পার্টঃ ৬
লেখকঃ_Osman
(আমি বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে খাবার খেলাম। একটা সিগারেট ধরাইলাম।
ভাবলাম ফোন দিবো। নাহ দেখি আমার প্রতি সুমাইয়ার কতটুকু টান। দেখি সে ফোন দেয় কিনা। আমি ফোনের অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম ফোন আসলো না।)
(সকাল ৪টা সময় মোবাইলে ফোন বাঝতাছে। আমি মোবাইল ধরে দেখি অচেনা নাম্বার লাস্টে ২৩।)
আমিঃ হ্যা কে বলছেন?
সুমাইয়াঃ আমি সুমাইয়া।
আমিঃ তুমি এতো সকালে ফোন কেনো?
সুমাইয়াঃ ওঠে নামাজ পড়েন।
আমিঃ ওকে।
সুমাইয়াঃ তাহলে রাখি।
আমিঃ ওকে।
(আরেকটু পর ঘুম থেকে ওঠি। ওঠে নামাজ পড়ি। আবার ঘুম দেই। ঘুম থেকে ওঠে চলে যাই অফিসে। অফিস থেকে আসার সময় সুমাইয়াকে কল দেই।)
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম।
সুমাইয়াঃ অআলাইকুম আসসালাম।
আমিঃ কোথায় আপনি?
সুমাইয়াঃ অফিসে?
আমিঃ দেখা করতে পারবেন?
আমিঃ এখন।
আমিঃ না অফিসের পর।
সুমাইয়াঃ পারবো।
আমিঃ ওকে তাহলে ঠিকানা টেক্সট করে দিচ্ছি চলে আসেন।
সুমাইয়াঃ ওকে আসতে একটু দেরি হবে।
আমিঃ দেরি হোক আমি অপেক্ষায় থাকবো।
সুমাইয়াঃ ওকে আমি আসবো।
আমিঃ রাখি তাহলে।
সুমাইয়াঃ বায়।
(আমি ঠিকানায় গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকি।)
(সুমাইয়ার বস আসিফ তাকে ডাক দেয়। অফিসে যাওয়ার জন্য। সুমাইয়া তার বসের অফিসে যায়। গিয়ে চেয়ারে বসে।
বসলে তার আসিফ বলল)
আসিফঃ এখন বলো তোমার মত।
সুমাইয়াঃ কিসের মত স্যার।
আসিফঃ তুমি জানোনা?
সুমাইয়াঃ হুম মনে পড়ছে।
আসিফঃ তাহলে এখন বলো।
(সুমাইয়া চিন্তা করতাছে। কি বলবে?
এদিকে আনাসকে সুমাইয়া ভালোবাসে।
কিন্তু আনাস যদি চলে যায় তার সে যে বিধবা এই কথা শুনে। এই মুহুর্তে আসিফকে না বলবে। না বললে শেষ। কিন্তু পরে যদি আনাসকে না পায়। আর এদিকে সুমাইয়ার জীবনে একজনের খুব প্রয়োজন।)
আসিফঃ এতো চিন্তা ভাবনার কি আছে?
ওকে তুমি চিন্তা ভাবনা করে ডিসিশন নেউ। ততক্ষণে চলো আমরা কোথাও থেকে ঘুরে আসি।
সুমাইয়াঃ ওকে।
(সুমাইয়া আসিফের সাথে ঘুরতে আসে। কারণ সুমাইয়া না করতে পারছেনা। আসিফের সাথে অনেকক্ষন ঘুরে। আসিফ তাকে ভালো ভালো জায়গায় নিয়ে যায়। যেগুলো সুমাইয়ার অনেক ভালো লাগে। বিকাল বেলা বললল আসিফ)
আসিফঃ সুমাইয়া তোমাকে এখন আমি এমন একটা রেষ্টুরেন্ট নিয়ে যাবো যেটা আমার সবচেয়ে ফেবারিট রেষ্টুরেন্ট।
সুমাইয়াঃ ওকে।
(আসিফ সুমাইয়াকে সেই রেষ্টুরেন্ট নিয়ে যায়। গিয়ে এক টেবিলে গিয়ে বসে।
সুমাইয়া এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। একটা ছেলের উপর সুমাইয়ার চোখ আটকে যায়। ছেলেটা হলো আনাস। সুমাইয়া তাড়াতাড়ি তার বেগ থেকে মোবাইল বের করে মেসেজ চেক করে দেখে আনাস এই রেষ্টুরেন্টর ঠিকানা।দিয়েছে। আসিফের সাথে থাকায় সুমাইয়া আনাসের মেসেজের কথা ভুলে যায়। কি করবে সুমাইয়া কিছু বুঝতে পারছে না। সুমাইয়া উপরওলার কাছে সব ছেড়ে দেয়।)
(আমি অপেক্ষায় আছি।দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে। সুমাইয়া আসছে না।
ফোন দিবো ভেবে দিলাম না। মনে হয় কোনো কাজে আটকে পড়ছে। ফোন দিলে যদি রেগে যায়। সে জন্য ফোন না দিয়ে অপেক্ষায় রইলাম। বিকাল যখন হয়ে এলো তখন ভাবলাম মনে হয় আর আসবে না। আমি চলে যাবো এমন সময় কেনো জানি মনে হলো।আরেকটু বসি আসতেইতো পারে। আমি ঠিকই বসলাম।
সুমাইয়া ঠিকই আসলো কিন্তু সেটা একা না। অন্য কারো সাথে লোকটা বয়স্ক ৪০ছুই ছুই।মনে হয় স্বামী। আরে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো না।তার স্বামী আছে কিনা। নাকি বিবাহিত। তাহলে আমি এক বিবাহিত মেয়ের প্রেমে পড়লাম। না! না!এ হতে পারে না। তাহলে সুমাইয়া কেনো বলল না সে যে বিবাহিত। নিশ্চয় কোনো সমস্যা আছে। দেখি সুমাইয়া লোকটার সাথে এসে এক টেবিলে বসলো। নেকাব পড়াতো মুখটা দেখা যাচ্ছে না। নেকাবের উপর থেকে বুঝা যাচ্ছে কোনো চিন্তার আবেশে নেই।মনে হচ্ছে নিজের ইচ্ছায়।তাহলে কি আমাকে দেখানোর জন্য এরকম করলো সুমাইয়া। কিন্তু কেনো সেতো আমার সাথে হাসি খুশি ভাবে কথা বলছে। তাহলে মনে হয় আমি যে ফোলো করি সেটা তার ভালো লাগেনা। মুখে না বলে সরাসরি দেখিয়ে দিলো। এটাই আমার কপালে ছিলো। আসলে আমার কপালটাই খারাপ। জীবনটা ভাবছিলাম তোমাকে নিয়ে কাটাবো।সে সপ্ন আর পুরুন হলোনা ওলটু একটু কষ্ট নিয়ে বেচে থাকতে হবে। বায় বায় সুমাইয়া। একটা কাগজ বের করলাম।কাগজের মধ্যে লেখলাম
" আপনাকে ধন্যবাদ আমার সাথে কিছু সময় কাটানোর জন্য। কিছু কথা ছিলো সেটা আর বলা হলোনা। অনেক কষ্ট নিয়ে গেলাম। বায়।"
আনাস
এটা লেখে টেবিলের উপর ফেলে চলে আসলাম। আমি জানি সে আমাকে দেখেছে। তাই কাগজটা নিশ্চয় পাবে।
আমি সোজা বাসায় এসে সিগারেট ধরাইলাম।আর বুকের কোথা থেকে জানি অনেক কষ্ট অনুভব হচ্ছে আর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। সেই কান্না যেদিন মা বাবা দুজন মারা গেছিলো। আজ যদি মা বা থাকতো তাহলে মনে হয় এতোটা কষ্ট পেতে হতো না। এতদিন এক কষ্ট নিয়ে বেচে ছিলাম। এখন তার সাথে আরেক কষ্ট যুক্ত হলো।এই কষ্ট নিয়ে আমি কিভাবে বাচবো। আমি জুড়ে জুড়ে কাদছি আর মা বাবা বলে ডাকছি। আজ যদি মা বাবা থাকতো তাহলে হয়তো আমাকে বুকে তুলে নিতো। মার পরশে আমার সব কষ্ট চলে যেতো। বাবার আদরে আমি আবার চলতে পারতাম।মা বাবা তোমরা কেনো আমাকে রেখে চলে গেলা। আমাকে সাথে নিয়ে যেতে। আর কাশতে লাগলাম। কাশের সাথে রক্ত বের হচ্ছে। আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে কুলি করি।
মুখ ধোয়ে বিছানায় শুয়ে কাঁদছি আর প্রশ্ন করতে লাগলাম।সুমাইয়া কেনো তুমি এমন করলা আমার মতো একটা এতিম ছেলের সাথে। তুমি আমাকে সরাসরি বলতে পারতে। কেনো তুমি আমাকে এতোটা কষ্ট দিলা এতোবড় কষ্ট নিয়ে আমি কি করে বাচবো। আমি সেই কষ্টে মোবাইল ঢিল দিয়ে ভেঙে ফেলি। যাতে কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করতে না পারে। আমি তাড়াতাড়ি একটা ঘুমের বড়ি খাই। আমি মাঝে মাঝে এটা খাই যখন মা বাবার কথা মনে পড়ে। আমি ঘুমাতে যাবো এমন সময় জাকিয়ার বার্থডে কথা মনে পড়ে। কি করবো কিছু করার নেই।এখন আমাকে ঘুমাতে হবে।মোবাইল ও ভাঙা। যা করার সকালে দেখা যাবে।
আমি কাঁদতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম বলতেও পারলাম না।)
(সুমাইয়া আসিফের সাথে এক সাথে খাবার খেলো। খাবার খাওয়া শেষ হলে আসিফ বলল)
আসিফঃ এখনতো তুমি চিন্তা ভাবনা করছো এবার তুমি তোমার সিন্ধান্ত বলো।
(সুমাইয়া কিছু বলছে না।কি বলবে সে কিছু বুঝে পাচ্ছে না।)
সুমাইয়াঃ আপনি প্লিজ আমাকে আর দুদিন সময় দেন।
আসিফঃ ওকে দিলাম। কিন্তু উত্তরটা যেনো হ্যা আসে।
সুমাইয়াঃ দেখা যাক।
আসিফঃ চলো তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি।
সুমাইয়াঃ ওকে।
(সুমাইয়া আনাস যে টেবিলে বসেছিলো।সে টেবিলে একটা চিরকুট পেলো। চিরকুটে লেখা "আপনাকে ধন্যবাদ আমার সাথে কিছু সময় কাটানোর জন্য। কিছু কথা ছিলো সেটা আর বলা হলোনা। অনেক কষ্ট নিয়ে গেলাম। বায়।"
আনাস
সুমাইয়া এটা পড়ে মাথা ঘুরিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। কোনোমতে টেবিলে বসে।)
ভালো লাগলে কমেন্ট করবেন।
আর প্লিজ হ্যাপি রেটিং দিবেন ❤❤।
Saii
ReplyDelete