গল্পঃ অবহেলিত স্বামী পর্বঃ ৯

 


গল্পঃ অবহেলিত স্বামী 

লেখকঃ শাওন আহমেদ নীল 

পর্বঃ ৯


আমি নিধীকে নিয়ে রেসুটে চলে গেলাম।। নিধী ওয়াশরুমে চলে গেলো ওয়াশরুমে গিয়ে বমি করতে লাগলো,। নিধী কে নিয়ে এসে শুয়িয়ে দিলাম, বাট ওর ড্রেস টা নষ্ট হয়ে গেছে।। কি

 করব বুঝতেছি না ও ত একবারে সেন্সলেস হয়ে 

পড়েছে।।। 


আমি রেসুটের একজন মহিলা স্টাফ নিয়ে আসলাম। ওনাকে বললাম নিধীর ড্রেস টা চেইন্জ করে দিতে। আমি বাহিরে অপেক্ষা করতে লাগলাম

ড্রেস চেইন্জ করে দিয়ে মেয়েটি চলে গেলো।। আমি নিধীর গায়ে ভালো করে কাথা দিয়ে দিলাম। 

মাঝরাতে নিধী কাঁপছে গায়ে হাত দিয়ে দেখি প্রচন্ড জ্বর এসেছে। আমি সারারাত জেগে নিধীর গায়ে জলপট্টি দিলাম৷ একসময় জলপট্টি দিতে দিতে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে নিধীর কাঁদার শব্দে আমার ঘুম টা ভেঙে গেলো৷ তাকিয়ে দেখি নিধী বসে বসে কাঁদছে। বুঝলাম না কাঁদতেছে কেন? কোনো বাজে স্বপ্ন দেখলো নাকি?


আমিঃ কি হয়েছে?


এই কথা বলাতেই নিধী আমার গালে দুইটা থাপ্পর মেরে বসলো৷ এতোখন ঘুম ঘুম চোখ ছিলো, থাপ্পর খেয়ে আমি ভালো করে নিধীর দিকে তাকালাম, কেঁদে কেঁদে চোখ লাল করে ফেলছে।  


নিধীঃ আমার ড্রেস চেইন্জ করার সাহস তুই কোথা থেকে পেলি? না জানি রাতে আমার সাথে আরো কি কি করেছিস।। 

আমিঃ এসব কি বলছেন? 

নিধীঃ একদম ঠিক বলছি আমি, তকে আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম আর তুই বিশ্বাসের এই মর্যাদা দিলি।। 

আমিঃ আপনি যা ভাবছেন তা কিছুই হয় নি। 

নিধীঃ সব ছেলেরাই এমন ওরা থাকেই সুযোগের অপেক্ষায়, সুযোগ পেলেই হায়না দের মতো মেয়েদের শরীলে জাপিয়ে পড়ে।।। দুর হ চোখের সামনে থেকে৷। 


আমি আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেলাম রুম থেকে, 

এখন আর হাজার বললেও বিশ্বাস করবে না। আমি 

যাওয়ার সময় বলে গেলাম রুমে নিধীর জন্য নাস্তা দেওয়ার জন্য। আমি নিচে গিয়ে একটা হোটেলে খেয়ে নিলাম,। আর একা একা ঘুরতে লাগলাম।। 


কালকে রাতে যে মেয়েটি নিধীর ড্রেস চেইন্জ করে দিয়েছে । সে খাবার নিয়ে নিধীর রুমে যায়। মেয়েটি খাবার দিয়ে চলে যাওয়ার সময় আবার ঘুরে রুমে আসলো৷  


মেয়েটিঃ আপু একটা কথা জিঙ্গাস করব?? 

নিধীঃ জ্বি 

মেয়েটিঃ ওই ভাইয়াটি কি হয় আপনার?

নিধীঃ এমন প্রশ্ন?

মেয়েটিঃ না রাতে বমি করার পরে আপনার ড্রেসটি নষ্ট হয়ে গেছিলো,, ওনি আমাকে ডেকে এনে আপনার ড্রেস টি চেইন্জ করালো।।  

নিধীঃ ড্রেস আপনি চেইন্জ করেছেন? 

মেয়েটিঃ হ্যঁ আর ওই ভাইয়া টা সারারাত আপনার মাথায় জলপট্টি দিয়েছে৷।। 

নিধীঃ ওকে। 


এরপর মেয়েটি চলে গেলো৷ বিনা কারণে নীল কে এতোগুলা কথা শুনালাম এমন কি গায়ে পর্যন্ত হাত তুললাম।। না জানি ছেলেটা কতটা কষ্টে পাচ্ছে।। 

পাক তাতে আমার কি আমি ত আর ওকে ভালোবাসি না।। নিধী এসব ভাবতে লাগলো, নিধী এবার আমাকে কল করে, রুমে আসতে বললো, আমি রুমে আসলাম। 


নিধীঃ স্যরি,,।

আমিঃ ভুল কিছু করেন নিতো। আর হ্য বাসায় চলে যাবো এখনি। 

নিধীঃ না। 

আমিঃ আপনার ইচ্ছা হলে আপনি থাকতে পারেন,। 


দেন আমার বাসায় চলে আসলাম৷ বাসায় এসে আংকেল কে বললাম ওখানে ভালো লাগে না তাই চলে এসেছি।। এভাবে কেটে গেলো প্রাই চার মাস। 

হ্য আমি আর নিধী এখন ভালো বন্ধু ও তেমন একটা খারাপ ব্যবহার করে না আমার সাথে। এখন আমরা আলাদা আলাদা রুমে থাকি কথাও কম বলি।। আমাদের ডিল হয়েছে ছয়মাস পড়ে আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে, এ বিষয়ে আংকেল কিছু জানে না। এই শহরে আর মাত্র দুই মাস থাকব

ডিভোর্স হয়ে গেলে ডাকা চলে যাবো ।। 


নিধী আমার রুমে আসলো, রুমে এসে বললো আজকে ওর বেস্ট ফ্রেন্ড রুহান এর জন্মদিন।। 

রাতে বারে একটা পার্টি রেখেছে, আংকেল নিধীকে একা যাওয়ার অনুমতি দিবে না, তাই সাথে আমাকেও নিয়ে যাবে,। আমি রাজি হয়ে গেলাম।।


রাতে পার্টিতে চলে গেলাম৷ পার্টিতে যাওয়ার সাথে সাথেই নিধীর ফ্রেন্ডরা আমাকে অপমান করা শুরু করলো,।। ছোটলোক পার্টিতে এসেছে, আমি চুপচাপ এসব শুনতে লাগলাম, এখন অভ্যাস হয়ে গেছে এসব শুনতে আর মন খারাপ হয় না এসব শুনলে। সবাই যার যার মতো এনজয় করছে, নিধী

ড্রিংকস করতে লাগলো,। নিধী ড্রিংকস করতে করতে অবস্থা খারাপ করে ফেলছে। রুহান নিধীকে উপরে নিয়ে যাচ্ছে৷। আমি তেমন একটা খেয়াল দিলাম না। নিধীর একটা ফ্রেন্ড এসে বললো, রুহানের মতলব ভালো না, আর ও এমনিতে অনেক বাজে ছেলে।।।  


আমিও ওদের পিছনে পিছনে গেলাম ওরা একটা রুমে গিয়ে রুম আটকে দিলো। নিধী বলতেছে কি করছো কি রুহান ছারো আমাকে চেচাব কিন্তুু আমাকে।। আমি দরজায় নক করলাম রুহান দরজা খোলে দিলো। দরজা খোলার সাথে সাথেই

রুহানের বোকে লাথি দিয়ে ফেলে দিলাম। আস্তে আস্তে সবাই এখানে আসলো, আমি রুহান কে মারতে লাগলাম। এতোক্ষনে নিধীর হালকা নেশা কেটে গেছে।।  


নিধী এসে এমন একটা কাজ করলো, যা কখনো ভাবতেও পারি নি। জানলে কখনো আমি এখানে আসতাম না।।। 


#চলবে

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post