গল্পঃ অবহেলিত স্বামী
লেখকঃ শাওন আহমেদ নীল
পর্বঃ ১৫ (শেষ পর্ব)
আমি আস্তে আস্তে নিধীর কাছে গিয়ে বসলাম,। ফর্সা গাল টা লাল হয়ে গেছে, আমি আস্তে আস্তে নিধীর গালে একটা চুমু দিলাম। দেন আমি এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে নিধীর ডাকে ঘুম ভেঙে গেলো, ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি, । সদ্য গোসল করে এসেছে নিধী,। নিধীর শরীলে শুধু তাওয়াল পেচানো, চুল থেকে ফোটা ফোটা পানি পড়তেছে। আসলে ভেজা চুলে মেয়েদের একটু বেশিই মায়াবি লাগে। আমি এক ধ্যনে নিধীর দিকে তাকিয়ে আছি।
নিধীঃ ওভাবে তাকিয়ে কি দেখতেছো??
আমিঃ কিছুনা বাট আপনি এ অবস্থায় কেন??
নিধীঃ কেন এ অবস্থাতে ভালো লাগতেছে না নাকি?
আমিঃ একদম না।
নিধী মন খারাপ করে আবার ওয়াশরুমে চলে গেলো,।
কি করে বোঝায় এ অবস্থায় তুমি যদি বেশিক্ষন আমার সামনে থাকো, তাহলে ত নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারব না।।।
একি নিধী ওয়াশরুমে থেকে কাপর নিয়ে রুমে আসলো,। রুমে এসে আমার সামনেই ড্রেইস চেইন্জ করতে লাগলো, ।
আমিঃ ওয়াশরুম কি হয়েছে,।।
নিধীঃ ওয়াশরুমে আমার প্রবলেম আছে, এখানেই চেইন্জ করব তোমার কোনো সমস্যা? আর তুমি আমার স্বামী তোমার সামনে ড্রেইস চেইন্জ করতেই পারি আমি।।।।
আমি আর কথা না বাড়িয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলাম। ফ্রেশ হয়ে আমি রুমে আসলাম, রুমে এসে সুয়ে আছি, আর গেইম খেলতেছি। একটু পড়েই নিধী রুমে আসলো, । নিধী এসে বললো, নিচে যেতে নাস্তা করার জন্য সবাই ওয়েট করতেছে।
আমি রানা কে নিয়ে নিচে চলে গেলাম, আমরা সবাই একসাথে সকালের খাবার খেতে বসলাম।
আমি খাওয়া শুরু করলাম, বাট আজকের খাবারের স্বাদ টা অন্যরকম, । এইটা ত আম্মুর হাতের রান্না না।।
আমিঃ আম্মু তুমি রান্না করেছো? অনেক সুন্দর হয়েছে।
আম্মুঃ নিধী রান্না করেছে।
আমি আর কোনো কথা না বলে চুপচাপ খেয়ে নিলাম। খেয়ে আমার রুমে চলে আসলাম রানা কে নিয়ে। রানা কে বললাম রেডি হয়ে নিতে আমিও রেডি হতে লাগলাম।
নিধীঃ কোথাও যাচ্ছো?
আমিঃ হ্যাঁ
নিধীঃ কোথায়?
আমিঃ আমার পুরনো ভার্সিটীতে ।
নিধীঃ আমাকে সাথে নিবে,
আমিঃ রেডি হয়ে নেন!!
নিধী এমন ভাবে বললো, আমি না করতে পারলাম না। নিধী খুশিতে আমাকে জড়িয়ে দরলো।
আংকেল আসলো রুমে, রুমে আংকেল এসে আমাদের এ অবস্থায় দেখে ফেললো, । আংকেল ও এসে বোকা হয়ে গেছে, দুর আমি এতো ভয় কেন পাচ্ছি নিধী ত আমার বউ।
আংকেলঃ স্যরি
নিধীঃ আসো আব্বু।
আংকেলঃ নীল আমি এখন চলে যাবো, বাবা মা মরা মেয়ে কে কখনো কষ্ট দিয়ো না।
নিধীঃ চলে যাবা আব্বু ( এই বলে নিধী কেঁদে দিলো)
আংকেল নিধীকে বোকে জড়িয়ে নিলো। আংকেল বিদায় নিয়ে চলে গেলো। বাট নিধীর মুড টা অফ হয়ে গেলো!!
আমি রানা নিধী রেডি হয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। জয় কে কল করে ভার্সিটীতে চলে আসতে বললাম।
ভার্সিটীতে এসে আমি গাড়ি থেকে নেমে পড়লাম।
রানা আর নিধী ও আমার পিছন পিছন নেমে গেলো
ভার্সিটী একবারে নিস্তব্ধ হয়ে গেছে, সবার লুক এখন আমাদের দিকে,সবাই হয়তো আমাকে দেখে অবাক হচ্ছে!!!
আস্তে আস্তে অনেকেই আমাদের দিকে এগিয়ে আসলো।। সবার সাথেই কথা বললাম। আজকে অনেক ভালো লাগা কাজ করতেছে।
পিন্সিপালের রুমে কতোক্ষন বসে আমি বিদায় নিয়ে চলে আসলাম। রানা আর নিধীকে অনেক যায়গায় ঘুরালাম।।। দেন দুপুরে একটা রেস্টুরেন্টে
লাঞ্চ করলাম।।।
এভাবে চৌদ্দ পনেরো দিন কেটে গেলো! নিধীকে যতো অবহেলা করি নিধী এতে একটুও বিরক্ত হয় না, এতে বুজা যায় নিধী এখন শিক্ষা হয়ে গেছে।।
একদিন রাতে ডিনার করে এসে আমি শুয়ে আছি,
নিধী একটা চাকু হাতে নিয়ে রুমে আসলো। আমি নিধীর হাতে চাকু দেখে একটু অবাক হলাম!
নিধী ডাইরেক্ট এসে আমার উপরে শুয়ে পড়লো,।
আমিঃ কি হচ্ছে কি?
নিধীঃ আজকে আমাকে আপন করে না নিলে
এই চাকু দিয়ে নিজেকে শেষ করে দিবো।
আমিঃ হা হা মজা করার আর জায়গা পান না,
এই কথা বলাতেই নিধী চাকু দিয়ে ওর হাতে একটা পুছ দিয়ে দিলো,।। নিধীর হাত থেকে রক্ত বেরোচ্ছে, নিধী আরেকটা পুছ দেওয়ার আগেই আমি হাত থেকে চাকুটা কেরে নিলাম।।।
নিধীঃ দাও আমাকে চাকুটা আমাকে যখন ক্ষমা করবেই না তাহলে আমি নিজেকে শেষ করে দিবো।
আমিঃ তাহলে আমার কি হবে ।।
এই কথা বলাতে নিধী আমাকে অনেক শক্ত করে জড়িয়ে দরলো। আমি নিধীর হাতের কাটা যায়গায় ঔষদ লাগিয়ে বেন্ডেস করে দিলাম।।। শক্ত করে জড়িয়ে দরলাম নিধীকে, ও কাঁদতেছে কাঁদুক আজকের পরে থেকে ওর চোখে কখনো পানি আসতে দিবো না।।।
নিধীঃ তোমার বোকে একটু মাথা রাখা যাবে?
আমিঃ হ্যাঁ
আমি শুয়ে পড়লাম নিধী আমার বোকে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে। আমি নিধীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি
আমি নিধীর কপালে একটা চুমু দিলাম, নিধী লজ্জায় আমার বোকে মুখ লুকালো।।
নিধীঃ আমার একটা জিনিস চাই দিবে।
আমিঃ হ্যাঁ বলো কি চাও।
নিধীঃ আমাকে একটা বেবি দাও আর কিচ্ছু লাগবে না।
আমিঃ ওহ আচ্ছা এই কথা।।
নিধীঃ হ্যাঁ।।
লজ্জায় নিধীর গাল দুটো লাল হয়ে গেলো।।
দেন আমরা লুডু খেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।
আজকে আমার মেয়ে কুহুর জন্মদিন। আজকে ওর তিন বৎসর পুর্ণ হলো।। তাই বাসায় ছোট খাটো একটা পার্টির আয়োজন করা হয়েছে।
আমি রেডি হচ্ছি, তখনি নিধী রুমে আসলো।
নিধী এসেই আমাকে বললো রেডি হতে এতোক্ষন লাগে? আমি শুধু হাসলাম আর নিধীকে জড়িয়ে দরলাম।।
নিধীঃ কি করছ কি? কুহু এসে পড়বে,।
আমিঃ আসবে ..
না টাও বলতে পারলাম না তার আগেই আমার ছোট্ট সোনা আর আম্মু আব্বু এসে হাজির!!
কুহুঃ পাপাই তুমি আম্মু কে জলিয়ে দরছ কেনো?
আমিঃ আমি ত দরতে চাই নি তোমার আম্মুই ত আমাকে জড়িয়ে দরলো।
কুহুঃ তুমি শুধু আমালে জলিয়ে দলবা।
আমিঃ আচ্ছা মামনি।।
কুহুর কথা শুনে আমরা সবাই হাসতে লাগলাম।।
#সমাপ্ত
