কাঁটাতার পর্ব ১ লেখকঃ সিয়াম হোসেন


 কাঁটাতার

লেখকঃ সিয়াম হোসেন 


- জীবনে মনে হয় না আর প্রেম করা হবে শালার কপালে বোধ হয় সিঙ্গেলই মরবো লেখা আছে ( ক্যাম্পাসে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবার সময় সিয়াম কথাটি বলে উঠে৷) 

- হ্যা রোজ রোজ তোর এক ডায়লগ শুনতে শুনতে কান পচে গিয়েছে ( তারই বন্ধু আশিক)

- হ্যা এখন তো বলবেই কারণ তোমার তো এখন গার্লফ্রেন্ড আছে তাইনা ( সিয়াম)

- তো তোকে রিলেশন করতে বারণ করেছে কে শুনি ( সোহাগ মাঝে বলে উঠে)

- তা অবশ্য কেউ করেনি ( সিয়াম মাথা চুলকাতে চুলকাতে)

- তো কেউ যখন বলেনি তখন করিস না কেনো তাছাড়া খেয়াল করে দেখেছি অনেক মেয়েই তোর সাথে রিলেশন করতে চেয়েছিলো কিন্তু তোর নাকি সমস্যা আছে এসব বলে আর রিলেশন করিস নি তা সমস্যা টা কি ( আশিক)

- আরে যেই গুলা করছিলো ওই সবই ব্রয়লার মুরগীর মতো সাদা আমার আবার ব্রয়লার মুরগী পছন্দ না৷ ( সিয়াম)

- সিয়াম তুমি কিন্তু আমাদের রিতি মতো অপনান করছো ( নীলা আশিকের গার্লফ্রেন্ড) 

- ওহ্ সরি ভাবি ভুল হয়ে গেছে তবে সত্যিই আমার ব্রয়লারের মতো সাদা চামড়া পছন্দ না দেখলেই কেমন যেনো বিদেশি বিদেশি মনে হয়৷ ( সিয়াম)

- আচ্ছা তাই নাকি তা কেমন মেয়ে পছন্দ তোর৷ ( আশিক)

- আমার পছন্দ শুনে তোরা কি করবি ( সিয়াম)

- না দেখি কেমন পছন্দ যে রিলেশন করছিস না যদি তোর রিলেশন করিয়ে দেবার জন্য আমরা তেমন মেয়ে খুজেও দিতে পারি৷ (রাফি)

- তোরা খুজে দিলে আমি কেনো রিলেশন করবো আমারটা আমিই খুজে নিতে পারবো বুঝলি ( সিয়াম)

- হ্যা সেটাতো ভার্সিটির শুরু দিক থেকেই শুনে আসছি আজ পর্যন্ত তো একটা রিলেশন করতে পারলি না অথচ সোহাগকে দেখ কলেজ লাইফ থেকে কত গুলো রিলেশন হয়ে গেলো ( রাফি কথাটা বলেই জিহ্বায় কামড় দিলো তার খেয়াল নেই যে সোহাগের গার্লফ্রেন্ড রিতা পাশে বসে আছে) 

- রাফি কি বললি সোহাগ কলেজ থেকে রিলেশন করছে ( রিতা রাগে কটমট করতে করতে)

- না মানে ভাবি ভুল করে বের হয়ে গেছে সোহাগ অনেক ভদ্র ছেলে পুতপবিত্র ( রাফি)

- রাফির বাচ্চা (সোহাগ রাগে)

- ভাই আমি বিয়েই করিনি আমার বাচ্চা হবে কোথা থেকে আচ্ছা থাক আমি ক্লাসে গেলাম ( রাফি বলেই উঠতে গেলো)

- ওই শালা রাফি দাড়া আগে বল সোহাগ কয়টা মেয়ের সাথে রিলেশন করছিলো(রিতা)

- একটাও না বেবি রাফি মজা করছে ( সোহাগ রিতার হাত ধরে)

- হাত ছাড় কুত্তা তুই আমারে ধোকা দিলি ( রাগী ভাব সাথে কিছুটা মায়াবী কন্ঠ) 

- বিশ্বাস করো রাফি মজা করছে৷ (সোহাগ)

- হ্যা এখন তো বলবাই মজা করছে আর কয়টা মেয়ের সাথে তোর রিলেশন আছে বল ( রিতা সোহাগকে ঘুষি মেরে)

- বিশ্বাস করো আমার আর কোনো মেয়ের সাথে রিলেশন নাই রাফি কিছু বল ( সোহাগ)

- আমি কি বলবো ( রাফি মাথা চুলকাতে চুলকাতে) 

- আচ্ছা রিতা আমি বলছি শোন ( সিয়াম)

- কি?

- সোহাগ কলেজে থাকতে একটা মেয়েকে ভালোবাসতো মেয়েটাও ওকে ভালোবাসতো তবে সোহাগ তখন ছোট থাকায় ওদের তো বিয়ে হবার সম্ভাবনা ছিলো না তাই মেয়েটাকে তার পরিবার বিয়ে দিয়ে দেয় সোহাগ অনেকটা কষ্টই পেয়েছিলো তারপর থেকে ওই রিলেশন নামে মজা করে আসছে ( সিয়াম)

- তার মানে আমার সাথেও মজা করছে ( কান্না কান্না ভাব নিয়ে)

- না বেবি সিয়াম সত্যি বলছে তবে আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি ( সোহাগ রিতার হাত শক্ত করে ধরে)

- আমাকে বিয়ে করবে তো ছেড়ে যাবে না বলো ( রিতাও শক্ত করে হাত ধরে সোহাগের)

- সবাইকে সামনে রেখে বলছি কখনও ছেড়ে যাবো না আর বিয়ে করলে তোমাকেই করবো ( সোহাগ)

- যাক তোদের বিয়ে টিয়ে হলে এবার সিয়ামের টপিকে আসা যাক ( আশিক)

- আমার আবার কিসের টপিক ( সিয়াম)

- তোর কেমন মেয়ে পছন্দ সেটা আগে সবাইকে বল তা নাহলে আজকে তোকে ছাড়ছি না ( আশিক)

- ঠিক আছে তোরা যখন বলছিস তখন শোন... 

মেয়েটার উচ্চতা হবে পাঁচফিট পাঁচ-ছয় ইঞ্চি এরমতো যাতে আমার বুকে মাথা রেখে ও আমার হৃদয়স্পন্দন শুনতে পারে আর আমি ওর ঘন কালো চুলে আমার দু হাত দিয়ে বেশ আলতো করে ছুয়ে দিতে পারি৷ শরীরের কালার হবে শ্যামলা বর্ণের মুখটা দেখতে মায়াবী হবে যাতে তার ওই মুখের দিকে তাকিয়ে সারাদিন পার করে দিতে পারি৷ চোখ গুলো হবে হরিণীর মতো আর হাসি আহ্ যা দেখলে যেনো হৃদয় জুড়িয়ে যায়৷ বেশ সাদামাটা স্বভাবের থাকবে।সবসময় আমাকে ভালোবাসবে ( চোখ বন্ধ করে কথা গুলো বলতে থাকে সিয়াম)

- হয়েছে তোর স্বপ্ন থেকে বের হয়ে আয় বোঝা যাচ্ছে তোর আর এই জন্মে রিলেশন করা হচ্ছে না (আশিক)

- না হলে না হলো কি আর করার৷ ( সিয়াম)

- অনেক তো হলো তাহলে এবার ক্লাসে যাওয়া যাক ( নীলা)

- হুম চল সবাই ক্লাসে যায় ( সিয়াম)

 সকলে মিলে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে ক্লাসে চলে যায়৷ 


.

- পুষ্পিতা আজকে না তোর ভার্সিটির প্রথম দিন যাবি না ( মা)

- হ্যা মা আসছি হয়ে গেছে ( পুষ্পিতা)

- এতোক্ষণ লাগে নাকি প্রথম দিন দেড়ি করে গেলে কেমন হয় বলতো দেখি ( মা)

- আরে বাবা নাও হয়েছে গেলাম। 

- ঠাকুরকে প্রণাম করে যা 

- উফ মা সব সময় বাইরে যেতে গেলে কি প্রণাম করতে হবে ( বিরক্ত ভাবে)

- ওমন ভাবে বলতে নেই আজকে না তোর ভার্সিটির প্রথম দিন প্রণাম করে যা দেখবি দিনটা বেশ ভালো কাটবে ( মা)

- হুম আসছি ( বলেই বের হয়ে পড়ে)

পুষ্পিতার ভার্সিটির প্রথম দিন দেড়ি হয়ে যাওয়া সে কিছুটা দ্রুত পা চালিয়ে ভার্সিটির দিকে রওনা দেয়৷ কিছুদূর যাবার পরে রিক্সা পেয়ে রিক্সায় করে ভার্সিটিতে চলে আসে পুষ্পিতা।


চলবে...

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post