গল্পঃ অবহেলিত স্বামী
লেখকঃ শাওন আহমেদ নীল
পর্বঃ ৫
রানাঃ আজকে আমাদের কলেজে নতুন প্রফেসর আসবে।
আমিঃ তুই কি করে জানলি?
রানাঃ গত কাল রাতে আব্বু বললো। ( রানার আব্বু এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা)
আমিঃ ওহ।।
রানাঃ চল ক্লাসে চলে যায়।।।।
ক্লাসে গিয়ে বসে আছি, আমি আর রানা সামনের বেঞ্চে বসলাম।।
কিছুক্ষন পড়েই পিন্সিপাল স্যার রুমে আসলো, তার পিছনে পিছনে একজন লোক আসলো৷
লোকটা দেখে আমি চমকে উঠলাম সে আর কেউ নয় আমার সাবেক ভার্সিটীর প্রফেসর রিয়াদ স্যার।
কি করব কিছুই বুজতে পারতেছি না। পিন্সিপাল স্যার আসাতে আমরা সবাই দাড়িয়ে গেলাম। স্যারের দৃষ্টি এখনো আমার উপরে পরে নি।
পিন্সিপাল স্যারঃ এ হলো তোমাদের নিউ প্রফেসর রিয়াদ খান। ডাকা শহরের অনেক নাম করা ভার্সিটীর প্রফেসর ছিলেন ইনি। তার এখানে টান্সফার হয়েছে।।
সবাইঃ কেমন আছেন স্যার?
স্যারঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো তোমরা সবাই কেমন আছো??
সবাইঃ জ্বি স্যার ভালো।
পিন্সিপালঃ মি. রিয়াদ এখন থেকে তোমাদের বাংলা পরাবেন।
এই বলে পিন্সিপাল স্যার চলে গেলেন। আমি মাথা নিচের দিকে তাকিয়ে আছি৷ কি করব বুঝতে পারতেছি না। রিয়াদ স্যার যদি আব্বুকে বলে দেয় আমি চট্রগ্রাম আছি, তাহলে আমার স্বপ্ন কখনো সফল হবে না।।। ইতিমধ্যেই স্যারের দৃষ্টি আমার উপরে পড়লো,। স্যার মায়াবি চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আর আমি তাকিয়ে আছি নিচের দিকে৷।।
স্যারঃ নীল তুই এখানে?
আমি চুপ করে আছি৷।
স্যারঃ যানিস তর বাবা পুরো শহর তকে তন্য তন্য করে খোজেছে৷
নিধীঃ স্যার আপনি ওকে কি করে চিনেন?
স্যারঃ চিনব না কেন ও ত ডাকা
আমিঃ স্যার প্লিজ এসব কথা না বললেই খুশি হবো আমি।।
স্যারঃ কিন্তুু তুই এখানে কেন?
আমিঃ সেটা অনেক কাহিনী পরে এক সময় বলব।
আমার আর স্যারের কথোপকথন এ সবাই চুপ করে আছে। সবাই হয়তো ভাবছে আমার মতো ছেলেকে ডাকার নামকরা ভার্সিটীর প্রফেসর কি করে চিনে। সবার মুখে একটাই প্রশ্ন রানা ত আমার দিকে তাকিয়ে আছে। অবাক হওয়ার কথায় ওরা ত আর জানে না আমার পরিচয় কি আমি কে।।
স্যার ক্লাস নিয়ে চলে গেলো, আজকে স্যার ক্লাস নিলো কোথায় আমার সাথে কথা বলতে বলতেই,
সময় শেষ৷ আমি স্যারের পিছু পিছু ক্লাস থেকে বের হলাম।
আমিঃ স্যার।।
স্যারঃ নীল তর সাথে আমার অনেক কথা আছে।
আমিঃ আগে আমার কথা শুনেন, এখানের কেউ জানি আমাকে চিনতে না পারে, আমার পরিচয় টা জানি না জানে,, আর আমার পরিবারের কেউ জানি না জানে আমি এখানে আছি।।
স্যারঃ কিন্তুু
আমিঃ কোনো কিন্তুু না স্যার আমাকে কথা দেন কাউকে কোনদিন বলবেন না।।
স্যারঃ আচ্ছা।। আরেকটা কথা বৃষ্টি সব বলে দিছে ওইদিন তর কোনো দোষ ছিলো না তকে ফাঁসিয়েছিলো।।।
আমিঃ অতিত রাখেন স্যার, আগের কথা নিয়ে ভাবি না আমি।
স্যারঃ ওকে।
আমিঃ স্যার কেউ আমার পরিচয় জিঙ্গেস করলে বলবেন। আপনার বাসার পাসে একটা এতিম খানা ছিলো সেখানেই বড় হয়েছি আমি।। সে খেত্রেই আমাকে চিনেন আপনি।
এই বলে আমি ওখান থেকে চলে আসলাম।।এসে মাঠে এসে বসলাম।একটুপরে রানা এসে ও বসলো,
রানাঃ স্যার তকে কি করে চিনে?
আমিঃ বলেছি না স্যার সময় হলেই সব জেনে যাবি।
রানাঃ তকে প্রশ্ন করাই বৃথা।
আমিঃ হি হি হি
রানাঃ দাত ক্যলানো অফ কর,।।
আমিঃ ওকে।।
একটু পড়েই নিধী আর ওর সব ফ্রেন্ড রাই আসলো।
নিধীঃ নীল স্যার তোমাকে চিনে কি করে?
আমিঃ সেটা আপনার না জানলেও চলবে।
রিয়াঃ এদের সাথে কথা বলা টাই ভুল।।
এই বলেই ওরা চলে গেলো, আমি আর রানা হাসতে লাগলাম।
আমিঃ কালকে আংকেল একটা পার্টে রেখেছে বাসায়।
রানাঃ হুম বলছে তর শশুর।।
আমিঃ কালকে সকালেই চলে যাবি কিন্তুু
রানাঃ পার্টি ত সন্ধায়।।
আমিঃ ত কি?
রানাঃ ওকে সকালেই যাবো।।।।
আমিঃ চল বাসায় চলে যাবো।
আমরা যে যার বাসায় চলে গেলাম। সারাদিন ফোন টিপেই পার করলাম। রাত হয়ে গেলো। আমি
আর নিধী এক খাটেই থাকলাম, বাট মাঝখানে আজকেও কোলবালিশ ট। সকালে ঘুম ভেঙে গেলো।।।।।
ঘুম থেকে উঠেই কোনোদিকে না তাকিয়ে, আমি ওয়াশরুমে চলে গেলাম। যা দেখলাম বিশ্বাস করেন দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুুত ছিলাম না
#চলবে
