গল্পঃ / গুন্ডি মেয়ে পর্বঃ / (৯ - ১০)


গল্পঃ / গুন্ডি মেয়ে 🙎

লেখকঃ / সাইফুর রহমান ✍

পর্বঃ / ৯ম 📜

|

|

/\________________/\

\/________________\/

|

|


আমি অবাক হয়ে সিনথির দিকে তাকিয়ে রইলাম। 

বিয়ের বেনারসি শাড়িতে ওকে সর্গীয় অপ্সরীর মতো লাগছে। এই অপ্সরী আজ আমার বউ হবে ভাবতেই ডান্স দিতে ইচ্ছে করছে। 

|

___ এই হারামি পরে দেখিস। আজীবন দেখতে পারবি তোর জিনিস। আগে আপুকে নিয়ে কাজী অফিসে যেতে হবে। (সানি)

|

___ হুম চল (আমি)

|

আমরা সবাই মিলে কাজী অফিসে গেলাম।

ভালো ভাবেই আমার আর সিনথির বিয়েটা হয়ে গেলো। কিন্তু কখনো ভাবিনি এভাবে আমাকে বিয়ে করতে। যদিও ভাগ্যের উপর কারো হাত নেই। 

বিবাহ সম্পুর্ণ করে আমরা সানিদের বাগান বাড়িতে চলে আসলাম। 

রিনি আর রুবি আপু আমাদের ঘর সাঁজালো। 

আমি আর সানি ছাঁদে বসে গল্প করতেছি। 

সানি বলল.... 

|

____ দোস্ত তোকে আমি একটা কাজের কথা বলছি না? (সানি)

|

___ হ্যাঁ তবে কাজটা কি তাতো বললি না? (আমি)

|

___ আসলে আমি রুবি আপুকে খুব পছন্দ করি। 

তুই আর সিনথি আপু মিলে যদি আমাদের লাইনটা ক্লিয়ার করে দিস রুবি আপুকে বুঝিয়ে তাহলে খুব ভালো হতো। 

তোর আর সিনথি আপুর কথা রুবি ফেলবে না। (সানি)

|

____ শালা শেষ পর্যন্ত তুইও সিনিয়র মাইয়ার প্রেমে পরলি?

আমাকে তো ভালোই পঁচাইছিলি....  (আমি)

|

___ সরি দোস্ত 🙏

কি করবো বল? 

উনাকে দেখলে বুকের ভেতর কেমন যেন করে। (সানি)

|

___ হয়েছে আর বলতে হবে না বুঝে গেছি। তুই চিন্তা করিস না। আমি আর সিনথি রুবি আপুকে বোঝাবো। (আমি)

|

___ থ্যাংক ইউ দোস্ত (সানি)

|

___ হুম (আমি)

|

ওদিকে রুবি আপুদের বাসর ঘর সাজানো শেষ।

|

___ সিনথি তুই তো পিচ্চি পোলার গলায় ঝুঁলে পরলি। এখন আমারটা একটু সেটেল করে দে নারে.... (রুবি) 

|

____ তোরটা মানে? (সিনথি) 

|

___ মানে আমিও তোর মতো  পিচ্চির উপর ক্রাশ খাইছি। (রুবি) 

|

___ কি বলিস? 

তো পোলাডা কে? (সিনথি)

|

___ তোর বর সাইফুরের বন্ধু সানির উপর। 🙈 (রুবি) 

|

____ কি বলিস? 🙆

তলে তলে টেম্পু চালাও আমরা বললেই হরতাল হু 🤨(সিনথি)

|

___ দোস্ত লজ্জা দেস ক্যান? 

আমি কি করবো বল পিচ্চিটা যেই লেভেলের হ্যান্ডসাম 

ক্রাশ না খেয়ে উপায় আছে? (রুবি) 

|

___ আচ্ছা দেখবো নি। 

এখন যা আমার পিচ্চিডারে ভিতরে  পাঠিয়ে।( সিনথি) 

|

___ কিরে পিচ্চির জন্য দেখি তোর তর সইতেছে না? (রিনি)

|

___ এই যা তো (সিনথি)

|

___ যাচ্ছি আর শোন আমরা বাসায় চলে যাবো। 

অনেক রাত হয়ে গেছে। 

আর সাবধানে থাকিস 😁 (রিনি)

|

___ আমার চিন্তা তোদের করতে হবে না। তোরা যা তো। (সিনথি)

|


রুবি আর রিনি আপু বাইরে চলে আসলো।

|

____ এই পিচ্চি তোমার মহারানীর তর সইতেছে না। তারাতাড়ি যাও তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।

আমরা বাসায় যাচ্ছি।  (রিনি)

|

___ আচ্ছা আপু। (আমি)

|

___ দোস্ত যাবো? (আমি)

|

___ তো কি করবি এখানে বসে তাঁরা গুনবি নাকি?(সানি)

|

___ না মানে প্রথম তো একটু ভয় হচ্ছে। (আমি)

|

___ আরে ব্যাটা সমস্যা নেই যা। (সানি)

|

___ আচ্ছা। (আমি)

|

___ আর শোন আমি রিনি আপুদের তাদের বাসায় ড্রপ করে দিয়ে আসি। তুই এদিকটা সামলে রাখিস। 

___ আচ্ছা যা আর ফোন করিস। আমার কিন্তু ভয় করতেছে। (আমি)

|

___ ধুর ফাউল আমি আসি।  (সানি)

|

সানি আপুদের ড্রপ করতে চলে গেলো। 

আমি এখানে একা অসহায় হয়ে গেলাম। 

ভয়ে ভয়ে বাঁশের ঘরে থুক্কু বাসর ঘরে ডুকলাম। 

কিন্তু বাসর ঘরে এসে দেখি বউ নাই। আয় হায় বউ গেলো কই? 

ও বউ মোরে থুইয়া গেলা কোম্মে? 

 খাটে বসে ন্যাকা কান্না কাঁদতেছি বউয়ের শোকে 😥

বউ আমার কিছুক্ষন পর ওয়াশরুম থেকে বের হলো। 

|

___ বউ তুমি মোরে একলা থুইয়া গেলা কোম্মে? (আমি)

|

___ বরিশাইল্লা ফুডার পো ফুডা। তোর জন্য অপেক্ষা করতে করতে একছেড় বিরক্ত হয়ে গেছি। 

তাই ওয়াশরুমে গিয়া ফ্রেশ 

হয়ে নিলাম। 

(সিনথি)

|

___ ওহ্ খুব ভালো করছো।  এখন ঘুমাও আমার অনেক ঘুম পাইছে। সারাদিন অনেক ধকল গেছে শরীর খুব ক্লান্ত। 

(আমি)

|

___ ঘুমাবি মানে কি বাসর রাতে কেউ ঘুমায় নাকি? 

কত সপ্ন ছিল এই রাতটা নিয়া। আর তুই সব মাটি করে দিবি? 😥 (সিনথি)

|

___ আরে আমি কি চলে গেছি নাকি? 

তোমার সপ্ন অন্য দিন পূরণ কইরো। (আমি)

|

___ তাহলে এখন ছাঁদে চলো গল্প করবো। (সিনথি)

|

___ এতো রাতে ছাঁদে গিয়ে গল্প করবা  মানে কি? (আমি)

|

___ প্লিজ বাবুটা চলো না? 

নইলে কিন্তু তোমাকে ভাইয়া বলে ডাকবো হু 🙄(সিনথি) 

|

___ ভাইয়া বলে আহত করার চেয়ে চাচা বলে নিহত করলেই তো হয়। 🙄

চলো... যতসব আজাইরা কথা বার্তা। 

ওই যে কথায় আছে না? 

""কাজের বেটির নাম শাবানা, 

ওমা রে কি যন্ত্রণা। ""

(আমি)

|

___ তুমি আমাকে কাজের বেটি শাবানা বললে? 

যাবো না তোমার সাথে। (সিনথি) 

|

___ তোমাকে বলতে যাবো কেন? 

আর তুমি কি জানো শাবানা বাঙালি মেয়েদের রোল মডেল। উনি একটা সেলাই মেশিন কিনে কাজ করে আজ কোটিপতি। (আমি)

|

___ ধুর আজাইরা (সিনথি)

|

___ চলো (আমি)

|

___ হুম (সিনথি)

|

আমি আর সিনথি ছাঁদে গিয়ে দোলনার উপরে বসলাম। 

|

___ জানো আমি কখনো ভাবিনি আমার জীবনে এমন একটা ঘটনা ঘটে যাবে। 

আম্মু আব্বুর কথা খুব মনে পরছে। 😥 (আমি)

|

___ জানি আমার জন্যই তোমার আজ এই অবস্থা? 

সবকিছুর জন্য আমিই দায়ী। খুব অলক্ষি মেয়ে আমি। 😥 (সিনথি)

|

___ তুমি নিজেকে শুধু শুধু দোষারোপ কেন করছো? 

সবই আমার ভাগ্যে। 

আর তুমিও তো আমার জন্য বাবা মার রাজপ্রাসাদ ছেড়ে চলে আসছো। 

(আমি)

|

সিনথি আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলো। 

|

___তুমি আমাকে সারাজীবন তোমার বুকে মাথা রাখতে দিবে তো? (সিনথি)

|

আমি সিনথি কপালে চুমু দিয়ে বললাম... 

|

___ এই বুকটা তো তোমার জন্যই আমার পাগলি। তুমি মাথা মাথা রাখবে নাতো কে রাখবে? (আমি)

|

____ আচ্ছা রুমে চলো ঘুমাবো... (সিনথি)

|

____ হুম চলো। (আমি)

|

____ এই শোন.... (সিনথি)

|

____ হুম বলো... (আমি)

|

___ আমাকে একটু কোলে তুলে নেও না? (সিনথি)

|

___ আচ্ছা লক্ষি বউ (আমি)

|

সিনথিকে কোলে তুলে রুমে নিয়ে আসলাম। 

তারপর সিনথিকে খাটে শুইয়ে দিলাম। 

সিনথি আমার কলার ধরে আছে। 

|

___ এই কলার ধরে আছো কেন? 

ছাড়ো আমার ঘুম পাচ্ছে। (আমি)

|

___ না ছাড়বো না 🤨 (সিনথি)

|

বলেই আমাকে টান দিয়ে ওর বুকের উপর ফেলল।

|

___ এই ছাড়ো আজকে ঘুমাবো। (আমি)

|

___ আচ্ছা উঠো।(সিনথি)

|

আমি সিনথি পাশে শুয়ে পরলাম।

সিনথি আমাকে জড়িয়ে ধরলো। 

|

___ সিনথি তোমার ঠোঁটের নিজের তিঁলটা আই মিন বিউটি স্পট টা তোমার কিউটনেস আরো বৃদ্ধি করে দিয়েছে। (আমি)

|

___ তাই নাকি।  (সিনথি)

|

___ হুম। (আমি)

|

___ আরো অনেক জায়গায় বিউটি স্পট আছে দেখাবো? (সিনথি)

|

___ এই না আজ না (আমি)

|

___ আচ্ছা (সিনথি) 

|

___ তোমাকে একটা কথা বলবো? (আমি)

|

____ হুম বলো না... (সিনথি)

|

____ আমার বন্ধু সানি আছে না? (আমি)

|

___ হুম সানি কি করছে? (সিনথি)

|

___ সানি আসলে তোমার বান্ধবী রুবি আপুকে পছন্দ করে। তুমি একটু ওদের মিল করিয়ে দেও না? (আমি)

|

___ তুমি কি সত্যি বলছো? (সিনথি)

|

___ তো আমি মিথ্যা বলতে যাবো কেন? (আমি)

|

____ আয় আমার বুকে আয়... (সিনথি)

|

___ আমি তো তোমার বুকেই আছি। (আমি)

|

___ ওহ তাই তো। 🤔

শোন রুবিও সানিকে পছন্দ করে। (সিনথি)

|

___ কি কান্ড সত্যি!! 

তাহলে তো হয়েই গেলো। 

(আমি)

|

___ তাদের তো হয়ে গেল। কিন্তু আমাদের তো কিছুই হলো না। 

"জীবনটাই কাইশ্যা থুক্কু জীবনটাই বেদনার " 😥

(সিনথি)

|

___ ধৈর্যের ফল মিষ্টি হয়।  (আমি)

|

তারপর সিনথিকে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরলাম। 

|

___ এই ওঠো নামাজ পড়বো। (সিনথি)

|

___ আরেকটু ঘুমাই না? (আমি)

|

___ না গো আর ঘুমানো যাবে না। (সিনথি)

|

____ আচ্ছা উঠছি। (আমি)

|

দুজনেই নামাজ পড়েছি। 

তারপর আবার শুয়ে পরলাম। 

|

___ সিনথি জানো আমার ইচ্ছে ছিল বিয়ার পর একছেড় আলিফ হয়া যামু। (আমি)

|

___ এখন তো বিয়া করছো তাহলে লামের মতো বাঁকা হইছো কেন? (সিনথি)

|

___ বাঁকার কি দেখছো? 

এখন দেখাবো। (আমি)

|

___ এই যা শয়তান ছেড়া রাতে তুই সুযোগ মিস করেছিস। সো এখন তোর কোন চান্স নাই। (সিনথি)

|

___ চান্স তোমার দেয়া লাগবে না। আমিই আদায় করে নিবো। (আমি)

|

সিনথির চুলের মুঠি ধরলাম। ওর ঠোঁট জোড়া চেপে ধরলাম। 


তারপর বাকিটা ইতিহাস। 

|

|

|

|

দৌড়াবে.............. 

|

|

Like & Follow this page 👍


https://m.facebook.com/104683017899245

|

|

( এক জ্বালায় বাঁচি না ঘরে ডুকছে সাপ, 

আরেক জ্বালায় বাঁচি না বউতি কয় বাপ। 

কেউ গড়ে ইতিহাস 

কেউ গড়ে বর্তমান 

তোমরাই একমাত্র বাংলাদেশের সিঙ্গেল পোলাপান।) 


কি কান্ড!! 😋


গল্পঃ / গুন্ডি মেয়ে 🙎

লেখকঃ / সাইফুর রহমান ✍

পর্বঃ / ১০ম 📜

|

|

|

/\__________________/\

\/__________________\/

|

|

|


__ সিনথি জানো আমার ইচ্ছে ছিল বিয়ার পর একছেড় আলিফ হয়া যামু। (আমি)

|

___ এখন তো বিয়া করছো তাহলে লামের মতো বাঁকা হইছো কেন? (সিনথি)

|

___ বাঁকার কি দেখছো? 

এখন দেখাবো। (আমি)

|

___ এই যা শয়তান ছেড়া রাতে তুই সুযোগ মিস করেছিস। সো এখন তোর কোন চান্স নাই। (সিনথি)

|

___ চান্স তোমার দেয়া লাগবে না। আমিই আদায় করে নিবো। (আমি)

|

সিনথির চুলের মুঠি ধরলাম। ওর ঠোঁট জোড়া চেপে ধরলাম।


তারপর বাকিটা ইতিহাস। 

|

____ তুই এটা কি করলি? 

এভাবে কেউ কিস করে নাকি?

আমার ঠোঁটই তো ছিড়ে ফেলতি হারামজাদা। 

আমার কুড়ি বছরের অভিঙ্গতায় তোর মতো বাঁদর ছেলে দেখি নাই।  😒(সিনথি)

|

____ আমি বাঁদর ছেলে তাই না? 

দাড়াও বাঁদর গিরি দেখাচ্ছি। (আমি সিনথির দিকে আবার এগিয়ে যেতে লাগলাম।)

|

___ প্লিজ আজকে ছেড়ে দাও না? (সিনথি) 

|

___ তার মানে হার মেনে নিয়েছো? (আমি)

|

___ আমার বয়েই গেছে তোর কাছে হার মানতে। (সিনথি বিড়বিড় করে বলছে) 

|

___ এই বিড়বিড় করে কি বলছো? (আমি)

|

____ কিছু না। (সিনথি)

|

___ ওহ্ আচ্ছা (আমি)

|

তখন তার ঘুম আসলো না। সিনথির সাথে দুষ্টমি করে কেটে গেল। 

আমি গোসল করে বাইরে খাবার আনতে গেলাম। 

সিনথিও ফ্রেশ হয়ে নিলো। 

কিছুক্ষন পর আমি হোটেল থেকে খাবার নিয়ে আসলাম। 

সিনথিকে নিয়ে খাবার খেয়ে নিলাম। 

|

____ আগামীকাল ১৪ মে আমাদের ভার্সিটিতে অনুষ্ঠান। 

তুমি যাবে না? (আমি)

|

___ হুম কেন যাবো না? (সিনথি)

|

___ আচ্ছা তাহলে তৈরি থেকো। আর  শোন রুবি আপু আর সানির লাইনটা ঠিক করে দিতে হবে। (আমি)

|

___ হুম তাতো অবশ্যই। (সিনথি)

|

আজ বৃহস্পতিবার ভার্সিটিতে অনুষ্ঠান। 

সিনথিকে বললাম হালকা সাঁজতে। কারণ বেশি আটা ময়দা মাখা আমার একদম পছন্দ না। 

আর সিনথিকে এসব ছাড়াই সুন্দর লাগে । 

আমি  রেডি হয়ে বাইরে দাড়িয়ে আছি। 

সিনথি এখনো বের হচ্ছে না কেনো? 

মাইয়া মাইনষের এই একটাই প্রবলেম। 

সাঁজতে সাঁজতেই দিন পার করে দেয় অন্য কাজ করবে কখন। 

কিছুক্ষণ পর সিনথি রুম থেকে বের হলো। 


ওমা কি কান্ড 🙃

|

___ ও বউ তুমি এইডা কি পরছো শাড়ি না মশারী? (আমি)

|

___ কেন ভালো না? (সিনথি)

|

____ এটা পরার থেকে না পরাই ভালো। তারাতাড়ি চেন্জ করো। এতো পাতলা শাড়ী পরে কেউ অনুষ্ঠানে যায় নাকি? (আমি)

|

___ আচ্ছা চেন্জ করে আসছি। (সিনথি)

|

___ হুম (আমি)

|

বাংলাদেশের মেয়েদের পোশাক দেখলে আমির হামজার ওয়াজের কথা মনে পরে যায়। 😅

|

সিনথি এবার নীল রঙের একটা শাড়ী পরে আসছে। 

ওমা কি কান্ড!! 🙆

আমি ত্রিশ চল্লিশ বার বাঁশ থুক্কু ক্রাশ খাইছি। 

|

___ ও বউ  তুমি মোরে পাগল কইরা ছাড়বা হানে। (আমি)

|

___ কেন আমি কি করলাম? (সিনথি)

|

___ তোমাকে এমন সাঁজে দেখে আমি কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলছি। (আমি)

|

___ নতুন দেখছিস নাকি রে? (সিনথি)

|

___ নতুনই তো মনে হয়। (আমি)

|

___ হয়েছে ন্যাকামো কইরো না।  চলো ভার্সিটিতে যেতে হবে।(সিনথি)

|

___ হা চলো। (আমি)

|

____ আর শোন যেয়ে কোন মেয়ের দিকে তাকাবা না। চোখ নিচু করে যাবা। 

তোমার তো আবার নজর খারাপ। (সিনথি)

|

___ আরে ধুর তোমার মতো এতো কিউট একটা

দেশি মুরগী থাকতে ব্রয়লার মুরগীর দিকে তাকাতে যামু ক্যান? 😁 (আমি)

|

___ হারামি তুই আমারে মুরগী বললি?(সিনথি)

|

এই বলেই রেসলিং মাইর শুরু হলো। 

|

___ এই কি করছো এভাবে মারলে তো মরেই যাবো... (আমি)

|

___ তাহলে মুরগী বললি ক্যান? (সিনথি)

|

___ সরি বউ (সিনথিকে জরিয়ে ধরে বললাম) 

|

___ এই ছাড় সকাল বেলা ভালোবাসা দেখাতে আসছে। 🤨(সিনথি)

|

____ কি কান্ড 😳

|

___ রাখ তোর কি কান্ড... চল (সিনথি)

|

তারপর আমরা ভার্সিটিতে রওনা দিলাম রিকশায় করে। 

আমরা একেবারে চেপে বসলাম। মনে হয় আরেকজন বসতে পারবে। 

আমি সিনথির কোমড়ে আলতো করে ছুয়ে দিলাম। 

ওমা কি কান্ড 😱

তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো। চোখ দিয়েই মনে হয় আমাকে খেয়ে ফেলবে। 

রিকশাওয়ালা মামা পিছন ফিরে মুচকি মুচকি হাসছে। 

|

___ মামা আপনি সামনে তাকিয়ে রিকশা চালান নয়তো এক্সিডেন্ট করবেন। 😐 (আমি)

|

___আচ্ছা মামা। (রিকশাওয়ালা) 

|

___ বাসায় যেয়ে নেই তারপর তোমার কত রোমান্টিসিজম আছে সব বের করবো। (সিনথি)

|

___ আচ্ছা দেখা যাবে 🙈(আমি)

|

ভার্সিটির এসে পরলাম। 

|

___ শোন তুমি গিয়ে তোমার বান্ধবীদের সাথে গল্প করো। আমি আসছি। 

(আমি)

|

___ যাও ভালো কথা কিন্তু মেয়েদের কাছে যেন না দেখি। (সিনথি)

|

___ আচ্ছা 😒(আমি)

|

সিনথির কাছ থেকে সরে গিয়ে সানির কাছে গেলাম। 

|

___ এই চল প্রোপোজ করবি.... (আমি)

|

___ দোস্ত আমার ভয় করতেছে যে? (সানি)

|

___ তাহলে প্রেম করতে চাচ্ছিস কেন? (আমি)

|

___ দোস্ত এমন করে বলিস না একটু সাহস দে (সানি)

|

তারপর সানিকে কয়টা রোমান্টিক বাক্য শিখিয়ে দিলাম। 

|

___ শোন যেগুলো শিখালাম ঠিকঠাক মতো বলবি। ওকে? (আমি)

|

___ ওকে দোস্ত বাট তুই একটু পিছনে থাকিস (সানি)

|

___ ওকে চল (আমি)

|

সানিকে নিয়ে সিনথিদের কাছে গেলাম। রুবি আপু সেখানেই ছিলো। 

আমাদের দেখে দাঁড়িয়ে গেলো। 

সানি হাঁটু গেড়ে  বসে পরল। ফুলের তোড়া রুবি আপুর দিকে বাড়িয়ে দিলো... আর বলতে লাগলো... 

|

___ তোমায় যেদিন দেখেছি আমি আমার দুই নয়নে, 

মনে মনে বেসেছি ভালো 

রেখেছি হৃদয় গহীনে। 

দেখলে তোমার চাঁদখানা মুখ, 

গুলিয়ে ফেলি সব 

আমি তোমায় ভালোবাসি 

তোমার হয় কি অনুভব। 

(সানি)

|

রুবি আপু কোন কথা বলছে না। খুশিতে চোখ ছলছল করছে। 

|

সানি আবার বলতে শুরু করল.... 

|

___ আপু আমি আপনাকে প্রথম যেদিন ভার্সিটিতে দেখেছি সেদিনই আপনার প্রেমে পড়ে গেছি। যদিও আপনি আমার বড় তবুও আমার কোন সমস্যা নাই। কারণ আমি বরাবরই আপনার উপর ক্রাশ খাই। 

আপানাকে আমি কখনো কষ্ট পেতে দিবো না। খুব ভালোবাসবো। 

|

____ Do you love me? (সানি)

|

রুবি আপু প্রথমে আমার দিকে তাকালো। 

তারপর সিনথির দিকে তাকালো। সিনথি মাথা নাড়িয়ে একসেপ্ট করতে বলল। 

|

সানি মাথা নিচু করে বসে আছে। 

হঠাৎ সানির হাত থেকে ফুল তোড়া নেয়াতে সানি চমকে উঠলো। 

|

____ Yes yes i do. I also love you. 🙈 (রুবি)

|

রুবি আপুর কথা শুনে সানিতো খুশিতে আত্মাহারা। 

গিয়েই রুবি আপুকে জরিয়ে ধরলো। 

আমার কাছেও ভালো

লাগছে ওদের মিল করিয়ে দিতে পেরে। 

সিনথি আমার পাশে এসে দাড়ালো। 

সানি রুবি আপুকে ছেড়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। 

|

___ থ্যাংক ইউ দোস্ত তোর কারণেই সব সম্ভব হয়েছে। 

(সানি)

|

___ ধন্যবাদ তো তোরও পাওয়া উচিত। কারণ তোর জন্যও আমিই সিনথিকে পেয়েছি। (আমি)

|

___ বাদ দে এসব চল আজ সবাইকে ট্রিট দিবো। (সানি)

|

___ সত্যি 😳(আমি)

|

___ হুম চল (সানি)

|

সবাই মিলে ভালো একটা রেস্টুরেন্টে ডুকলাম। 

সিনথির বান্ধবী গুলা একেকটা রাক্ষসী। 

কি খাওয়া খায় রে বাবা মনে হয় বাপের জন্মেও খায় নাই। 

আপনারা তো জানেনই সব আটার বস্তা। 

|

খাওয়া শেষ করলাম। 

সানি বিল মিটিয়ে দিলো। 

কত টাকা বিল হয়েছে জানি না। 

|

আমরা সবাই বের হয়ে আসলাম। 

|

___ দোস্ত তুই সিনথি আপুকে নিয়ে বাসায় যা।  আমি একটু রুবিকে নিয়ে 

একটু ঘুরে আসি। (সানি)

|

___ আচ্ছা কিন্তু তোর সাথে একটা কথা ছিলো একটু এদিকে আয়... (আমি)

|

___ হুম চল (সানি)

|

আমরা দূরে গেলাম। 

তারপর সানিকে বললাম। 

|

___ দোস্ত আমার একটা চাকরি দরকার এভাবে আর কয়দিন চলবো?

হাতে কোন টাকা পয়সা নাই। 

তুই যদি তোদের কোম্পানিতে একটা জব নিয়ে দিতি তাহলে খুব ভালো হতো। (আমি)

|

সানিতে ওয়ালেট থেকে কিছু টাকা বের করে দিয়ে বলল.... 

|

____ টাকাগুলো রাখ আর শোন তুই কালকেই সিনথি আপুকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ চলে যাবি। আমি ম্যানেজারকে বলে রাখবো। তুই গেলেই চাকরি হয়ে যাবে। 

আর আরেকটা কথা আমিও দুইদিন পর আসছি। নিজেদের অফিস নিজেকেই সামলাতে হবে। 

ওরা ঠিক মতো হিসাব দিচ্ছে না। (সানি)

|

___ আমি তাহলে যাবো আর তুই আসলে একটু সাহস হবে। (আমি)

|

___ হুম আসবো। (সানি)

|

আমি আবেগে সানিকে জরিয়ে ধরে কেঁদে দিলাম। 

|

___ কিরে পাগল কাঁদছিস কেন? (সানি)

|

___ দোস্ত তোর ঋন আমি কি দিয়ে শোধ করবো জানি না....(আমি)

|

___ আরে ঋম বলছিস কেন আমি তোকে ভাইয়ের মতো জানি। আর ভাই ভাইয়ের জন্য করবে এটা স্বাভাবিক। 

কান্না থামা ওরা অপেক্ষা করছে। (সানি)

|

___ আচ্ছা চল (আমি)

|

সিনথিদের কাছে গেলাম। 

|

___ দুই বন্ধু কোথায় উধাও হলে? (সিনথি)

|

___ আপু একটু কথা বলছিলাম। (সানি)

|

___ ও আচ্ছা (সিনথি)

|

___ সাইফুর তুই আপুকে নিয়ে বাসায় যা আমরা আসি। (সানি)

|

আমি সিনথি বললাম চলো.. ওরা একা একটু সময় কাটাক নতুন প্রেম তো। 😊

|

___ হুম চলো (সিনথি)

|

সিনথিকে নিয়ে বাসায় রওনা দিলাম। 

আর সানি রুবি আপুকে নিয়ে ঘুরতে গেলো। 

শালা রুবি আপুর সাথে আঠার মতো লেগে আছে। 

|

___ রিকশা করে চললাম। 

হঠাৎ জ্যামে আটকে গেলাম। 

আমাদের রিকশা পাশে একটি প্রাইভেট কার এসে থামলো। 

গ্লাস খুলতেই আমি অবাক। এতো সিনথি আব্বু। 

আমি তারাতাড়ি রিকশার হুঁক লাগিয়ে দিলাম। 

|

___ কি হলো গরমের মধ্যে হুঁক উঠালে কেন? (সিনথি)

|

___ চেয়ে দেখো তোমার আব্বুর গাড়ি। দেখে ফেললে সর্বনাশ। (আমি)

|

সিনথি এক নজর দেখেই মুখ গুজিয়ে ফেললো। 

জ্যাম ছাড়ায় পর সিনথির আব্বুর গাড়ি চলে গেলো। 

আমরা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। 

|

বাসায় এসে সিনথি মরা কান্না জুড়ে দিলো। 

আমি সিনথির কপালে চুমু দিয়ে বললাম.... 

|

___ কাঁদে না লক্ষিটি একদিন দেখবে তোমার বাবা ঠিকই আমাদের মেনে 

নিবে। 

আমরা যখন কিউট একটা বেবি নিয়ে উনাদের সামনে যাবো। নাতি নাতনীর মুখ দেখে সব অভিমান ভুলে

যাবে। (আমি)

|

___ সিনথি লজ্জায় বুকে মুখ গুজে বললো... তাই যেন হয় 😥

|

___ সিনথি শোন আমার চাকরি হয়েছে। 

আমাদের আর কষ্ট করতে হবে না। (আমি)

|

___ কি বলো সত্যি? 

কিভাবে? কোথায়? (সিনথি)

|

___ সানিদের অফিসে। 

আমরা কালই নারায়ণগঞ্জ  যাবো। আর ওদের সানির নিজস্ব ফ্ল্যাটে আমার থাকার জায়গা। (আমি)

|

___ তাহলে খুব ভালো। 

(সিনথি)

|

___ হুম। (আমি)

|

___ সানি ছেলেটা না খুব ভালো। (সিনথি)

|

___ হুম (আমি)

|

___ আচ্ছা এখন একটু আদর করো না? (আমি)

|

___ না হবে না ওখানে যেয়ে নেই তারপর দেখা যাবে। (সিনথি)

|

___ আচ্ছা লক্ষি বউ 😊(আমি)

|

পরেরদিন সকালে ভোরে আমরা নারায়ণগন্জের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। 

|

|

|

|

Like & Follow this page 👍


https://m.facebook.com/104683017899245


|

|

|

|

দৌড়াবে............. 

|

|

|

|

(( মাইয়া মাইনষের আবদার শুনলে, 

রিপন মামাও ছবি তুলে। 

ওদের এমন আলা বালার তরে, 

টিকটক মামাও এখন জ্বালায় মরে 😒)) 


কি ভালো!! ❓❓


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post