নরক জীবন #লেখকঃরনি হাসান #পর্বঃ১০

 #নরক জীবন 

#লেখকঃরনি হাসান 

#পর্বঃ১০


বাবা আর ভাইয়ার জোড়াজুড়িতে হসপিটালে যেতে বাধ্য হলাম। ডাক্তারের চেম্বারে প্রবেশ করার মাত্রই অনেক্টা বিষন্নই সঙ্গে বলে উঠলো 


আপনি কেমন মানুষ বলে তো। সেদিন আপনাকে ক্যান্সার রিপোর্ট হাতে দেওয়া মাত্রই কোনো কথা না বলে চলে গেলেন। পিছন দিক থেকে কতবার আপনাকে ডাকতেছিলাম সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না দিয়েই চলে গেলেন... (ডাঃ) 


রিপোর্টে যখন ক্যান্সার ধরা পড়েছে তো চিকিৎসা নিয়েই বা কি লাভ। যতটা নেশার জগৎ এ ছিলাম তা আমাকে ভালোভাবেই জানেন দিয়েছে " আমি আর বেশি দিন বাচবো না (চোখের পানি মুছে বললাম) 


এর মধ্যে বাবা ডাক্তারের উদ্দেশ্য বলে উঠলো 


ডাঃ আমার ছেলেটার রোগ কি নিরাময় করা সম্ভব না (বাবা কান্না করে) 

দেখুন আপনার ছেলে অধিক পরিমাণে মদ্যপান করেছে এতে তার অনেক কিছুই ক্ষতি করে ফেলছে" বুঝতেই পারছেন আমি কি বুঝাতে চাচ্ছি (ডাঃ)


ডাক্তার আপনাকে সত্য কথা বলার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ " আমিও সেটাই এদেরকে বুঝাতে চেষ্টা করছিলাম" বেশি দিন বাচবো না এরা এই কথাটি বিশ্বাসী করতে চাচ্ছে না (আমি)


মিষ্টার রনি" আমার কথা শুনে আপনার খারাপ লাগছে। তা আমি ভালো করেই বুঝতে পারছি। কিন্তু তারপর যে আমাকে সত্যটা বলতেই হতো (ডাঃ মাথা নিচু করে বলল) 


ডাঃ এর কথা শুনে উপস্থিত বাবা মা ভাইয়া " অদিতি তারা সবাই কান্নায় ভেঙে পড়লো।তাদের এই দৃশ্য দেখে নিজেকে আর আটকাতে পারলাম না। শব্দহীন ভাবে চোখ থেকে অঝোর ধারায় জল গড়তে লাগলো। বুকটা ফেটে হাহাকার করছে আমি সত্যিই এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যাবো এটা ভাবতেই বুকের ভিতরে দুমড়েমুচড়ে উঠছে। নিজেকে সংযত রাখতে পারছিনা। এখন কেন জানি বেশি দিন বাচতে ইচ্ছা করছে কিন্তু রোগ তো আমার পিছু ছাড়বে না " সে আমাকে ধ্বংস করেই ছাড়বে আনমনে ভেবে যাচ্ছি আর চোখের জল ফেলছি এরমধ্যে অদিতি এসে আমার চোখের মুছে আমার দিকে অসহায়ত্ব চোখে তাকিয়ে অঝোর ধারায় জল ফেলছে " 


বাবা মা ভাইয়া তারা ও অনেক কান্না করছে। সকলের এই এমন অবস্থা দেখে নিজের চোখের মুছে নিজেকে সংযত করে সবার উদ্দেশ্যে বললাম


তোমরা সবাই কান্না করছো কেন। রোগ শরীরে সঞ্চারিত হয়েছে তো কি হয়েছে। কিছুদিন ট্রিটমেন্ট নিলেই ভালো যাবো। ডাঃ ঠিক বললাম তো (আমি)


ডাঃ তার চশমা খুলে চোখের কোনে জল মুছে বলল 

হ্যা আপনি ঠিকই বলছেন আপনি খুব শীঘ্রই ভালো হয়ে যাবেন (ডাঃ মিথ্যা শান্তনা দিয়ে) 


মাকে লক্ষ্য করলাম সে অবিরাম কান্না ই যাচ্ছে তার সঙ্গে অদিতি ও। বসা থেকে উঠে তাদের কাছে গিয়ে বললাম


তোমরা এত কান্না করছো কেন। যা হবার তা তো হবেই এতে কান্নার কি আছে (নিমিষেই কান্না আমার ও চলে আসলো)


বাবা কেন তুই আমাদের উপর রাগ করে এসব ছাইপাঁশ খেতে গেলি। আমরা তো তোকে অনেক বারই নিষেধ করেছিলাম। এবং কি বউমা ও তো রোজ কান্নাকাটি করে তোকে নিষেধ করত তার কথা ভেবে অন্তত নেশা করাটা ছেড়ে দিলে আজ এই দিনটার মুখোমুখি হতে হতো না (মা এই বলে কান্না করতে করতে ডাক্তারের কক্ষ ত্যাগ করলো)


অদিতিও মুখ ফিরিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে। হইত আমাকে হারানোর ভয়ে। অদিতির কান্না থামানোর জন্য বললাম 


অদিতি প্লিজ তুমি অন্তত কান্না করো না। মাকে গিয়ে একটু বুঝাও আমি বেশ ভালো আছি আর ডাক্তারের ট্রিটমেন্টে পেলেই খুব শীঘ্রই ভালো হয়ে যাবো (এ কথা বলতেই অদিতি আমার দিকে তাকিয়ে ফুপিয়ে বলতে লাগলো


আমার সঙ্গে কেন এমন হলো বলতে পারো। এখন কেন জানি মনে হচ্ছে হৃদয়ে কেউ ধারালো ছুরি দিয়ে অসংখ্য বার আঘাত করছে। (অদিতি অবিরাম কান্না করে) 


অদিতির এরকম ধারা কথা শুনে হৃদয়ে আমার ও রক্তক্ষরণ হতে লাগলো। সে তো আমাকে অনেক বারই নেশার জগৎ থেকে ফিরিয়ে আসতে বলেছিলো " আমি তার কথার কর্নপাত করেনি। সবসময় অবহেলার চোখে দেখেছি। ভেবেছি তার ভালোবাসাটা নাটক মাত্র কিন্তু আজ তার চোখের পানি প্রমাণ করে দিচ্ছে তার ভালোবাসা কতটা গভীর " ভাবনার বিচ্ছেদ ঘটিয়ে অদিতিকে বললাম


অদিতি প্লিজ এভাবে কান্না করো না আমি নিজেকে সংযত রাখতে পারছি না। আমার মনে অবস্থা তো বুঝতেই পারছো এরমধ্যে তুমি আর মা মিলে যদি এভাবে কান্না করো তো আমি কেমনে নিজেকে সংযত রাখবো বলো (আমি)


একথা বলা মাত্রই চোখের জল মুছে আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো হইত আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছে সে সুযোগ না দিয়ে অদিতিকে বললাম


কি হলো যাও মাকে সামলাও গিয়ে। নইত কান্না করে সে অসুস্থ হয়ে পড়বে (আমি)


আমার কথা মতো অদিতি মার কাছে চলে গেলো। নিজেকে বড্ড অসহায় লাগছে। এতোদিন ক্যান্সার রোগর কথা মানুষজনের মুখে শুনতাম কিন্তু আজ আমার নিজেওই হয়েছে। ভাগ্যকে দোষ দিয়ে কি হবে। নেশা আমাকে তিলে তিলে শেষ করেছে এতে উপরওয়ালার বা কি দোষ থাকতে পারে। যদি নেশার জগৎ এ না যেতাম তাহলে হইত আমাকে এদিন দেখতে হতো না...


আমার জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল তা নেশার জগৎ এ গিয়ে করেছি। এ ভুল সুদরানোর সময় টুকুও পেলাম না " তার আগেই মরন  


ব্যথি রোগটা আমাকে আপন করে নিয়েছে। এখন শতবার চাইলেও এই রোগ আমাকে ছাড়বে না। সে আমাকে চিরন্তন পরিবার থেকে বিদায় করবে। এটা ভাবতে ই বুক ফেটে যেনো কান্না আসছে। তারপর ও কান্না করতে পারছি নাহ। আমি কান্না করলে যে মা আর অদিতি তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। এটা ভেবেই কান্নাটা নিজের মাঝে চেপেই রাখতে শুরু করলাম। বেস সেদিন হসপিটাল থেকে মেডিসিন নিয়ে বাড়িতে চলে আসি 


বাড়িতে আসার পর সবাই কেমন জানি নিশ্চুপ হয়ে যায়। মা সবসময় আমার কাছে এসে বলে 


বাবা তোর কিছু খেতে ইচ্ছা করলে আমাকে বল আমি তোকে তাই এনে দিচ্ছি.. 


মার এমন ধারা কথা শুনে খুবই কষ্ট পেতাম। বুঝতে পারতাম আমি তাদের মধ্যে কদিনের জন্য অতিথি হয়েছি মাত্র। এর জন্য এতো আদর যন্ত্র করছে। হাজারটা কষ্ট বুকে চেপে রেখে মাকে হাসি মুখেই বলতাম 


মা কি বলছো এসব " আমি কি কোনো অতিথি নাকি যে আমাকে সবসময় ভালো ভালো খাবার খেতে হবে -


মা আমার কথা শুনে চোখের কোনে জল মুছে চলে যেত দ্বিতীয় কোনো কথা বলত না। এখন ভাইয়া ও অনেক পরিবর্তন হয়েছে আগে তো তার সঙ্গে ধাক্কা লাগলোও আমার সাথে কথা কথা বলতো না। ইদানীং আমার ভালোই খুজ খবর নিচ্ছে। কিন্তু আমার জন্য ভাইয়া নিলা ভাবিকে ভালোই শাস্তি দিচ্ছে বর্তমানে তাদের 


স্বামী স্ত্রীর মাঝে সম্পর্কের ফাটল ধরেছে। ভাইয়া আমার বিষয়টা জেনেছে সেটা অনেকদিন পর। যখন আমার এমন অবস্থা লক্ষ্য করলো বেস তখন থেকেই নিলার সামান্য টুকু ভুল দেখলেই সে টপিক নিয়ে ভাইয়া নিলা ভাবিকে মারধর করতো। নিলাও ভাবি ও বুঝতে পারতো তাকে কেন সামল্য ভুলের জন্য মারা হচ্ছে। সেও নিরব হয়ে আঘাত গুলো সহ্য করে যেতো "


এভাবেই কিছুদিন কেটে গেলো। তখনই আল্লাহর রহমতে সুস্থ সবল ছিলাম। নিয়মিত মেডিসিন প্রয়োগ করার কারনে একসময় ভুলেই গেলাম আমার শরীরে ক্যান্সার রোগ সঞ্চারিত হয়েছে। অপরদিকে ভাইয়া ভাবিদের রোজ ঝগড়া লাগত এক পযার্য়ে ভাইয়াই একদিন আমাদের সকলকে ডেকে বলল


আজ তোমরা যাই বলো না কেন নিলাকে আমি এই বাড়ির বউ হিসাবে আর রাখছি না

"ডিভোর্স দিতে চাই (রাকিব ভাইয়া) 


ভাইয়ার মুখে ডিভোর্স এর কথা শুনে চমকে উঠলাম। বুঝতে পারছিলাম না। কেন ভাবিকে ডিভোর্স দিতে চাচ্ছে। উপস্থিত বাবা মা অদিতি তারা নিশ্চুপ হয়ে দাড়িয়ে আছে কোনো কিছু বলছে না। আর অইদিকে নিলা ভাবি ভাইয়ার পা জড়িয়ে কান্নাকাটি করে ডিভোর্স দিতে মানা করছে এ দৃশ্য দেখে বড্ড খারাপই লাগালো। নিজেকে সংযত রাখতে না পেরে ভাইয়ার উদ্দেশ্য বললাম..


ভাইয়া আজ কেন ভাবিকে ডিভোর্স দিতে চাচ্ছো (আমি)

নিলার জন্য শুধুমাত্র আমাদেরকে এমন দিন দেখতে হচ্ছে। আর তোর এই অবস্থার জন্য নিলা ই দায়ি। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এমন কাল নাগিনীকে আমার লাইফ রাখবো না। ডিভোর্স দিয়ে দিবো তাকে (রাকিব রাগান্বিত হয়ে) 


ভাইয়ার কথা শুনে কিছুটা হেসে বললাম 


নিলাকে একা দোষ দিচ্ছো কেন..? তোমরা সবাই আমার সঙ্গে একই রকম আচরণ করেছো" বাবা মা এমন কি আমার সহধর্মিণী অদিতি ও আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো! ৩ টা মাস এই বাড়িতেই ছিলাম তোমরা তো আমার ভুলেও খুজ খবর নাওনি। আমি খেলাম নাকি না খাইয়ে রইলাম তোমরা সেটা বিন্দুমাত্র জানার আগ্রহ নিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করেনি। অদিতি ও কোনোদিন ফোন করে জানতে চাইনি" উল্টো সিম টাই বন্ধ করে ফেলছিলো। তাহলে এখন নিলার একার বিচার করছো কেন। তার সঙ্গে বাবা মা অদিতি এবং তুমি " বড় ভাই হয়ে আমার মাথা আঘাত করে রক্ত ঝাড়িয়েছিলে। আজ তোমার নিজের বিচারটাও করো দেখি..? (আমি)


নিশ্চুপ (,রাকিব ভাইয়া)


কষ্ট শুধু নিলা ভাবি আমাকে দেইনি।তার সঙ্গে তোমরা সবাই আমাকে একই রকম কষ্ট দিয়েছো সুতরাং এখানে নিলাকে একা শাস্তি দিয়ে কোনো লাভ নেই। যা হবার তো সেটা হয়েছেই এখন নিলাকে ডিভোর্স দিলেই কি" সবকিছুর সমাধান হবে...? হবে না। তার থেকে নিলা ভাবিকে নিয়ে ভালোভাবে সংসার শুরু করো (আমার এসব কথা শুনে প্রথমই অদিতি কান্না করতে করতে রুমে চলে গেলো। বাবা মা ও মাথা নিচু করে চলে গেলো রাকিব ভাইয়া হুট করেই আমার হাত জড়িয়ে বলল


ভাই আমাকে ক্ষমা করে দে " আমি নিলার মিথ্যা কান্না দেখে সেদিন নিজেকে সংযত রাখতে পারিনি। রাগের ঘোরে তোর মাথায় আঘাত করে ফেলছি (রাকিব ভাইয়া কান্না করে) 


আমার কারো ও প্রতি কোনো রাগ অভিমান অভিযোগ নেই। অতীতের সব কিছুই ভুলে গিয়েছি।আমাকে নিয়ে শুধু শুধু অশান্তি সৃষ্টি করো না। তোমরা ভালো থেকো এই প্রত্যাশা আমিই করি (এই বলে নিজের রুমে এসে লক্ষ্য করলাম অদিতি বালিশের মাঝে মুখ লুকিয়ে কান্না করছে " হইত তখন আমার বলা কথা শুনে অদিতি কষ্ট পেয়েছে এর জন্য কান্না করছে। তারপর অদিতির সামনে গিয়ে বললাম 


সরি অদিতি তোমাকে কষ্ট দিয়ে কথার বলার কোনো ইচ্ছায় আমার ছিলো না। ভাইয়াকে বুঝাতে তোমার কথাটাও আমাকে বলতে হলো (আমি)


অদিতি চোখের জল মুছে বলল

!

!

(চলবে)

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post