গল্পঃ সিনিয়র বিধবা মেয়ে পার্টঃ ৪

 
গল্পঃ সিনিয়র বিধবা মেয়ে

নামঃ_সিনিয়র_বিধবা_মেয়ে 

পার্টঃ ৪

লেখকঃ_Osman

(আমি বাসায় এসে একটা সিগারেট খেয়ে ঘুমিয়ে যাই। কলিং বেলের টিপে ঘুম ভাঙ্গে।দরজা খুলে তাকাই । তাকিয়ে আমার চোখ দুটো বড় হয়ে যায়। আমি জীবনে কল্পনা করতে পারিনি এখানে সুমাইয়া আসবে। আমি এই অবস্থায় তাকে মেনে  নিতে পারিনি। সাথে সাথে দরজা লাগিয়ে দেই আবার। সুমাইয়া বলল)

সুমাইয়াঃ আরে দরজা লাগান কেনো?
আমি আপনার মোবাইল দিতে এসেছি।

আমিঃ অহহ এক মিনিট দারান আমি দরজা খুলছি।

(আমি শর্ট পেন্ট পড়া ছিলাম। তাড়াতাড়ি শর্ট পেন্ট চেন্জ করে মুখটা ধোঁয়ে পারফিউম লাগিয়ে। দরজা খুললাম।বললাম)

আমিঃ জি এবার ভিতরে আসেন।
সুমাইয়া ভিতরে এসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। কিন্তু কাউকে চোখে পড়লো না।

সুমাইয়াঃ আপনি এই বাসায় একা থাকেন?

আমিঃ হুম।

সুমাইয়াঃ আপনার বাবা মা কোথায়?

আমিঃ আমার বাবা মা নাই ৫ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় বাবা মা দুজন মারা যায়।

সুমাইয়াঃ সরি। 

আমিঃ ইট’স ওকে।

সুমাইয়াঃ আপনি কি স্মোক করেন।

আমিঃ হুম। 

সুমাইয়াঃ প্রতিদিন কয়টা? 

আমিঃ ১৫-২০টা হবে।

সুমাইয়াঃ সেজন্যইতো একটা বাজে গন্ধ আসছে রুম থেকে।

আমিঃ ওয়েট। 

আমি একটা পারফিউম এনে মেরে দিলাম। 

আমিঃ এখন আর আসবেনা।

সুমাইয়াঃ আপনি কি একায় থাকেন
এই ফ্ল্যাটে।

আমিঃ হুম।

সুমাইয়াঃ পুরো বাড়ি কার?

আমিঃ আমার। 

সুমাইয়াঃ তাহলে কি আপনি কিছু করেন না?

আমিঃ করি একটা চাকরি। 

সুমাইয়াঃ এতো বড় একটা বাড়ি থাকতে চাকরি করতে হয়।

আমিঃ করি টাইম পাস করার জন্য। 

সুমাইয়াঃ আর ইউ মেরিজ।

আমিঃ নাহ।

সুমাইয়াঃ এখন বলেন আমাকে কেনো গতকাল ফোলো করেছিলেন?

আমিঃ আমি নাহ! আমি আপনাকে ফোলো করবো কেনো?

সুমাইয়াঃ আবার মিথ্যা কথা। বুঝছি সত্যি কথা বলবেন না। তাহলে আপনার মোবাইল পাবেন না।

আমিঃ প্লিজ মোবাইলটা দিয়ে দেন।

সুমাইয়াঃ তাহলে সত্যি কথা বলেন।

আমিঃ হ্যা আমি আপনাকে ফোলো করছিলাম।

সুমাইয়াঃ কেনো?

আমিঃ সেটা আর কিছুদিন পরে বলি।

সুমাইয়াঃ কেনো এখন বললে কি অসুবিধা ? 

আমিঃ কোনো অসুবিধা নাই। তবে আর কিছুদিন পরে বলবো।

সুমাইয়াঃ ওকে।নেন আপনার মোবাইল। 

(আমি সুমাইয়ার হাত থেকে মোবাইলটা নেই।) 

আমিঃ একটু বসেন। আমি আসছি
আমি গিয়ে সামান্য খাবার নিয়ে আসলাম। 

সুমাইয়াঃ কি দরকার ছিলো।আমি খাওয়া দাওয়া করে বাসা থেকে বের হইছি। আমি এখন খেতে পারবো না।

আমিঃ না আপনার খেতেই হবে। খান
আমি যাচ্ছি। 

(আমি চলে আসলাম। কারণ তার মুখে নেকাব। আজ সুমাইয়া একটা বগুনি কালার বোরকা পড়ছে। আর গোলাপি কালার একটা ওড়না মুখে স্কার্প পড়ে আসলো।কিজে সুন্দরী দেখাচ্ছে। আর চোখে কাজল দিয়েছে।তাকে মনে হচ্ছে পরী। কেনো জানি মন চাচ্ছে সুমাইয়ার মুখটা দেখতে। তাই আমি পর্দার ফাক দিয়ে তাকাই।তাকিয়ে আমি যা দেখলাম তা মেনে নেওয়ার মতো না। এতো সুন্দর চেহারা। সাক্ষাত পরি। কি সুন্দর চেহারা।
মনে হচ্ছে ককেশাসের কোনো মেয়ে বসে আছে আমার সামনে। আমি তাকিয়ে রইলাম কোনো চোখের পাতি ফেলছিনা।আমি মনে মনে আল্লাহ তোমার সৃষ্টি কতো সুন্দর আর না জানি জান্নাতের হুর কতো সুন্দরী। মিস্টার আনাস ডাকে আমি হুশ
ফেরে পাই। আমি সুমাইয়ার সামনে যাই।
গিলে বলল)

সুমাইয়াঃ তাহলে আমি যাই।

আমিঃ আপনিতো কিছুই খান নাই।

সুমাইয়াঃ আমিতো বলছি আমি খেয়ে এসেছি। আর পানিতো খাইছি।☺

আমিঃ আপনি কি এখন ব্যাংকে যাবেন?

সুমাইয়াঃ হ্যা। 

আমিঃ ওকে আবার আসবেন কিন্তু। 

সুমাইয়াঃ আপনিতো আমার বাসা চিনছেন যেকোনো সময় যাবেন।

আমিঃ অবশ্যই যাবো।

সুমাইয়াঃ তাহলে আমি ওঠি।

আমিঃ ওকে চলেন আপনাকে একটা রিকশা করে দেই।

সুমাইয়াঃ নো থ্যানকস আমি পারবো।

আমিঃ চলেন।

(আমি নিচে গিয়ে সুমাইয়াকে রিকশা করে দেই। সে চলে যায়। আমি বাসায় এসে রেডি হয়ে অফিসে চলে যাই। অফিস করে
বাসায় আসি। আমার খালি সুমাইয়ার কথা মনে পড়ছে। মোবাইলটা নিলাম নিয়ে মোবাইল টিপতেছি একটা অচেনা নাম্বার চোখে পড়লো।ফোন দিলাম। কেউ ধরলো না। মিম ফোন দিছিলো ব্যাস্তোতার কারণে ধরতে পারিনি। এখন ফোন দিলাম)
 
আমিঃ হ্যালো কেমন আছত?

মিমঃ ভালো।

আমিঃ ফোন দিসিলি কেন?

মিমঃ তর গতকাল সন্ধার মেয়েটা কে ছিলো।

আমিঃ সুমাইয়া।

মিমঃ কে এই সুমাইয়া?

আমিঃ জানি না।পরে বলবো। 

মিমঃ তরে বলছে জাকিয়া আসতে।
 (জাকিয়া মিমের মেয়ে।)

আমিঃ ওকে সময় পেলে আসবো।  এখন রাখ।

মিমঃ আর আগামিকাল কিন্তু তকে আসতেই হবে।

আমিঃ কেনো?

মিমঃ তুই না।তরে যে কি করবো। আগামীকাল জাকিয়ার জন্মদিন। 

আমিঃ ওকে আসবো।

(আমি ফোন রেখে দিলাম। ফোন রেখে খাওয়া দাওয়া করে গেলাম সুমাইয়ার বাড়ির দিকে। সুমাইয়ার বাড়ির আশে পাশে ঘুরতেছি। দেখি সাদে আসে কিনা। কিংবা বেলকনিতে। নাহ!কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। আরেকটু হেটে একটা সিগারেট ধরাইলাম।সিগারেট খাচ্ছি আর বেলকনির  দিকে তাকিয়ে আছি। কোথা থেকে জানি এক লোক এসে বলল)

অচেনালোকঃ  উপরে কি দেখেন?

আমিঃ বাড়িটা দেখতেছি।

অচেনালোকঃ কেনো কিনবেন?

আমিঃ হুম। এরকম একটা বাড়ি কিনার ইচ্ছে আছে। 

অচেনালোকঃ কিনবেন নাকি?

আমিঃ না।

অচেনালোকঃ তাহলে কি দেখছেন?

আমিঃ বাসার সামনে লেখা আছে টু লেট। তাই বাসাটা দেখতেছি। ফ্ল্যাট খালি আছে কিনা।

অচেনালোকঃ বাইরে থেকে কি দেখবেন?
ভিতরে চলেন আছে দুইটা ফ্ল্যাট খালি আছে চারতালায়। চলেন

আমিঃ না আরেক দিন আসবো। আজকে দেখে গেলাম বাসাটা।

অচেনালোকঃ আরে চলেন।ফ্ল্যাট ভালো লাগবে। 

আমিঃ নাহ অন্যদিন আসবো।

অচেনালোকঃ আরে চলেন। পরে ফ্ল্যাট বুক হয়ে যাবে।

(আমি লোকের জোরাজুরিরে না গিয়ে পারলাম না। আমি দ্বিতীয় নাম্বার ফ্ল্যাট যে সুমাইয়া থাকে সেটা জানি।লোকটা আমাকে সোজা চারতালায় নিয়ে গেলো।দুইটা ফ্ল্যাট দেখালো।বলল)

অচেনালোকঃ কেমন লাগলো ফ্ল্যাট দুইটা? 

আমিঃ খুব ভালো।

অচেনালোকঃ আপনারা ফ্যামিলি বাড়া নিবেন। 

আমিঃ না আমি শুধু একা।

অচেনালোকঃ আমিতো ব্যাচেলার বাড়া দেই না।

আমিঃ আমি একায় এক ফ্ল্যাট নিয়ে থাকবো। (মনে মনে এখান থেকে ছুটতে পারলেই হবে আমি আর এদিকে নাই।)

অচেনালোকঃ এখন কবে ওঠবেন। আর আপনার নাম কি?

আমিঃ আমি আনাস আহমেদ।আমি আপানকে পরে জানাবো। বাড়ি থেকে সিউর হয়ে।

অচেনালোকঃ তাহলে বাবা তোমার নাম্বার নাকি কি বলে। জানি না এগুলো দিয়ে বলে পরে কথা বলা যায় আমি এগুলো বুঝি না মোবাইল। 

আমিঃ নাম্বার নেয়ার কি দরকার আমি এসেই পরে জানাবো।

অচেনালোকঃ বাবা এরকম অনেকে বলে চলে যায়। পরে আর আসে না।তাই আমি তোমাকে হারাতে চাই না।

আমিঃ আংকেল আমি আসবো।

অচেনালোকঃ আচ্ছা বাবা তুমি চলো 
আমার ফ্ল্যাটে। আমার মেয়ের সাথে কথা বলে যাও।

আমিঃ আংকেল কতো তালায় আপনার ফ্ল্যাট? 

অচেনালোকঃ দ্বিতীয় তালায়। 

আমিঃ না থাক আংকেল আরেক দিন আসবো। 

অচেনালোকঃ আরে চলো। 

++
(ভুল ক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভালো লাগলে পেজে একটা লাইক দিবেন।)

(অচেনালোক আবার দ্বিতীয় তলায় আসে।   কলিং বেল টিপ দিলো আর সুমাইয়া বলে ডাক দিলো।  আমি সেই ব্যাক্তির পিছনে। একটা মেয়ে এসে দরজা খুলল।)

চলবে.....

ভালো লাগলে কমেন্ট করবেন। 
আর প্লিজ হ্যাপি রেটিং দিবেন। ❤❤
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post