গল্পঃ অবহেলিত স্বামী
লেখকঃ শাওন আহমেদ নীল
পর্বঃ ১
বাসর ঘরে ডুকেই দেখি নিধী জিন্স,টপ পড়ে হাতে চাকু নিয়ে বসে আছে। আমি ভয় পেয়ে গেলাম আজকে বাসর রাত নাকি আমার মার্ডার হওয়ার রাত। এই রাতে সব মেয়েই শাড়ি পড়ে ঘোমটা দিয়ে বসে থাকে, এদিকে ত পুরোই বিপরীত দেখা যাচ্ছে।
এতক্ষনে নিধী আমাকে খেয়াল করলো,।।
নিধীঃ ছোট লোকের বাচ্চা তর জন্যই অপেক্ষা করছি।
আমিঃ তা বুঝলাম বাট হাতে চাকু কেন? আজকে ত আমাদের বাসর রাত এভাবে কথা বলতেছো কেন?
এই কথা বলাতেই নিধী আমার সামনে এসে আমার গলায় চাকু দরলো,।। আমি ভয় পেয়ে গেলাম, এই মেয়ে যে বদমেজাজি কখন কি করে বসে বলা যায় না।।
নিধীঃ তর মতো ছোটলোকের সাথে আমি বাসর করব ভাবলি কি করে,। কোন দিক দিয়ে তুই আমার স্বামী হওয়ার যোগ্য??
আমিঃ এখন আমাদের বিয়ে হয়েছে।
নিধীঃ রাখ তর বিয়ে,, আমি একটা ছেলেকে ভালোবাসি ও এক বছর আগে বাহিরে চলে গেছে।
ও কিছুদিনের মধ্যোই দেশে চলে আসবে তখন তকে ডিবোর্স দিয়ে ওকে বিয়ে করে নিবো।।
আমিঃ ত আমাকে বিয়ে করলেন কেন?
নিধীঃ আব্বু তার পার্টনার এর ছেলের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছিলো। তাই আমি আব্বুকে বলি আমি তকে ভালোবাসি, আর আব্বু তকে অনেক ভালোবাসে তাই বিয়েতে রাজি হয়ে যায়।
আমিঃ কাজ টা ঠিক করলেন না অবশ্যই পস্তাবেন।।
নিধীঃ যা হবে দেখা যাবে তুই আমাকে সবার সামনে কলেজে থাপ্পর মেরেছিলি এখন দেখ আমি তর কি হাল টাই না করি।
আমিঃ ভুলে যাবেন না আমি আপনার স্বামী।
নিধীঃ কিসের স্বামী তুই আমার এক মাসের খরচ চালাতে পারবি,, তর এক বছরের ইনকামেও আমার এক মাস চলবে না। তর মতো গরিবরা কারো স্বামী হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।।
আমি হাঁসতে লাগলাম, আমার হাঁসি দেখে নিধী বিরক্ত হয়ে জিঙ্গেস করল হাসছি কেন? আমি মাথা নাড়িয়ে এমনি বললাম।।
আমিঃ চাকুটা ত সরান,
নিধীঃ তর মতো জানুয়ার কে বিশ্বাস নেই কখন কি করে বসিছ, তাই সেফটি নিয়ে আছি,।। আর তরা ত থাকিস ই সুযোগের অপেক্ষায়।
আমিঃ স্টপ মিস নিধী, আরেকজনের চরিত্র নিয়ে কথা বলার আগে নিজের চরিত্র ঠিক করেন। আপনি আমার বিয়ে করা বউ আপনার উপড় পুরো অধিকার আছে আমার, বাট জুর করে আপনার সাথে কিছু করার ইচ্ছে নেই আমার।।
নিধীঃ হ্যা জানা আছে আমার কি করবি আর কি করবি না। যা সোফায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়।
আমি আর কথা না বাড়িয়ে শুতে চলে গেলাম। এদিকে নিধী ও খাটে শুয়ে পড়লো,। আমি ভাবতে লাগলাম নিধী ত কাউকে ভালোবাসে না ত মিথ্যা কথা কেন বলল? থাক এসব ভেবে আমার কোনো কাজ নেই আমি ঘুমিয়ে পড়ি। আমি সোফায় থেকে নিধীর দিকে মুখ করে শুয়ে আছি,।। ঘুমন্ত অবস্থায় মেয়েটাকে কতোটা সুন্দর লাগে, আর এই মেয়েটাই কি না এতোটা বদমেজাজি। এসব ভাবতে ভাবতে
আমিও ঘুমিয়ে পড়লাম।।
এবার আমার পরচয় টা দিয়ে দেয়, আমি নীল বাবা মায়ের বড় সন্তান আমার ছোট একটা বোন আছে তিথী। আমার বাবা ডাকা শহরের একজন সনামধন্য ব্যবসায়ী। কোনো এক কারণে আজ আমার সব থাকতেও কিছুই নেই, বাবা মা থাকতেও আমি এতিম।।
আর নিধী হলো আমার মালিক এর মেয়ে। আমাকে যখন বাসা থেকে বাহির করে দেওয়া হয় তখন আমি কাউকে কিছু না বলে চট্রগ্রাম চলে আসি।। সেদিন রাতে রেলস্টেশনের পাসে বসে ছিলাম। আসার সময় ওয়ালেট ফোন কিছু নিয়ে আসে নি। কি করব কিছুই বুজতেছিলাম না।।।
সেদিন রাতে নিধীর বাবা আমাকে রাস্তা থেকে বাসায় নিয়ে আসে। আংকেল অনেক ভালো মনের মানুষ।
সকালে দরজা ধাক্কানোর শব্দে আমার ঘুম টা ভেঙে গেলে৷ আমি উঠে আমার বালিশ টা খাটে নিয়ে রাখলাম। দরজা খুলেই আমি এক প্রকার সার্পাইজ হয়ে গেলাম।
