গল্পঃ রোমান্টিক হবু বউ
পর্বঃ ৯ (শেষ পর্ব)
লেখকঃ শাওন আহমেদ নীল
এরপরে কিছুক্ষন আপু আমার সাথে কথা বলে নিচে চলে গেলো।।। পার্টি শেষে যে যার বাসায় চলে গেলো, আমি রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে নিধী আপুর ডাকে আমার ঘুম ভাঙলো।
এভাবে কেটে গেলো অনেকগুলা দিন,। একদিন হঠাৎ করে নিধী আপু কান্না করতে করতে আমার রুমে আসলো,। আপুর কান্না দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম,।
আমিঃ কি হয়েছে এমন?
নিধীঃ আমার সাথে কেন এতো অভিনয় করলি আমাকে ভালো লাগে না বলে দিতে পারতি (কেঁদে কেঁদে কথা গুলো বললো)
আমিঃ কি বলছ এসব?
নিধীঃ আমি ঠিকি বলছি এটা আমার সাথে করতে পারলি তুই?
আমিঃ আযব কি করলাম বলবা ত।
নিধীঃ এগুলো কি?
এই কথা বলে আমার দিকে আপুর ফোনটা এগিয়ে দিলো ,। আপুর ফোনে আমার কিছু পিক সাথে একটা মেয়ে, এই পিক গুলা আপু কোথায় পেলো।
এখানে একটা ভিডিও ও আছে আমি একটা মেয়ের সাথে কাজি অফিসে ডুকছি। এই গুলা আপু কই পেলো এটা ভেবে পাচ্ছি না আমি।।।।।
আমিঃ আপু আমার কথা টা শুনো প্লিজ।
নিধীঃ আর কি বলবি এগুলা মিথ্যা
আমিঃ হ্যঁ এসব সত্যি না।
নিধীঃ আমি কাকে বিশ্বাস করবে তকে নাকি নিজের চোখ কে?
আমিঃ আপু চোখের দেখাও কিন্তুু মাঝেমধ্যেই ভুল হয়।।।
নিধীঃ একটা কথাও বলবি না তুই, আসলে তর চরিত্র টাই খারাপ এটা আমার আগে বুঝা উচিত হলো।।।
আমিঃ প্লিজ আমার কথা টা শুনো আগে,।
নিধীঃ আর কোনো কথা নয় তর মতো প্রতারকের মুখ জানি আমি কখনো না দেখি, চলে যা আমার সামনে থেকে,।।।
আমিঃ ভালো থাকবে ত তুমি???
নিধীঃ হ্য তর মতো বেঈমান কে ছারা অবশ্যই ভালো থাকব।।
এই বলে নিধী আপু কাঁদতে কাঁদতে রুম থেকে চলো গেলো, আমি আর কি করব খাটের উপরে বসে পড়লাম, নিধী আপু কখনো আমাকে ভালোবাসেনি, আমার সৌন্দর্যের প্রেমে পড়েছিলো, ভালোবাসলে অবশ্যই আমাকে বিশ্বাস করত আমার কথাটা অন্তত শুনত।।।।।।।।।।।।।।।
যে পিক গুলা দেখালো ওইটা আমার ফ্রেন্ড এর বউ, ওর বিয়ে বাসা থেকে অন্য ছেলের সাথে ঠিক করে ফেলেছিলো, তাই আমরা কিছু ফ্রেন্ড মিলে ওদের কাজি অফিসে নিয়ে বিয়ে পড়িয়ে দেয়। আর মেয়েটাকে বাসার সামনে থেকে আমিই নিয়ে আসি।
এই সামান্য কারণে নিধী আপু আমাকে এতোটা ভুল বুজলো,।৷ আমি ব্যগ গুছিয়ে নিলাম আম্মু শুধু বললাম নানুর বাসায় যাবো, এই বলে বেড়িয়ে পড়লাম। আম্মু অনেক প্রশ্ন করলো হুটহাট কেন যাচ্ছি বাট আমি কিছু বললাম না।।।
আমি বাসার সামনে থেকে রিকসা নিয়ে জয়ের বাসায় চলে গেলাম। জয়ের বাসায় গিয়ে কলিংবেল বাজালাম আন্টি এসে দরজা খুলে দিলো।।
আমিঃ আসসালামু ওয়ালাইকুম আন্টি
আন্টিঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম
কেমন আছো বাবা?
আমিঃ জ্বি ভালো, আপনি কেমন আছেন?
আন্টিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো।।।
আমিঃ জয় কোথায়???
আন্টিঃ ওর রুমেই আছে৷৷
আমি জয়ের রুমে চলে গেলাম,দেখি জয় গেমস খেলছে আমি জয়কে জড়িয়ে দরেই কেঁদে দিলাম।
জয় ও অবাক হয়ে গেছে কিছু না বলেই বাসায় আসলাম, এন্ড জড়িয়ে দরেও কেঁদে দিলাম। জয় ও আমাকে জড়িয়ে দরলো।
জয়ঃ কি হয়েছে নীল??
আমিঃ নিধী আপু আমাকে ভুল বুজলো।
জয়ঃ কি কারণে?
আমি সব কিছু জয় কে খুলে বললাম, এসব শুনে জয় বললো এখনি আপুকে সব বলে ক্লিয়ার করে দেয়।।। আমি জয় কে না করে দিলাম।।।।। জয় আন্টিকে কফি দিয়ে যেতে বললো, আমি কফি খেলাম, দেন ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসলাম।
জয়ঃ বাসায় চলে যা সব ঠিক হয়ে যাবে।।
আমিঃ না রাতের বাসে নানুর বাসায় যাবো।
জয়ঃ কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই আমার সাথে আমার বাসায় ই থাকবি।।।
সন্ধ্যার সময় রান আর রাজু আসলো, আমরা বাসার ছাদে অনেক সময় আড্ডা দিলাম।।। দেন যে যার বাসায় চলে গেলো, আমি আর জয় রুমে চলে আসলাম রুমে এসে দেখি আম্মু অনেক বার কল দিছে, আমি কল বেক করলাম।
আমিঃ হ্য বলো
আম্মুঃ কি হয়েছে?
আমিঃ কিছু না
আম্মুঃ তুই যাওয়ার পরে থেকেই নিধী কান্না করেই চলছে।।
আমিঃ তার কাছেই শুনো কি হয়েছে,
আম্মুঃ কোথায় তুই?
আমিঃ আছি এক যায়গায়।
এই বলে কল টা কেটে দিলাম , দেন আমার সিম খুলে ফেললাম। জয়ের কাছ থেকে একটা সিম নিয়ে ফোনে ডুকালাম। রাতে আমি আর জয় ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়লাম।। সকালে ঘুম থেকে উঠে জয় কলেজে চলে গেলো, আমি জয় কে বলে দিলাম, নিধী আপু আর তার ফ্রেন্ডরা জানি কখনো না জানতে পারে আমি তর সাথে আছি।।।
এভাবে কেটে গেলো তিন দিন বাসার কেউ জানে না আমি কোথায় আছি,। সবাই চিন্তিত নিধী আপু ও এ তিনদিন কলেজে আসে নি, রুম থেকেই বাহির হয় না ঠিক মতো খাওয়াদাওয়া ও করে না।।। আম্মু ত কাঁদতে কাঁদতে চোখের নিচে কালো দাগ করে ফেলছে৷।।।
একদিন সন্ধায় আমি আর জয় বসে গেমস খেলতেছি, তখনি জয়ের ফোনে একটা কল আসে,
আমি তাকিয়ে দেখি নিধী আপুর কল, আমি রিসীভ করে লাউড দিতে বললাম।।।
নিধীঃ নীল কোথায়?
জয়ঃ কেন ও ত ওর নানুর বাসায়,
নিধীঃ না ও ওখানে যায় নি।।।
জয়ঃ তাহলে আমি জানি না।
নিধীঃ সত্যি করে বলো বলছি,।।।
জয়ঃ সত্যি আমি জানি না আপু।
নিধীঃ প্লিজ যে ভাবেই পারো নীল কে আমার কাছে এনে দেও ওকে ছারা আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।
ওকে অনেক কথা শুনিয়েছি না জানি কখন কি করে বসে।।
জয়ঃ আপু না জেনে কাউকে ভুল বুঝা টা উচিত না।
নিধীঃ আমার ভুল হয়ে গেছে, প্লিজ নীল কে আমার কাছে এনে দাও।।।
আমি জয়ের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে কল কেটে দিলাম। আমি ছাদে চলে গেলাম, ছাদে গিয়ে বসে ভাবতে লাগলাম নিধী আপুর সাথে কাটানো দিন গুলো কতোটা সুন্দর ছিলো।। ছোটখাটো ভুলবুঝাবুঝি তে, আজ সব কিছু অন্যরকম হয়ে গেছে।।।
এসব ভাবতে ভাবতে রাত হয়ে গেলো, আমি রুমে চলে গেলাম রুমে গিয়ে বসে আছি।।। তখনি রুমে এসে আম্মু ডুকলো আম্মুকে দেখে আমি অবাক হয়ে গেছি আম্মু কি করে জানলো, আমি এখানে, আম্মুর পিছনে পিছনে নিধী আপু ও আসলো।।।
আম্মু রুমে এসেই আমাকে জড়িয়ে দরেই কেঁদে দিলো, আমিও আর কান্না আটকিয়ে রাখতে পারলাম না, আমার চোখ দিয়েও পানি পড়তেছে।।
আম্মুঃ কেমন আছিস বাবা? এই কদিনে তকে ছারা কতো কষ্টে ছিলাম।
আমিঃ ভালো আছি।
আম্মুঃ তর জন্য বাসার কেউ ঠিক মতো খাওয়াদাওয়া করে নি,। ঘুমাতে পারেনি এখনি বাসায় চল।
আমিঃ যাবো না আমি,।
আম্মুঃ দেখ নিধী এই তিন দিনে নিজের কি হাল টা করেছে,।
নিধীঃ আম্মু তুমি বাহিরে যাও,আমি দেখতেছি কি করে বাসায় না গিয়ে থাকতে পারে।।।
এরপরে আম্মু রুম থেকে চলে গেলো, আমি গিয়ে জানালার পাসে দাড়ালাম। নিধী আপু পিছন থেকে আমাকে জড়িয়ে দরলো, কতোদিন পরে নিধী আপুর ছোঁয়া পেলাম, তাই আর আপুকে কিছু বললাম না।
নিধীঃ স্যরি নীল
নিধীঃ এই কথা বল প্লিজ
আমিঃ কি চাই আমার কাছে??
নিধীঃ তকে চাই।
আমিঃ সে সুযোগ আপনি হারিয়ে ফেলেছেন।
নিধীঃ মাথা গরম করাবি না কিন্তুু।। প্লিজ আমার ভুল হয়ে গেছে।।
আমিঃ যান ত এখান থেকে ডিস্টার্ব কইরেন না।
এই কথা বলাতে নিধী আপু আমাকে তার দিকে গুড়িয়ে, চার ঠোঁট এক করে দিলো। আমার আর কিছু বলার শক্তি নেই, আমিও নিধী আপুকে জড়িয়ে দরলাম।।।
নিধীঃ রাগ ভাঙছে তাহলে।
নীলঃ আর কখনো যদি না যেনে ভুল বুঝো তাহলে একবারে হারিয়ে যাবো।
নিধীঃ এসব বলিস না নীল আমার কষ্ট হয়।। হিয়া আমাকে সব না জানালে ত আমি সত্যি টা জানতাম ই না।।।
নীলঃ হিয়া জানিয়েছে তোমাকে?
নিধীঃ হ্যঁ আর তুই জয়ের বাসায় আছিস এটা জয় ই পরে ফোন করে বলছে।।।।
নীলঃ ওদের খবর আছে। বাট তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?
নিধীঃ সয়তান তর জন্য ঠিক মতো খেতে পারি নাই ঘুমাতে পারি নাই সারাদিন ই কান্না করছি।
আমিঃ আর কাঁদতে হবে না।।
এই বলেই নিধী আপুকে জড়িয়ে দরলাম। পাগলিটাকে অনেক ভালোবেসে ফেলছি, । নিধী আপু ও আমাকে অনেক ভালোবাসে।। পড়ালেখা টা শেষ হলে খোব শিঘ্রই বিয়ে করে নিবো।।।।।
#সমাপ্ত