গল্পঃ অবহেলিত স্বামী
লেখকঃ শাওন আহমেদ নীল
পর্বঃ ১৪
আম্মু আজকে নিজের হাতে রান্না করলো, সবাই আমরা লাঞ্চ করে নিলাম। লাঞ্চ করে আমি আর
রানা ছাদে চলে আসলাম। ছাদে এসে একটু আড্ডা দিলাম। নিচে থেকে চিল্লানোর আওয়াজ আসছে।
আমি গিয়ে দেখি বৃষ্টি নিধীর সাথে রাগারাগি করছে, অনেক চিল্লাচিল্লি ও করছে।
বৃষ্টিঃ নীল শুধুই আমার,
নিধীঃ চুপ বেহায়া মেয়ে লজ্জা করে না তর, নিজের বফ এর সাথে মিলে নীল কে বাসা থেকে বের করেছিলি আবার নীল শুধু আমার বলতে আসছিস৷। আর শুনে রাখ নীল আমার স্বামী।
বৃষ্টিঃ এই মেয়ে তর সাহস হয় কি করে আমার মুখের উপরে কথা বলার , তাও আবার আমার বাসায় দাঁড়িয়ে৷।
আম্মুঃ কি শুরু করলে তোমরা??
বৃষ্টিঃ বড় আম্মু তুমিই ত বলেছিলে এ বাড়ির বউ হলে শুধু আমিই হবো।।
আমিঃ সেই যোগ্যতা টা আপনার নেই মিস, বৃষ্টি।
আর নিধী এ বাড়ির বউ নেক্সট টাইম ওকে কিছু বলার আগেই বেভে বলবেন।।।।
বৃষ্টিঃ নীল তুমিও।।।
আমি আম্মুকে ইসারা করলাম নিধী কে রুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আম্মু নিধীকে নিয়ে চলে গেলো,!!
বৃষ্টি কাঁদতে লাগলো, আমি আর রানা ও রুম থেকে চলে গেলাম!!
রানা রুমে চলে গেলো, আমিও রুমে চলে আসলাম। রুমে এসে বেলকনিতে গিয়ে একটা সিগারেট মুখে নিলাম!!
হঠাৎ করেই যেনো কোথা থেকে নিধী এসে ছো মেরে আমার মুখ থেকে সিগারেট টা কেঁড়ে নিলো!।
নিধীঃ তর সাহস হলো কি করে আমি রুমে থাকতে তুই সিগারেট মুখে নিছিস।
আমিঃ ভুলে যাবেন না এইটা আপনার বাসা না আপনার রুম ও না।
নিধীঃ কে বলছে আমার রুম না তোমার রুম মানেই ত আমার রুম,।( আহ্লাদের কন্ঠে বললো নিধী)।।।
আমিঃ আপনার ধারণা টা ভুল এখনি রুম থেকে চলে যান।
নিধীঃ যাবো না কি করবি হ্যঁ অনেকক্ষন যাবত কিছু বলছি না বলে বেশি করতেছিস।
এই বলে নিধী আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে দরলো। আর বলতে শুরু করলো, প্লিজ আগের সব কিছু ভুলে যাও,। এখন ত আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি,। প্লিজ নিজের করে নাও আমাকে।।
আমিঃ আপনি ভালোবাসলে হবে না আমি ত আর ভালোবাসি না,।
নিধীঃ কিন্তুু তোমার চোখ যে অন্য কথা বলছে।
।
আমিঃ না আমার চোখ ও এইটাই বলছে, ছারেন আমাকে।।।
এই বলে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলাম আমি রানার রুমে গেলাম। রানা আন্টির সাথে ফোনে কথা বলছে!!
কথা বলা শেষ হলে আমি রানা কে নিয়ে বাহিরে ঘুরতে গেলাম। জয় কে কল দিয়ে আমাদের পুরনো আড্ডাখানায় আসতে বললাম!!
আমি আর রানা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম,। আমরা আড্ডা খানায় চলে গেলাম।
এখানে আমার সব ফ্রেন্ড ছোট ভাইরা এসেছে। তাদের সাথে মত বিনিময় করলাম।।।।
সবার সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে আসলাম।। বাসায় আসতে আসতে রাত হয়ে গেলো।।।
রাতে আমরা সবাই মিলে ডিনার করে নিলাম। ডিনার শেষে আংকেল কে রুমে দিয়ে আসলাম।
আমি আর রানা অনেকক্ষন আড্ডা দিলাম সাদে।
আড্ডা শেষ করে রুমে চলে আসলাম।।।।
রুমে এসে দেখি নিধী খাটে বসে আছে,আমি যাওয়ার সাথে সাথেই নিধী আমাকে জড়িয়ে দরলো!!
নিধীর ছোয়া আমার কাছে অনেক ভালোলাগতেছে,।
বাট এতো সহযে ত নিধীকে আর মেনে নেওয়া যাবে না।। আমি নিধীকে দাক্কা দিয়ে দুরে ঠেলে দিলাম!!
আমি গিয়ে চুপচাপ খাটের এক পাসে শুয়ে আছি নিধী এসে আবার ও আমাকে জড়িয়ে দরলো,!!
এইবার উঠে বসে নিধীর গালে একটা থাপ্পর মেরে দিলাম।। থাপ্পর খেয়ে নিধী স্তব্ধ হয়ে গেলো।।
আসলে থাপ্পর টা মারার কোনো ইচ্ছাই ছিলো না।
নিধী কান্না করতে লাগলো,
আমি বালিস নিয়ে ছোফায় চলে গেলাম।। নিধী কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ল।,!!
আমি আস্তে আস্তে নিধীর কাছে গিয়ে বসলাম,। ফর্সা গাল টা লাল হয়ে গেছে, আমি আস্তে আস্তে নিধীর গালে একটা চুমু দিলাম। দেন আমি এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে নিধীর ডাকে ঘুম ভেঙে গেলো, ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি, ।
বাট যা দেখলাম নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারব কি না জানি না।
#চলবে
