বাড়িওয়ালার দাজ্জাল মেয়ে❤ পর্বঃ7👌

 


👉বাড়িওয়ালার দাজ্জাল মেয়ে❤

পর্বঃ7👌

লেখক: সানভি আহম্মেদ আবির ❤


তারপর যা দেখলাম তা দেখে আমার সমস্ত শরীর শীতল হতে শুরু করলো।

মধু আর সুভাশ এক বেঞ্চে বসে আসে। 

বসে আছে বললে ভুল হবে সুভাশ মধুর কুলে মাথা রেখে শুয়ে আছে আর মধু ওর চুলে বিলি কাটছে।

ছিহ মধু ছিহ। 

ও এতোটা নিচে নামতে পারলো। ঘরে স্বামীকে রেখে বাহিরে অন্য পুরুষের সঙ্গে,,,, 

আমার মাথায় আর কাজ করছে না। মাথাটা ঘুরে আসছে।

আমার এই অবস্থা দেখে লিমন বলল ঃকিরে কি হইছে তোর।

ঃনারে কিছু না মাথা ঘরোচ্ছে।

ঃচল ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। 

ঃনা ঠিক আছে, আমাকে হলে নিয়ে যা। গিয়ে রেস্ট নেই। এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।

ঃহলে যাবি মানি। তোর কি বাসা নেই। আর জাফলং টুরের কি হবে?

ঃবন্ধু তোরা যা, আমি যেতে পারবো না।

ঃআয় শুধু এমনিতেই ঠিক হবে। 

তারপর ভার্সিটিতে চলে আসলাম। বাস চলে এসেছে।

আমরা যাওয়া মাত্রই ওরা বলল তারাতাড়ি উঠ দেরি হয়ে যাচ্ছে।

ঃঅকে লিমন যা তুই। পরে দেখা হবে?

ঃপরে দেখা হবে মানে। তুই আয় বলছি।

তারপর অদের জোরাজোরিতে বাসে উঠলাম।

বাসের ভিতর সবাই গান গাচ্ছে আড্ডা দিচ্ছে।

আমি একদম পিছনের ছিদে বসে মন খারাপ করে বাহিরের দিকে চেয়ে বসে আছি। কিছুই ভালো লাগছে না।

বার বার মধুর এই কাহিনি চুখে ভাসতে লাগলো। 

আর গতদিনের এই কথাটা কানে বিষমন্ত্রের মতো জ্বালা দিতে লাগলো 

"তুই আমাদের মাঝ থেকে সরে গেলে আমি আর সুভাশ বিয়ে করে ফেলব"

এই কথার স্পষ্ট অর্থ দাড়ায় যে মধু আমার কাছে ডিবোর্স চাচ্ছে।

ঃকিরে নামবি না।সারাপথ তো একটি কথাও বলিসনি। এখন কি বাস থেকে নামবি না।

(এসব চিন্তা করতে করতে কখন যে জাফলং চলে এসছি খেয়ালই করিনি।)

ঃহ্যা হ্যা নামছি।

ঃআচ্চা তোর মাথা ব্যথা কমছে।

ঃহ্যা কমছে।

তারপর আমরা সবাই জাফলং এর অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে লাগলাম।

প্রথমে মন খারাপ থাকলেও প্রকৃতির এর রুপ দেখে মন ভালো হয়ে গেলো। 

সারাদিন অনেক ঘুরাফেরা করে বিকালে সবাই সিলেট আসলাম।

আমি আর মধুদের বাসায় না গিয়ে সোজা আমার গ্রামের বাড়িতে চলে আসলাম। 

হুট করে বাড়িতে চলে আসায় আম্মু খুব অভাক হইছেন।

ঃআরে ফাহাদ তুই। আসার আগে বলবি না?

ঃনা আম্মু সারপ্রাইজ দিলাম।

ঃতা বৌ মা কোথায়?

মধুর কথা বলতেই মন খারাপ হয়ে গেলো। 

ঃওহ আম্মু ওর পরিক্ষা চলছে তাই আসতে পারেনি।(আম্মুকে এসব কিছু বুঝাতে দিলাম না।)

ঃঅহ আচ্ছা তুই এসেছিস খুভ ভালো হইছে। অনেকদিন হয় বাড়িতে আসিস নি। সেই গেলে আর এখন এলে।

আচ্চা যা ফ্রেশ হয়ে খেতে আয়।

তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে সবাই মিলে খাওয়া শেষ করে ঘুমাতে গেলাম। কিন্তু ঘুমতো আসছে না। বার বার মধুর এই কথা গুলো বুকের মধ্যে হাতুড়ির আঘাতের মতো আঘাত হানতে লাগলো। 

আমি কি করবো এখন মধুকে ডিবোর্স কি দেবো। কিন্তু আমি যে অকে খুব ভালবাসি৷ ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না।

কিন্তু মধুতো আমাকে সহ্য করতেই পারেবা। সে সুভাশ কে ভালবাসে।

মনে হয় আমার থেকে মধু সুভাশের কাছেই বেশি সুখে আছে তাই সে আলাদা হতে চাচ্ছে।

হ্যা আমি মধুকে ডিবোর্স দিয়ে দিবো। সুভাশের সাথে থাকলে মধু শুখি থাকবে আর মধুর সুখ মানে আমার সুখ।

হঠাৎ আংকেল এর ফোন।

ঃহ্যালো আংকেল 

ঃবাবা কোথায় তুমি এতো রাত হয়ে গেলো বাসায় আসলে না। মধুকে জিজ্ঞেস করলাম সেও জানেনা।

কোথায় তুমি।

আংকেল আমি বাড়িতে চলে এসেছি।

ঃবাড়ুতে যাবে ভালো কিন্তু বলে যাবেতো?

ঃসরি আংকেল 

আমি আগামী কালকে চলে আসবো।

তারপর ফোন কেটে দিলাম। 

এখানে একটি জিনিস খুব পরিষ্কার যে মধু আমাকে মুঠেও চায় না। না হলে একবারের জন্যেও ফোন দিতো।

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সবাই খেতে বসলাম 

ঃআম্মু আব্বু একটি কথা বলবো।

ঃহ্যা বল কি বলবি।(আম্মু আব্বু)

ঃআমার এই মাত্র অনার্স শেষ হইছে। আশা করছি রিজাল্ট অনেক ভালো হইবে।

এখন আমি মাষ্টার্স করতে চাচ্ছি।

ঃসেটা বলার কি আছে। 

ঃকিন্তু আমি একটা ডিসিশন নিছি কালকে রাত্রে। 

ঃকি ডিসিশন?

ঃআমি মাষ্টার্স দেশে করবো না। বিদেশে করবো।

ঃকিহ কেন?

ঃপ্লিজ আব্বু

ঃতুই দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়স। এখন তুই বাহিরে গিয়ে কি করবে আমার মনে হয় এখানে মাষ্টার্স করলে ভালো হবে।

আর তার উপর তোর বউ আছে। তুই বিদেশে চলে গেলে মধু একা থাকবে কিভাবে? 

ঃআম্মু মাত্র দুই বছরের ব্যাপার। না করোনা প্লিজ। আর মধুকে আমি মেনেজ করবো।

ঃআচ্চা যা ভালো বুঝস কর।

ধন্যবাদ আব্বু।

তারপর আমি সিলেট আসলাম। সিলেটে এসে সোজা কোর্টে চলে আসলাম। কোর্টে এসে ডিবোর্সের এপ্লাই করলাম। তারা বলল কিছুদিনের মধ্যেই পেয়ে যাবো।

তারপর জার্মানিতে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য এপ্লাই করে মধুদের বাসায় চলে আসলাম। 

ঃকেমন আছেন আংকেল? 

ঃহা বাবা ভালো। তুমি আসলে?

ঃজি এইতো চলে এসেছি। মধু কোথায়? 

ঃমধু ভার্সিটি গেছে।

ঃআচ্চা একটা কথা বলতো?

ঃকি আংকেল? 

ঃমধু আর তোমার মাঝে কি কোন ঝামেলা হইছে? 

্আপনার এমন্টা কেন মনে হলো?

ঃআমি কয়েকদিন থেকে লক্ষ্য করছি তোমাদের ভালো কোন আন্ডাস্টেন্ডিং নাই। একজন আরেকজনের খবর জানো না।

ঃআমার পরিক্ষা ছিলো তো তাই পড়াশোনায় একটু মনোযোগ দিতে হয়েছিল তাই এমনটা হইছে।

ঃআচ্চা যাও ফ্রেশ হও।

ঃজি আংকেল। 

তারপর ফ্রেশ হয়ে রুমে শুয়ে আছি।

কিছুক্ষণ পর মধু আসলো।

আমার সাথে কোন ধরনের কথা না বলে ওয়াশরুমের ভিতর চলে গেলো। আমি বিছানা থেকে উঠে ছাদে চলে আসলাম। 

মধুদের ছাদটা খুব সুন্দর। ছাদের উপর বাগান আছে তার উপর একটা দুলনা আর বেঞ্চও রয়েছে।

আমি ছাদে এসে দুলনায় বসে বসে দুল খাচ্ছি। 

দুলনাতে খুব ভাল লাগছিল তাই হঠাৎ ঘুম চলে আসলো।

যখন ঘুম ভাংলো তখন দেখি সকাল হয়ে আছে আর আংকেল সামনে দাড়িয়ে আছেন। তারমানে আংকেল আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়েছেন।

ঃছাদে ঘুমিয়ে গেলে কেন? 

ঃছাদে ঘমিয়ে গেছি! আংকেল রাতে ছাদে এসে দুলনাতে বসে ছিলাম কিন্তু কখন ঘুম এসেছে বলতে পারিনি।

ঃতুমিও না। যাও ফ্রেশ হয়ে আসো।

ঃফ্রেশ হয়ে রুমে বসে আছি।

তখন কাজের মেয়েটা এসে বলল আংকেল ডাকছেন খাওয়ার জন্য।

আমিও চলে আসলাম।

নিচে এসে দেখি টেবিলে আংকেল আর মধু বসে আছে।

যাক অনেক দিন পর মধুর সাথে খাবার খেতে পারবো।

খাবার খাওয়ার সময় মধু একটা কথাও বলল না।

আমিও কোন কথা বলিনি। কেন জানিনা কথা বলতে ইচ্ছে করছিলো না।

মধু খাওয়া শেষ করে ভার্সিটিতে চলে গেলো আর আমি রুমে চলে আসলাম। 

দুপুরের দিকে আমার ফোনে একটি মেসেজ আসলো।

মেসেজ দেখে আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে এতো তারাতাড়ি আমাকে ভিসা ইন্টারভিউ এর জন্য ডাকবে।

কালকে আমার ইন্টারভিউ। রাই আজই ঢাকা যেতে হবে।

সব কাপড় প্যাক করছিলাম। তখন আংকেল বললেন

ঃকোথায় যাবে নাকি? 

ঃজি আংকেল আমাকে ঢাকা যেতে হবে একটি ইন্টারভিউ দিতে। 

ঃফিরবে কবে?

ঃএই দুই দিনের মধ্যে ফিরে আসবো।

যথারিতি ঢাকা গিয়ে ভিসা ইন্টারভিউ দিলাম

আমার সবকিছু ভালো থাকায় আর ইন্টারভিউ ভালো পারায় ভিসা হয়ে গেলো। 

তারা বলল কালকের মধ্যে টাকা জমা দিতে পারলে এক সপ্তাহের মধ্য ভিসা পেয়ে যাবো।

আব্বুকে ফোন করে বললাম টাকা পাঠাতে। তিনি টাকা দেওয়ায় আমি ওই দিনই টাকা জমা দিয়ে দিলাম।

পরেরদিন গ্রামের বাড়িতে চলে আসলাম। কেননা কিছুদিন পর চলে যাবো দেশ ছেড়ে তাই পরিবারের সাথে কিছু সময় কাটিয়ে যাই।

আম্মু আব্বুকে এই বিষয় মধু আর আংকেল থেকে গোপন রাখার জন্য বললাম।

বাড়িতে চার দিন থাকার পর সিলেট মধুদের বাসায় গেলাম।

অখানে গিয়েও কাটিয়ে নেই কয়েকদিন।

মধুদের বাসায় থাকতে লাগলাম আর ভিসার অপেক্ষা করতে লাগলাম। এভাবে আমার কস্টময় দিন পার হচ্ছে।

মধুর সাথে টুকটাক কথা হয়।

মধু সব সময় সুভাশের সাথে ফোনে কথা বলতে থাকে।

৮দিনের মাথায় আমার ভিসা চলে আসলো।

পরের দিন গিয়ে বিমানের টিকিট কেটে বাসায় ফিরলাম।

কালই দেশ ছেড়ে চলে যাবো।

আব্বু আম্মুকে জানিয়ে দিলাম।

সন্ধ্যা বেলা গিয়ে মার্কেট শেষ করে বাসায় ফিরলাম। 

রাতে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম।

যাওয়ার আগে মধুকে একনজর দেখতে ভুল করলাম না। ড্রয়ার থেকে পেনড্রাইভ টিও নিলাম। 

পরের দিন সকালে জার্মানির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমালাম

পরেরদিন সকালে মধু ঘুম থেকে উঠে আমাকে পেলো না।অন্য সব দিন তো সকালে বাসায় থাকে আজ কই গেলো। মনে হয় ভার্সিটি গেছে।

কিন্তু ভার্সিটি তো শেষ। গেলো কোথায়?

ধুর আমি এতো চিন্তা করছি কেনো যেখানেই যাক যা। আমার কি?

তারপর মধু ভার্সিটিতে চলে গেলো।

এদিকে আমি জার্মানি তে এসে আমি আমার ডুরে চলে আসলাম। রুম এর জার্মান হচ্ছে রুম।

আসলে দেশে থাকতে সব কিছু মেনেজ করে রেখেছিলাম তাই ডুর পেতে কস্ট হয় নি।

আমি রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে আছি। দেশের কথা মনে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে মধুর কথা। ওর সৃতিগুলো মনে পড়ছে। মনে পড়ছে ওর সাথে কাটানো ছটি মাস। কেমনে পারলো ভুলতে এসব।

এসব কিছু মনে করতে চাচ্ছি না। আপাতত এসব কিছু ভুলে গিয়ে আমার পড়াশোনায় ফোকাস দেই। তাতেই মঙ্গল। 

দু চার দিন রেস্ট নিয়ে ভার্সিটিতে ভর্তি হইবো।

,

এদিকে মধু সারাদিন সুভাশের সাথে ঘুরাফেরা করছে।

ঃআচ্চা বাবু আমরা বিয়ে করবো কখন?(সুভাষ) 

ঃএইতো বাবু আর কিছু দিন পর(মধু)

অই কুত্তাটার সাথে ডিবোর্স টা হয়ে যাক, তারপর আমি আর সুভাশ বিয়ে করে নিবো) মনে মনে ভাবে।

ঃবাবু আমি আর পারছিনা। কতদিন এইভাবে দুরে দুরে থাকবো।

তোমাকে আমার কাছে পেতে খুব ইচ্ছে করে বাবু।(সুভাষ) 

ঃআমারওতো খুব ইচ্ছে হয়।

ঃতাইলে আমি এক কাজ করি, আমার আম্মু আব্বুকে তোমার বাসায় বিয়ের জন্য পাঠাই।

ঃনা বাবু এখন না।

ঃতারমানে তুমি আমাকে ভালবাসো না। তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাচ্ছো না।

ঃআমি তোমাকে অনেক লাভ করি বাবু।

ঃতাহলে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো কখন? 

ঃবাবু আমাকে একমাস সময় দাও।

এক মাস পর তুমি আর আমি বিয়ে করবো। কিন্তু একটা শর্ত আছে।

ঃএকমাস পর বিয়ে করবো। এর থেকে খুশির খবর কি আর হতে পারে। হ্যা তোমার যা শর্ত আছে সব শর্তে আমি রাজি।

ঃতাহলে শোন আমার শর্ত, আমাদের বিয়েতে কোন ধরনের আয়োজন করা যাবে না। কাউকে যানানোও যাবেনা।

আমি আর তুমি বিয়ে করবো একটি কাজি অফিসে গিয়ে।

ঃএটা কেমন কথা।

তুমি যানোনা আমার বাবা কত বড় বিজনেস ম্যান।পুরো দেশ জুরে তার অসংখ্য বন্ধুবান্ধব রয়েছে। আর আমি তার একমাত্র ছেলে হয়ে তাদের না বলে বিয়ে করলে কি হবে তুমি ভেবে দেখছো।

সব বন্ধুবান্ধবের সামনে আব্বুর মাথা কাটা হয়ে যাবে।

প্লিজ এমন করোনা। সবাইতো চায় তাদের বিয়ে ধুমধামে হোক। সারা দেশ জানুক। আর তুমি লোকাচ্ছ কেন?

ঃআমরা আগে লুকিয়ে বিয়ে করবো। তারপর কয়েকদিন পর অনুষ্ঠান করবো।

ঃকিন্তু কেন?

ঃআমি উত্তর দিতে পারবো না।

আমি চললাম।

এই বলে মধু মন খারাপ করে সেখান থেকে বাসায় আসতে শুরু করলো। 

কিছুক্ষণ পর মধুর ফোনে একটা মেসেজ আসলো 

"আউ এগ্রি উইথ য়ু বেবি"

মেসেজ পড়ে মধুর আনন্দ দেখে কে?

কিন্তু হঠাৎ মনে পড়লো 

আমার পেঠেতো ফাহাদের বাচ্চা। আর আমি বিবাহিতা। এই কথা শুনলে সুভাষ কখনো আমায় বিয়ে করবে না।

আজ একটা বিহিত হরেই ছাড়বো। দু তিন দিনের ভিতরে বাচ্চা এব্রোশন করতে হবে আর খুব দ্রুত আমাকে ডিবোর্স পেতে হবে।

মধু রেগে মেগে বাসায় আসলো।

বাসায় এসে আমাকে খুজতে লাগলো। সারা বাসা খুজে আমায় পেলোনা। তাই রাগে শুয়ে পড়লো।

সন্ধ্যার পর আংকেল আসলেন

ঃমধু মা ফাহাদ কই? ওকে আজ সারাদিন থেকে দেখছি না। কোথায় গেছে ও।

ঃবাবা আমি যানিনা তো কই গেছে। যাও এখান থেকে আর ফাহাদ ফাহাদ করোনাতো।

ঃআচ্চা যাচ্ছি

(কি যে হলো ছেলেটার কই যায় কোথায় যায়, কাউকে কিছু বলে যায় না। আগে তো এমন ছিলো না। সারাদিন বই নিয়ে বসে থাকতো। বাইরে খেলায় যেতেও বলে যেতে আর এখন দিনের পর দিন বাহিরে থাকে কাউকে বলে না। ফোনও অফ করে রাখে।) বিড় বিড় করে বললেন। 

মধু মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে গেলো। মোবাইলে তাকিয়ে দেখে রাত দুটো। এখনো বাসায় ফেরে নি।

একটু চিন্তা হলো মধুর। বাড়ি থেকে এসেছে দুই দিন হলো। তাই এখন তো বাড়িতে যায় নি। গেলো কোথায়?

এসব ভাবতে ভাবতে মধু ফাহাদের নাম্বারে কল দিলো কিন্তু ফোন সুইচ অফ দেখাচ্ছে।

তারপর মধু ঘরের লাইট জ্বালিয়ে পানি খাওয়ার জন্য টেবিলে গেলো।

পানি খেয়ে যখনি গ্লাস টেবিলে রাখতে যাবে তখনই টেবিলের উপর একটি চিটি চুখে ভাসলো।

আজব আমার রুমে চিটি কে রাখলো। খুলে দেখি তো কি আছে চিটিতে।

মধু চিটিটি খুললো।

"প্রিয় মধু,

আশা করি খুব ভালো আছো। আর ভালো তো থাকবে। ভালো থাকার জন্য আমাকে ছেড়ে সুভাশকে বুকে নিছো।তুমি যে এখন চিটি পরছো। এই সময়ে আমি তোমার থেকে অনেক দুরে আছি, বহু দুরে। দোয়া করি সব সময় সুখে শান্তিতে আর হাসি খুশি থাকো সারাজীবন। 

আর একটি অনুরোধ তোমার কাছে, যদি তোমার ভিতর সামান্ন পরিমাণ মানবতা থেকে থাকে তাহলে আমার বাচ্চাটার যত্ন নিও।প্লিজ

আর হ্যা কয়েকদিনের মধ্যে তোমার ডিবোর্স পেপার পেয়ে যাবে।

ভালো থেকো।

ইতি তোমার 

অবহেলিত স্বামী 

ফাহাদ।

চিটিঠি পড়ে মধু যে পরিমাণ খুশি হইছে, সুভাশ বিয়েতে রাজি হওয়াতেও এতো খুশি হয় নি। 

যাক এতো দিনে বজ্জাত টার পিছু ছুটছে।

মধু চিল্লায় চিল্লায় হাসতেছে।

মধুর হাসির শব্দ শুনে আংকেল ঘুম থেকে উঠে মধুর রুমে গেলেন।

ঃ কিরে কি হইছে তোর এতো রাতে উচ্চস্বরে হাসছিস কেন?

ঃআব্বু আজ থেকে আমি মুক্ত। ফাহাদ কে পিছু ছুটাতে পেরেছি। এখন মনের মধ্যে এক আলাদা অনুভুতি ফিল হচ্ছে।

ঃকি বলতে চাচ্ছিস তুই?

ঃওর সাথে আমি সংসার করতে অতিস্ট হয়ে উঠেছি তাই কিছুদিনের মধ্যে আমাদের ডিবোর্স হয়ে যাবে।

ঃঠাসসস ঠাসসস

ঃআমাকে মারলে তুমি?

ঃহ্যে মারলাম। জন্মের পর কখনো তোর গায়ে হাত তুলি নি।আজ তুলতে বাধ্য করেছিস তুই। যা চেয়েছিস তাই দিয়েছি। এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল।

তুই বিয়ে করা কি ছেলে খেলা ভেবেছিস। যে আজ ডিবোর্স হয়ে যাবে কাল আবার বিয়ে হয়ে যাবে।

আর তুই ভুলে যাস না তোর ভিতরে আরো একটি প্রান আছে। কিছুদিন পর তুই মা হতে চলছিস আর এখন তুই এই সিদ্ধান্ত নিবি আমি ভাবতেই পারিনি।

ঃআব্বু এতো কিছু আমি শুনতে চাই না। আমি আগামী মাসে সুভাশকে বিয়ে করবো ব্যাস।

ঃএই সুভাষ আবার কে?

ঃযাকে আমি ভালবাসি।

ঃতবে একটা কথা শুনে রাখ তোদের ডিবোর্স হয়ে গেলে তুই শুধু ফাহাদের থেকে আলাদা নয়, আমার থেকেও আলাদা হয়ে যাবি।

কথাটা মনে রাখিস।

এই বলে আংকেল রাগে নিজের রুমে চলে গেলেন।

আংকেল এর এতো কথা শুনার পরও মধু তার সিদ্ধান্তে অনড়।

পরদিন সে একটি হাসপাতালে গেলো।

ঃআপনার কি সমস্যা?

ঃজি আমি বাচ্চা এভ্রোশন করতে চাই।

ঃকয় মাসের।

ঃছয় মাসের

ঃসরি আমরা এসব পারবো না। আমরা ডাক্তার কোন খুনি হতে পারবো না।

তারপর মধু ডাক্তারকে অনেক টাকার লোভ দেখিয়ে রাজি করিয়ে নিলো।

ঃঠিক আছে আপনাকে কয়েকটি টেস্ট দিচ্ছি এগুলো করান। 

ঃঠিক আছে।

তারপর মধু কয়েকটি টেস্ট করলো।

ডাক্তার মধুকে কিছু ঔষধ লিখে দিয়ে বলল, 

এই ঔষধ গুলো খাবেন আর দুই দিন পরে আসবেন।

ঃঠিক আছে ডক্টর। 

দুই দিন পর মধু হাসপাতালে যাচ্ছে। বার বার ফাহাদের কথাটি মনে পড়ছে

"আমার বাচ্চাটার যত্ন নিও"

কিন্তু মধুর করার কিছু নাই। সুভাষ কে বিয়ে করতে হলে আমাকে এব্রোশন করতেই হবে।

মধু হাসপাতালে গেটের ভিতর ডুকছে।

তারপর ডাক্তারের কাছে গিয়ে সব কিছু শেষ করে মধুকে অপারেশন থিয়েটারের দিকে নেওয়া হচ্ছে।

!

!

waiting for next part.

1 Comments

Post a Comment
Previous Post Next Post