গল্পঃ অবহেলিত স্বামী
লেখকঃ শাওন আহমেদ নীল
পর্বঃ ১২
এভাবে কেটে গেলো তিন দিন । এদিকে আংকেল ও নিধীর সাথে কথা বলে না।।। নিধী ভালো করেই বুজতে পারতেছে, ও আমার প্রেমে পড়ে গেছে। এদিকে আংকেল ও আমাকে তন্য তন্য করে খুজতেছে।
আর কিছু না ভেবেই নিধী রানার কাছে গেলো।
সাথে আংকেল কেও নিয়ে গেলো।। রানা নিধীকে দেখে অবাক হয়ে গেলো,।
নিধীঃ নীল কোথায়?
রানাঃ আমি জানি না।
নিধীঃ প্লিজ বলো।
রানাঃ স্যরি আমি সত্যি জানি না।।
আংকেলঃ রানা জেনে থাকলে বলে দাও, আমার মেয়েটা না খেয়ে আর কান্না করতে করতে শেষ হয়ে গেলো।
রানাঃ সেটা আগে বুঝা উচিত ছিলো আংকেল। নিধী কম অপমান করে নাই নীল কে, কখনো স্বামীর সম্মান টা পাই নি নীল।
নিধীঃ আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি, তুমি শুধু একবার বলো নীল কোথায় ।
রানাঃ আমি জানি না,।
রানা কে অনেক রিকুয়েষ্ট করার পড়েও রানা বলেনি আমি কোথায়। নিধী আর আংকেল হতাস হয়ে বাসায় ফিরলেন। এদিকে আংকেল মেয়ের কান্না একদম ই সয্য করতে পারছে না। কি করবে কিছু বুঝতেছেও না।।। হঠাৎ করেই নিধীর মনে হলো ভার্সিটীতে নিউ একজন প্রফেসর আসছে, সেই একমাত্র নীলের খোজ দিতে পারবে।। নিধী আর লেট না করে আংকেল কে নিয়ে ভার্সিটীতে চলে গেলো।।।
ভার্সিটীতে গিয়ে স্যারের ক্যবিনে চলে গেলো দুজনেই। স্যার বসতে বলল৷।
নিধীঃ স্যার নীল কোথায়??
স্যারঃ আমি কি করে জানব নীল কোথায়?
নিধীঃ স্যার আপনি সব ই জানেন প্লিজ বলেন।
স্যারঃ তুমি নীলের কি হও??
নিধীঃ আমি ওর ওয়াইফ??
স্যারঃ হোয়াট বাট আমি খেয়াল করতাম তোমরা সারাদিন ই নীল কে অপমান করতে।
নিধীঃ স্যরি স্যার।
স্যারঃ নীলের পরিচয় আমি দিতে পারব না।
এবার নিধী স্যারের পা দরে কেঁদে দিলো। এবার স্যারের অনেকটাই মায়া লাগলো।। স্যার নিধীকে উঠিয়ে বসিয়ে দিয়ে এক গ্লাস পানি দিলো।।
স্যারঃ নীল কোনো সাধারণ ফ্যমিলির ছেলে না।
আংকেলঃ তাহলে কে ও?
স্যারঃ আপনি অবশ্যই চিনবেন ওর বাবা কে যেহেতু আপনিও একজন ব্যবসায়ী।
আংকেলঃ নাম কি ওর বাবার??
স্যারঃ (............)।।।
আংকেলঃ কিহ এটা সত্যি।।
স্যারঃ একদম সত্যি।।
নিধীঃ আপনাদের কথা ত আমিই কিছুই বুঝতে পারতেছি না,।
স্যারঃ তাহলে শুনো। ডাকা শহরের টপ পাঁচ জন ধনী ব্যক্তির মাঝে নীলের বাবা একজন।।
নিধীঃ তাহলে ও ডাকা থেকে এখানে আসছিলো কেন??
স্যারঃ অনেক কাহিনী আছে এখানে।।।
নিধীঃ সব কিছু খুলে বলেন।।।
স্যারঃ ওকে তাহলে শুনো।।
নীলের ওর বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। খোব ভালো স্টুডেন্ট ও ছিলো। একটু আকটু রাজনিতী
করত।। বাবা মায়ের খোব আদরের সন্তান ছিলো ও।। বাবার টাকার অভাব নেই বাট ওর কোনো অহংকার ছিলো না।। নীল একটি মেয়েকে ভালোবাসত সেটা হলো বৃষ্টি। বৃষ্টি নীলের বড় চাচ্চুর মেয়ে বোন। বৃষ্টি খোব ছোট থাকতেই ওর মা-বাবা মারা যায়, সেখান থেকেই বৃষ্টি নীলের আম্মুর কাছে মানুষ হয়।। বৃষ্টি নীলের এক বছরের
বড় সেই ক্ষেত্রে বৃষ্টি নীল কে ভালোবাসত না।। বাট নীলের আব্বুর স্বপ্ন ছিলো বৃষ্টিকেই ঘড়ের বউ করবে।।।
একদিন নীল আর নীলের ফ্রেন্ড রা কলেজে বসে আছে।। তাকিয়ে দেখে রিহান আর ওর ফ্রেন্ড রা মিলে একটা মেয়েকে জুর করে সিগারেট খাওয়াচ্ছে। মেয়েটা কান্না করে দিছে।। এইটা দেখে নীল আর ওর ফ্রেন্ডরা রিহানের কাছে চলে যায়। রিহান ছিলো নীলের এক ব্যচ সিনিয়র, বৃষ্টির আর রিহান ছিলে সেম ব্যচ।।।
নীলঃ এখানে কি হচ্ছে?
রিহানঃ এখানে কি হচ্ছে সেটা তর দেখতে হবে না,।
নীলঃ তকে অনেক বুঝিয়েছি আর না আজকে তর রেগিং করা বের করব।।।
এই বলে নীল আর ওর ফ্রেন্ড রা,। রিহান আর ওর ফ্রেন্ডদের ইচ্ছারকম মারে একসময় পিন্সিপাল স্যার এসে জগরা থামিয়ে দেয়।।।
পিন্সিপালঃ কি হচ্ছে নীল রিহান তোমার সিনিয়র,
নীলঃ ও এই আপুটাকে এখানে জুর করে স্মুক করাচ্ছিলো। এই রকম ছাত্র কলেজে রাখার প্রয়োজন নেই এখনি সব গুলোকে রাস্টিকেট করবেন।।
পিন্সিপালঃ রিহান কে বললো,, মেয়েটির কাছে ক্ষমা চাইতে, রিহান আর কোনো উপায় না পেয়ে,
ক্ষমা চেয়ে নেয়।।।
বাট রিহানের মনে রাগ রয়েই যায়,। রিহান কোনো
ভাবেই নীলের উপর প্রতিশোধ নিতে পারতেছিলো না।। রিহান আর কোনো বুদ্ধি না পেয়ে বৃষ্টিকে পটিয়ে ফেলে।। বৃষ্টি ও রিহানের ফাঁদে পা দেয়,।
সেখান থেকেই নীলের জীবন এলোমেলো হয়ে যায়,
নীল বৃষ্টিকে ছোট বেলা থেকেই ভালোবাসত,। যে ছেলেটা কখনো সিগারেট পর্যন্ত ছুয়ে দেখেনি, স রেগুলার ই ড্রিংকস করতে শুরু করে,, ফ্রেন্ডরা অনেক বোঝায় কিন্তুু কারো কথায় শুনে না।।।
এটা নিয়ে নীলের আব্বু আম্মু ও অনেক চিন্তিত হয়ে পড়ে। বৃষ্টি রিহানের উপরে অনেটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।।।
রিহানঃ বৃষ্টি নীল বাসায় থাকলে আমাদের কখনো এক হতে দিবে না।
বৃষ্টিঃ চলো আমার বিয়ে করে ফেলি।।
রিহানঃ এখনি না,, একটা রাখতে পারলেই আমি তোমাকে বিয়ে করব?
বৃষ্টিঃ কি কথা?
রিহানঃ নীল কে বাসা থেকে তারাতে হবে।।
বৃষ্টি এতোটাই রিহানের প্রেমে মগ্ন ছিলো যে, রিহানের সব প্লান এই রাজি হয়ে গেলো। একদিন সকাল ছয়টার দিকে বৃষ্টি নীলের রুমে যায়,।। রুমে গিয়ে নীল কে ডেকে তুল। নীল এখন বৃষ্টির সাথে কথা বলে না।।।
বৃষ্টি গিয়ে দরজা লক করে দেয়, আর নিজের জামা হালকা ছিরে চুল গুলো এলোমেলো করে,, চিল্লাতে থাকে, নীল শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, একসম নীলের আব্বু আর আম্মু এসে দরজা দাক্কাতে লাগে, বৃষ্টি নীলের দিকে তাকিয়ে একটা শয়তানির হাসি দেয়।।
তারপরে গিয়ে দরজা টা খুলে দেয়,। দরজা খুলেই নীলের আম্মুকে জড়িয়ে দরে কেঁদে দেয়।।
নীলের আব্বুঃ কি হয়েছে?
বৃষ্টিঃ চাচ্চু ও আমার ইজ্জত নষ্ট করতে চেয়েছিলো।
এই কথা বলাতেই নীলের আব্বু নীল কে থাপ্পর মারে। নীলের আম্মু ঘটনা বিশ্বাস করতে চায় না,
দেন বৃষ্টি বলে, নীল এখন নেশা করে ও সব কিছুই করতে পারে।। নীলের বাবা নীল কে বাসা থেকে বের করে দেয়, নীল যাওয়ার সময় বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে শুধু একটা কথায় বলে অনেক আফসোস
করবে, বাট খুজে পাবে না।।।।।
নিধী সব শুনে কান্না করতে লাগলো, নিধী আর একটুও লেট না করে, আংকেল আর রানা কে নিয়ে ডাকা আসার জন্য রওনা দিলো।।
আমি আর আম্মু বিকেলে ড্রইংরুমে, বসে আছি।
তখনি কলিংবেলটা বেজে উঠলো, আম্মু গিয়ে দরজা খুলে দিলো,।।।
দরজা খোলার পর যাদের দেখলাম, তাদের দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম।।
#চলবে
