কাঁটাতার লেখকঃ সিয়াম হোসেন পার্টঃ ৩

 কাঁটাতার

লেখকঃ সিয়াম হোসেন 

পার্টঃ ৩



- ভার্সিটির প্রথম দিন কেমন ছিলো। 

পুষ্পিতা ভার্সিটি থেকে বাড়িতে ফিরে ঘরে ঢুকার সময় মা প্রশ্নটা করে বসে৷ 

- বেশ ভালোই ছিলো শিক্ষক গুলো মনে হয় বেশিই ভালো বেশ সুন্দর করে গুছিয়ে সবাইকে বুঝিয়ে দেয় ( কাধ থেকে নিজের বিছানায় ব্যাগটা নামিয়ে)

- ভালো হলে তো ভালো ফ্রেশ হয়ে আয় তোর জন্য খাবার দিচ্ছি টেবিলে। তোর বাবা অনেক্ক্ষণ হলো আসছে তোর জন্যই না খেয়ে বসে আছে৷ ( মা)

- উফ সরি তাড়াতাড়ি আসছি৷ 

ফ্রেশ হয়ে পুষ্পিতা খাবার টেবিলে এসে দেখে তার বাবা ও মা দুজনেই বসে আছে৷ 

- বাবা কেমন আছো ( চেয়ারে বসতে বসতে)

- ভালো কেমন কাটলো প্রথম দিন৷ 

- বেশ ভালো 

- ওহ্


সিয়াম ভার্সিটি থেকে বাড়িতে এসে নিজের রুমে বসে আছে৷ ইশ মেয়েটা যদি মুসলিম হতো তাহলে তার সাথে প্রেম করা যদি৷ কিন্তু তা হচ্ছে না জীবনে কাউকে পছন্দ হলো তাও অন্য ধর্মের৷ আচ্ছা এই কাঁটাতার কে ভেঙে যদি তার সাথে রিলেশন করা যায় তাহলে কেমন হবে ভাবতে থাকে৷ পরক্ষণেই আবার মন খারাপ হয়ে যায় যদি মেয়েটা রাজি না হয় তাহলে৷ 

- কিরে কি ভাবছিস ( মা)

- ওহ্ মা তেমন কিছু না এমনি 

- না দেখে মনে হচ্ছিলো কোনো বিষয় নিয়ে ভাবছিলি।

- তেমন কিছু না অনেক ক্ষুধা লাগছে খেতে দাও৷ 

- হুমম খাবার দিচ্ছি খেয়ে যা৷ 


পরেরদিন ভার্সিটিতে..

সিয়াম সহ অন্যান্য সবাই ক্যাম্পাসে বসে আড্ডা দিচ্ছে৷ 

- একটা গোপন খবর জানতে পেরেছি ( রাফি)

- কি গোপন খবর ( সবাই)

- শুনেছি সাবিনা ম্যাডাম নাকি এখনও বিয়ে করে নি৷ 

- দেখে তো দুই বাচ্চার মা মনে হয় ( সোহাগ বলেই হেঁসে উঠলো)

- আরে শাড়ীতে সবাইকে একটু এমন তেমন মনে হয়ই তাছাড়া সাবিনা ম্যাডামকে তো...

- রাফি আবার শুরু করলে ভালো হবে না বলে দিচ্ছি ( নীলা)

রাফি চুপ হয়ে যায়৷ নীলার দিকে রাগী ভাবে তাকিয়ে আছে সে ইচ্ছে করছে চাপাতি দিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলতে৷ 

- দেখ রাফি আর যাই বলিস না কেনো ম্যাডামরা মায়ের মতো তাই ম্যাডামের চিন্তা বাদ দিয়ে নিজে ঠিক হয়ে যা।( আশিক)

- সবসময় আমার বাবার কথা চিন্তা করবি না তো তার বউ আছে মানে আমার মা তাহলে উনাকে মা ভাবতে যাবো কেনো বরং যেটা নেই সেটা ভাবতে দোষ কি ( শয়তানি মার্কা হাসি দিয়ে বলে)

- তোর কপালে অনেক কষ্ট আছে দেখিস শালা তোর মতো লুইচ্ছা কেনো যে আমাদের বন্ধু হলো ভাবছি ( আশিক)

- খারাপ হচ্ছে কিন্তু আশিক।

- এই রাফি শুনোতো ( দূর থেকে ডাক দেয় সাবিনা ম্যাডাম)

- জ্বী ম্যাম আসছি ( বলেই ফাল দিয়ে উঠে পড়ে)

সকলের দিকে তাকিয়ে একটা পৈশাচিক হাসি দিয়ে চলে যায় সে৷ 


সিয়াম সকলের মাঝে থাকলেও তেমন কোনো কথা বলে না এক ভাবে গেটের দিকে তাকিয়ে আছে কখন আসবে সেই মেয়েটা ভাবতে থাকে৷ 

- কিরে সিয়াম বার বার গেটের দিকে তাকিয়ে কি দেখছিস ( আশিক)

- আরে কালকের সেই মেয়েটা আসছে না কেনো৷ 

- কোন মেয়েটা ওইযে নতুন আসছে হিন্দু ওর কথা বলছিস৷ 

- হ্যা 

- দেখ সিয়াম এসব বাদ দে মেয়েটা হিন্দু৷ 

- আরে বন্ধুত্ত করতে পারি তো নাকি। 

- হুমম তবে তোর আগ্রহ দেখে মনে হচ্ছে আরও বেশি কিছু ভাবছিস মেয়েটাকে নিয়ে৷ 

- চুপ আমি আসছি বলেই উঠে চলে যায়৷ 


- হাই আমি সিয়াম। 

পুষ্পিতা কোনো কথা না বলে ছেলেটার দিকে হা করে তাকায়৷ মাথার চুল গুলো বেশ সুন্দর করে পরিপাটি করে রাখা পড়নে কালো টিশার্ট ও কালো প্যান্ট৷ ছেলেটাকে সে আগে কখনও দেখেছে বলে মনে হয় না৷ 

- আমি পুষ্পিতা 

- জানি 

পুষ্পিতা শুনে অবাক হবার দৃষ্টিতে ছেলেটার দিকে তাকায়৷ 

- না মানে আপনার নামটা বেশ সুন্দর তো তাই মনে হলো আমি জানি ( মাথায় হাত দিয়ে সে যে তার সম্পর্কে জানে সেটা তাকে বুঝতে দেওয়া যাবে না)

- ধন্যবাদ 

- আচ্ছা আমরা কি বন্ধু হতে পারি৷ 

- আপনাকে চিনিনা জানিনা বন্ধুত্ত করতে যাবো কেনো৷ কোন ইয়ারে পড়েন আপনি। 

- ৩য় ইয়ারে

- সরি ভাইয়া আমি আপনার জুনিয়র তাই বন্ধু হতে পারছি না৷ 

সিয়াম বুকের বা পাশে হাত দিয়ে শক্ত করে নিজের টিশার্ট ধরে৷ 

- কি হলো হার্ট অ্যাটাক করলেন নাকি ভাইয়া৷ 

- উফ প্লিজ প্রিয়সী ভাইয়া বলিয়া ডাকিও না৷ 

- হোয়াট..

- না কিছুনা আসছি ( বলেই সিয়াম কেটে পড়ে)

পুষ্পিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে তার চলে যাওয়া দেখে ছেলেটা পাগল নাকি? 


- কিরে বন্ধুত্ত হলো ( আশিক)

- আরে ভাইয়া বলে ছোট্ট হার্ট অ্যাটাক ধরিয়ে দিয়েছে৷ 

- তুই আর রাফি হয়েছিসও একটা ম্যাডামের পাগল আর তুই ওই হিন্দু মেয়েটার৷ 

- বার বার এক কথা বলছিস কেনো ওর তো নাম আছে পুষ্পিতা কি সুন্দর নাম৷ 

- নষ্টা ( রিতা বলে উঠে)

- রিতা ( বেশ রাগী ভাব নিয়ে বলে সিয়াম) 

রিতা আর কিছু না বলে মাথা নিচু করে সোহাগের মাথায় হাত বুলিয়ে চুলে বিনি কাটতে থাকে৷ 

- রাফি কোথায় গেলো (আশিক)

- ওইযে আসছে খোড়াতে খোড়াতে ( নীলা)

- কিরে রাফি কি হয়েছে তোর৷ 

- চুপ শালা বল তোদের মধ্য কে ম্যাডাম কে বলেছে আমি তাকে নিয়ে কি ভাবি ( রাফি)

- কেনে কি করেছে তোর৷  

- দেখতেই তো পারছিস ক্লাসের যখন দরজা বন্ধ করলো ভাবলাম আমার স্বপ্ন পূরণ হবে পরে এমন উত্তম মাধ্যম দিয়েছে যে আমি আর ম্যাডামের কথা তো দূরে থাক তার দিকে চোখ তুলেই তাকাবোনা ( মাথা নিচু করে)

- থাক মন খারাপ করিস না এখানে বসে পড় ( আশিক)


পুষ্পিতাদের বাড়ির সামনে বড় একটা শিমুল গাছ৷ রোজ বিকালে অনেক রকমের পাখি এসে হাজির হয় সেখানে৷ পাখিদের কিসির মিসির আওয়াজ শুনতে বেশ ভালোই লাগে পুষ্পিতার৷ প্রতিদিনের মতো ছাদে উঠে ছাদের রেলিং ধের দাড়িয়ে আছে৷ শিমুল গাছের নিচেই একটা ছোট্ট চায়ের দোকান৷ মানুষের আনা গোনাও থাকে সেখানে৷ নিচে তাকাতেই পুষ্পিতার মনে হলো ভার্সিটির সেই ছেলেটা দাড়িয়ে আছে৷ কি নাম যেনো হ্যা সিয়াম অথচ এর আগে তাকে কোনোদিনই এখানে দেখেনি। তাহলে সে কি করছে কিছুটা অবাক হলো সে৷ 


সিয়াম অনেক্ক্ষণ ধরে চায়ের দোকানের সামনে দাড়িয়ে আছে৷ চায়ের দোকানি বলেছে সে নাকি রোজ বিকালে তাদের বাড়ির ছাদে আছে অথচ আজকে তাকে দেখতে পারছে না৷ ভার্সিটির ক্লাসশেষ করে পুষ্পিতাকে ফলো করতে করতেই সে এসেছে৷ মেয়েদের কে পটাতে হলে নাকি তার পিছনে কিছুদিন ঘুরতে হয়৷ সোহাগের বানী এমনটা। দেখা যাক যদি মেয়েটাকে রাজী করানো যায় তো৷ 


চলবে...


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post