গল্পঃ অবহেলিত স্বামী
লেখকঃ শাওন আহমেদ নীল
পর্বঃ ২
সকালে দরজা ধাক্কানোর শব্দে আমার ঘুম টা ভেঙে গেলে৷ আমি উঠে আমার বালিশ টা খাটে নিয়ে রাখলাম। দরজা খুলেই আমি এক প্রকার সার্পাইজ হয়ে গেলাম। দেখি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড রানা এসে গেছে।
রানাঃ অভিনন্দন দোস্ত।
আমিঃ ধন্যবাদ
রানাঃ না জানিয়ে বিয়ে টা করে ফেললি?
আমিঃ গত রাতে হঠাৎ করে সব হয়ে গেছে স্যরি দোস্ত
রানাঃ ঠিক আছে।
রানাঃ নিধী এখনো উঠেনি মনে হয়।
আমিঃ না শুয়ে আছে।
এ কথা বলতেই নিধীর ঘুম ভেঙে গেলো, নিধী ঘুম থেকে উঠেই সোফার দিকে না তাকিয়ে নিজের পাসে আমার বালিশ দেখেই বলতে শুরু করল।
নিধীঃ ছোটলোক তুই আমার পাসে শোয়ার সাহস কই থেকে পেলি।।
রানাঃ এখন তোমাদের বিয়ে হয়েছে নীল তোমার সাথে থাকবে না ত কার সাথে থাকবে।।
নিধীঃ রানা তুমি, তুমি কখন এলে।।
রানাঃ সব ঠিক আছে ত নীল।।
আমিঃ আরে সব ই ঠিক আছে, আসলে ও আমার উপড়ে রাগ করে তাই শেষ রাতে আমাকে সোফায় পাঠিয়ে দেয়৷
রানাঃ ওহ আচ্ছা, কেন কিছু করতে পারস নাই নাকি? (কানের কাছে এসে আস্তে আস্তে বলল)
আমিঃ শালা আমি কি তর মতো টিউবলাইট নাকি??
নিধীঃ বিরবির করে কি বলছো??।
রানাঃ ওটা তুমি বুজবে না।।
নিধীঃ ওকে তোমরা কথা বলো আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।।
রানাঃ আচ্ছা যাও।
আমি আর রানা সোফায় গিয়ে বসলাম।। রানা আমার দিকে সন্দেহর দৃষ্টিতে আছে ও কি কিছু বুজে ফেললো নাকি। বুজলে ত ও আংকেল কে সব টা বলে দিবে। আর আংকেল ও কষ্ট পাবে।
রানা আবার ও বললল
রানাঃ সব ঠিক আছে ত?।
আমিঃ হ্যাঁ রে বাবা সব ঠিক আছে।
রানাঃ আচ্ছা বাহিরে যাবো ফ্রেশ হয়ে আয়।।
আমিঃ ওকে৷।
নিধী না ওয়াশরুমের শাওয়ার নিচ্ছে আমি কি করে এখন ফ্রেশ হতে যাবো। এখন ওয়াশরুমে গেলে ও নিশ্চিত আমাকে খুন করব, আর না গেলেও রানা সব বুজে যাবে।
রানাঃ কি হলো যাচ্ছিস না কেন?
আমিঃ এখন গেলে নিধী লজ্জা পাবে।।
রানাঃ রাতে লজ্জা পায় নি এখন লজ্জা পাবে?
আমিঃ আরে বোকা লাইট ত অফ ছিলো।
রানাঃ আচ্ছা তাহলে আমি যায় বিকেলে আড্ডা হবে।
আমিঃ চলে যাবি?
রানাঃ হ্য একটু আব্বুর অফিসে যেতে হবে।
আমিঃ আচ্ছা যা।।।
নিধী ফ্রেশ হয়ে রুমে আসলো, আমি ওয়াশরুমে চলে গেলাম৷। আমি ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে নিচে গেলাম নাস্তা করার জন্য। নিচে গিয়ে দেখি আংকেল আর নিধী টেবিলে বসে আছে।।
আংকেলঃ আসো বাবা আসো, বসো
আমিঃ ওকে।
আমি বসে পড়লাম আংকেল নিধীকে খাবার বেরে দিতে বলল। নিধী বলে ফেলল ওকে আমি কেন খাবার বেরে দিব? আংকেল বললো ও এখন তোমার স্বামী। নিধী তখন কথা কাটানোর জন্য বলল। বাবা রাগ করো কেন? আমি ত পারি না কখনো কি খাবার সার্ভ করেছি।। আংকেল কিছু বলল না নাস্তা করে অফিসে চলে গেলো।। নিধী ও রুমে চলে গেলো।। আমিও একটু পড়ে রুমে গেলাম।।। নিধী শুয়ে ফেন টিপছে।
আমিঃ আমি বাহিরে যাচ্ছি।
নিধীঃ যা বলার কি আছে বাহিরে যা না হয় একবারে কবরে যা।।
আমি আর কিছু বললাম না, সারাদিন বাসার বাহিরে থাকলাম। রাত হয়ে গেছে বাসায় যেতে ইচ্ছে করছে না।। নিধী এ পর্যন্ত একটা কল ও দেয় নি। কল দিলে অবশ্যই চলে যেতাম।। এ কথা বলাতেই মোবাইল টা বেজে উঠলো হাতে নিয়ে দেখি আংকেল কল দিছে।
আমিঃ আসসালামু ওয়ালাইকুম
আংকেলঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম
কোথায় তুমি?
আমিঃ আংকেল লেকের পারে।
আংকেলঃ আসতেছি ওখানেই থেকো।।।
এই বলেই আংকেল কল কেটে দিলো, কিছুক্ষন পড়েই আংকেল আমার কাছে চলে আসলো। এসে আমার পাশে বসল। আর যা বলল তা শুনে আমি কি বলব বুঝতেছি না। আংকেল এসব জানলো কি করে, আমার মাথায় শুধু এসব প্রশ্ন আসছে।।।
#চলবে
