গল্পঃ অবহেলিত স্বামী
লেখকঃ শাওন আহমেদ নীল
পর্বঃ ৪
আমি রুমে চলে গেলাম, রুমে গিয়ে দেখি নিধী ঘুমিয়েই আছে।। আমি গিয়ে ডাকদিলাম বাট উঠলো না, আর কোনো উপায় না পেয়ে আমি নিধীর গায়ে একটু দাক্কা দিলাম। নিধীর ঘুম ভেঙে
গেলো।
নিধী উঠে বসেই আমার গালে একটা থাপ্পর মেরে দিলো। থাপ্পর খেয়ে গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।
কিছু বলার মতো ভাষা হারিয়ে ফেলছি।
নিধীঃ কুত্তার বাচ্চা তর সাহস হলো কি করে আমাকে টাচ করার?
আমিঃ ইয়ে মানে,!!
নিধীঃ রাখ তর মানে, একটু সুযোগ পেলেই মেয়েদের শরীলে হাত দেওয়ার চেষ্টা করিস।
ছোটলোক লম্পট কোথাকার।
আমিঃ আমার কথা টা ত শুনবেন?
নিধীঃ কি শুনব তর কথা?? জানোয়ারের সাথে কথা বলার ইচ্ছে নেই এখন যা সামনে থেকে।
আমিঃ এনাফ আর একটা কথা বললে খবর আছে তর, নিজেকে কি ভাবিস মহা সুন্দরি। তর থেকে ত দিন মজুরের মেয়েরা অনেক ভালো, বেশি শিক্ষিত না থাকলেও ত মতো অহংকারি মেয়ে না। আর কি বলছিস সুযোগ ওরকম ইচ্ছা থাকলে গতকালকে রাতেই তর সাথে যা ইচ্ছা করতে পারতাম।।
এই কথা বলে আমি ভার্সিটী চলে গেলাম। নিধী শুধু শুনলো কথা গুলো কিছুই বলে নি। প্রতিদিন আমিই নিধীকে ড্রাইভ করে কলেজে নিয়ে যায়।।
আজকে রাগ করে আমি রিক্সায় করেই কলেজে যাওয়ার জন্য রওনা দিলাম।। আমি রানা কে কল করলাম। পুরো কলেজে আমার একটা বন্ধুই সেটা রানা।। রানা কল রিসীভ করলো,।
আমিঃ কোথায় তুই?
রানাঃ কলেজ গেঁটে অপেক্ষা করছি তী জন্য।
আমিঃ ওহ একটু লেট হবে রে আজকে রিক্সায় করে আসতেছি।
রানাঃ কেন গাড়ি কি হয়েছে??
আমিঃ কলেজে এসে সব কিছু বলছি।।
রানাঃ কোন পর্যন্ত,
আমিঃ চৌরাস্তায়
রানাঃ ওকে।।।
আমি কল কেটে দিলাম পাচঁ মিনিট যেতে না যেতেই রানা আমার সামনে এসে হাজির। আমি রিক্সা ভারা দিয়ে গাড়িতে উঠে বসলাম। রানা কলেজে না গিয়ে একটা রেস্টুরেন্টের সামনে চলে গেলো।।। রানা গাড়ি থেকে নেমে গেলো, আমিও নামলাম।।
আমিঃ এখানে কেন আসলি??
রানাঃ সকালে নাস্তা করছিস?
আমিঃ না করা হয় নি।
রানাঃ জানতাম চল ভিতরে চল।।।।
আমি আর রানা নাস্তা করে বাহিরে চলে আসলাম।
এরপর আমরা কলেজে চলে গেলাম। কলেজে গিয়ে রানা গাড়ি পার্ক করে আসলো,। আমরা দুজন মাঠের মাঝখানে বসলাম।।
রানাঃ কি হয়েছে এখন বল?
আমিঃ নিধী আমাকে স্বামী হিসেবে মেনে নেয় নি।
রানাঃ মানে?
আমি রানা কে সব কিছু বলে দিলাম। রানা শুনে কিছুক্ষন চুপ করে রইলো। ও হয়তো ভাবছে এখন কি করা উচিত।।
রানাঃ তকে অনেক আগেই বলছিলাম আমার বাসায় চলে আয় শুনলি না ত।
আমিঃ না দোস্ত আংকেল আমার দুর্সময়ে আমার পাসে ছিলো,, আমি কি করে আংকেল কে ছারা থাকব??
রানাঃ আচ্ছা নীল তর বাসা টা কোথায় ছিলো??
আমিঃ এসব কথা রাখ এখন।।।
রানাঃ ওদিকে তাকিয়ে দেখ,।।
দেখি নিধী ওর ছেলে বন্ধুদের সাথে হাসাহাসি করে কলেজে ডুকছে। এটা ওর নিত্যদিনের কাজ এ বিষয়ে কিছু বললেই মেয়েটা আরো অপমান করে।।
তাই আমি কিছু বলি না, বাট এখন ত আমার বউ পুরো অধিকার আছে ওর উপরে।।। থাক এখানে কিছু বললে আবার অপমান শুরু করে দিবে।।।
একি নিধী দেখি ওর সব ফ্রেন্ড দের নিয়ে আমাদের দিকেই আসছে।।। ওরা আমাদের সামনে এসেই দাড়ালো।।। নিধীর ফ্রেন্ড ফাহাদ বললো ,
ফাহাদঃ কি রে নীল তর আর নিধীর বলে বিয়ে হয়েছে????
আমিঃ হ্যঁ
জীবনঃ বড়লোকের একমাত্র সুন্দরী মেয়ে দেখে লোভ সামলাতে পারে নি।
রিয়াঃ ছোটলোকদের স্বভাব ই এরকম।। এরা সুযোগের অপেক্ষায় ই থাকে কখন কোন ধনি মেয়ে পেয়ে বিয়ে করে ফেলা যায়।।।
রানাঃ আরেকটা কথা তোমাদের মুখ থেকে বাহির হলে আমার মনে হয় না নেক্সট টাইম এ কলেজে পা রাখতে পারবে৷
নিধীঃ রানা তুমিও না, কলেজে এতো ছেলে থাকতে তোমার এই ছেলেটার সাথেই বন্ধুত্ব করতে হবে।।
রানাঃ দেখো নিধী এই কথা টা অন্য কেউ বললে তাকে যে কি করতাম আমি নিজেও জানি না।। নীল এখন তোমার স্বামী এটা মনে রেখো। আর একটা নিধী তোমাকে বলে দিলাম যে রকম করতেছো এক সময় সে রকম টাই ফিরে পাবে।।।
কাউকে আঘাত করে কথা বলার আগে একটু হলেও ভেবে নিও।।
এই কথা বলাতে নিধী মুখ বাঁকা করে চলে গেলো। আমি শুধু শুনলাম বলার মতো কিছুই নেই।। আর আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি মন খারাপ করে বসে আছি,। আরে না আমি হাসলাম শুধু কথা গুলো শুনে এগুলো শুনে আমার পুরোটায় অভ্যাস আছে। আমার এই হাঁসি দেখে রানা কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। রানা যদি আমার ফ্রেন্ড না হতো তাহলে যে কতো অত্যাচার ই আমার সয্য করতে হতো।।
রানাঃ আজকে আমাদের কলেজে নতুন প্রফেসর আসবে।
আমিঃ তুই কি করে জানলি?
রানাঃ গত কাল রাতে আব্বু বললো। ( রানার আব্বু এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা)
আমিঃ ওহ।।
রানাঃ চল ক্লাসে চলে যায়।।।।
ক্লাসে গিয়ে বসে আছি, আমি আর রানা সামনের বেঞ্চে বসলাম।। কিছুক্ষন পড়েই পিন্সিপাল স্যার রুমে আসলো, তার পিছনে পিছনে একজন লোক আসলো৷ লোকটা মুখ আমার চিরো চেনা সে এখানে কি করতে এসেছে? এখন আমার পরিচয় টা সবাই না জানলেই হয়।।।
#চলবে
