গল্পঃ অবহেলিত স্বামী
লেখকঃ শাওন আহমেদ নীল
পর্বঃ ৭
তখনি আংকেল আমাকে আর নিধীকে তার কাছে যেতে বললো,।। সবার সামনে ঘোষনা দিয়ে দিলো আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে।।। সবাই এসে আমাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য অভিনন্দিত করে গেলো।।
সবাই যার যার মতো আনন্দ করতে লাগলো।
তখনি নিধী বলতে লাগলো আপনাদের মাঝে এখন গান গেয়ে শুনাবে নীল। আমি কথাটা শুনে হতবাক হয়ে গেলাম। নিধী কেন আমাকে গান বলতে বলতেছে, অপমান করার জন্য। তাছারা আর কি হবে,। নিধীর কথা শুনে সবাই করতালি দিতে লাগলো, আমি কি বলব বুঝতেছি না। গান না বললেও মানসম্মান সব শেষ হয়ে যাবে।
রানাঃ দোস্ত এখন কি করবি??
আমিঃ গান ত এখন বলতেই হবে।
রানাঃ গিটার বাজাতে পারিস?
আমিঃ দেখতে থাক।।।।
এরপরে আমি একজনের কাছ থেকে গিটার টা হাতে নিয়ে গিটার বাজাতে লাগলাম। গিটারের
সুর শুনে সবাই হাসতে লাগলো,। আমি আস্তে মিনারের তুই ত আমার সব গানের একটা সুর উঠালাম। এবার সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনতেছে।
এরপর আমি গাইতে লাগলাম,,
তর কাছে যেতে চাই হৃদয় মানে না বারণ,
বৃষ্টির শহরে মেঘলা আমার এই মন।।
তুই কি আমার মতো ভাবিস আমায়,
ভালোবাসা খুঁজে নিস জলের ছোঁয়ায়,।
তকে ছারা হয়নাতো কোনো উৎসব,
তুই, তুই ত আমার সব।।।
গানটা পুরো গাইলাম। গান শেষে সবাই করতালি দিতে লাগলো। আর নিধী ত অবাক হয়ে আমার
দিকে তাকিয়ে আছে। গান শুনে অনেক মেয়েই এগিয়ে এসে আমার সাথে পরিচিত হলো। আমিও সবার সাথে টুক টাক কথা বলতেছি। আমি মেয়েদের সাথে কথা বলতেছি এটা দেখে মনে হয় নিধী জেলাস ফিল করতেছে।। আমি আরো বেশি বেশি করে মেয়েদের সাথে কথা বলতে লাগলাম।।
রানাঃ ফাটিয়ে দিয়েছিস মামা
আমিঃ হু
রানাঃ এতো ভালো গাইতে পারিস জানতাম না ত।
আমিঃ হয়ছে।
রানাঃ নিধীর মুখের দিকে একবার তাকা।
আমি হাসতে লাগলাম। আস্তে আস্তে সবাই চলে গেলো।। রানা ও বিদায় নিয়ে চলে গেলো। আমি নিধীর রুমে চলে গােলাম, এখন ত এইটা আমার ও রুম।। রুমে গিয়ে ড্রেস চেইন্জ করে নরমাল ড্রেস পড়ে নিলাম। একটু পড়ে নিধী ও রুমে আসলো।
নিধীঃ তুমি এতো সুন্দর করে গিটার বাজাতে পারো?
আমিঃ কেমন হয়েছে জানি না একটু আকটু পারি আর কি।।
নিধীঃ সত্যি করে বল ত তুমি কে??
আমিঃ কেন চিনেন না আমাকে?
নিধীঃ ইদানিং কেমন জানি তোমাকে অচেনা অচেনা লাগে।।।
আমিঃ গুড নাইট।
আমি ঘুমিয়ে পড়লাম সকালে আজকে নিধীর ডাকে ঘুম টা ভেঙে গেলো।। ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলাম,৷ আস্তে আস্তে নিধীর আচরণ টা ভালো হচ্ছে।। নাস্তা করতে চলে গেলাম। নিধী আর আংকেল টেবিলে বসে আছে। আংকেল জানিয়ে দিলো কালকে আমাদের কক্সবাজার যাওয়ার কথা। নিধী প্রথমে মত না দিলেও পড়ে আংকেলের কথা রাখতে নিধী ও রাজি হয়ে যায়।।
আজকে নিধী আমার সাথেই কলেজে আসে।। কলেজে এসে নিধী ওর ফ্রেন্ড দের কাছে চলে যায়।
আমি রানার কাছে চলে যায়।।
রানাঃ সকাল হলো আপনার?
আমিঃ স্যরি একটু লেট হয়ে গেলো৷।
রানাঃ হুম ঠিক আছে।
আমিঃ কালকে কক্সবাজার যাবো,।।
রানাঃ ভালো খবর
আমিঃ তুই ও যাবি সাথে।।
রানাঃ দুর বোকা তরা যাবি হানিমুনে আমি গিয়ে কি করব??।।
আমরা কথা বলতে লাগলাম নিধী আসলো আমাদের কাছে এসে বললো, আব্বু শপিংএ যেতে বলছে। আমি রানার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শপিং এ চলে গেলাম।। আমরা শপিং থেকে বাসায় চলে আসলাম। বাসায় এসে সব কিছু গুছগাছ করে নিলাম। রাতে আংকেল ফ্লাইটের টিকেট দিলো।
সকাল দশটার ফ্লাইটে আমার কক্সবাজার চলে গেলাম।
বাট কক্সবাজার যে আমার জন্য এতো বড় সার্পাইজ অপেক্ষা করছে সেটা জানলে ভুল করেও কক্সবাজার আসতাম না।।
# চলবে
