কাঁটাতার লেখকঃ সিয়াম হোসেন পার্টঃ ৪

 


কাঁটাতার

লেখকঃ সিয়াম হোসেন 

পার্টঃ ৪ 


পুষ্পিতা ভার্সিটির গেট দিয়ে ঢুকতেই সিয়াম তার সামনে হাজির৷ 

- হাই কেমন আছো ( সিয়াম)

- জ্বী ভালো (বিরক্ত হয়ে)

- আমি কেমন আছি জানতে চাইবে না৷ 

- দরকার মনে করছিনা। 

- কেনো 

- কারণ আমি আপনাকে চিনিনা আর আপনি আমাকে ফলো করছেন কেনো৷ 

- আমি ফলো করলাম কোথায়৷ 

- আপনাকে গতকাল বিকালে আমাদের বাড়ির সামনে দেখেছি৷ 

- তোমাদের বাড়ির সামনে কোনটা তোমাদের বাড়ি ( না বোঝার ভান করে)

- চিনেন না তাহলে কালকে আমাদের বাড়ির সামনে যে শিমুল গাছ আছে তার নিচে চায়ের দোকানের সামনে দাড়িয়ে ছিলেন কেনো৷ 

- ওখানে তো আমি মাঝে মাঝেই যায় 

- মিথ্যা কথা কে যায় আর না যায় সেটা আমি ভালো করেই জানি৷ কারণ আমি রোজ ছাদে উঠে৷ 

- আচ্ছা বেশ ভালে হয়েছে হয়তো আগে কখনও খেয়াল করো নি৷ আমি আগেও যেতাম

- আপনাকে আমি এই ভার্সিটিতে ভর্তি হবার আগে জীবনেও দেখিনি আর বলছেন সেখান কার কথা আমার স্মৃতি শক্তি ওতো টাও খারাপ না৷ 

- ওকে বাবা বুঝতে পারছি হ্যা তোমাকে ফলো করেছি কোনো সমস্যা৷ 

পুষ্পিতা কিছু বলে না ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়৷ 

- কেনো 

- কারণ তোমার সাথে বন্ধুত্ব করবো সে জন্য৷ 

- সেটা ভার্সিটিতেও করা যায় বাড়ি পর্যন্ত ফলো করার কি দরকার৷ 

- সেটা তুমি বুঝবে না বলো বন্ধুত্ব করবে কিনা৷ 

- না 

- কেনো 

- কারণ আপনাকে দেখে মনে হয় না আপনি বন্ধুত্ব করতে চাচ্ছেন বরং তার থেকে বেশি কিছু৷ 

- তার থেকে বেশি কি৷ 

- যাই হোক দেখুন আমাকে আর ফলো করবেন না৷ স্কুল থেকে এই ভার্সিটি পর্যন্ত কোনো ছেলেকেই আমার জীবনে আসতে দেই নি সুতরাং আপনিও পারবেন না৷ 

- কে বলেছে পেরেছি তো৷ 

- মানে ( অবাক হয়ে)

- এই যে আমি শুধু বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি আর তুমি অন্য কিছু ভাবছো তার মানে তুমি আমার জালে ধরা পরে গিয়েছো৷ ( সিয়াম হাঁসতে হাঁসতে কথা গুলো বলে সেখান থেকে চলে যায়৷) 

পুষ্পিতা হা করে তাকিয়ে আছে তার দিকে ছেলেটা পাগল নাকি। বলেই সে ক্লাসে চলে যায়৷ 


পুষ্পিতার বাবা রমেশ মজুমদার একটা মাল্টিন্যাশেনাল কোম্পানির ম্যানেজার৷ বেশ মোটা অংকের বেতন পান সেখান থেকে৷ সৎ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করায় সবাই তাকে বেশ ভালো ভাবেই চিনে৷ বেশ সুনামও রয়েছে তার৷ অফিসের বস অশোক পাল বেশ ভালোভাবেই চিনেন তাকে রমেশ মজুমদারকে তার কক্ষে ঢেকে পাঠালেন৷ 


- কেমন আছেন রমেশ বাবু৷ 

- জ্বী স্যার ভালো৷ 

- দাড়িয়ে কেনো বসুন৷ 

- ধন্যবাদ স্যার 

- আপনার মেয়েটা কেমন আছে 

- জ্বী স্যার ভালো 

- নতুন ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে বলে কেমন চলছে৷ 

- বেশ ভালো 

- আচ্ছা আপনাকে যে জন্য ডেকেছি আমার ছেলেকে তো চেনেনই আদিত্য সে পড়ালেখা শেষ করে দেশে ফিরছে সামনের মাসে৷ আমার পরে ওই কোম্পানিটা সামলাবে ভাবছিলাম ছেলেটা তো বড় হয়েছে আর আপনার মেয়েটাও পড়া লেখা করছে তাই বলছিলাম যদি আপনার মেয়েকে আমার ছেলের সাথে বিয়ে দিতেন আপনি কি রাজি..?

- স্যার এটা তো আমার জন্য ভাগ্য। 

- তারমানে কি ভাববো আপনি রাজি৷ 

- জ্বী স্যার তবে আমার একটা শর্ত আছে মেয়েটা পড়ালেখাটা শেষ করতে চাচ্ছে তার আগে ওকে বিয়ের কথা বললে জেদ ধরবে যদি একটু..

- ঠিক আছে সমস্যা নেই পড়ালেখা শেষ করে নিক তারপরেই না হয় বিয়েটা হবে৷ 

- ধন্যবাদ স্যার আসি তাহলে৷ ( চেয়ার ছেড়ে দাড়িয়ে)

- হ্যা আসুন

রমেশ মজুমদার বেশ হাসি হাসি ভাবে বসের কক্ষ থেকে বের হয়ে আসে৷ সে আজ নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করছে তার মেয়ের এত বড় কোম্পানির মালিকের ছেলের সাথে বিয়ে হবে ভাবতেই কেমন অবাক লাগে৷ 


সিয়াম সহ অন্যান্য সবাই ক্যাম্পাসে বসে আছে৷ সিয়াম শুধু পুষ্পিতার ক্লাস শেষ হবার অপেক্ষায় আছে। 

- রাফি শুনো 

সাবিনা ম্যাডামের ডাক শুনে রাফির বুকটা কেপে উঠে না জানি আবার আজকে কপালে কি আছে৷ কিছু না বলে ম্যাডামের সামনে গিয়ে মাথা নিচু করে দাড়ায়৷ 

- কি হলো মাথা নিচু করে আছো কেনো৷ 

- কিছু না ম্যাম বাড়ি থেকে মা বলেছে শিক্ষক দের সম্মান দিয়ে কথা বলতে আর মাথা নিচু করে রাখতে।

- বাহ্ বাহ্ ভালোতো তাহলে আগে তো দেখতাম সব সময় আমার মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকতে মার খেয়ে মনে হয় সোজা হয়ে গিয়েছো৷ তোমাকে কেনো মেয়েরেছি জানো৷ 

- হুমম( মাথা নাচিয়ে)

- উহু সে জন্য না অন্য একদিন বলবো তুমি যে আমাকে আজকে যে সম্মান দিয়ে কথা বলছো আই লাইক ইট ( বলেই সাবিনা ম্যাডাম চলে গেলো)

- নীলা আমাকে সাহায্য কর ( সিয়াম)

- কি করতে হবে। 

- ওই মেয়েটার সাথে যে ভাবেই হোক লাইন করার ব্যবস্থা করে দে।

- মাথা ফাটিয়ে ফেলবো বুঝলি তুই কি পাগল হয়ে গেলি নাকি৷ 

- বলতে পারিস তাই৷ 

- আমি পারবো না সর ( বলেই নীলা উঠে পড়লো)

- থাক তোদের কাউকে কিছু করতে হবে না যা করার আমিই করবো৷ 


ক্লাস শেষ করে পুষ্পিতা বের হয়ে আসছে৷ সিয়াম কোনো কথা না বলে পুষ্পিতাকে ফলো করতে থাকে৷ 

- আমাকে আপনি ফলো করছেন কেনো ( পুষ্পিতাদের বাড়ির প্রায় কাছে আসার পর সিয়ামকে কথাটা বলে৷) 

- বা রে সেটা বোধ হয় তুমি জানো না বন্ধুত্ব করার জন্য৷ 

- সেটা ভার্সিটি থেকেই হয়৷ 

- কিন্তু তুমি তো রাজি হও না তাহলে কি করবো৷ 

- প্লিজ দয়া করে আমাকে ফলো করে আমার বাড়ির সামনে হাঁদা রামের মতো দাঁড়িয়ে থাকবেন না আমার বাবার অনেক সম্মান রয়েছে আমি চাইনা সেটা নষ্ট হোক৷ 

- ঠিক আছে আসবো না তবে তোমাকে আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে৷ 

- ঠিক আছে করলাম যান৷ 

- উহু শুধু মুখে বললেই হবে না বন্ধুদের মতো ব্যবহার করতে হবে সবসময় মিশতে হবে৷ 

- কেনো 

- বলো করবা তাহলে আর তোমার বাড়ির সামনে আসবো না৷

- শুধু বন্ধুই তো। 

- হ্যা শুধু বন্ধু 

- ঠিক আছে এখন আপনি চলে যান৷ 

- ওকে বাই কালকে ভার্সিটিতে কথা হবে ( বলেই সিয়াম চলে যায়)


- মা আমার না একটা মেয়কে পছন্দ হয়েছে ( সিয়াম বাসায় আসার পর)

তার মায়ের সাথে সে অনেকটা ফ্রী বলেই কথাটা বলেছে৷ 

- আচ্ছা তাই নাকি নামকি মেয়েটার৷ 

- উহু সেটা বলবো না৷ 

- কেনো 

- কারণ বললে তুমি পছন্দ করবে না বরং সময় হলে তখনই বলবো আর বাবাকে সামলানোর দ্বায়িত্ব তোমার৷ 

- সেটা পরে ভেবে দেখবো নাম কি সেটা বল৷ 

- না বলবো না৷ 

- তাহলে বললি কেনো আমাকে যে তোর মেয়ে পছন্দ হয়েছে৷ 

- পরে যাতে বাবা কিছু বললে বলতে পারি তুমি জানো৷ 

- মেরে না তক্তা বানিয়ে দিবো৷ 

- হুস ক্ষুধা লাগছে খেতে দাও৷ 

- ফ্রেশ হয়ে আয় যা৷ 


- সুদিপ্তা আজ আমি অনেক খুশি ( রমেশ মজুমদার) 

- কেনো কি হয়েছে৷ 

- কি হয়নি বলো আমার অফিসের বসের ছেলের সাথে আমাদের পুষ্পিতার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে৷ 

- সত্যি 

- হ্যা বাবা সত্যি 

- তোমার মেয়েকে কথাটা বলেছো৷ -আগেই বলিও না ওর পড়া লেখা শেষ করুক তারপর বিয়ে দেওয়া হবে বসকে বলেছি আর কথাটা যেনো পুষ্পিতা জানতে না পারে নাহলে ওর মন খারাপ হয়ে যাবে৷ 

- ঠিক আছে জানবে না৷ 

- আচ্ছা পুষ্পিতা কোথায় 

- ওর রুমে ঘুমিয়েছে বোধহয়৷ 

- ওহ্ আচ্ছা খেতে দাও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি৷ 

বলেই রমেশ মজুমদার ফ্রেশ হতে চলে গেলেন৷ 


চলবে...


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post