থেকে শুধু আমাদের স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কটা ভেঙ্গে গেলো (অদিতি কান্না করে) 


কে বলছে সম্পর্ক ভেঙে গেছে। আমার ছেলে তো তোমাকে ডিভোর্সই দেইনি তাহলে সম্পর্ক ভাঙলো কই (মা জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে) 


এখন শুধু কাগজে কলমের সম্পর্কই টিকে আছে। মনের সম্পর্ক তো অনেক আগেই শেষ হয়েছে (অদিতি চোখের পানি মুছে)


নিশ্চুপ (হয়ে মা রুম ত্যাগ করলো তার ও কিছু বলার নেই। এখন তার ছেলে কন্ট্রোলের বাহিরে চলে আসছে। সে জগৎ থেকে সহজে কেউ তাকে বের করতে পারবে না। 


এভাবেই রনি তার পরিবারকে প্রত্যাখ্যান করতে লাগলো। এইদিকে নিলা তার অনাগত সন্তান নিয়ে ভালোই খুশিতে মেতে আছে। উপর দিকে অদিতি তার স্বামীর অবনতি দেখে কান্নাকাটি করে তার স্বামীকে বুঝায় নেশার জগৎ থেকে ফিরে আসতে। কিন্তু অদিতির কথার রনির কাছে গুরুত্ব নেই বলে চলে। 


এভাবেই কেটে গেলো ১ টা বছর। নিলার সংসারে যে অনাগত সন্তান নিয়ে হাসি খুশিতে সবাই মেতে উঠেছিলো" সে সন্তান জন্ম পর্বেই মৃত্যু হই। এতে নিলা মানুষিক রোগী প্রায় হয়ে যায় সবসময়ই তার সন্তান নিয়ে কান্নাকাটি করেই দিন পাড় করছে নিলা...


এইদিকে রনির নেশার পরিমাণটা ও তীব্র হওয়াই দিন দিন নেশা তাকে অবনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। রনির অবহেলাতে অদিতি ও একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে গেলো। এবং রেগে গিয়ে একদিন তার স্বামীকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল


আর কতদিন আমাকে অনুতপ্তের আগুনে পুড়তে চাও। আমি তো তোমার অবহেলায় শেষ হয়ে গেলাম। প্লিজ এবার অন্তত আমাকে কাছে টেনে নাও। পারছি না আর তোমাকে ছেড়ে দুরে থাকতে" কষ্ট হচ্ছে খুব " আমাকে মুক্ত করো এই যন্ত্রণা থেকে প্লিজ (অদিতি তার স্বামীকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল 


এইদিকে আমিও বুঝতে পারছি। অদিতির কষ্টটা কি। কিন্তু আমার যে মরনব্যথি রোগ শরীরে সঞ্চারিত হয়েছে সেটা তো কাউকে বলতেও পারছি না। এবং অদিতি কেও আমার জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারছি নাহ" খুব ডিপ্রেশনে থাকতে হচ্ছে আমাকে " আনমনে ভাবতেই অদিতি আমাকে ঝাকিয়ে বলল


কি ভাবছো আমাকে আরও কষ্ট দিবা নাকি কাছে টেনে নিবা কোনটা চাও বলো আমি তোমার সে কথাই রাখবো (অদিতি)


নিজেকে যথেষ্ট সামলে নিয়ে বললাম


প্রকৃত পক্ষে আমিও তোমাকে এতটা কষ্ট দিতে চাইনি। কিন্তু আমার মাঝে যে মর.... (বলতেই চোখ থেকে টপ করেই পানি পড়ে গেলো " তা দেখে অদিতি অধিক আগ্রহ নিয়ে বলল 


তোমার চোখে পানি আর কি যেনো বললে আবার বলো প্লিজ (অদিতি) 

অদিতি আমার শরীরে যে মরনব্যাথি রোগ সঞ্চারিত হয়েছে যা এতদিন তোমাদের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলাম বলার সাহস পাইনি কিন্তু সত্যিইটা যে বলতেই হতো" আমি যে বেশি দিন বাচবো না। এর জন্য তোমাকে সবসময় দুরে দুরে রেখেছি অবহেলা করেছি। যাতে তুমি আমার নরক জীবন থেকে সরে যাও ( নিজের চোখের জল আটকাতে পারলাম না অঝোর ধারায় পড়তে লাগলো 


অদিতি আমার কথাটি শোনামাত্রই অঝোর ধারা চোখ জল ফেলতে লাগলো এবং কাপা কাপা গলায় বলল...?

!

!

(চলবে)

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post