পার্টঃ ৫
লেখকঃ_Osman
(অচেনালোক আবার দ্বিতীয় তলায় আসে। কলিং বেল টিপ দিলো আর সুমাইয়া বলে ডাক দিলো। আমি সেই ব্যাক্তির পিছনে। একটা মেয়ে এসে দরজা খুলল। মেয়েটাকে দেখি আমি অবাক হয়নাই। মেয়েটা হলো সুমাইয়া। কারণ আমি জানি সুমাইয়া দ্বিতীয় তলায় থাকে। কিন্তু দ্বিতীয় তলায় ফ্ল্যাট দুইটা। এখন সুমাইয়া কোন ফ্ল্যাটে থাকে সেটা বুঝতে পারছিলাম না। সে মুখে ওড়না দেয় নাই। কারণ তার বাবা ডাক দিছে। সাথে যে আরেকজন থাকবে সেটা হয়তো ভাবেনাই।আমি আবার সুমাইয়ার মুখটা ভালো করে কাছে থেকে দেখতে পারলাম।সে কি অপুর্ব রুপ দেখলেই প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। মন চায় সারাদিন তাকিয়ে থাকি। আমাকে দেখে তাড়াতাড়ি মাথায় কাপড় দেয়। আর মুখ ডেকে ফেলে।)
অচেনালোকঃ সুমাইয়া এ হলো আনাস আহমেদ। সে চারতলায় একটা ফ্ল্যাট বাড়া নিতে চাচ্ছে। তার সাথে কথা বলতো।
সুমাইয়াঃ বাবা তুমি ভিতরে যাও। আমি দেখছি।
(আমি এতক্ষন সুমাইয়ার বাবার সাথে কথা বলছিলাম। সুমাইয়ার বাবা খুব সরল সোজা মানুষ বুঝলাম।)
সুমাইয়ার বাবাঃ তুই কথা বল।
সুমাইয়াঃ ওকে তুমি ভিতরে যাও।
সুমাইয়ার বাবা ভিতরে গেলে আমি বললাম।
আমিঃ প্লিজ আমাকে ছেড়ে দেন।
সুমাইয়াঃ কেনো ছেড়ে দিবো। কোন ফ্ল্যাট ডান পাশেরটা নাকি বাম পাশেরটা।
আমিঃ ডা.ডা..ডান পাশের টা।
সুমাইয়াঃ এখন বুঝছি আপনি আমাকে ফোলো করে এখানে আসছেন।
আমিঃ কে কে বলছে কে বলছে আমি আপনাকে ফোলো করি। আমি এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম তখনই তোমার বাবা আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে। প্লিজ আমাকে যেতে দিন।
সুমাইয়াঃ চুপ চাপ এখানে দাঁড়িয়ে থাকেন।নাহলে কিন্তু বাবাকে ডাক দিবো।
এখন বলেন কি জন্য আসছেন?
আমিঃ আপনাকে দেখতে।
সুমাইয়াঃ আবার বলেন কি জন্য আসছেন।
আমিঃ বললামতো।
সুমাইয়াঃ আমাকে দেখতে কেনো?
আমিঃ আপনার কি মনে হয়?
সুমাইয়াঃ কেনো। আমি ছাড়া আর কি মেয়ে নাই?
আমিঃ ওকে তাহলে আমি ঐসব মেয়ের কাছে যায়। আপনার কাছে আর আসবো না।
সুমাইয়াঃ আমার সম্পর্কে ভালো করে জানেন।
আমিঃ না। এতো কিছু জানার কি দরকার
আপনাকে ভালো লেগেছে সেটা বড় কথা.....
বাবাঃ কাকে ভালো লেগেছে। কি ভালো লেগেছে?
সুমাইয়াঃ বাবা উনি বলছেন।ফ্ল্যাটটা তার ভালো লেগেছে?
বাবাঃ অহহ তাকে জিজ্ঞেস কর। কখন আসবে।
আমিঃ আংকেল ফ্ল্যাটের বাড়া কতো?
সুমাইয়াঃ ৩০ হাজার টাকা। অগ্রিম ৬ মাসের।
আমিঃ এতো বেশি বাড়া কেনো আপু?
সুমাইয়াঃ আপু হোয়াট? এতো বেশি বাড়াই থাকলে থাকেন না থাকলে চলে যান।
আমিঃ ওকে তাহলে আমি পরে জানাবো।
বাবাঃ সুমাইয়া তুই তার নাম্বারটা রাখ।
আমি এসব বুঝিনা।
সুমাইয়াঃ তুমি যাও আমি রাখতাছি।
বাবাঃ আহহা তোমাকে সুমাইয়া বাহিরে দাড় করিয়ে রাখছে। ভিতরে আসো বাবা ভিতরে আসো।
আমিঃ না না আংকেল অসুবিধা নাই।
সুমাইয়াঃ ভিতরে আসেন। (আস্তে আস্তে বলল লজ্জা পেয়ে।)
আমিঃ না না আমাকে এক গ্লাস পানি দিলেই চলবে।
বাবাঃ দেতো তাকে এক গ্লাস পানি।
(সুমাইয়া চলে যায় পানি আনতে। চলে গেলে সুমাইয়ার মা আসে।)
মাঃ ভিতরে আসো বাবা। তোমার বাবা কি করে?
(আমার মুখটা কালো হয়ে যায়। আমি কোনো কথা বলছি না। আমার চোখ দিয়ে পানি চলে আসে।)
মাঃ এমা তুমি কাদছো কেনো?
আমিঃ আসলে আমার বাবা -মা কেউ নেই।
মাঃ সরি। তোমাকে কষ্ট দিলাম।
আমিঃ না না ইটস ওকে।
সুমাইয়াঃ মা বাবা তোমারর ওলটা পল্টা প্রশ্ন করে খালি জামেলা করো। যাওতো এখান থেকে।
(সুমাইয়ার কথায় বাবা মা দুজন চলে যায়। আমি বুঝলাম সুমাইয়ার বাড়িতে খুব পাওয়ার। আমার চোখে এখনো পানি।)
সুমাইয়াঃ দাড়ান টিস্যু আনছি।
আমিঃ টিস্যু লাগবে না আপনার ওড়নাটা দেন চোখ মুছি।
সুমাইয়াঃ আমার ওড়না ভালো না আমি টিস্যু আনছি।
আমিঃ থাক লাগবে না। আমি হাতেই মুছে নিচ্ছি।
সুমাইয়াঃ ওকে নেন।
(সুমাইয়া আমার আরো কাছে আসে। এসে ভিতরে উকি দিয়ে ওড়নাটা বাড়িয়ে দেয়। আমি ওড়না দিয়ে চোখটা মুছি। মুছলে আবার দুরে সরে যায়।)
আমিঃ থ্যানকস।
সুমাইয়াঃ এই নেন সরবত।
আমিঃ আমি তো পানি বলছি সরবত বলি নাই।
সুমাইয়াঃ এটা খান খুব ভালো লাগবে লেবুর সরবত।
আমিঃ সুগার দিছেন।
সুমাইয়াঃ হুম।
আমিঃ আমি সুগাট খাই না। প্লিজ এক গ্লাস পানি নিয়ে আসেন।
সুমাইয়াঃ ওকে দাড়ান।
(সুমাইয়া ভিতর থেকে এক গ্লাস পানি নিয়ে আসে। গ্লাসটা তার হাত থেকে নেই।নিয়ে দেখি ফ্রিজের পানি।আমি বললাম।)
আমিঃ আমার ফ্রিজের পানি খেলে ঠান্ডা লাগে। প্লিজ নরমাল পানি আনেন।
সুমাইয়াঃ খান ভিতরে ভালো লাগবে।
আমিঃ ঠান্ডা লাগবে।
সুমাইয়াঃ ওকে দাড়ান।
(আমি ভিতরে হাসতে হাসতে শেষ। কেমন লাগে খাটতে। ভিতর থেকে সুমাইয়ার জুড়ে আওয়াজ আসলো। আমার আরো হাসি পাচ্ছিলো।)
(সুমাইয়া ভিতরে গেলে তার মা জিজ্ঞেস করলো)
মাঃ কিরে এভাবে পানির গ্লাস নিয়ে হাঁটতাছত কেনো?
সুমাইয়াঃ এমন আজব ছেলে আমি আর দেখিনি। লেবুর সরবত খায় না চিনির জন্য। ফ্রিজের পানি খায় না ঠান্ডা লাগবে। দাড়া এবার নিয়ে গরম পানি দিবো।
মাঃ না মা এরকম করিস না।ছেলেটা এতিম মা বাবা কেউ নাই।যেটা বলে সেটা দে।
সুমাইয়াঃ হুম দিচ্ছি। (রেগে কথা বলল।)
(সুমাইয়া পানি নিয়ে আসে। আমি পানি হাতে নেই নিলে বলল)
সুমাইয়াঃ এবার ঠিক আছে। ঠিক না থাকলে আমি আর দিতে পারবো না।
(আমি পানি খেয়ে বললাম।)
আমিঃ এবার ঠিক আছে। থ্যানকস আপু।
সুমাইয়াঃ আরেকবার আপু বললে।তকে আমি মেরেয় ফেলবো।
আমিঃ কি বলছেন।
সুমাইয়াঃ যা বলার বলছি।গ্লাস দেন।
আমিঃ ওকে নেন। আরেক গ্লাস দেয়া যাবে।
সুমাইয়াঃ না দেয়া যাবে না।নিচ থেকে কিনে নিয়েন।
আমিঃ ওকে। আমি এখন যাই।
সুমাইয়াঃ চলে যাবেন। ভিতরে আসেন।
আমিঃ এতক্ষন নিতে পারলেন না। এখন চলে যাবো এখন বলেন।
সুমাইয়াঃ আমিতো বলেছিলাম। এখন আমি বাবাকে কি বলবো?
আমিঃ আমি কি জানি?
সুমাইয়াঃ আপনি কি জানেন মানে।
আপনিই তো জামেলা করেছেন।
আমিঃ আমি জামেলা করছি এখন সল্ভ করবেন আপনি।
সুমাইয়াঃ ওকে। আপনার নাম্বারটা দেন।
(আমি একটা কাগজে লেখে দিলাম নাম্বারটা।)
আমিঃ এই নেন। আপনার নম্বারটা প্লিজ।
সুমাইয়াঃ ধন্যবাদ। আমার নাম্বার আপনার মোবাইলে আছে লাস্টে ২৩।
আমিঃ ওটা আপনার নাম্বার।
সুমাইয়াঃ হুম।
আমিঃ তাহলে ধরেন নাই কেনো?
সুমাইয়াঃ ব্যাস্তো ছিলাম।
আমিঃ তাহলে যাই আপু।
(বলে দিলাম এক দৌড়)
সুমাইয়াঃ আস্তে যান।পরে যাবেন।
(সুমাইয়া ভিতরে যায়।গেলে মা বলল)
মাঃ কে পড়ে যাবে সুমাইয়া?
সুমাইয়াঃ কে পড়ে যাবে কে পড়ে যাবে। আরে গ্লাস বলেছিলাম গ্লাসটা পড়ে যাবে।
মাঃ কার হাত থেকে।
সুমাইয়াঃ আমার হাত থেকে। দেখাবো
মাঃ না না দেখান লাগবে না।
(সুমাইয়া ভিতরে চলে যায়। সুমাইয়ার মা সুমাইয়ার বাবার কাছে গিয়ে বলল।)
মাঃ তুমি কিছু বুঝছো।
বাবাঃ কি বুঝতাম?
মাঃ এতক্ষন দুজন কি কথা বলল।
বাবাঃ কি কথা বলবে বাসা নিয়ে কথা বলছে।
মাঃ অন্য কারো সাথেতো বাসা নিয়ে এতক্ষন কথা বলে না।
বাবাঃ কথা বলছেতো কি হইছে। দুটো কথা বেশি বললে অসুবিধা কি। যদি আমাদের একটা ফ্ল্যাট বাড়া নেয় তাহলে একটু বেশি কথা বললে কি অসুবিধা?
মাঃ ধুর তোমাকে কি বুঝাচ্ছি আর তুমি কি বুঝছো।
বাবাঃ যেটা বলছো সেটাইতো বললাম
(সুমাইয়ার মা সেখান থেকে চলে যায়।)
(সুমাইয়া এদিকে আনাসের কলের অপেক্ষায় বসে আছে।আনাস কখন ফোন দিবে।অপেক্ষা করতে করতে সুমাইয়া ঘুমিয়ে গেলো। ফোন আসলো না।)
++
(ভুল ক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভালো লাগলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে মেসেঞ্জারে নক করবেন যাতে একসেপ্ট করতে সুবিধা হয়। আর প্লিজ পেজে লাইক করবেন।)
(আমি বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে খাবার খেলাম। একটা সিগারেট ধরাইলাম।
ভাবলাম ফোন দিবো। নাহ দেখি আমার প্রতি সুমাইয়ার কতটুকু টান। দেখি সে ফোন দেয় কিনা। আমি ফোনের অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম ফোন আসলো না।)
চলবে.......
ভালো লাগলে কমেন্ট করবেন।
আর প্লিজ হ্যাপি রেটিং দিবেন ❤❤