গল্পঃ সিনিয়র বিধবা মেয়ে পার্টঃ ৭

গল্পঃ সিনিয়র বিধবা মেয়ে

নামঃ_সিনিয়র_বিধবা_মেয়ে 
পার্টঃ ৭
লেখকঃ_Osman

(সুমাইয়া এটা পড়ে মাথা ঘুরিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। কোনোমতে টেবিলে বসে। 
সুমাইয়ার এ অবস্থা দেখে আসিফ বলল)

আসিফঃ সুমাইয়া কি হইছে কোনো সমস্যা?

সুমাইয়াঃ না কোনো সমস্যা নেই।

আসিফঃ তাহলে চলো তোমাকে বাসায় পৌঁছে দেই।

সুমাইয়াঃ ওকে।

(সুমাইয়াকে বাসায় দিয়ে আসিফ চলে যায়। সুমাইয়া বাসায় এসে কাঁদতে থাকে। আর বলতে থাকে। সুমাইয়া এটা তুই কি করলি। তুই এতটা বেখেয়ালি করলি আনাসের সাথে। সুমাইয়া তুই অনেক খারাপ। এটা বলে কাঁদতে থাকে আর ভাবতে থাকে এখন আমি কি করবো। আনাসের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইবো। আমি এটা কি করলাম আনাসকে দুপুর থেকে বসিয়ে রেখে সন্ধ্যা সময় গেলাম আরেক ছেলের সাথে। এটা কারো পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব না। সে কি আর আমার সাথে দেখা করবে। সেতো মনে হয় কেঁদে শেষ আনাস অল্প একটু কিছু হলেই কেঁদে দেয়। এখনতো মনে হয় কেঁদে কেঁদে শেষ। 
আমি এটা কি করলাম। আমি একটা এতিম ছেলের মন বুঝতে পারলাম না। 
সুমাইয়া তাড়াতাড়ি আনাসকে ফোন দেয়।
মোবাইল বন্ধ। সুমাইয়া অনেক টেনশনে পড়ে যায়। কি করবে সে। গোসল করে। গোসলের সাথে চোখের পানিও যাচ্ছে। 
গোসল করে এসে ঘুমিয়ে যায়।)

(আমি সকালে ঘুম থেকে ওঠি কলিং বেলের টিপে। দরজা খুলে দেখি মিম আর জাকিয়া আর মিমের স্বামী মানে আমার ফ্রেন্ড হাসান।)

হাসানঃ দোস্ত তর কি হইছে। গতকাল রাতে তকে কতগুলো ফোন দিলাম। মোবাইল বন্ধ। 

আমিঃ আর বলিস না। এক মেয়ে খালি ফোন করে ডিস্টার্ব করে। তাই মোবাইল বন্ধ করে রেখে দেই। জাকিয়া মামুনি আসো কোলে আসো।

জাকিয়াঃ না আমি তোমার কোলে যাবো না। তুমি গতকাল আমার বার্থডেতে যাও নাই।

আমিঃ মামুনি রাগ করে না। আমার একটু খেয়াল ছিলোনা।
 
মিমঃ তুই গেছতনা দেখে জাকিয়া কেক কাটে নায়। তকে ছাড়া কেক কাটবে না।

আমিঃ মামুনি এখন আমিতো আছি চলো কেক কাটি।

মিমঃ তাহলে তুই রেডি হ। 

আমিঃ ওকে তরা ভিতরে এসে বস।

(আমি রেডি হয়ে মিমের বাড়ি যাই।সেখানে গিয়ে জাকিয়ার বার্থডে পালন করি। যাওয়ার সময় জাকিয়ার জন্য গিফট কিনে নিয়ে যাই। দুপুর হলে খাওয়া দাওয়া করে এক রুমে বসে রইছি। এমন সময় হাসান আসে।হাসান এসে বলল)

হাসানঃ তুই সত্যি করে বলতো তর গতকাল কি হইছে। 

আমিঃ কই কিছু না। 

হাসানঃ আমার সাথে গোপন রাখবি। মিমের কাছে বলবো না।তর রুমে আমি ঘুমের ঔষধ পাইছি।আর তর মোবাইল ভাঙা দেখছি।

(আমি হাসানকে সব বললাম।)

আমিঃ এ জন্য। 

হাসানঃ থাক দোস্ত কষ্ট নিসনা। তর জীবনে আরো ভালো মেয়ে আসবে।

আমিঃ না দোস্ত আমি সুমাইয়াকে ভালোবাসতাম। 

(আমি কেঁদে দেই।)

হাসানঃ দোস্ত কাদিস না। যা হওয়ার হয়ে গেছে। তুই বললে তর জন্য মেয়ে দেখবো।

আমিঃ নারে আমি দেখি কি করা যায়। 

হাসানঃ ওকে তুই ঘুমা।

আমিঃ না দোস্ত চলে যাবো বিকালে।

হাসানঃ আজকের দিনটা থেকে যা।

আমিঃ আজকে অফিসে যাই নাই আগামীকাল যেতে হবে।

হাসানঃ ওকে।

(এমন সময় জাকিয়া আসে।আমি জাকিয়ার সাথে খেলতে শুরু করলাম।
জাকিয়াকে কিছুক্ষন পড়াইলাম। একটু তার সাথে খেললাম। শয়তানি করলাম।
কখন যে বিকাল হয়ে গেলো। মিম অনেক বলছে থাকার জন্য। জাকিয়া কাঁদতে কাঁদতে  শেষ। আমি বললাম দুদিন পর আবার আসবো। আমি বাসা থেকে বের হয়ে সোজা গেলাম ডাক্তারের চেম্বারে। ডাক্তারকে আমার রোগ বললাম।কাশের সাথে রক্ত আসে।)

ডাক্তারঃ আপনি কি স্মোক করেন?

আমিঃ হুম। 

ডাক্তারঃ অতিরিক্ত স্মোক করলে এই রোগ হয়।আপনাকে স্মোক করা বন্ধ করতে হবে। 
(সরি এই রোগের ভিন্ন কোনো কারণ থাকতে পারে।)

আমিঃ সেটা সম্ভব না ডক্টর। 

ডক্টরঃ আপনি ডেইলি কয়টা খান। 

আমিঃ ১৫-২০টা হবে।

ডক্টরঃ আপনি ডেইলি ১টা খেতে পারবেন। দুদিন পর পর।

আমিঃ সেটা সম্ভব না। 

ডক্টরঃ তাহলে আমার দ্বারা রোগ নিরাময় সম্ভব না।

আমিঃ ওকে ডেইলি একটা করে খাই।

ডক্টরঃ ওকে তবে হাফ।

আমিঃ ওকে।

(ডাক্তার আমাকে কিছু ঔষধ লেখে দেয়। 
আমি সেগুলো কিনে।মার্কেট থেকে একটা মোবাইল কিনি। মোবাইল কিনে বাসায় আসলাম। সিম লাগিয়ে। সিগারেট ধরাইতেম যাবো। এমন সময় ডাক্তারের কথা মনে পড়লো। ঢিল দিয়ে সিগারেট ফেলে দেই। মাথায় একটা ভাবনা সব সময় আছে সেটা হলো সুমাইয়া। মাথায় খালি সুমাইয়ার কথা ঘুরতে থাকে। এখন যে ভাবেই হোক সুমাইয়াকে মাথা থেকে বের করতে হবে। কারণ সে বিবাহিত। বিবাহিত নাহলে কি। ৪০ ছুই ছুই একটা লোকের সাথে কি জন্য ঘুরবে। তার বাবা মা সবাইকে আমি চিনি। তার এমন কোনো আত্মীয় নাই। স্বামী না হলে মনে হয় বয়ফ্রেন্ড। কিন্তু একটা বুইড়া লোকের সাথে প্রেম করবে সুমাইয়া এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমার মাথায় কিছু ধরছে না। আমি সুমাইয়ার চিন্তা মাথা থেকে বের করতে মোবাইল টিপতে থাকি মোবাইল টিপতে টিপতে ঘুমিয়ে যাই।)

(সুমাইয়া সকালে ওঠে অফিসে যাওয়ার আগে।আনাসের এখানে আসে।এসে দেখে দরজা বন্ধ ফোন দেয় মোবাইল বন্ধ
কোথায় গেলো আনাস।কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে চলে যায় বাড়িতে। অফিসে যাবে না মন ভালো না। মাথায় শুধু আনাস। আনাসের চিন্তা মাথা থেকে যাচ্ছেয় না।
দুদিন ধরে অফিসে যায় না সুমাইয়া। তার কিছু ভালো লাগে না। আনাসের কারণে সুমাইয়ার এতোটা প্রভাব ফেলবে সুমাইয়া জানতো না। তার কারণ চিরকুট। কারণ চিরকুটের লেখাগুলো সুমাইয়ার বুকে লাগে। আজ ১০ দিন হয়ে গেছে সুমাইয়া আনাসকে ভুলতে পারে নাই। আসিফকে না করে দিছে। আর সে ব্যাংক থেকে চলে আসে। নতুন এক চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দেয়। সুমাইয়ার রেজাল্ট খুব ভালো তাই চাকরি পেয়ে যায়। এভাবে আরো ১০দিন চলে যায়। আনাসের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ। আনাসের চিন্তা মাথা ধুর হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই আনাসকে ভুলতে পারছে না। সুমাইয়া মাঝে মাঝে ভাবে আনাস কি করে আমাকে ছাড়া থাকছে। আনাস তুমি আমাকে মিস করোনা। আমি তোমাকে অনেক মিস করি।এই বিধবা সুমাইয়াকে তুমিই সুখ দিতে পারো। তুমি প্লিজ আবার ফিরে আসো। আচ্ছা একদিন আনাস তুমি আমার সামনে পড়তে পারো না।তুমি সামনে পড়লে আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে আমার মনের সব কথা এক শ্বাসে বলবো। সুমাইয়া সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠে আল্লাহর কাছে দোয়া করে।যাতে আনাসের সাথে দেখা হয়। আল্লাহ মনে হয় সে দোয়া কবুল করে। ) 

(আজ ২০ দিন হয়ে গেলো সুমাইয়ার সাথে কোনো যোগাযোগ নাই।কারণ সে অন্য একজনকে নিয়ে সুখেই আছে। আমি আমার মতো আছি।কিন্তু তাকে ভুলতে পারছি না। এই কিছুদিনের সম্পর্কে সুমাইয়া আমার উপর এতো প্রভাব ফেলবে আগে জানতাম না। আমি আমার মতো চলছি।প্রতিদিন অফিসে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে সাফার সাথে দেখা হয়।তার চেহারাটা দেখলে মায়া লাগে। এভাবে একটা মাস চলে যায়। একদিন সন্ধার পর বাস দিয়ে বাসায় আসছি। জরুরি প্রয়োজনে আমাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। বাসে ওঠে পুরো বাস কেনো জানি খুঁজি। কেনো হয়তো সুমাইয়া। বাসে বেশি মানুষ নেই।অধিকাংশ ছিট খালি।
আমি মাঝখানে একটা ছিটে বসি জানালার পাশে। বসে বাইরে তাকিয়ে আছি। কেনো জানি এখন আর বাসে ওঠলে ভালো লাগেনা মনটা খারাপ হয়ে যায়। সুমাইয়া তুমি কেনো জেনে শুনে আমাকে এতোটা কষ্ট দিলা। তুমি আমাকে বলতে পারতে আমি মেরিজ। আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে না সুমাইয়া বিবাহিত না। এই যুগে এতো সুন্দরী একটা বিয়ে না হওয়া!। আমি বাইরে তাকিয়ে আছি।) 

হেল্পারঃ বাড়া দেন।

আমিঃ এই নেন।

(ভুল ক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর পেজে একটা লাইক দিয়ে যাবেন।)

(আমার ঘুমে ধরছে। আমি ঘুমায় গেলাম। কারণ বাস আমি যেখানে গিয়ে নামবো ততটুকু পর্যন্ত বাস যাবে। তাই ভাবলাম ঘুমিয়ে গেলে অসুবিধা নাই। আমি ঘুমিয়ে গেলাম। কার জানি মায়া ভরা স্পর্শে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি চোখ খুলি নাই। আমার হাতরা আমি নিজের উরুর উপর ছিলো।এই হাতের ভিতর একটা নরম হাত। মনে হচ্ছে ভিজা। আমার আঙ্গুলগুলোকে ধরে রাখে। আমি পরিচিত একজনের ঘ্রান পাচ্ছি।  চোখ খুলে দেখি সুমাইয়া।) 

চলবে.....

ভালো লাগলে কমেন্ট করবেন। 
আর প্লিজ হ্যাপি রেটিং দিবেন। ❤❤
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post