কাঁটাতার লেখকঃ সিয়াম হোসেন পার্টঃ ২

 কাঁটাতার

লেখকঃ সিয়াম হোসেন 

পার্টঃ ২ 


পুষ্পিতা ভার্সিটির গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে৷ পিছনে পড়ে আছে তার হাজাকাঁটাতার


লেখকঃ সিয়াম হোসেন 


পার্টঃ ২ রও স্মৃতি তাকে এ পর্যন্ত আসতে কতটা লড়তে হয়েছে সেটা একমাত্র সেই জানে৷ 

সদ্য মেট্রিক পাশ করে স্কুল লাইফ থেকে বের হতে না হতেই বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করে৷ একবার তো এক ইন্জিনিয়ারিং ছেলের পরিবার থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে৷


বাবা তখন বাইরে মা বিয়েতে রাজি সাথে মায়ের পরিবারের সবাই৷ চোখের সামনে মনে হচ্ছিলো যেনো বুঝি সব স্বপ্ন ভেঙে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে হয়তো আর পড়ালেখা করা হবে না৷ তবে বাবা যেনো সবসময় ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছে তার পাশে৷ মেয়ের বিয়েতে তার মত না থাকায় সমস্ত কাজ ফেলে সে চলে আসে৷ সে যাত্রায় তার বিয়েটা ভেঙে গেলে যেনো স্বপ্নগুলো আবারও হাতছানি দিতে শুরু করেছে৷ তবে ইন্টার পাশের পর যেনো আবারও তার বিয়ে দেওয়ার জন্য সবাই উঠে পড়ে লাগে৷ বাবাও রাজি হয়ে গেছে তার বিয়ের জন্য 

- বাবা প্লিজ তুমি মাকে বোঝাও না আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না পড়ালেখাটা শেষ করতে দাও তারপর যা বলবে তাই করবো (পুষ্পিতা)

- অনেক তো পড়ালেখা করলি আর পড়ে কি হবে তার থেকে বিয়ে সাদি করে সংসার কর দেখবি সবাই ভালো বলবে তাছাড়াও দেখছিস না লোক কেমন কানা ঘুসা করছে মেয়ে বড় হয়ে গেছে বিয়ে দিচ্ছি না কেনো ( মা)

- মা লোকে কি বললো না বললো সেটা নিয়ে পড়ে থাকলে হবে তাছাড়া বিয়ের পর যদি তোমার জামাইয়ে কিছু একটা হয় তখন তো আমাকেই কিছু করতে হবে তাইনা৷ তাছাড়া পড়ালেখা শেষ করে আমি জব করতে চাচ্ছি নিজের পায়ে দাড়ানোর জন্য। 

- ওমন অলক্ষুণে কথা বলছিস কেনো বিয়ে না হতেই আসলেই বেশি পড়ার কারণে তোর মাথাটা বিগড়ে গেছে৷ 

- বাবা তুমি কিছু বলছো না কেনো মাকে বোঝাও না৷ 

- ঠিক আছে ঠিক আছে যা পড়িস৷ (মেয়ের মাথায় হাত দিয়ে)

- আই লাভ ইউ বাবা উম্মা ( বাবাকে জড়িয়ে ধরে)

- এই তুমিই মেয়েটাকে নষ্ট করছো কবে কি অঘটন ঘটিয়ে বসবে দেখে নিও ( মা)

- হু ( পুষ্পিতা জিহ্বা বের করে ভেংচি কেটে)

ভার্সিটির গেটের সামনে দাড়িয়ে এসব ভাবছিলো পুষ্পিতা৷ অনেক্ক্ষণ বাহিরে দাড়িয়ে থেকে গেট দিয়ে ভার্সিটির ভিতরে ঢুকে পুষ্পিতা। 


ক্লাস শেষ করে সিয়ামও তার বন্ধুরা সবাই ক্যাম্পের দিকে হাটছে আর গল্প করছে৷ 

- আজকে সাবিনা ম্যাডামকে কিন্তু বেশ লাগছিলো ( রাফি বলে উঠে)

- হ্যা তা তো বলবেই তোমারতো পুরো ভার্সিটিতে শুধু সাবিনা ম্যাডামের উপরেই চোখ থাকবে তাইনা ( নীলা রেগে বলে)

- আরে নীলা তোমরা তো শাড়ী পড়ো না বুঝবে কিভাবে দেখোনা সাবিনা ম্যাডাম যখন শাড়ী পড়ে টেবিলের উপর উবু হয়ে পড়ায় তার কোমড়টা দেখলে যা লাগে না উফ ( রাফি চোখ বন্ধ করে)

- ছি রাফি ম্যাডামকে নিয়ে এসব ভাবতে তোর লজ্জা করে না ম্যাডামকে সব বলে দিবো ( রিতা)

- বলো তাতে আমার কি হবে হ্যা আমার জন্য ভালোই হবে ম্যাডাম আমার স্বপ্নের রাজ্য থেকে আরও কাছে এগিয়ে আসবে আহ্ ভাবতেই অবাক লাগছে ( রাফি)

- আমাকে নিয়ে কি কথা হচ্ছে ( পিছন থেকে সাবিনা ম্যাডাম এসে দাড়ায়)

রাফি ভুত দেখার মতো চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে আছে ম্যাডাম কিছু শুনতে পাইনি তো আবার৷ ঘাড় বেয়ে বিন্দু বিন্দু জল গড়িয়ে পড়ছে। রিতা ও নীলা রাফির দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে৷ 

- কিছু না ম্যাডাম ( রাফি তোতলাতে তোতলাতে কথাটা বলে উঠে) 

- আসলে ম্যাডাম..(নীলা)

রাফি নীলার দিকে চোখ বড় করে তাকায়৷ মাথা নাড়িয়ে তাকে না বলার অনুরোধ করছে৷ 

- এই তুমি মাথা নাড়িয়ে কি না করছো ( সাবিনা ম্যাডাম)

- না ম্যাডাম কিছু না৷ ( রাফি)

- এই নীলা তুমি বলো রাফি কি বলছিলো আমাকে নিয়ে আমি ভালোভাবে শুনতে পাইনি তবে আমার নামটা রাফির মুখে শুনতে পেয়ে কাছে আসলাম। 

- তেমন কিছুনা ম্যাম রাফি আপনার প্রশংসা করছিলো আজকে নাকি আপনাকে বেশ সুন্দর লাগছে (নীলা)

রাফি যেনো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে যাক বাঁচা গেলো।

- আচ্ছা তা রাফি কাউকে প্রশংসা করতে হলে তার সামনে গিয়ে করতে হয় পিছন থেকে নয় বুঝলে ( সাবিনা ম্যাডাম রাফির গালটা ডান হাত দিয়ে টান দিয়ে)

- জ্বী ম্যাডাম ( কাঁপা কন্ঠে)

- আচ্ছা থাকো গেলাম আর হ্যা রাফি ধন্যবাদ তোমাকে ( সাবিনা ম্যাডাম বলেই সামনের দিকে হেটে চলে গেলো) 

- উফ বাঁচলাম আমি তো ভাবছিলাম আজকে আমি শেষ থ্যাংকস নীলা (রাফি)

- হু সামনের বার আমাদের সামনে আবার এমন বললে না সোজা বলে দিবো তুই ম্যাডামকে নিয়ে কি সব কল্পনা করিস। (নীলা)

- এই কান ধরলাম আর বলবো না (রাফি)


সবাই হাঁসি দিয়ে সামনের দিকে হাটা শুরু করে৷ মনে হচ্ছে যেনো তাদের মাঝ থেকে কেউ একজন নেই আশিক পিছনে তাকিয়ে দেখে সিয়াম তাদের থেকে অনেকটা পিছনে দাড়িয়ে একভাবে গেটে দিকে তাকিয়ে আছে৷ সবাই গেটের দিকে তাকিয়ে বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করে বুঝতে না পেরে সিয়ামের পাশে এসে দাঁড়ায় আশিক৷ 

- কি হলো এক ভাবে তাকিয়ে কি দেখছিস ( আশিক সিয়ামের ঘাড়ে হাত রেখে)

- পাইয়াছি আমি তাহারে। 

কথাটা শুনে আশিক সিয়ামের দিকে অবাক হবার ভঙ্গিতে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করে

- কি পেয়েছিস?

- আরে আমার স্বপ্নের মেয়েটাকে আমি পেয়েছি৷ 

- কোথায় ( সকলেই)

- ওই যে গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকছে শ্যামলা বর্ণের মেয়ে৷ কাজল কালো চোখ হরিণীর মতো৷ কানে ঝুমকা দোল আহ্ ( সিয়াম অপলক ভাবে তাকিয়ে থেকে)

- ওই মেয়েটার কথা বলছিস ( নীলা)

- হ্যা মেয়েটার সাথে আমার কথা বলতে হবে ( সিয়াম)

- হুট করে কি কথা বলবি আগে তার সম্পর্কে তো জানা দরকার সে কে দেখে তো মনে হচ্ছে আজকে ভার্সিটিতে নতুন আসছে ( সোহাগ)

- তো নীলা আছে কি করতে তোরা দাঁড়া আমি গিয়ে ওর পরিচয়টা জেনে আসছি ( নীলা বলেই মেয়েটার সামনে গিয়ে দাড়ালো)

সিয়াম সহ সকলেই অপেক্ষা করছে নীলা কখন ফিরে আসবে৷ 


- হাই আমি নীলা 

হুট করেই কেউ সামনে এসে পড়ায় বেশ ঘাবড়ে যায় পুষ্পিতা৷ তার উপর আজকে তার প্রথম দিন৷ তবুও নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করেই উত্তর দেই৷ 

- হাই আমি পুষ্পিতা। পুষ্পিতা মজুমদার

- ওহ্ ( দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে)

- আপনি কি আমাকে চিনেন ( পুষ্পিতা)

- না তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে আজকে ভার্সিটিতে নতুন আসছো তাই পরিচিত হবার জন্য আসলাম কোন ইয়ারে তুমি৷ 

- ১ম ইয়ারে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে৷ 

- ওহ্ আচ্ছা আমি ৩য় ইয়ারে ম্যানেজমেন্ট বিভাগেই কোনো সাহায্য লাগলে বলো৷ 

- আচ্ছা ১ম ইয়ারের ক্লাস কোনটা৷ 

- দো'তলায় 

- ধন্যবাদ ( বলেই পাশ কাটিয়ে চলে যায় পুষ্পিতা)


- কিরে নীলা কি বললো ( বেশ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞাসা করে সোহাগ)

- সিয়ামের কপালে বোধ হয় গার্লফ্রেন্ড নেই ( নীলা) 

- কেনো কি হয়েছে ( সিয়াম অস্থিরতা ভাব নিয়ে)

- মেয়েটা হিন্দু নাম পুষ্পিতা।

কথাটা শুনেই সবাই দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে। 

- চল সিয়াম মন খারাপ করিস না দেখ অন্য কাউকে পাস কিনা ( সোহাগ সিয়ামের ঘাড়ে হাত রেখে)

সিয়াম আর কিছু বলে না। সেদিনের মতো সিয়াম ক্লাস শেষ করে বাসায় চলে আসে৷ 


চলবে...


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post