প্রাক্তন পর্ব ১ লেখকঃ সিয়াম হোসেন


প্রাক্তন

পর্ব ১

লেখকঃ সিয়াম হোসেন


নীলিমাকে সেদিন দেখলাম একটা ছেলের সাথে রিক্সার হুডি উঠিয়ে দিয়ে বেশ আন্তরিক ভাবে ঘেঁষে বসে হেঁসে হেঁসে কথা বলছে৷ 


দূর থেকে লক্ষ্য করে দেখেছিলাম তাদের বসার মাঝে ইন্ঞ্চি খানিকও ফাঁকা ছিলো না৷ 


সেদিন যেনো নিজের ভিতরটা জ্বলে পুরে যাচ্ছিলো৷ ইচ্ছে করছিলো দৌড়ে গিয়ে তাদের রিক্সাটা থাকিয়ে ছেলেকে দু একটা ঘুষি মেয়ে জিজ্ঞেস করি আমার গার্লফ্রেন্ড এর সাথে এত আন্তরিক ভাবে বসে আছে কেনো৷ তবে আমি সেটা পারিনি৷ কারণ ছেলেটা যেমন ভাবেই বসুক না কেনো নীলিমাই তার কাছে বেশি ঘেঁষে বসে আছে৷ এই নিয়ে নীলিমাকে সেদিন বিকালে যখন জানতে চাইলাম সে আমাকে বলেছিলো এটা তার কোন দূর সম্পর্কের মামাতো ভাই এর আগে কখনও ঢাকায় আসেনি তাই তাকে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলাে৷ যখন আমি তার কাছে জানতে চাইলাম এতটা আন্তরিক ভাবে বসার কি দরকার ছিলো৷ তখন আমাকে সে হাজারটা কথা শুনিয়েছিলো৷ আমি তাকে সন্দেহ করি এটা সেটে বলে আমার উপরই রাগ দেখাচ্ছিলো৷ যেখানো আমার রাগ দেখানো উচিত ছিলো৷ তবে আমি পারিনি৷ তার ভুল থাকা সত্ত্বেও আমি নিজেই তার কাছে মাফ চেয়ে বলেছিলাম এমনটা আর কখনও হবে না৷ প্রতি উত্তরে সে শুধু বলেছিলো "সত্যি-তো"। 

আমি আর কিছু বলিনি সেদিন৷ কারণ ভয় হয় অনেক তাকে হারিয়ে ফেলার ভয়৷ সে চলে গেলে যে আমি নিঃশ্ব হয়ে যাবো৷ প্রচুর ভালোবাসি যে তাকে৷ সেদিনের পর থেকে আজ চারদিন হয়ে গেলো নীলিমার সাথে ঠিক মতো যোগাযোগ করতে পারছি না৷ তাকে ফোন দিলে সে ধরছে না৷ এখন তো তার নাম্বারটাই বন্ধ আসছে৷ নিজের মনের মাঝে এক অজানা ভয় কাজ করছে৷ নীলিমা আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে না তো? 

অফিসের কেভিনে বসে যখন এসব ভাবছিলাম তখন রহমান চাচা এসে জানালেন আজকে অফিস দুইটার থেকে ছুটি৷ কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন 

" স্যারের নাকি কোন এক মামা শশুর মারা গিয়েছে সেখানে যেতে হবে" 

জানিনা তবে বিষয়টা কেনো জানি আমার কাছেও খারাপা লাগলো৷ হয়তো স্যারের প্রতি শ্রদ্ধা কেননা স্যার সবসময় আমাকে ভালো জানেন৷ প্রয়োজনে খোজ খবরও রাখেন আমার৷ তবে একদিক থেকে আমার জন্য বিষয়টা ভালোই হলো আজকে বিকালে একটু নীলিমার সাথে দেখা করতে যেতে পারবো৷ আজ চারদিন হলো তাকে দেখিনা তার সাথে কথাও হয়না৷ হয়তো ওর কোনো অসুখ হয়েছে নয়তো কোনো সমস্যায় পড়েছে কেননা এর আগে এমনটা কখনও হয়নি৷ তবুও আর একবার নীলিমার নাম্বারে ফোন দিলাম তবে এখনও বন্ধ বলছে৷ অফিস থেকে বের হয়েই ভাবলাম বাসায় না গিয়ে একটু বন্ধু রিয়াজের বাসা থেকে ঘুরে আসি৷ কয়েকদিন আগে ফোন করে বলেছিলো তার মা নাকি অনেক অসুস্থ আমি যেনো একটিবার এসে দেখে যায়৷ তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে যাওয়া হয়নি। রাস্তার পাশ দিয়ে হাটছি আর ভাবছি কি নিয়ে যাওয়া যায়৷ এক অসুস্থ মানুষকে দেখতে যাবো খালি হাতে তো আর যাওয়া যায় না৷ কয়েক পদের ফল নিয়ে গেলে মন্দ হয় না৷ রাফিদের বাসার পাশেই যে বাজারটা আছে সেখানে অনেক ভালো ও টাটকা ফল পাওয়া যায়৷ তাই বাজারের দিকে রওনা হবার সময় আমার চোখ যেনো একটা অদ্ভুত কিছুতে আটকে গিয়েছে৷ যদি নিজের চোখটা এটা না দেখতো তাহলেই বোধ হয় ভালো হতো৷ রাস্তার অপর পাশে যে রেস্টুরেন্টটা রয়েছে তার ভিতরে দুজন মানুষ বসে আছে৷ একটা নীলিমা অন্যটা সেদিন কার সেই ছেলে যাকে সে তার মামাতো ভাই বলেছিলে৷ দূর থেকেই বোঝা যাচ্ছে তারা বেশ হেসে খেলেই কথা বলছে৷ একজন অন্য জনের খাবারও শেয়ার করছে৷ এক পর্যায়ে তো দেখলাম দুজনে একই গ্লাস থেকে কোমল পানীয় শেয়ার করছে পাইপের মাধ্যমে৷ নিজের ভিতরটায় যেনো এক অজানা ঝড় বয়ে চলেছে৷ হয়তো আমি স্বপ্ন দেখছি নয়তো আমার চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছে৷ এটাই কি সেই নীলিমা যাকে গত চার বছর ধরে ভালোবেসে আসছি আমি? হঠাৎ করেই নীলিমার চোখ আমার চোখে পড়ার সাথেই সে মাথাটা ঘুরিয়ে নিলো এসময় তার চুল গুলো তার মুখটাকে ঢেকে দিয়েছে৷ ছেলেটা বেশ আলতো করে নিজের বা হাতের আঙুল দিয়ে চুল গুলো নীলিমার কানের পিছনে নিয়ে দিলো৷ একটা সময় ছিলো ঠিক এভাবেই আমি নীলিমার চুল গুলো ঠিক করে দিতাম আর সে ইচ্ছে করে বারবার চুল গুলো সামনে এনে রাখতো৷ এখনও তো সে ইচ্ছা করেই করেছে তবে নিজের মুখটাকে লুকানোর জন্য৷ নীলিমা আর চোখে তাকিয়ে আমাকে দেখছে সেটা আমি স্পষ্ট দেখতে পারছি৷ তার মুখের হাসিটা কেমন যেনো উধাও হয়ে গিয়েছে আমাকে দেখার পর৷ নিজের চোখের কোনায় অজান্তেই অশ্রু জড়ো হয়ে গিয়েছে৷ জানি না কেনো তবে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে একটা ছেলের কান্না করা মানায় না৷ নীলিমার একটু প্রাইভেসি দরকার তাই আর সেখানে না দাড়িয়ে থেকে বাসার দিকে রওনা দিয়েছো৷ হয়তো নীলিমা যখন আড়-চোখে তাকিয়ে আমাকে দেখতে পারবে না তখন হয়তো ছেলেটার সাথে আবার হেঁসে কথা বলতে পারবে৷ এসব ভাবতেই নিজের মনটা বেশ ভারি হয়ে আসছে৷ পা চলতে চাইছে না মনে হচ্ছে যেনো কেউ একজন পিছন থেকে আমার পা বেঁধে দিয়েছে৷ ইচ্ছে করছে দৌড়ে নীলিমার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি আমার ভালেবাসায় কি কোনো কমতি ছিলো? তবে সেটা করা উচিত হবে না এতে সে ওই ছেলেটার চোখে খারাপ হয়ে যাবে যখন সে জানতে পারবে তার আগের একটা বয়ফ্রেন্ড আছে৷ আমি তো চাইনা নীলিমাকে কেউ খারাপ ভাবুক৷ বাসায় প্রবেশ করতেই মা বলে উঠলেন 

- কি ব্যাপার আজকে এতো তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আসলি যে কোনো সমস্যা হয়েছে আর তোকে এমন দেখাচ্ছে কেনো? 

মায়ের প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারলাম না৷ কথা বলার শক্তি টুকু আমার মাঝে নেই। নিজের রুমে এসেই দরজাটা বন্ধ করে বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে পড়েছি৷ ইচ্ছা করছে হাউমাউ করে কাঁদতে৷ তবে আমি যে ছেলে। ছেলে মানুষের কান্না করা শোভা পায়না৷ না আমি কান্না করছি না৷ তবে চোখ দুটো যে বড্ড বেইমানি করছে আজ আমার সাথে না চাইতেই গাল বেয়ে অশ্রু ঝড়ে পড়ছে বিছানায়৷ দরজার ওপাশ থেকে মা বার বার বলছেন 

" কি হয়েছে সিয়াম দরজা বন্ধ করলি কেনো দরজাটা খোল৷ " তার কন্ঠ শুনে বোঝা যাচ্ছে তিনিও বেশ চিন্তা করছেন আমাকে নিয়ে৷ ছোট বোনেরও আওয়াজ আসছে 

" ভাইয়া দরজাটা একটু খোল-না" 

- আমাকে কিছুক্ষণ একা থাকতে দাও৷ 

কথাটি বলার সময় নিজের গলার সুরটা বেশ জড়িয়ে আসছিলো৷ তারপর আর কোনো আওয়াজ পায়নি৷ 

নীলিমা আমার সাথে কেনো এমনটা করলো? না নীলিমা আমার সাথে এমনটা করতে পারে না আমি যেনো অন্য কাউকে দেখেছি সেটা নীলিমা কখনই হতে পারে না৷ কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব তাকে যে চার বছর ধরে ভালেবেসে আসছি তার উপস্থিতিই আমাকে মনে করিয়ে দেয় এটা নীলিমা৷ যদি এমনটা দেখার আগে আমি অন্ধ হয়ে যেতাম তাহলেই বোধ হয় ভালো হতো৷ এসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই৷ যখন ঘুম ভাঙলো ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি ৩২ টা মিসড কল নীলিমার নাম্বার থেকে৷ বিষয়টা আমাকে কিছুটা অবাক করলো কেননা সে এর আগে কখনই আমকে এতোবার ফোন দেয়নি৷ দুপুরের ঘটনা মনে পড়তেই আবারও মনটা খারাপ হয়ে গেলো৷ নীলিমার নাম্বারে ফোন দিতে যাবো তার আগেই সে ফোন দিলো। ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে নীলিমা বলতে শুরু করেছে 

" কি হলো ফোন ধরছো না কেনো? সেই কখন থেকে ফোন দিয়ে যাচ্ছি কি হয়েছে তোমার হ্যা৷ কোনো সমস্যা নাকি" 

কথা গুলো শুনে বেশ কিছুটা অবাক হলাম৷ মনের মাঝে নীলিমার প্রতি ঘৃণা লাগছে এটাইকি সেই মেয়ে যে কিছুক্ষণ আগে অন্য ছেলের সাথে খাবার শেয়ার করে খেয়ে এখন আমাকে আবার ফোন দিয়ে ভালোবাসা দেখাচ্ছে? 

" কি হলো কথা বলছো না কেনো বোবা হয়ে গেলে নাকি? 

" শুনছি বলো " (নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে৷ 

- আগে বলো এতক্ষণ কোথায় ছিলে ফোন ধরলে না কেনো? 

- ঘুমিয়েছিলাম আর ফোন সাইলেন্ট করা ছিলো৷ 

- ওহ্ শুনো কাল সকাল আটটায় একটু আমার সাথে দেখা করতে পারবে? 

- কেনো? 

- আমার কিছু জরুরি কথা বলার ছিলো আর হ্যা অবশ্যই আটটার মধ্য চলে আসবে আমি বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে পারবো না আমরা সবসময় যেখানে দেখা করি সেখানে ঠিক আছে।  

কথাটি শেষ করেই নীলিমা ফোনটা কেটে দিলো৷ নীলিমার এমন আচরণ আমাকে বেশ ভাবিয়ে তুলছে৷ কোনো কিছু না ভেবে ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বের হলাম৷ জানি মা এখনও হয়তো আমাকে নিয়ে চিন্তা করছেন৷ 

- বাবা কি হয়েছে তোর  

- কিছু হয়নি মা ক্ষুদা লেগেছে খেতে দাও। 

- দেখ আমি তোর মা আমাকে অন্তত মিথ্যা বলিস না বলনা কি হয়েছে? 

আমি কিছু না বলে নিজেই টেবিল থেকে খাবার প্লেটে তুলতে গেলে মা হাত থেকে চামচটা নিয়ে তুলে দিচ্ছেন৷ তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখেছি সেও অনেক চিন্তায় আছেন আমাকে নিয়ে৷ 


পরেরদিন সকালে আটটার আগেই আমাদের সেই চিরচেনা বট গাছটার নিচে এসে দাড়িয়ে আছি৷ এখানেই প্রথম নীলিমাকে নিজের মনের কথা গুলো জানিয়েছিলাম৷ আজও সেই দিনটার কথা মনে পড়লে প্রচন্ড হাসি পায় কতই না বোকা ভাবে নিজের ভালেবাসা উপস্থাপন করেছি৷ সেদিন নীলিমা একটা শাড়ি পরে এসেছিলো নীল রঙের সেই সাথে মেসিং করে ব্লাউজ কপালের মাঝে ছোট একটা টিপ৷ দিনটা ছিলো পহেলা বৈশাখ সবাই সাদা ও হলুদ শাড়ী পড়লেও নীল শাড়ীতে তাকে বেশ মানিয়েছিলো৷ আমার পড়নে ছিলো সাদা পাঞ্জাবী৷ যখন অনেক চেষ্টার পর তাকে গোলাপ দিয়ে নিজের মনে কথা গুলো বলতে পারছিলাম না নীলিমা আমার মাথায় একটা গাট্টা মেরে বলেছিলো

" হাদা রামের মতো দাঁড়িয়েই থাকবে নাকি প্রপোজও করবে? যদি না পারো তো বলো আমি অন্য কোনো ছেলেকে বেঁছে নিবো" 

ভয় পেয়ে সাথে সাথেই বলে দিয়েছিলাম আমি তোমাকি ভালেবাসি তার দিকে ফুলটা বাড়িয়ে তবে ফুলটা হাতে ছিলোনা৷ মানে হাত থেকে যে সেটা নিচে পড়ে গিয়েছিলো সেদিকে আমার খেয়ালই ছিলো না। এসব ভাবতে ভাবতে মনের অজান্তেই ঠোটের কোনে মুসকি হাসি চলে আছে৷ দূর থেকেই বুঝতে পারছি নীলিমা আসছে৷ 

- কেমন আছো নীলিমা ( নিজেকে বেশ স্বাভাবিক করে নিয়ে) 

- হুমম ভালো শোনো যে কারণে আমি তোমাকে ডেকেছি

- আমি কেমন আছি জানতে চাইবে না( কিছুটা অবাক হয়ে) 

- দেখো আমার হাতে ওতো সময় নেই যেটার জন্য তোমাকে ডেকেছি আমি আর তোমার সাথে সম্পর্ক রাখতে পারবো না৷ 

কথাটি শুনা মাত্রই নিজের মনটা কাঁচের মতো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো৷ পায়ের নিচে মাটিকে অনুভব করতে পারছি না৷ 

- নীলিমা তুমি কি বলছো তোমার মাথা ঠিক আছে তো?

- হ্যা আমার মাথা ঠিক আছে আসলে আমার বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে কাল যে ছেলেটাকে দেখেছো তার সাথেই আগামী শনিবার আমার বিয়ে৷ 

- আর আমাদের যে চার বছরের সম্পর্ক সেটার কি হবে? 

- দেখো তুমি জানো আমি মা বাবার উপর কথা বলতে পারিনা৷ তাছাড়া তোমার প্রতি এখন আর আমার আগের মতো ভালোলাগা কাজ করে না।  

- নীলিমা না এটা হতে পারে না আমি জানি তুমি এটা কখনই করতে পারো না প্লিজ বলো তুমি যা বলেছো তা মিথ্যা প্লিজ ( নিজের কন্ঠ ভারি হয়ে আসছে) 

- দেখো আবেগ দিয়ে সবসময় সবকিছু হয়না এটা তোমার বুঝতে হবে৷ 

- চার বছরের সম্পর্ককে তুমি আবেগ বলছো? 

- আমি ওতো কিছু বুঝি না তাছাড়া আয়ান তোমার থেকে অনেক ভালো 

- তাহলে ছেলেটার নাম আয়ান 

- হ্যা সে বিয়ের পর আমার অনেক খেয়াল রাখবে। 

- আমার ভালোবাসায় কি কখনও কোনো কমতি ছিলো? 

- জানিনা তবে আমি আর কিছু বলতে চায় না শুধু এতটুকুই বলবো তোমার প্রতি এখন আর আমার আগে মতো ফিল আসেনা৷ এটা তোমার বুঝতে হবে৷ 

- নীলিমা আমি তোমার পায়ে পড়ছি প্লিজ এমনটা করো না তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচার কথা ভাবতেও পারিনা ( নিজের অজান্তে চোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়ে পড়ছে)  

- দেখো মেয়ে মানুষের মতো কান্না করবে না তাছাড়া তুমি এই যুগের ছেলে চাইলে আমার মতো হাজার জনকে পেয়ে যাবে।  

- হয়তো হাজার জনকে পেয়ে যাবো তবে সেই হাজার জন কি তোমার অপূর্ণতা পূর্ণ করতে পারবে? 

- জানিনা আমার দেড়ি হয়ে যাচ্ছে আয়ান হয়তো এতক্ষণে আমার বাড়ির সামনে চলে এসেছে৷ 

- নীলিমা প্লিজ যেওনা নীলিমা (সে আর পিছনে না তাকিয়ে তার মতো চলে গেলো) আমি সেখানেই মাথা নিচু করে বসে আছি। চোখের পানিতে নিচের পায়ের কাছের মাটি পর্যন্ত ভিজে গিয়েছে৷ 


- ভাইয়া কান্না করেন ক্যান৷ 

মাথা উচু করে দেখি একটা ১০-১২ বছরের একটা ছেলে আমার সামনে দাড়িয়ে আছে পড়নে একটা ছেড়া জামা৷ 

- কিছু না চোখে ময়লা গিয়েছে।  

- ওহ্ আমারে ১০ টা ট্যাকা দিবেন 

কথাটি বলেই আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে৷ পকেট থেকে মানিব্যাগটা বের করে একটা ৫০০ টাকার নোট ছেলেটার হাতে ধরিয়ে কোনো রকম বাসায় চলে আসলাম৷ 

মা খাবার টেবিলে বসে আছেন আমার জন্য৷ 

- কিরে সকাল করে কোথায় গিয়েছিলি না খেয়ে। আর তোর চোখে পানি ক্যান কি হয়েছে? 

- কিছু না মা চোখে ময়লা গিয়েছে 

- দেখ বাবা তোর এই মা-কে আর কষ্ট দিসনা বলনা কি হয়েছে জানিস না তোর কষ্ট দেখলে আমার অনেক কষ্ট হয় ( কথাটি বলেই শাড়ীর আচল দিয়ে চোখটা মুছলেন৷)  

অনেকদিন পর মাকে জড়িয়ে ধরলাম।

- মা আমি শেষ হয়ে গিয়েছি আমার সব কিছু শেষ হয়ে গিয়েছে। আমার আর বাঁচতে ইচ্ছে করছে না মা আমার আর বাঁচতে ইচ্ছা করছে না৷ ( কান্না করে দিয়ে)

- কি হয়েছে আমাকে বল এমন কথা বলছিস কেনো তুই মারা গেলে আমি কি নিয়ে বেঁচে থাকবো বল ( আমার সাথে আমার মা-ও কান্না শুরু করে দিয়েছে) 

- কি হয়েছে আমাকে বল বাবা৷ 

- কিছুনা মা আমি শেষ হয়ে গিয়েছি মা আমি শেষ হয়ে গিয়েছি৷ 

মা নিজেও আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্না করছেন। 


আজ শনিবার নীলিমার বিয়ের দিন৷ রাত নয়টা বাজে আমি নীলিমাদের বাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছি আমার পাশে রিয়াজও দাড়িয়ে আছে৷ নীলিমাদের বাড়ির চারপাশটা আজ বেশ আলোয় জমজমাট হয়ে আছে৷ বাড়িটা বেশ সুন্দর করে সাজানো হয়েছে আজকে৷ আর কিছুক্ষণ পরে নীলিমা অন্য কারও হয়ে যাবে সেটা ভাবতেই চোখের কোনো অশ্রু জমা হয়ে পড়েছে৷ রিয়াজ আমাকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে৷ যেনো আমি পাগলামো করে নীলিমার বাড়ির ভিতরে দৌড় না দেয় সেই ভয়ে৷ তবে সে তো আর জানে না যেখানে আমার মনটাই বেধে রাখা হয়েছে সেখানে পা কোনো কাজ করবে না৷ 

- দেখ এখানে দাড়িয়ে থেকে নিজেকে আর কষ্ট দিস না আমার সাথে চল৷ 

- দাঁড়া আর একটু আমার নীলিমাকে বঁধু সাজে দেখতে হবে যে দেখিস কিছুক্ষণ পরেই গাড়িতে উঠার জন্য বের হবে একটু অপেক্ষা কর ওকে একটি বারের জন্য বঁধু সাজে দেখেই চলে যাবো৷ 

রিয়াজ কিছু বললো না৷ খেয়াল করে দেখলাম সে তার হাতের পিছন পাশ দিয়ে শুধু চোখটা মুছলো আচ্ছা ও কি কান্না করছে? কিন্তু কেনো?


চলবে....

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post