গল্পঃ অবহেলিত স্বামী
লেখকঃ শাওন আহমেদ নীল
পর্বঃ ১১
জয়ঃ কেমন আছিস, কই ছিলি তুই?
আমিঃ সব ই বলব চল বাসায় যায়।।
জয়ঃ হ্যাঁ চল।।
দেন আমি বাসায় চলে গেলাম৷ বাসা টা কেমন অন্যরকম লাগতেছে, আমি গেটের সামনে দাড়িয়ে আছি। ভিতরে ডুকার সাহস পেলাম না, দারোয়ান আমাকে দেখেই দৌড়ে আসলো এসেই আম্মু কে ডাকতে লাগলো।
আম্মু এসেই আমাকে জড়িরে দরলো, আমিও আম্মুকে জড়িয়ে দরলাম। এভাবে প্রায় দশ মিনিট কেউ কোনো কথা বললাম না। আম্মু কাঁদতেছে
আমি চোখের পানি মুছে দিলাম।।
আমিঃ কেমন আছো আম্মু?
আম্মুঃ তকে ছারা কেমন থাকি তুই জানিস না?
জয়ঃ আন্টি বাসায় গিয়ে কথা বলো।।।
আম্মুঃ হুম বাবা বাসায় চল।
আমি বাসায় চলে গেলাম, সব কিছুই আগের মতোই আছে,। আমার রুমের কোনো কিছুই পাল্টে নি। এক বছর আগে যেমনটা রেখে গেছিলাম ঠিক তেমন টাই আছে।। আমি আমার রুমে গিয়ে বেলকনির সামনে গেলাম। এইটা আমার ফেভারিট প্লেস।। এইখান থেকে আমাদের পুরো বাগানটায় দেখে যায়।। বেলকনি থেকে রুমে আসলাম।।।
আম্মু আমার জন্য কফি নিয়ে আসলো,। নানান প্রশ্ন করতে লাগলো, এতোদিন কই ছিলাম আরো অনেক কিছু।। আমি শুধু বলে দিলাম সব জানতে পারবে। আম্মুকে জিঙ্গাস করলাম আব্বু কোথায়?
আম্মু বলল আব্বু অফিসে কল দিয়েছিলো এখনি আসতেছে।।। আমি কফি খেয়ে রানা কে একটা কল করে বলে দিলাম আমি পৌঁছে গেছি।।
আমিঃ বৃষ্টি কোথায়?
জয়ঃ জানি না ওই দিন এর পড় থেকে বৃষ্টির সাথে
আমার আর কথা হয় নি।
আমিঃ ওহ, রিহানের সাথে কি ওর বিয়ে হয়ে গেছে?
জয়ঃ না রিহান অন্য কাউকে বিয়ে করে নিছে।।
আমিঃ আমি শুধু ওকে এটাই বুঝাতে চেয়েছিলাম রিহান প্লে বয়, এ কারণেই আমাকে বাড়ি ছারতে হয়েছিলো।
জয়ঃ দোস্ত অতিত ভুলে যা প্লিজ।
আমিঃ হ্য অতিত ভুলে গেছি।।।।
জয়ের সাথে কথা বলতে বলতেই আব্বু চলে আসলো। আব্বু এসেই আমাকে জড়িয়ে দরলো।
আমি চুপ করেই আছি, কোনো কথা বলছি না।
আব্বুঃ কোথায় ছিলি বাবা তুই জানিস তকে কতো খুজেছি?
আমিঃ (চুপ করেই আছি)
আব্বুঃ তর জন্য তর আম্মু ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করে না তার জন্য প্রায় সময় ই অসুস্থ থাকে।
আমি আম্মু দিকে তাকালাম, আগের চেয়ে শুকিয়ে গেছে। চোখ ভিতরের দিকে চলে গেছি,। মনে হয় প্রায় সময় ই না খেয়ে কান্না করছে।।
আব্বুঃ কি হলো কথা বলছিস না কেন?
আমিঃ আমাকে খোজার কি প্রয়োজন আমি ত আপনার ছেলে হওয়ার যোগ্য না।
আব্বুঃ সেই কথা গুলো এখনো মনে রেখেছিস।
আমিঃ কিছু কথা আছে ভুলা যায় না।
আব্বুঃ এখন কি বাবা হয়ে তর পা দরতে হবে বল?
আমিঃ এসব কি বলছ আব্বু।
এইবার আমিও আব্বুকে জড়িয়ে দরলাম।।
সবায় শুধু এক প্রশ্নই করছে কোথায় ছিলাম এতোদিন।। বাট কাউকে কিছুই বললাম না।।
আম্মুঃ বৃষ্টি কে কল দিছিলে?
আব্বুঃ কেন ও বাসায় না?
আম্মুঃ না লাবণ্য এসেছিলো ওর সাথে বাহিরে গেছে।
আমিঃ ওকে কল করার প্রয়োজন নেই।।
বৃষ্টির কথা বলতে না বলতেই বৃষ্টি এখানে এসে হাজির। বৃষ্টি আসাতে সবায় রুম থেকে চলে গেলো।
বৃষ্টি এসে আমার পায়ে পড়ে গেলো,
বৃষ্টিঃ প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও নীল, আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি।।
আমিঃ পা ছারেন প্লিজ আর এক মিনিট আমার সামনে থাকলে আমি এ বাসা থেকে চলে যাবো।।
বৃষ্টিঃ এমন করো না নীল প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও।।
আমিঃ গেট আউট,।
বৃষ্টি কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো,। চলে যাক তাতে আমার কি, এই মেয়েটাকে একসময় অনেকটাই ভালোবাসতাম,।
এভাবে কেটে গেলো তিন দিন । এদিকে আংকেল ও নিধীর সাথে কথা বলে না।।। নিধী ভালো করেই বুজতে পারতেছে, ও আমার প্রেমে পড়ে গেছে। এদিকে আংকেল ও আমাকে তন্য তন্য করে খুজতেছে।
এভাবে আরো তিনদিন কেটে গেলো,। দুপুর টাইমে আমি ঘুমিয়ে আছি,। মনে হয় আমার সাথে কেউ শুয়ে আছে।। নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে।।
#চলবে
