প্রাক্তন
লেখকঃ সিয়াম হোসেন
পর্বঃ ২
রাতটা রিয়াজদের বাড়িতেই ছিলাম গতকাল৷ রিয়াজের মা এখন আগের থেকে কিছুটা সুস্থ হয়েছেন৷ রাতে আমি খেতে না চাইলে তার মা আমাকে জোর করে খাইয়েছেন৷ কিভাবে খাবো কিছুক্ষণ আগেই যে নিজের ভালোবাসার মানুষটা অন্য একটা ছেলের হাত ধরে চলে গিয়েছে৷ রিয়াজের মা নীলিমার বিষয়টা জানতেন৷ রিয়াজই নাকি এর আগে তাকে বলেছিলো৷ নীলিমার বিয়ের কথা শুনে কিছুটা দুঃখ প্রকাশ করলেন৷ রিয়াজকে কিছুটা উপদেশ দিলেন যেনো সে কোনো মেয়ের সাথে প্রেম না করে নাহলে আমার মতো তাকেও কোনো একদিন ছেড়ে চলে যাবে৷ বুঝলাম না আন্টি কি আমাকে ঈশারায় অপমান করলো নাকি ছেলেকে উদাহরণ দিলো আমার মাধ্যমে। সে যাই হোক কথাটা আমলে নিলাম না৷ নীলিমার সাথে আমার চার বছরের সম্পর্ক থাকলেও দু'জনের বাসার কেউই জানতো না৷ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ৫ বছর যখন আমাদের রিলেশনের বয়স পূর্ণ হবে তখন আমরা বাসায় জানিয়ে বিয়ে করে নিবো৷ তবে সেটা আর হলো কোথায় কে জানতো তার আগেই নীলিমা এমনটা করে বসছে৷ ভুলটা হয়তো আমারই তাকে ঠিক ভাবে ভালোবাসতে পারিনি নয়তো নীলিমা আমার সত্যিকারের ভালোবাসাকে বুঝতে পারেনি৷ যদি নীলিমার মা বাবাকে আগেই আমাদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে দিতে পারতাম তাহলে হয়তো আজ এমনটা নাও হতে পারতো৷ তবে এখন সবই অতীত৷ অতীতকে তো আর চাইলেই পাল্টানো যাবে না৷
রিয়াজদের বাসা থেকে বের হয়ে যখন নিজের বাসায় ঢুকলাম দেখলাম বাবা চেয়ারে মুখ গম্ভীর করে বসে আছেন৷ তার চোখ দুটো লাল হয়ে আছে হয়তো সারারাত ঘুমায়নি৷ মা কে দেখছি না বোধ হয় রান্না ঘরে৷
- সারারাত কোথায় ছিলে?
বাবা কথাটা বলে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন উত্তরটা শুনার জন্য৷
- বাবা রিয়াজদের বাসায় ছিলাম।
- বেশ ভালো তাহলে তোমার ফোন বন্ধ কেনো আর রিয়াজের নাম্বারটাও বন্ধ।
- রিয়াজেরটা বন্ধ কেনো জানি না তবে আমার ফোনটা বাসায় রেখে গিয়েছিলাম চার্জ ছিলো না৷
- জানো তোমার জন্য কতো চিন্তা হচ্ছিলো রাতে বাসায় আসার পর তোমার মা আমাকে তোমার সম্পর্কে কিছু বলেছে তুমি নাকি গতকাল তোমার মাকে কিসব বলেছো৷
এই প্রথম বাবাকে দেখে কিছুটা অবাক হচ্ছি৷ কেননা বাবা যে আমার কথা চিন্তা করে সারারাত ঘুমায়নি সেটা আরও বেশি অবাক করে তুলছে আমাকে৷ ছোট থেকেই বাবাকে দেখে আসছি সবসময় ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকতে৷ প্রয়োজন ছাড়া কখনই কারও সাথে তেমন একটা কথা বলেন না৷ ভালোবাসাটা কখনই তেমন ভাবে প্রকাশ করে দেখায়নি আমাদের৷ তবে আমাদের কখন কোনটা লাগবে না চাইতেই এনে দিয়েছেন৷ তবে সবসময় আমাদের ভালো রাখার জন্যই কষ্ট করে গিয়েছেন তিনি৷ বোধ হয় কালকের ঘটনাটা মা বাবাকে বলেছে আর আমি সারারাত বাসায় না ফেরায় আর ফোন বন্ধ থাকার কারণে হয়তো চিন্তায় আর ঘুমাতে পারেন নি৷ মা রান্না ঘর থেকে বের হয়ে বাবার পিছনে এসে দাড়ালেন৷ তার চোখ মুখ দেখে বোঝায় যাচ্ছে তিনিও সারারাত জেগেছিলেন৷
- এখন বলো কি এমন হয়েছে যা আমাদের কে বলছো না।
কি বলবো আমি বলার মতো তো কিছুই নেই তাদের কে৷
- দেখো বাবা তোমাদের দুই ভাই-বোনের জন্য আমি সারা জীবন কষ্ট করে আসছি যাতে তোমরা ভালোভাবে থাকতে পারো৷ কি এমন হয়েছে আমাদের কেও বলো যাতে এর সমাধান করার চেষ্টা করতে পারি৷
আমার সাথে যা হয়েছে তার যে কোনে সমাধান নেই বাবা নিজেই নিজেকে বলছি৷
- কি বলছো নিজে নিজে?
- কিছুনা বাবা এমনি তোমরা শুধু শুধু আমাকে নিয়ে ভয় পাচ্ছো৷ আর কালকে যা বলেছে তা মুখ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছে৷ তাছাড়া আমি কখনই এমন কাজ করবো না যাতে তোমরা কষ্ট পাও৷
- কিন্তু তুই যে ভিতরে ভিতরে কষ্টে আছিস এটা আমাকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না বাবা ( মা বলেই কান্না করে উঠলেন)
বুঝিনা এই মা জাতি গুলো এমন কেনো সন্তানের সামান্য কষ্টেই তাদের চোখে জল চলে আসে৷ উল্টো ফিরে রুমে যেতেই বাবা পিছন থেকে ডেকে তার সামনে এসে দাঁড়াতে বললেন৷
- জানিনা কি এমন হয়েছে যা আমাদের বলছো না৷ যদি এটা নিজের মাঝে রাখতে চাও তাহলে জোড় করবো না। তবে আমার তোমাকে কিছু বলার আছে তোমার এই কষ্ট দেখে আমি আর তোমার মা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা তোমাকে বিয়ে দিবো৷
- বিয়ে মানে না আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব না৷
- কেনো সম্ভব না
- এমনিই আমি বিয়ে করবো না৷
- তুমি যা বলবে তা হবে না আগে মেয়েটার সাথে দেখা করো যদি ভালে না লাগে তারপর বলিও
- মেয়ের সাথে দেখা করবো কি? আপনি কি মেয়েও ঠিক করে রেখেছেন?
- হ্যা মেয়েটাকে আমি অনেকদিন ধরে চিনি৷ আমারতো মেয়েটাকে পছন্দও হয় এখন শুধু তুমি পছন্দ করলেই বিয়েটা হয়ে যাবে৷ কালকে সে তোমার জন্য বাগদাদ রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করবে৷
- এটা কি বাবা আপনি আমার কাছে বিষয়টা জানারও প্রয়োজন মনে করলেন না? আর কখন কোথায় দেখা করতে হবে সেটাও ঠিক করে এসেছেন৷
- আমি তোমার বাবা তুমি আমার ছেলে সব কিছুতেই কি আমাকে তোমার থেকে জেনে নিতে হবে৷ তাছাড়া তোমার এখন যে অবস্থা দেখছি এতে বোঝায় যাচ্ছে এর পিছনে নিশ্চয় কোনো মেয়ের হাত রয়েছে তাই নয়কি?
আমি আর কিছু বললাম না৷
- দেখো যে মেয়েটা তোমাকে ছেড়ে অন্যর হাত ধরে চলে যেতে পারে তার জন্য কেনো তুমি মন খারাপ করবে সে যদি তোমাকে ছেড়ে ভালো থাকতে পারে তাহলে তুমিও দেখিয়ে দাও তুমিও তাকে ছেড়ে ভালো থাকতে পারবে। বিষয়টা নিয়ে ভালোভাবে ভেবে দেখো যাও নিজের রুমে যাও৷
বাবা কথাটা খারাপ বলেনি৷ নীলিমা যখন আমাকে ছেড়ে অন্য ছেলেকে বিয়ে করতে পারে তাহলে আমি পারবো না কেনো৷ অন্য দিক থেকে ভাবলে যে নিজের ভালেবাসার সাথে অন্যায় করা হবে যেই মেয়েটাকে ভালেবাসি তার প্রতি অভিমান করে যে থাকতে পারবো না৷ তাছাড়া যার সাথেই বিয়ে হবে তাকে কি আমি ভালোবাসতে পারবো? আর মেয়েটা যখন জানতে পারবে আমি অন্য একটা মেয়েকে পাগলের মতো ভালোবাসতাম সে কি আমাকে মেনে নিবে? নিজের ফোনটা চার্জে লাগিয়ে ওপেন করতেই যেনো একরাশ ভুমিকম্প হয়ে গেলো৷ প্রায় ১০০+ এর উপর ফোন বাবা ও মায়ের নাম্বার থেকে৷ মেসেজ রয়েছে অনেক তবে সেটা নীলা দিয়েছে৷ নীলিমার ছোট বোন নীলা বুঝতে পারছি না সে আমাকে ফোন কেনো দিবে?
মেসেজ গুলো এমন
" ভাইয়া কোথায় আপনি ফোন ধরছেন না কেনো?
" আপনার সাথে জরুরি কিছু কথা আছে ফোনটা একটু ধরুন"
" ভাইয়া কি হলো" আরও অনেক কিছু লিখা রয়েছে৷ বুঝতে পারলাম না নীলা কেনো আমাকে ফোন ও মেসেজ দিয়েছে কি এমন জরুরি কথা থাকতে পারে আমার সাথে তার? নাকি এটা নীলিমা সাত পাঁচ না ভেবে ফোন দেওয়ার সাথেই ফোনটা রিসিভ করলো যেনো ফোন হাতে নিয়েই সে বসে ছিলো৷
হ্যালো বলতেই বুঝতে পারলাম এটা নীলা৷
- কি হলো ভাইয়া কালকে আপনি ফোন ধরলেন না কেনো? আপনাকে কতবার ফোন দিলাম মেসেজও দিলাম কি হয়েছে আপনার?৷
- কিছুনা কেনো ফোন দিয়েছিলে বলো
- আপু ফোন দিতে বলেছিলো আপনাকে
- কেনো?
- আপু আপনার জন্য একটা চিঠি লিখে রেখেছেন সেটা আপনাকে দিতে বলেছে আজকে বিকালে একটু দেখা করতে পারবেন আপনি আর আপু সবসময় যেখানে দেখা করতেন ঠিক সেখানেই?
বিষয়টা আমাকে কিছুটা অবাক করলেও কোনো প্রশ্ন না বাড়িয়ে নীলাকে বললাম আমি আসবো৷
বিকালে আজকেও সেই বটগাছের নিচে দাড়িয়ে আছি৷ দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে যেনো আমার সেই নীলিমা আজকেও নীল শাড়ি পরে আমার দিকে এগিয়ে আসছে৷ চোখে যেনো আমি স্বপ্ন দেখছি নয়তো কল্পনাতে ডুবে আছি আমি৷ নীলিমা এখানে কিভাবে আসবে ওর তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে।
- ভাইয়া কেমন লাগছে আমাকে?
কথা শেষ হবার সাথে নিজের হুশ ফিরে আসলো৷ আসলে এটা নীলা তাদের চেহারায় অনেকটা মিল খুজে পাওয়া যায়৷ তবে সে যে নীলিমার শাড়ী পরে এসেছে সেটা চিনতে আমার সময় লাগেনি৷ এটাই সেই শাড়ী যেটা থেকে আমাদের ভালোবাসা শুরু হয়েছিলো৷ নীলার প্রশ্নের আমি কোনো জবাব দিলাম না৷
- আপু বলেছিলো যেদিন আপনি আপুকে প্রপোজ করেছিলেন সেইদিন নাকি সে এই শাড়ীটা পরেছিলে৷
- হ্যা বেশ মানিয়েছিলো সেদিন তাকে তবে এখন তা সবই অতীত মিছে মায়া৷
- প্লিজ ভাইয়া মন খারাপ করবেন না। আমি মানছি আপু আপনার সাথে অনেক বড় অন্যায় করেছে৷ আপনার ভালোবাসাটা সে বুঝতে পারেনি৷ দেখুন মন খারাপ করবেন না আপনার মন খারাপ করা দেখলে আমারও অনেক খারাপ লাগে৷ তাছাড়া আমি আছি তো।
নীলা কথার আগা মাথা কিছুই বুঝলাম না ওর মাথা ঠিক আছে তো কি সব উল্টা পাল্টা কথা বলছে৷
- জানেন আমি আপুকে অনেক বার বলেছিলাম আপনার সাথে যেনো এমনটা না করে
- বাদ দাও চিঠিটা কোথায়?
- এইযে
চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করেছি
"প্রিয় সিয়াম
তোমাকে হয়তো এখন আর আমার প্রিয় বলা মানায় না৷ জানি তুমি আমাকে এই মুহুর্তে অনেক ঘৃণা করছো৷ নয়তো নিজের ভুলটা কোথায় সেটা খুজছো৷ নিজের ভুল খুজতে যেওনা কারণ এখানে তোমার কোনো ভুল নেই৷ তুমি যখন চিঠিটা পড়ছো হয়তো তখন আমি আমার শশুর বাড়ি চলে এসেছি৷ গত চার বছর তুমি আমাকে পাগলের মতো ভালোবেসেছো আমিও বেসেছিলাম তোমাকে৷ কিন্তু হঠাৎ করেই আয়ানের আবির্ভাব ঘটে আমার হৃদয়ে৷ হাসপাতালে যখন মা'কে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম তখন থেকেই তার সাথে আমার পরিচয়। মায়ের 0- রক্তের প্রয়োজন ছিলো যেটা আয়ান দিয়েছিলো৷ সেদিন থেকেই তার সাথে একটা ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠে৷ তার সাথে যখন মিশতাম তখন মনে হতো যেনো আমি কোনো এক অজানা সুখের নৌকায় ভেসে চলেছি৷ আস্তে আস্তে আায়ানকে আমার ভালোলাগতে শুরু করে৷ সেও তোমার মতো বেশ কেয়ার করতো আমার তার সাথে যখন থাকতাম আমার মনেই হতো না যে আমার তুমি নামক একটা বয়ফ্রেন্ড আছে৷ আয়ান মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িতেও আসতো মায়ের খোজ খবর নেওয়ার জন্য ওর এই বিষয়টা আমার
আরও ভালো লাগতো৷ মা বাবার কাছে যখন আয়ান প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেছিলো তখনই সে আমাকে নিজের করে পাবার জন্য মা বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তারাও রাজি হয়ে যায়৷ সেই মুহুর্তে আমার তোমার কথা মাথায় ছিলোনা ভেবেছিলাম তোমার থেকে আয়ান আমায় অনেক সুখে রাখবে তাই রাজি হয়েগিয়েছি৷ প্লিজ পারলে তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও আর আমাকে ভুলে যেও৷ জানি তোমার জন্য এতটাও হয়তো সহজ হবে না৷ শুধু বলবো আমার কথা ভেবে নিজেকে কষ্ট দিয়ো না। যেকোনো একটা ভালো মেয়েকে দেখে বিয়ে করে না-ও যে তোমাকে অনেক ভালোবাসবে দেখবে একদিন তুমি তার ভালোবাসায় আমাকে ঠিকই ভুলে গিয়েছো।
ইতি নীলিমা"
চিঠিটা পড়ে কি করবো বুঝতে পারছি না৷ চিঠিটা মুচড়িয়ে সেটাকে কয়েক টুকরো করে মাঠিতে ফেলে উঠে বাসার দিকে রওনা হলাম৷ পিছন থেকে নীলা ডেকেই চলেছে তবে সেদিকে আমার কোনো খেয়াল নেই৷ এই মেয়ের জন্য নিজেকে কষ্ট দেওয়া ঠিক হবে না৷ যে সামান্য কয়েকদিনের পরিচয়ে চার বছরের সম্পর্ককে ভুলে যেতে পারে তার জন্য কষ্ট পাবার কোনো মানেই হয়না৷ বাসায় এসেই বাবাকে বললাম
" বাবা আপনি যেই মেয়ের সাথে আমাকে বিয়ে দিতে চাননা কেনো আমি রাজি। আপনার যখন পছন্দ আমি যে-কোনো মেয়েকেই বিয়ে করতে পারবো৷ আপনি সেই মেয়েকে ফোন করে বলুন দেখা করার কোনো দরকার নেই৷ আর যতদ্রুত সম্ভব বিয়ের আয়োজন করুন৷ এখন আবার আমাকে কোনো প্রশ্ন করবেন না দয়া করে! যে হুট করে কি হলো আমার৷ শুধু বলবো বিয়ের আয়োজনটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করুন৷
কথা গুলো শেষ করে নিজের রুমে এসে লম্বা একটা শাওয়ার নিলাম৷ ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলাম নীলা অনেকবার ফোন দিয়েছিলো৷ তার সাথে কথা বলাটা জরুরি মনে করলাম না৷
১০ দিনের মাথায় আমার সাথে সেই মেয়েটার বিয়ে হয়েছে অথচ এখনও তার নামটা জানিনা আমি৷ ভেবে নিয়েছি বাসর রাতে তাকে আমি আমার অতীত সম্পর্কে বলে দিবো যাতে পরবর্তীতে এটা নিয়ে আমাদের মাঝে কোনো ঝামেলা না হয়৷ জানিনা এটা সে কিভাবে নিবে৷
চলবে...
