গল্পঃ সিনিয়র বিধবা মেয়ে পার্টঃ ৩

 
গল্পঃ সিনিয়র বিধবা মেয়ে

নামঃ_সিনিয়র_বিধবা_মেয়ে

পার্টঃ ৩

লেখকঃ_Osman

(আমি পিছন পিছন ফোলো করতে থাকি।  ভাবছিলাম সে আর দেখবে না আমাকে। কিন্তু না বুঝে ফেলে কেউ তাকে 
ফোলো করছে। তাই হঠাৎ করে পিছনে তাকায় আমাকে দেখে ফেলে।) 

(আমি বাচার জন্য মোবাইলে কথা বলার ভাব ধরলাম। সুমাইয়া পিছনে তাকিয়ে দাড়িয়ে রইলো। সন্ধ্যা নেমে এসেছে। মনে হয় কি যেনো মনে করছে।আমি মোবাইলে কথা বলার এমন ভাব ধরলাম  যেনো সামনে কে আছে তাকে দেখিনি। সুমাইয়া দাড়িয়ে রইলো। আমি সুমাইয়াকে সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছি। এমন সময় সুমাইয়া ডাক দিলো.

সুমাইয়াঃ হেলো মিস্টার।

আমিঃ জি কোনো হেল্প লাগবে। (ফোনটা রেখে বললাম।)

সুমাইয়াঃ আপনাকে আমি চিনি।

আমিঃ আমিও মনে হয় আপনাকে চিনি।

সুমাইয়াঃ আপনি মিস্টার আনাস না।

আমিঃ হ্যা আপনি নিশ্চয় সুমাইয়া। 
(এমন ভাব ধরলাম যেনো তাকে অনেক দিন পর দেখলাম)

সুমাইয়াঃ জি হ্যা। আজকে কি আপনি ব্যাংকে গিয়েছিলেন?

আমিঃ হ্যা গিয়েছিলাম

সুমাইয়াঃ এদিক দিয়ে কোথায় যাচ্ছেন?

আমিঃ এই সামনে। 

সুমাইয়াঃ সামনে কোথায় সামনেতো আর রাস্তা নাই।

আমিঃ ঐ বাড়িটা দেখছেন না ঐ বাড়িটা আমার ছোট বোনের বাড়ি।ঐ খানে যাচ্ছি। (মিথ্যা বললাম আর কোনো রাস্তা খোলা নাই দেখে।)

সুমাইয়াঃ কত তালায় থাকে?

আমিঃ দ্বিতীয় তালায় থাকে।

সুমাইয়াঃ আপনার ছোট বোনের নাম কি? 

আমিঃ মিম।
সুমাইয়াঃ ফাজলামো করেন। না। সব গুলো কথা মিথ্যা বললেন।

আমিঃ জি মিথ্যা কথা না । 

সুমাইয়াঃ আবার মিথ্যা বলেন ঐবাড়ির ঐতালায় আমি থাকি।

আমিঃ কি! তাহলে বোন আমাকে ভুল ঠিকানা দিলো। দাড়ান তাকে একটা ফোন দেই।

সুমাইয়াঃ দেন।

(আমি ফোন দিলাম বাচার জন্য জামেলা থেকে। আমি অন্য নাম্বারে ফোন দিয়ে বললাম)

আমিঃ ধরে না। বিজি বলে।

সুমাইয়াঃ মিথ্যা কথা। আমার সামনে আপনার মোবাইলের সেভ করা নাম্বার গুলো ধরেন।

(আমি না পেরে তার সামনে সেভ গুলো নাম্বার গুলো ধরলাম।)

সুমাইয়াঃ এইতো মিম এই নাম্বারে ফোন দেন আমার সামনে।

(আমি ফোন দিলাম। ফোন ঢুকলে আমার হাত থেকে মোবাইল নিয়ে নেয়। 
সুমাইয়া কতক্ষন মিমের সাথে কথা বলে।আমি জানি মিম সব সত্যি বলবে। সুমাইয়ার  কথা থেকে আর চোখ থেকে বুঝা যাচ্ছে এখানে থাকলে মনে হয় মার খেতে হবে। পালাই। মোবাইল রেখে দিলাম এক দৌড়। এক দৌড়ে রিকশা ধরে বাসে ওঠে সোজা বাড়িতে।) 

(সুমাইয়া কথার মধ্যে। আনাস দিলো এক দৌড়। এমন দৌড় দেখে সুমাইয়া অবাক।
পিছন থেকে ডাক দিলো।মোবাইল নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু কে শুনে কার কথা। 
এক দৌড়ে সুমাইয়া চোখের আড়ালে চলে গেলো।সুমাইয়া বাসায় চলে আসে এসে ফ্রেস হয়ে খাওয়া দাওয়া করে। আনাসের মোবাইলটা নিয়ে বসলো।দেখতে ঠিকানা পাওয়া যায় কিনা। সুমাইয়া পুরো মোবাইল খুঁজলো নাহ কোনো ভিন্ন কিছু চোখে পড়লো না।ফেসবুক ইনস্ট্রাগাম নাহ কোনো কিছুই নেই। খালি কয়েকটা ছবি আর। আর কয়টা পিকচার আর মিউজিক। সুমাইয়া পিকচার গুলো ভালো করে দেখতে লাগলো। দেখে আনাসের সাথে একটা ছোট মেয়ের ছবি দুজনে একসাথে দাড়িয়ে আছে বাইরে একটা বাসার সামনে। জোম করে বাসার নামটা ঠিকানা দেখে নিলো। ভাবলো এটায় মনে হয় আনাসের বাসা। আর মেয়েটা মনে হয় আনাসের বোনের মেয়ের ছবি। ঠিকানা পেয়ে মোবাইলে নোট করে নিলো। ভাবলো আগামীকাল সকালে মোবাইল দিয়ে অফিসে যাবে। রাতে ঘুমাতে যাবে কোনো ভাবেই সুমাইয়ার ঘুম আসছে না। 
খালি আজকে ঘটনা মনে পড়ছে। সুমাইয়া ভাবতাছে আমি নিশ্চিত আনাস আমারে ফোলো করছে। শেষ মেষ আর না পেড়ে ভাগলো। সে আমাকে ফোলো করলো কেনো। তাহলে সে আমাকে ফোলো করে ব্যাংকে যায়। গিয়ে একাউন্ট খোলে। সেটা কি আমার জন্য। হতে পারে। সে আজকে ফোলো করতে করতে বাড়ি চলে আসছে।ধুর যতই ফোলো করুক যদি ভালোবাসে ও যখন শুনবে আমি বিধবা তখনই কেটে পড়বে। কোনো বিশ্বাস নাই। যতক্ষন পর্যন্ত আমার মা বাবার কাছে এসে বলতে পারবে "আমি সুমাইয়াকে বিয়ে করতে চাই হোক সে বিধবা"। তাহলে একমাত্র বিশ্বাস করা যায়। আনাসকে আমার ভালো লেগেছে ঠিক। সে যখন মুচকি হাসি দিয়ে কথা বলে তখন তাকে খুব সুন্দর দেখা যায়।
সন্ধ্যা বেলা কথার পেচে  পড়ে তখন তার মুখটা দেখার মতো ছিলো। আরেকটা জিনিস আমাকে অবাক করছে আনাস আমার পুরো মুখ না দেখেই আমার পিছন  পিছন ঘুরছে। এসব কথা চিন্তা করতে করতে সুমাইয়া ঘুমিয়ে গেলো। সকালে ফযরের সময় ঘুম থেকে ওঠে নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে সকল কষ্ট দুর করে দেয়ার জন্য দোয়া করে। সুমাইয়া আগে বাসা থেকে বের হয়ে আনাসের বাড়ির ঠিকানায় চলে যায়। বাসা পেতে বেশি  কষ্ট হলোনা।  বাসার একজনকে জিজ্ঞেস করলো আনাস কোন তালায় থাকে।) 

অচেনাঃ কোন আনাস বাড়িওলা আনাস?

সুমাইয়াঃ এই বাসায় কয়টা  আনাস থাকে?

অচেনাঃ আমার জানামতে একজন সে বাড়িওলা দ্বিতীয় তলায় থাকে। 

সুমাইয়াঃ থ্যানকিউ।

(সুমাইয়া দ্বিতীয় তলায় যায়। দ্বীতিয় তলায় দুইটা ফ্ল্যাট। কোনটায় কলিং বেল টিপ দিবে বুঝে পাচ্ছে না। ডান পাশের ফ্ল্যাটে কলিং বেল টিপ দিলো।)

(আমি বাড়িতে এসে কি করবো বুঝে পাচ্ছি না। মোবাইলটা ওলটা গচ্চা দিয়ে আসলাম।সিগারেট দরাইলাম। সিগারেট খাচ্ছি আর চিন্তা করছি। এটা কোনো কাজ হলো যে প্ল্যান করলাম। তার হলো ওলটু।আমি আর ব্যাংকে যাবই না কিছু দিন।তার সামনে যাবই না। মেয়েটা কি চালাক সাথে সাথে আমার চালাকি ধরে ফেলল। মোবাইলের আশা ছেড়ে দেই।
নতুন মোবাইলের কিনতে হবে।না জানি সুমাইয়া মিমকে ফোন দিয়ে সব বলে দেই।
একটা নরলাম মোবাইল বের করলাম।
ধুর সিমটাতো নিয়ে আসলাম না। নতুন সিম তুলতে হবে। ক্ষিধা লাগছে ভুয়া রান্না করছে করছে না। বাইরে গেলাম নাস্তা করতে। রাত ৯টা বাঝে। এক রেস্টুরেন্টে ঢুকালাম গিয়ে কিছু খাবার অর্ডার দিলাম। আমি খাবার খাচ্ছি। সামনে এসে একটা মেয়ে বলল)

মেয়েঃ বসতে পারি?

(আমি মেয়েটার দিকে তাকালাম। মুচকি হেসে বললাম।)

আমিঃ বস।

সাফাঃ কিরে এখানে বসে খাচ্ছোস কেনো। বাসায় কেউ নাই।

(মেয়েটার নাম সাফা। আমরা একসাথে কলেজ শেষ করছি। সে আমাদের কলেজের সবচেয়ে সুন্দুরী আর 
অধিকাংশ ছেলের ক্রাশ ছিলো। আমারও তখন ক্রাশ ছিলো। আমি প্রোপোজ করলে আমাকে অনেক কঠিন ভাবে নেগলেট করে। তার কারণ তখন তার পিছনে অনেক ছেলে ঘুরতো।  আর তার সুন্দরী রুপের প্রসংসা কার সাথে করবে।তাই তাকে যে প্রোপোজ করতো। তাকে অহংকারের সাথে কঠিন কঠিন কথা বলতো। কলেজের এক ছেলের সাথে তার গভীর প্রেম ছিলো।ফ্যামিলির অজান্তে সেই ছেলের সাথে বিয়ে করে। ভাবছিলো সে ছেলের সাথে সুখী হতে পারবে। কিন্তু হলো তার ওলটো কিছুদিন পর তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। এই কথা যখন ফ্যামিলির আর এলাকার সবাই জানলো তখন সে হলো সবার কাছে লজ্জার পাত্র। তাই আজ পর্যন্ত তার আর কোনো বিয়ে হয় নায়। এখন সে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় দেখে কোনো ছেলের ক্রাশ হতে পারে কিনা। আমার কাছে আসলে আমি তাকে হতাশ করি না।)

আমিঃ না। তুই জানসনা।

সাফাঃ কেউ না থাকুক আমিতো আছি। 

আমিঃ সেটা আমি ভালো করেই জানি।
এখন তর বল কিছু লাগবো। ওয়েটার এদিকে আসেনতো। তাকে কিছু খাবার দেন।

সাফাঃ আমি কিছু খাবোনা।

আমিঃ নে ধর।পকেট থেকে কিছু টাকা দিলাম।

সাফাঃ আমি তরে বলছি টাকা লাগবো। 
আমারে কি দেখে তর ফকিন্নি মনে হয়।

আমিঃ কিছু কিছু মনে হয়।

সাফাঃ ফাজলামো করিস না। তুইতো আমাকে একবার প্রোপোজ করছিলি। এখন করনা আরেকবার। তুই কি আমাকে ভালোবাসিস না।

আমিঃ হ্যা ভালোবাসি। 

সাফাঃ তাহলে আমার ফোন দরিস না কেনো।

আমিঃ কবে। এই শুন আমার না ইমিডিয়েটলি এক জায়গায় যেতে হবে।খাবার অর্ডার দিছি।খাবার খেয়ে বাড়ি চলে যাস। 

সাফাঃ আমিও তর সাথে যাবো।

আমিঃ না সেখানে শুধু একজন যাওয়া যায়। 

(আমি ওঠে চলে আসলাম। পিছন থেকে ডাক দিলো আমি না শুনার ভাব ধরে চলে আসলাম। আমি বাচলাম। এই সাফা খুব ডেঞ্জারাস। ডেঞ্জারাস কেনো বলছি শুনুন।  যে রেস্টুরেন্টে  খেতে গিয়েছি। সে রেস্টুরেন্টের পাশে তাদের বাড়ি। এই রেস্টুরেন্টে  আসলে বেশির ভাগ সময় তার সাথে দেখা হয়। একদিন রাতের বেলা আমি গেছিলাম খাবার খেতে এই রেস্টুরেন্টে কোথা থেকে জানি এসে হাজির। বসে কতক্ষন আজাইরা পেচাল পারে। একটু পর বলে আমার না মাথা ঘুরাইতেছে। দেখ আমার মাথায় হাত দিয়ে। আমি বললাম বাড়ি চলে যা। 

সাফাঃ তুই নিয়ে দিয়ে আয়।

আমিঃ আচ্ছা চল।

আমি আর সাফা হেটে রেস্টুরেন্টে থেকে বাইরে বের হইছি। সে আমার উপর পড়ে গেলো বলল

সাফাঃ অনেক মাথা ঘুরাইতেছে আমাকে কোলে করে নিয়ে বাসায় দিয়ে আয়।

আমিঃ কি বলস মানুষ কি বলবে। তুই চেষ্টা করলে হেঁটে যেতে পারবি।

সাফাঃ না দাড়াইতে পারছিনা। ধরস না

++
(ভুল ক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ভালো লাগলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে  সাথে থাকবেন। আর মেসেঞ্জারে নক করবেন যাতে একসেপ্ট করতে সুবিধা হয়। আর পেজে একটা লাইক দিবেন। )

(আমি না পেরে তাকে কোলে করে বাসায় দিয়ে আসি। আমি জানি সে ভাব ধরছে।
কারণ তার শরীরে কোনো তাপমাত্রা নাই।
এর পর থেকে তার নাম্বার ব্লক লিস্টে ফালাইছি আর খুলি নাই। একটা মেয়েকে প্রোপোজ করলে সে যখন কঠিন ভাবে ইনসাল্ট করে তখন তার উপর থেকে এমনই মন ওঠে যায়। সে রকম সাফার উপর।আমি বাসায় এসে একটা সিগারেট খেয়ে ঘুমিয়ে যাই। কলিং বেলের টিপে ঘুম ভাঙ্গে।দরজা খুলে তাকাই। তাকিয়ে আমার চোখ দুটি বড় হয়ে যায়।)

চলবে....

ভালো লাগলে কমেন্ট করবেন। 
আর প্লিজ হ্যাপি রেটিং দিবেন। ❤❤
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post