গল্পঃ অবহেলিত স্বামী
লেখকঃ শাওন আহমেদ নীল
পর্বঃ ৩
আমিঃ আসসালামু ওয়ালাইকুম
আংকেলঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম
কোথায় তুমি?
আমিঃ আংকেল লেকের পারে।
আংকেলঃ আসতেছি ওখানেই থেকো।।।
এই বলেই আংকেল কল কেটে দিলো, কিছুক্ষন পড়েই আংকেল আমার কাছে চলে আসলো। এসে আমার পাশে বসল। বসে আমার কাঁদে হাত রাখলো।
আংকেলঃ জানো নীল নিধীর জখন দের বছর তখন তোমার আন্টি মারা যায়,। নিধীর দিকে তাকিয়ে আমি আর বিয়ে করে নি। বেশিই আদর দিয়ে মেয়েকে বড় করেছি, তার জন্য ও একটু বদ মেজাজি মা হারা মেয়ে কিছু বলতেও পারি না৷।।।
আমিঃ এসব ত আমি জানি এসব কেন বলছেন আংকেল?।
আংকেলঃ বাবা একমাত্র তুমিই পারবে আমার মেয়েকে ভালো করতে। তোমার ভালোবাসা দিয়ে ওকে তুমি সঠিক রাস্তায় নিয়ে আসতে পারবে।
আমিঃ কিন্তুু
আংকেলঃ আমি জানি নিধী তোমাকে কি জন্যো বিয়ে করেছে৷ ওই দিন তোমাদের রুমের পাস দিয়ে যাওয়ার সময় তোমাদের সব কথা শুনে নেয়। স্যরি বাবা।
আমিঃ দয়া করে ক্ষমা চেয়ে আমাকে লজ্জিত করবেন না আংকেল।।।
আংকেলঃ তাহলে কথা দাও নিধীকে তুমি সঠিক পথে আনবে। তোমার ভালোবাসা দিয়ে ওকে ভালো মন্দ চিনাবে। তোমার ভালোবাসা পেয়ে যেনো ও পুরোটা বদলে যায়।।।
আমিঃ আচ্ছা আংকেল আমি চেষ্টা করব৷।
আংকেলঃ এখন বাসায় চলো।।
আমি আর আংকেল বাসায় চলে গেলাম। বাসায় গিয়ে আজকে আর ডিনার করলাম না। আমার রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম, নিধীর রুমে আর গেলাম না।। কিছুক্ষন পড়েই দরজা ধাক্কানোর শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেলো।। ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুলে দেখি নিধী দাড়িয়ে আছে।
আমিঃ এতোরাতে আপনি?
নিধীঃ তুই এ রুমে কি করিস?
আমিঃ ত কোথায় থাকব।।
নিধীঃ আমার রুমে আয়, ।
আমিঃ পারব না
নিধীঃ আব্বু জানলে অনেক কষ্ট পাবে।
আমিঃ আমি সোফায় ঘুমাতে পারি না।
নিধীঃ ছোটলোক একটু রায় দিলেই মাথায় উঠে যাস, সারাজীবন মাটিতে শুয়ে কাটিয়ে দিলি।।
আমিঃ ওকে গুডা নাইট এই বলে আমি শুয়ে পড়লাম।
নিধীঃ আচ্ছা ঠিক আছে বিছানায় ঘুমাবি বাট মাঝখানে কোল বালিশ থাকবে।।
আমিঃ আচ্ছা।
আমি নিধীর রুমে চলে গেলাম। নিধী মাঝখানে কোলবালিশ দিয়ে দেওয়াল বানিয়ে দিলো। আমি শুয়ে পড়লাম। যাক একসাথে থাকার ত অনুমতি পেয়েছি । মাঝখানে দেওয়াল আছে তবুও আস্তে আস্তে সব হয়ে যাবে। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে আমার ঘুম টা ভেঙে গেলো। তাকিয়ে দেখি নিধী আমার বোকে এসে আমাকে জড়িয়ে খোব সুন্দর করে ঘুমাচ্ছে।। আমি তারাতাড়ি নিধীকে বালিশে শুয়িয়ে দিলাম,। জেগে গিয়ে এ অবস্থায় নিজেকে দেখলে কি থেকে কি করে বসবে বলা যায় না।
আমি ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে আসলাম। দেখি আংকেল বসে কফি খাচ্ছে।
আমিঃ আংকেল আজকে কি বাজারে যেতে হবে?
আংকেলঃ কেনো?
আমিঃ বাজার করতে হবে না।
আংকেলঃ নীল তুমি এখন এ বাড়ির জামাই এটা ভুলো না। বাজার করার জন্য অনেক লোক আছে নাস্তা করে ভার্সিটীতে চলে যাও।।
আমিঃ আসলে আংকেল একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম।।
আংকেলঃ বলো।
আমিঃ যে ভাবেই হক নিধী কে রাজি করিয়ে কক্সবাজার পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
আংকেলঃ এতো আর্জেন্ট কেনো?
আমিঃ আপনার মেয়েকে ঠিক পথে নিয়ে আসতে হলে আমার তার সাথে একান্ত সময় কাটাতে হবে।
আংকেলঃ ও নিয়ে তুমি টেনসন করো না। দুদিন পড়ে রাতে ছোটখাটো একটা পার্টি আছে পার্টি টা শেষ হলেই হানিমুনে যাবে।
আমিঃ ওকে।
আংকেলঃ আমি কিন্তুু তোমাদের দেশের বাহিরে পাঠাতে চেয়েছিলাম হানিমুনের জন্য।।
আমিঃ সেটা পড়ে হবে।।।
আংকেলঃ নিধী কি করে??
আমিঃ ঘুমিয়ে আছে।
আংকেলঃ যাও ডেকে দিয়ে নাস্তা করে কলেজে চলে যাও।।।
আমিঃ ওকে
আমি রুমে চলে গেলাম, রুমে গিয়ে দেখি নিধী ঘুমিয়েই আছে।। আমি গিয়ে ডাকদিলাম বাট উঠলো না, আর কোনো উপায় না পেয়ে আমি নিধীর গায়ে একটু দাক্কা দিলাম। নিধীর ঘুম ভেঙে গেলো।
নিধী এমন একটা কাজ করলো, যা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। এই সামান্য বিষয়ে এমন বিহেভ করবে ভাবতেও পারিনি।।
#চলবে
