গল্পঃ / গুন্ডি মেয়ে পর্বঃ / (১১ - ১২)

 গল্পঃ / গুন্ডি মেয়ে 🙎

লেখকঃ / সাইফুর রহমান ✍

পর্বঃ / ১১তম 📜

|

|

|

/\__________________/\

\/__________________\/

|

|

|


আমরা কালই নারায়ণগঞ্জ যাবো। আর ওদের সানির নিজস্ব ফ্ল্যাটে আমার থাকার জায়গা। (আমি)

|

___ তাহলে খুব ভালো। 

(সিনথি)

|

___ হুম। (আমি)

|

___ সানি ছেলেটা না খুব ভালো। (সিনথি)

|

___ হুম (আমি)

|

___ আচ্ছা এখন একটু আদর করো না? (আমি)

|

___ না হবে না ওখানে যেয়ে নেই তারপর দেখা যাবে। (সিনথি)

|

___ আচ্ছা লক্ষি বউ 😊(আমি)

|

পরেরদিন সকালে ভোরে আমরা নারায়ণগন্জের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। 

বাসে উঠে বসলাম দুজনেই। 

সিনথিকে জালানার পাশের সিটে বসালাম। 

ও ভাইরের। প্রকৃতি দর্শন করছে। 

আমার আবার মুদ্রা দোষ আছে। বাসে উঠলেই খালি ঘুম আসে। 

একটু ঘুমের জন্যই বহু মোবাইল হারাইছি। 

সিনথির কাঁদে মাথা রেখে ঘুমের ভান করছি এখনো ঘুম আসে নাই। 

আমাদের পাশের সিটে একটা ছেলে এসে বসলো। 

সিনথি জিজ্ঞেস করলো..... 

|

___ আপু উনি  আপনার ছোট ভাই হয় নিশ্চয়ই? 

খুব কিউট 😊 (ছেলেটি)

|

ইচ্ছে করছে হারামজাদার টান ফাটিয়ে দেই এক ঘুশিতে। আমি নীরবে সহ্য

করলাম। দেখি আর কি কি বলে..... 

|

____ আপু আপনিও অনেক কিউট। (ছেলেটি) 

|

সিনথি কোন কথা বলছে না। রাগে ফসফস করছে অবস্থা খারাপ কোন সময় পোলাডার কানসা ব্রেক কইরা দেয় কে জানে ❓

|

ছেলেটি আবার বলতে শুরু করল.... 

|

____ আপু আমার নাম রবি। অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ি। 

আমরা কি বন্ধু হতে পারি ❓(ছেলেটি)

|

সিনথি চুপ....... 

|

___ আপু আমি বুঝেছি আপনি আপনার ভাইকে দেখে ভয় পাচ্ছেন। আরে ভয় পাবেন না ও ঘুমিয়ে গেছে। (ছেলেটি) 

|

____ ঠাসডসসসস,ঠাসসসসস 

|

____ তুই কি বললি ও আমার ভাই ❓

আর তুই আমার বন্ধু হবি ❓

আমি খুব কিউট তাই না ❓

(সিনথি রাগে গজগজ করে বলল)

|

রাগে আরেকটা দিতে যাবে ওমনি আমি সিনথির হাত ধরে ফেললাম। 

|

___ সিনথি প্লিজ ছেড়ে দেও উনি বুঝতে পারে নাই হয়তো। (আমি)

|

____ হতচ্ছাড়া শোন ও আমার হাসবেন্ড।

 আমার ভাই না। তোর চোখে কি আষাঢ় মাসের ঠাঁডা পরছে নাকি? 

দেখে বুঝিস না কোনটা হাসবেন্ড আর কোন টা ভাই। (সিনথি ছেলেটিকে বললো?

|

ওমা কি কান্ড 😳😳

কন্ট্রাকটার কে বলে ছেলেটিকে একেবারে বাস থেকে নামিয়েই দিলো। 

ওরে গুন্ডি রে 🙃

বাসের সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। 

এখানে মনে হয় এতক্ষণ শুটিং চলছিলো। 


___ সিনথি  প্লিজ শাস্ত হও ওর শিক্ষা হইছে। (আমি)

|

সিনথি আমার দিকে তাকিয়ে বসে পরলো। 

আমিও বসলাম। 

সিনথির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। পুরো শরীর দিয়ে যেন আগুন বের হচ্ছে। 

|

___ এই শোন এখন থেকে বেশি বেশি খাবে। কেউ যেন দেখে তোমাকে আমার ছোট বলতে না পারে। (সিনথি)

|

____ তুমি পাশে থেকো তাহলেই হয়ে যাবো 😊(আমি)

|

আমরা নারায়ণগঞ্জ চলে আসলাম। 

সানির দেয়া বাসায় আসলাম। 

দেখি একজন বৃদ্ধ লোক দাঁড়িয়ে আছে দারোয়ানের পোষাক পরে। 

|

লোকটি আমাদের কাছে এসে বলল..... 

|

___ স্যার আপনার নাম নিশ্চয়ই সাইফুর আর ম্যাডামের নাম সিনথি। 

আমি কি ঠিক বলছি ❓

|

____ হুম আপনি ঠিক ধরেছেন। আমাদের সানি পাঠিয়েছে। (আমি)

|

____ হুম আমি জানি। (দারোয়ান) 

|

____ চাচা শুনুন আমাকে স্যার বলবেন না। 

আমি আপনার ছেলের মতো। (আমি)

|

____ বাবা তুমি অনেক ভালো। এসো তোমাদের রুম দেখিয়ে দেই। (দারোয়ান চাচা)

|

___ আচ্ছা চলেন। (আমি)

|

বাড়িটা অসাধারণ তার উপর আমাদের থাকার রুমটাও।  ওই যে বলে না বড় লোকের বিরাট কারবার। 

|

____ বাবা তোমাদের যখন যা প্রয়োজন আমাকে বলবে। আমি নিয়ে আসবো। 

আমি এখন আসি (দারোয়ান চাচা)

|

___ আচ্ছা চাচা (আমি)

|

দারোয়ান চাচা চলে গেলো। 

আমি আর সিনথি ফ্রেশ হয়ে নিলাম। 

এখন একটু হালকা লাগছে। 

সিনথির বাসাটা পছন্দ হয়েছে। 

কিছুক্ষন পর দারোয়ান চাচা আমাদের জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে আসলেন। 

আমি আর সিনথি খাবার খেতে লাগলাম। 

সিনথি আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে আর আমি ওকে। 

এভাবে খাওয়া শেষ করলাম। 

আগামীকাল আমি প্রথম 

জবে জয়েন করবো। 

|

___ সিনথি চলো ঘুমাবে। (আমি)

|

___ তুমি বসো আমি ওয়াশরুম থেকে আসছি। ( সিনথি)

|

___ আচ্ছা লক্ষিটি তারাতাড়ি এসো। (আমি)

|

সিনথি ওয়াশরুম গেলো। 

আমি শুয়ে একটু মোবাইল চালাইতেছি। 

হঠাৎ ওয়াশরুম থেকে কারো চিৎকারের আওয়াজ শুনলাম। 

বুঝতে বাকি নেই সিনথির গলা। কিন্তু ও চিৎকার করলো কেন❓

আমি দৌড়ে ওয়াশরুমের সামনে গেলাম৷ 

সিনথি আমাকে দেখে দৌড়ে এসে জরিয়ে ধরলো। 

মনে হয় আমার বুকের মধ্যেই ডুকে যাবে। 

|

____ কি হলো এভাবে চিৎকার করলে কেন? (আমি) 

|

___ তেলাপোঁকা 😧

|

___ তেলাপোকা দেখে দেখে এভাবে চিৎকার করতে হয় ❓

তোমরা মেয়েরাও পারো বটে। সব করতে পারো কিন্তু তেলাপোকা দেখলেই শেষ।

|

___ চলো ঘুমাবো। (আমি)

|

___ কোলে তুলে নাও ভয় করছে। (সিনথি) 

|

আমি সিনথিকে কোলে তুলে নিলাম। ওর চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে। সত্যিই মেয়েটা ভয় পাইছে। 

আমি ওকে নিয়ে খাটে শুইয়ে দিলাম। 

ওর কপালে আমার ঠোঁট ছুয়ে দিলাম। ও কিছুটা কেঁপে উঠল। 

আমি আদর করতে যাবো কিন্তু ও জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে। 

আমি ওকেই জরিয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পরলাম স্মরণ নেই। 

ভোর রাতে উঠে দেখি সিনথি আমার গায়ের উপর শুয়ে আছে। 

ঘুমের মধ্যে ওকে খুব ইনোসেন্ট লাগছে। 

|

___ বউ ও বউ উঠো না ক্যারে নামাজ পড়বো তো? (আমি)

|

সিনথি উঠে বসলো। নিজেকে আমার বুকের উপর দেখে কিছুটা লজ্জা পেলো। 

|

___ উঠো অজু করে আসো নামাজ পড়বে। (আমি)

|

___ আচ্ছা যাচ্ছি। (সিনথি)

|

সিনথি ফ্রেশ হয়ে আসলো। আমিও।

দুজনেই নামাজ পড়ে নিলাম। 

তারপর সিনথিকে বললাম 

|

____ এখন ঘুম আসছে তুমি ৭টার দিকে ডেকে দিও অফিসে যেতে হবে। (আমি)

|

___ আচ্ছা (সিনথি)

|

___ চলো এখন একটু ঘুমাই। (আমি)

|

___ হুম (সিনথি)

|

সিনথি আর আমি শুয়ে পরলাম। 

সিনথি পাঁ আমার গায়ে আর মাথা আমার বুকে রেখে শুয়ে পরলো। 

একদম পাগলি টাইপের মেয়ে। পাগলি হোক আর গুন্ডি হোক বউ আমারই তাই না? 

আমি সিনথি মাথা চেপে ধরলাম। 

মাঝে মাঝে আব্বু আম্মু 

কথা মনে করে খুব কাঁদি।

তাদের কাছে  এখন আর যাওয়ার শক্তি নেই। 

সিনথির মাথার হাত বুলিয়ে দিতেই পরম আবেশে ও ঘুমিয়ে পরলো সাথে আমিও। 

সকাল হয়ে আসলো। 

সিনথি ডাকাডাকি শুরু করল.... 

|

____ উঠো অফিসে যাবা না? 

সকাল সাতটা বেজে গেছে। 

|

সিনথিকে টান দিয়ে পাশে শুইয়ে দিলাম। 

|


___ আরেকটু ঘুমাই না গো ? (আমি)

|

___ তুমিই তো বলছো ডেকে দিতে। আমি কি ইচ্ছে করে ডাকছে নাকি?

আমারও তো সারাদিন ঘুমিয়ে থাকতে মন চায়। (সিনথি)

|

___ ওরে আমার গুলুগুলু বউ এখন একটু ঘুমাও তুমি পাশে না থাকলে যে আমার ঘুম আহে না। (আমি)

|

___ আমারও কিন্তু তুমি তো বললে সকালে ৭টার সময় ডেকে দিতে তাই ডাকলাম। (সিনথি)

|

___ একটু পরে যাবো এখন আমার কাছে এসে ঘুমাও। (আমি)

|

তারপর সিমথি বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। 

|

____ বউ ও বউ তুমি টাই বাধতে পারো? (আমি)

|

____ হুম কিন্তু তুমি বাধতে পারো না ❓(সিনথি)

|

____ আমি পারবো কিভাবে ❓

এই প্রথম বাঁধতেছি। 

প্লিজ সোনাবউ একটু বেঁধে  দেও না ❓ (আমি)

|

___ আচ্ছা ঢং কইরো না বাঁধতেছি.... (সিনথি)

|

সিনথি আমার টাই বেঁধে দিচ্ছে ওর ঠোঁট আমার ঠোঁটের কাছে। ওর উষ্ণ নিঃশ্বাস আমার গায়ে পরছে। ধুর এখন তো আর যেতেই মন চাচ্ছে না 😞

|

টাই বাঁধা শেষ। আমি চলে আসতে লাগলাম। 

সিনথি পিছন থেকে ডাক দিলো.... 

|

___এই শোনো..... (সিনথি)

|

___ হ্যাঁ বলো (আমি)

|

___ তুমি তো দেখি আস্ত একটা অকৃতজ্ঞ 🤨(সিনথি)

|

___ আমি আবার কি করলাম বউ ❓(আমি)

|

___ এতো কষ্ট করে তোমাকে টাই বেঁধে দিলাম। আর তুমি আমার পাওনা না দিয়েই চলে যাচ্ছো ❓(সিনথি)

|

___ ওহ্ সরি লক্ষিটি ভুলে গেছিলাম। (আমি)

|

___ এখন তো ভুলে যাবেই আমি পুরোনো হয়ে গেছি না ❓(সিনথি) 

|

___ আর এমন হবে না। 

এবার কাছে এসো তোমার পাওনা মিটিয়ে দেই। (আমি)

|

___ না আসবো না। আমার লজ্জা করে 🙈

(সিনথি)

|

___ চোখ খোলো নাহলে আমি চলে যাবো❓(আমি)

|

___ তুমি দিয়ে চলে যাও আমি চোখ খুলতে পারবো না। 🙈(সিনথি)

|

তারপর সিনথির কাছে যেয়ে... 

|

____ উম্মামমা উম্মামমা 

|

তারপর সোজা নতুন অফিসে চলে আসলাম। 

অফিসটা বেশ সুন্দর ও মনোরম। 

আমি ভিতরে যেতেই ম্যানেজার সাহেব আমার কাছে আসলেন। 

|

___ হাই আমি এই অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার। 

|

___ হ্যালো আমি সাইফুর 

|

___ আমি আপনার সম্পর্কে জানি। আপনি আমাদের বসের ফ্রেন্ড। 

চলুন আপনাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। (ম্যানেজার) 

|

___ জ্বি চলুন। (আমি)

|

তারপর সবার সাথে পরিচিত হয়ে ভালো লাগলো।  কিন্তু সানি বললো অফিসের টাকা চুরি হয়। আমাকে জানতেই হবে। আমার বন্ধুর টাকা আমি জলে পরতে দিবো না। 

|

ওমা কি কান্ড 🤨

একটা মেয়ের সাথে হ্যান্ডসেভ করতে গেলাম। 

আয় হায় মেয়েটা হাত তো ধরছে আর ছাড়ার নাম নাই। 

আমি কিছুটা জোর করেই ছাড়িয়ে নিলাম। 

|


কিছুই বুঝলাম না 🙃

আসলাম সামান্য চাকরি করতে আর সানি আমাকে জুনিয়র ম্যানেজার বানিয়ে দিলো ❓

কি কান্ড 😳

|

আমি আমার ডেক্সে চলে আসলাম। 

চেয়ারে এসে বসলাম। 

আয় হায় চেয়ার দেখি শুধু নিচের দিকে যাইতেছে। 

যাক এবার থামছে। 

বসে বসে সানির কথা গুলো ভাবতে লাগলাম। 

হঠাৎ সিনথির কথা মনে পরলো। ও বলেছিলো অফিসে পৌঁছে ফোন দিতে কিন্তু আমি দেই নাই। 

বাসায় গেলে কি করবে কে জানে ❓

ভাবছি ওকে একটা ফোন দেয়া যাক .... 

|

ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখি ৩০+ কল। 

মোবাইল সাইলেন্ট করা ছিলো তাই বুঝতে পারি নাই। 

আমি কল ব্যাক করলাম। 

সাথে সাথেই রিসিভ করলো। 

মনে হয় আমার ফোনের অপেক্ষাই ছিলো। 

|

___ হ্যালো আমার  সোনাবউটা কি করে❓(আমি)

|

ওই পাশ থেকে গরম গরম ডায়লগ আসতেছে। 

কান গরম হয়ে গেছে। 

|

___ রাখ তোর ন্যাকামো। 

আমি কতগুলো কল করেছি দেখছিস ❓

কোথায় ছিলি এতক্ষণ ❓

নিশ্চয়ই মেয়ে কলিগের সাথে আড্ডা মারছিস ❓

আমি তো এখন রিজেক্ট হয়ে গেছি। (সিনথি)

|

কতক্ষণ ধরে বক্তব্য শুনলাম। 

|

___ প্লিজ মধুরমা রাগ করে না। মোবাইল সাইলেন্ট ছিলো তাই বুঝতে পারি নাই। 

আর আমি কোন মেয়ে কলিগের দিকে তাকাই না। কারণ আমি এতো লুচু না। 

রাগ করে না প্লিজ বাসায় এসে তোমাকে আদর করে দিবো হুম। 

এখন রাখো অনেক কাজ আছে। (আমি)

|

___ হুম তারাতারি এসো আমার একা বাসায় ভালো লাগছে না। (সিনথি)

|

___ আচ্ছা। উম্মামমা উম্মামমা 

|

ফোনটা রেখে দিলাম। 

এরপর যা দেখলাম 🤭


|

|

|

|

দৌড়াবে............ 

|

|

|

|

(( কপিবাজের বাংলাদেশে 

গল্প লিখে লাভ নাই, 

তাই ভাবতেছি এতো কষ্ট করে গল্প লিখেও কাম নাই। 

আজকে কত জায়গায় আমার গল্প দেখলাম ভাই, 

তাই বলি কি কপিবাজরা তোদের কি লজ্জা শরম নাই)) 

😭😭😭😭😭😭😭

গল্পঃ / গুন্ডি মেয়ে 🙎

লেখকঃ / সাইফুর রহমান ✍

পর্বঃ / ১২তম 📜 

|

|

|

/\__________________/\

\/__________________\/

|

|

|


___ প্লিজ মধুরমা রাগ করে না। মোবাইল সাইলেন্ট ছিলো তাই বুঝতে পারি নাই। 

আর আমি কোন মেয়ে কলিগের দিকে তাকাই না। কারণ আমি এতো লুচু না। 

রাগ করে না প্লিজ বাসায় এসে তোমাকে আদর করে দিবো হুম।

এখন রাখো অনেক কাজ আছে। (আমি)

|

___ হুম তারাতারি এসো আমার একা বাসায় ভালো লাগছে না। (সিনথি)

|

___ আচ্ছা। উম্মামমা উম্মামমা 

|

ফোনটা রেখে দিলাম। 

তারপর ফাইলগুলো দেখতে লাগলাম। 

তারপর যা দেখলাম 🙆

|

দেখি একটু আগে যেই মেয়েটি আমার হাত শক্ত করে ধরে রাখছিলো সে আমার কেবিনের সামনে। 🙃


|

____ মে আই কামিং স্যার? (মেয়েটি)

|

___ ইয়েস কাম (আমি)

|

___ স্যার আজ থেকে আমি আপনার প্রাইভেট সেক্রেটারি। আপনার যেকোনো কাজে আমি আপনাকে সাহায্যে করবো। (মেয়েটি)

|

___ আচ্ছা ঠিক আছে। (আমি)

|

আমি মেয়েটির দিকে ভালো করে তাকালাম। 

দেখতে মাশাআল্লাহ বেশ সুন্দরী। 

কিন্তু পোশাক গুলো খুবই অসুন্দর। 

সাদা একটা শার্ট আর জিন্স প্যান্ট পরা। 

আমার এসব একদম পছন্দ না। 

বিয়ের আগে সিনথিও এমন পোশাক পরতো। 

এখন সবসময় শাড়ী পরে থাকে। 

বাঙালি মেয়েরা বুঝে না শাড়ীতেই তাদের সুন্দরী দেখায়। 

ওই যে বলে না গাধাকে যতোই ভালো পানি দেন না কেন ও পানি ঘোলাটে করেই খায়। 

তেমনি এখনকার মর্ডান নামের বেহায়া মেয়েগুলো। 

|

___ স্যার এভাবে কি দেখছেন আমি সুন্দরী সেটা আমি জানি। (মেয়েটি)

|

মেয়েটির কথা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো।

|

___ কে বললো আপনি সুন্দরী ❓(আমি)

|

___ কেন সবাই বলে। (মেয়েটি)

|

___ তাহলে তাদের চোখে সমস্যা আছে। (আমি)

|

___ তাহলে আমি সুন্দরী না ❓🙄 (মেয়েটি)

|

___ আমি না ও বলি নি আর হ্যাঁ ও বলি নি। 

আপনার সৌন্দর্য আপনার কাছে। (আমি)

|

____ স্যার আমার নাম রোদেলা। এখানে এক বছর ধরে জব করি। 

এর আগে সিনিয়র ম্যানেজারের প্রাইভেট সেক্রেটারির ছিলাম।

 এখন আপনার 😊(রোদেলা) 

|

___ ওহ্ আচ্ছা কিন্তু আপনি আমার কেবিনে একটু কম আসলে খুশি হবো। 🙄(আমি)

|

___ কি বলেন স্যার 🤭

আমার সাথে কথা বলার জন্য মানুষ সিরিয়াল লাগায়। আর আপনি বলছেন কম আসতে ❓


কি কান্ড 🤭

|

___ আমি যা বলছি তাই। (আমি)

|

শালার ভাব কত❓

তোকে আমি আমার প্রতি দূর্বল করে ছাড়বোই। 

না পারলে আমার নামও রোদেলা না হুম 🤨

((রোদেলা মনে মনে বললো)) 

|

___ আচ্ছা কিন্তু দরকার পরলে নিশ্চয়ই আসবো। (রোদেলা)

|

___ হুম আচ্ছা (আমি)

|

রোদেলা মুখটা পাঁচ টাকার নোটের মতো করে চলে গেলো। 

আমি কাজে মন দিলাম। 

ফাইলগুলো দেখে বুঝতে পারলাম সানি ঠিকই বলেছে। এখানে কোন হিসেবেই ঠিক নাই।

না এমনতো চলতে পারে না। আমার বন্ধুর কোম্পানিকে এভাবে জলে 

ভাসতে দিবো না। 

আমি ম্যানেজারের কাছ থেকে এর হিসেব হাড়ে হাড়ে নিবো। 

সেদিনের মতো অফিসের কাজ শেষ করে বের হলাম। 

গেটের কাছে যেতে আমার পার্সোনাল সেক্রেটারি রোদেলা খাচ্চুন্নি মেয়েটার ডাক। 

|

___ স্যার আমিও যাবো আপনার সাথে। ( রোদেলা) 

|

___ কোথায় যাবেন আমার সাথে❓(আমি)

|

___ না মানে আপনাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমি বাসায় যাবো। (রোদেলা)

|

___ আমি কি ছোট বাচ্চা নাকি যে বাসায় একা যেতে পারবো না। আর আপনাকে আমার বাসা দেখাতে পারবো না। (আমি)

|

___ কেন আমি কি আপনার বাসায় চলে আসবো নাকি❓(আমি)

|

___ চলেও আসতে পারেন বিশ্বাস নাই। (আমি)

|

____ তাহলে আমাকে আমার বাসায় দিয়ে আসুন। (রোদেলা) 

|

আমি কিছু না বলে রাজি হয়ে গেলাম। কারণ ওকে আমার বাসা দেখানো যাবে না। 

|

___ আচ্ছা চলুন (আমি)

|

___ আচ্ছা (রোদেলা) 

|

রোদেলা একটা রিকশা ডেকে আনলো। 

আমি আর উনি রিকশায় উঠে বসলাম। 

উনি বারবার আমার গায়ের কাছে চেপে বসে। 

অসহ্য লাগছে বলতেও পারি না যে আমি বিবাহিত। 

কারণ আমাকে কেউই বিবাহিত বলবে না। 

|

ও বললো.... 

|

___ স্যার আপনি কিন্তু খুব হ্যান্ডসাম। গার্লফ্রেন্ড কয়টা ❓(রোদেলা) 

|

___ নিশ্চুপ............. 

|

রোদেলার বাসার সামনে চলে আসলাম। 

|

___ স্যার চলুন আপনাকে চা বানিয়ে খাওয়াবো। (রোদেলা) 

|

___ আজ না অন্য দিন আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। (আমি)

|

___ প্লিজ স্যার না করবেন না। আপনি প্রথম আমার বাসায় আসছেন। (রোদেলা)

|

তারপর উনি আমার হাত ধরে ভিতরে নিয়ে গেলেন। 

বাসাটা একদম ফাঁকা। একটা কাজের মেয়েও নাই। 

|

___ আচ্ছা আপনার বাবা মা কোথায় বাসায় তো কেউই নেই❓ (আমি)

|

___ আমি এখানেই একাই থাকি। বাবা মা গ্রামে থাকে। (রোদেলা)

|

আমার গাঁ ভয়ে থমথম করছে। এই মেয়ে একা এখানে থাকে❓

|

___ আচ্ছা আমি আজ আসি ❓(আমি)

|

___ আরে কোথায় যাচ্ছেন ❓

ভয় পাচ্ছেন কেন ❓

আমি আপনাকে খেয়ে ফেলবো নাকি ❓

ভীতুর ডিম 🤬

(রোদেলা)

|

___ না মানে আমার ভালো লাগছে না। (আমি)

|

___ এখানে চুপচাপ বসুন। 

আমি ড্রেস চেন্স করে আপনার জন্যই কফি নিয়ে আসছি। (রোদেলা) 

|

আমি চুপচাপ বসে রইলাম। 

কিছুক্ষন পর রোদেলা 

একটা টি-শার্ট আর প্লাজু পরে হাতে এককাপ কফি নিয়ে আসলো। 

|

___ এক কাপ আনলেন কেন? 

আপনি খাবেন না? (আমি)

|

___ না আমি আপনার খাওয়া দেখি। (রোদেলা) 

|

আমি কফি পান করছি আর ওর কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। মুখ টাকে কেমন যেন করছ?

তারাতাড়ি খাওয়া শেষ করলাম। 

|

___ আচ্ছা আমি আসি। (আমি)

|

___ এখনি চলে যাবেন? 

আরেকটু থাকেন না গল্প করবো। (রোদেলা)

|

___ আমার আপনার সাথে গল্প করার মতো সময় নাই। আমি আসি বাই (আমি)

|

আমি সেখান থেকে চলে আসলাম। 

সোজা বাসায় চলে আসলাম। 

কলিং বেল চাপ দিতেই সিনথি দরজা খুলে দিলো। 

|

___ এতোক্ষণে আসার সময় হলো? 

না আসলেই তো ভালো হতো। 🙄(সিনথি)

|

___ সরি লক্ষিটি অফিসে একটু কাজ পরে গেছিলো। (((আমি মিথ্যা বললাম। কারণ যদি বলি সেক্রেটারির সাথে ছিলাম তাহলে বাসায় ডুকা লাগতো না বাইরেই কাটাতে হতো।))) 

|

___আচ্ছা' ফ্রেশ হয়ে আসো খাবে। (সিনথি)

|

___ কি খাবো? (আমি)

|

___ কি খাবে মানে খাবার খাবে...(সিনথি)

|

____ ওহ্ আমি ভেবেছিলাম চুমু খেতে বলছো 🙈(আমি)

|

___ পিচ্চি যাবি তুই 🤬(সিনথি)

|

____ আচ্ছা যাচ্ছি 🙄(আমি)

|

আমি ফ্রেশ হয়ে আসলাম। 

|

___ খাবার দেও (আমি)

|

___ আচ্ছা বসো। (সিনথি)

|

___ তুমি খেয়েছো? (আমি)

|

___ না খাবো না (সিনথি 🙁)

|

___ কি বলছো খাবে না মানে?


আসো আমি খাইয়ে দিচ্ছি। (আমি)

|

___ না আমি খাবো না। আমার ক্ষিদে নেই। (সিনথি🙁)

|

___ ওহ্ তাহলে আমিও খাবো না। আমারও ক্ষিদে নেই। (আমি)

|

খাবারের মধ্যে পানি ঢালতে যাবো এমন সময় সিনথি গ্লাস ধরে ফেলল। 

|

___ পানি ঢেলো না আমি খাবো খাইয়ে দাও। 😘(সিনথি)

|

আমি একটা মুচকি হাসি দিলাম। তারপর সিনথিকে খাইয়ে দিতে লাগলাম। 

ও কিছুতেই আমার উপর অভিমান করে থাকতে পারে না। 

আমি জানি কিভাবে ওর অভিমান ভাঙাতে হয়। 

পাঠকদেরও শিখাবো কিভাবে প্রিয় মানুষটির অভিমান ভাঙবেন। 

খাওয়া শেষ হলো। 

|

___ জানে আজকে আমি অফিসের ফাইল গুলো দেখে আমার মাথা ঘুরে গেছে। (আমি)

|

___ কেন কি হইছে? (সিনথি)

|

___ সানিদের বর্তমান সিনিয়র ম্যানেজার কোন কিছুরই হিসাব ঠিক মতো দিচ্ছে না। ফাইলগুলো তার জ্বলন্ত প্রমাণ। 

বিরাট ষড়যন্ত্র করছে উনি। (আমি)

|

___ তুমি প্লিজ এসবের মধ্যে নিজেকে জরিও না। আমার ভয় করছে। (সিনথি)

|

___ আমার কিছুই হবে। আমার বন্ধুর কোম্পানি আমি এভাবে ধংস হতে দিবো না। (আমি)

|

___ তারপর আমার ভয় হচ্ছে 😞(সিনথি)

|

এমন সময় সানির ফোন। 

|

___ হ্যালো দোস্ত তোর কি খবর? (সানি)

|

____ আলহামদুলিল্লাহ ভালো। 

শালা তুই তো একবার ফোনও করিস নি। (আমি)

|

___ সরি দোস্ত রুবিকে নিয়ে ব্যাস্ত ছিলাম। 

জানিস দোস্ত মেয়েটা আমাকে খুব ভালোবাসে। 

অনেক কেয়ার করে। (সানি)

|

___ বুঝছি নয়া প্রেম তো। (আমি)

|

___ বাদ দে এসব কথা।  বল সিনথি আপু কেমন আছেন। আর অফিস কেমন চলছে? (সানি)

|

___ সিনথি ভালো আছে। 

আর অফিস মোটেও ভালো নেই। কোন ফাইলই ঠিক নাই। 

তুই তারাতাড়ি আয় সব ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। (আমি)

|

___ দোস্ত তুই একটা দিন সামলা। আমি পরশু আসছি। (সানি)

|

___ আচ্ছা তারতাড়ি আয় (আমি)

|

___ হুম। আর ভাবিকে আমার সালাম দিস। 

এখন রাখি বাই পরে কথা হবে। (সানি)

|

___ আচ্ছা বাই (আমি)

|

ফোন টা রেখে দিলাম। 

|

___ কি বললো সানি? (সিনথি) 

|

___ সানি এখন তোমার বান্ধবী রুবিকে নিয়ে ব্যাস্ত আছে। (আমি)

|

___ তাতো থাকবেই তো? 

আর তুমি তো আছো অফিস নিয়া 🙄 (সিনথি)

|

___ আই কিত্তাম তাইলে? (আমি)

|

___ তোমার কিছুই করতে হবে না। যা করার আমিই করবো। 

আর শোন না আমাকে একটা খেলার সাথি এনে দাও না? (সিনথি) 

|

সিনথিকে বললাম.... 

|

____ এতো সকালে সাথির দরকার নাই। আর তুমি এতো বড় হইছি এখন কিসের খেলাধুলা? 

|

___ ধুর মফিজ কিছুই বোঝো না? 

নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করছো? (সিনথি) 

|

___ সত্যি আমি কিছুই বুঝি না। 😞(আমি)

|

___ কাছে আসো বুঝিয়ে দিচ্ছি। (সিনথি)

|

আমি সিনথির কাছে আসলাম। 

দুজনের নিঃশ্বাস দুজনের গায়ে পরছে। 

কেমন যেন অজানা অনুভূতি হচ্ছে। 

আচমকা সিনথি আমাকে টেনে ওর উপর ফেললো। 

তারপর আমার ঠোঁটের সাথে ওর ঠোঁট মিলিয়ে দিলো। 

তারপর ওর আমাকে ছেড়ে দিলো। 

|

____ এই শোন ঠোঁটে আর কখনো লিপস্টিক দিবা না আমার পেট ব্যাথা করে। 😞

তোমার ঠোঁট এমনেই মিষ্টি। 🙈

(আমি)

|

___ চুপ বাঁদর পোলা তোর কথা মতো হবে নাকি সব? 

আমার যা ইচ্ছা আমি তাই দিবো। 

তুই যা মুড়ি খাঁ 🙄 (সিনথি)

|

___ আচ্ছা বাবা তোমার যত ইচ্ছে লিপস্টিক দেও। পারলে মুখেও লিপস্টিক দিয়ে লাল করে রেখে। 🙃 

অবাক কান্ড 🙁 (আমি)

|

___ হুম অবাক কান্ড ❌ (সিনথি)

|

তারপর......... 


|

|

|

|

দৌড়াবে...............

|

|

|

|

( কি কমু ভাই,

 কপিবাজের জন্য দেশে বাঁচার উপায় নাই। )


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post