#লেখক: Osman
#পার্ট: ৪
__কিন্তু আজকা সুবর্ণা তাকে ইচ্ছা মতো ধুলায় দিয়েছে। পিচ্চি ছেলে কথা বলে বেশি । আরেকদিন সামনে পরোক আচ্ছা মতো আরো কিছুক্ষন ধুলায় দিবে । এমন সময় সুবর্ণার মা ঘরে প্রবেশ করলো সুবর্ণা খেয়াল করলো তার মার চোখে মুখে রাগের আগুন জ্বলছে।
মা: দিলিতো সব শেষ করে। দিলিতো সব শেষ করে।
সুবর্ণা: কি শেষ করলাম?
মা: এতো দিন তুই নিলয়ের জন্য তুই সব শেষ করে দিলি। কোনো লাভ হলো । আর তুই আমাদের মান সম্মান সব শেষ করে দিলি।
সুবর্ণা: নিলয় যে এতো বাটপারি চিটারি করবে আমার সাথে সেটা কি আমি জানতাম?
মা: তরে কতো বার বলছিলাম বিয়েটা করেনে। শুনলিনা আমার কথা । পাড়ার মানুষের সামনে মুখ দেখাবো কি করে ?
সুবর্ণা: আমার কিছু করার আছে এখানে।
মা: তুই কি করবি ? সব জ্বালা আমার। যদি আমার কথা মতো বিয়ে করতি তাহলে আজ এমন ভোগান্তি পোহাতে হতো না। আর যাতে নিলয়ের আশেপাশে তকে না দেখি। আল্লাহ আল্লাহ কর যাতে তরে কেও দেখতে আসে। সব শেষ করলি তুই।
__এই বলে সুবর্ণার মা বের হয়ে গেলো। সুবর্ণার মনটায় খারাপ হয়ে গেলো। ধুর ভালো লাগে না কিছু। যাই ছাদ থেকে ঘুরে আসি। ছাদে এসে এক কোনায় বসে মোবাইল টিপতাছে। এখন একটা সিগারেটকে অনেক মিস করতাছে সুবর্ণা। সাকিবের ফ্ল্যাটের দিকে তাকিয়ে দেখে । সাকিব বেলকনিতে বসে গিটার বাজাইতাছে । সাকিব সুবর্ণাকে দেখে চলে গেলো। সুবর্ণা হেঁসে শেষ। ছেলেটি মনে হয় সত্যি অনেক ভয় পায়ছে। সুবর্ণা বাসায় এসে ঘুমিয়ে যায়।
__আমি পরদিন সকালে কলেজে গেলাম। কলেজে গিয়ে সামির সাথে দেখা ।
আমি: কিরে খবর কি?
সামি: ভালো । চল ঐ যায়গায় বসি।
আমি: চল।
__আমি আর সামি এক সাথে বসে কথা বলেতাছি। এমন সময় দেখি সামির গার্লফ্রেন্ড আসছে। সাথে আরেকটি মেয়ে । আমাকে দেখে সালাম দিলো।
আমি সালামের উত্তর দিলাম। সামির গার্লফ্রেন্ড এর নাম জাকিয়া। জাকিয়া বলল..
জাকিয়া: সামি এ হলো নাদিরা। আমার কাজিন। সে এই কলেজে নতুন আসছে।
সামি: ভালো।
আমি: সামি তরা কথা বল আমি যাই।
সামি: আরে বসনা আমিও তো যাবো।
আমি: ওকে।
সামি আর জাকিয়া ওঠে চলে গেলো। একটু দুরে গিয়ে বসলো। নাদিরা বলল
নাদিরা: ভাইয়া বসতে পারি।
আমি: হুম বসেন । আমার একটু কাজ আছে আমাকে এখন যেতে হবে। এই সামি যাই। পরে কথা হবে।
__আমি রিকশা দিয়ে বাসায় আসতাছি। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলাম একটা ব্যাংক। মনে হলো আরে আমারতো কোনো ব্যাংক একাউন্ট নাই। যাই ব্যাংক থেকে ঘুরে আসি। রিকশা দাঁড় করিয়ে ব্যাংকে ঢুকে গেলাম। তাকিয়ে দেখি অনেক মানুষ কার কাছে যাবো। সামনে একজনকে বললাম।
আমি: ভাই আমি নতুন একটা ব্যাংক একাউন্ট খুলবো।
ভাই: তিন তলায় জমির ভাই এর সাথে দেখা করেন।
__আমি তিনতলায় এসে জমির ভাই এর টেবিল বের করলাম। দেখি অনেক মানুষ । কি করবো
আমি দুই একজনকে টপকিয়ে বললাম
আমি: ভাই নতুন একটা একাউন্ট খুলবো।
জমির ভাই: এখান থেকে চার টেবিল পরে।
__আমি তিনটা টেবিল পাস করে দেখলাম । চার নাম্বার টেবিলটা অনেক দুরে। কিন্তু টেবিলটা খালি।
আমি টেবিলের কাছে গিয়ে একটা চেয়ারে বসে পড়লাম। অনেক ক্ষন হয়ে গেলো কেও আসছেনা। ভাবলাম চলে যাই। চলে যাবো এমন একটা মেয়ে এসে বলল।
মেয়ে: কি লাগবে বলেন?
__আমি তাকিয়ে অবাক না হয়ে পারলাম। দেখি সুবর্ণা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে । এখন কি করবো? আমি চেয়ার থেকে উঠে চলে আসতে লাগলাম।
সুবর্ণা: ঐ দাঁড়া। কোথায় যাস এখানে আস।
__আমি আবার কাছে গেলাম। চেয়ারে বসলাম
সুবর্ণা: কি জন্য আসছত?
আমি: একটা একাউন্ট খুলবো । জমির ভাই পাঠায়ছে।
সুবর্ণা: কার জন্য ।
আমি: আমার জন্য।
সুবর্ণা: এইনে ফরম । আগামীকাল এটা পূরন করে নিয়ে আসবি।
আমি: রাখেন আপনার ফরম। আমি আর ব্যাংকের মুখই দেখবো না।
সুবর্ণা: তরে বলছিনা ফরম নিতি। ফরম পুরন করবি সাথে তর আইডি কার্ডের ছবি নিয়ে আসবি।
আমি: ওকে । এখন আমি যাই ।
__এই বলে সোজা আমি বাসায় চলে আসলাম। আগে যদি জানতাম এখানে সুবর্ণা চাকরি করে তাহলে সেখানে আমি জীবনেও যাইতাম না। এখন সামনে পরলে আবার একটা ঝামেলা করবে। আর ভুলেও সুবর্ণার সামনে পরা যাবে না। এভাবে অনেক দিন চলে গেলো । একদিন নিলয় ভাই এসে তার বিয়ের কার্ড দিয়ে গেলো। দেখি আর এক সপ্তাহ পর নিলয় ভাই এর বিয়ে । সুবর্ণা বেচারি মনে হয় কেঁদে কেঁদে শেষ ঠিকি আছে এটা তার প্রাপ্য আমাকে অনেক জালায়ছে। আমি বিকালে বেলকনিতে গিয়ে গিটার বাজাইতাছি । নিচে তাকিয়ে দেখি সুবর্ণা এসেছে । আমাকে লক্ষ্য করে বলল।
সুবর্ণা: কিরে কি করিস?
আমি: গিটার দেখিয়ে বললাম।
সুবর্ণা: পরে তুই আর ব্যাংকে যাস নাই কেনো?
আমি: আপনি ইতো বলছিলেন আপনার সামনে না পড়তাম।
সুবর্ণা: আরে মজা করছি।
আমি: মজা করছেন? সামনে পরলে পরে আবার মারতেন।
সুবর্ণা: আরে মারতাম না। তুই নিচে আয় তর সাথে
এক যায়গায় যাবো।
আমি: না আমি আপনার সাথে কোথাও যাবো না।
সুবর্ণা: না গেলে পরে খবর আছে।
আমি: ভালো হয়েছে আপনার সাথে কোথাও যাবো না।
সুবর্ণা: আয় প্লিজ ।
আমি: আসবো একটা শর্তে।
আমি: আমাকে মারতে পারবেন না।
সুবর্ণা: ওকে মারবো না।
আমি রেডি হয়ে নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। দেখি সুবর্ণা আসলো আমি বললাম।
আমি: কোথায় যাবেন আপু।
সুবর্ণা: চল দেখি কোথায় যেতে পারি।
__সুবর্ণা রিকশা ডাক দিতে যাবে আমি বললাম।
আমি: আপু আমি রিকশা দিয়ে যাবো না।
সুবর্ণা: তো কিভাবে যাবি।
আমি: হেঁটে যাবো।
সুবর্ণা: তুই এতোখানি রাস্তা হেঁটে যাবি।
আমি: আচ্ছা রিকশা দুইটা নেন।
সুবর্ণা: আমিতো দুইটায় নিতাম। তর মতো আবালের সাথে কে বসবে?
__সুবর্ণার এমন কথায় আমার মনের মধ্যে আঘাত লাগলো। আমার হাসি মুখটা কালো হয়ে গেলো। কথাটা অন্য ভাবে বলতে পারতো যেমন "ওকে তুই যখন আমার সাথে বসবি না তাহলে দুইটাই নে"। এভাবে কথাটা বলতে পারতো। মনটাই চাচ্ছে সুবর্ণার সাথে কোথাও না যাইতে। সুবর্ণা বলল
সুবর্ণা: কিরে যাবি নাকি। রিকশায় ওঠ।
__আমি রিকশায় উঠলাম । মনটায় চাচ্ছে না কোথাও যাইতে। কিছুক্ষণ চলার পর একটা ফোন আসলো। ধরে দেখি সামি।
সামি: কিরে তুই কই?
আমি: কেনো?
সামি: এলাকার পাশে একটা বাগান আছে না ঐখানে আস।
আমি: নারে দোস্ত আসতে পারবোনা।
সামি: আয়না বেটা অনেক মজা হবে । আমি আছি জাকিয়া আছে নাদিরা ও আছে ।
আমি: নারে দোস্ত এখন আসতে পারবো না। আমি এক যায়গায় যাইতাছি।
সামি: তুই কোথায় যাইতাছত?
আমি: জানিনা। একটু পরে ফোন কর।
আমি রিকশা থেকে নেমে সুবর্ণাকে জিজ্ঞেস করলাম।
আমি: আপু কোথায় যাইতাছেন?
সুবর্ণা: কেনো? তকে বলছিনা আমার সাথে আসতে।
আমি: না বলেন কোথায়?
সুবর্ণা: ঐযে সামনে বাগানে।
আমি: ওকে।
__সামিকে ফোন দিয়ে বলে দিলাম। আমি আসতাছি।তো সেখানে চলে আসলাম। দেখি সামিরা এক যায়গায় বসে আড্ডা দিতাছে। আমি সুবর্নাকে বললাম।
আমি: ঐযে আমার বন্ধুরা । আপনি একটু ঘুরেন আমি তাদের সাথে কথা বলে আসি।
সুবর্ণা: না ওদের সাথে পরে যাস। চল এদিকটা থেকে হেঁটে আসি।
আমি: প্লিজ আপু একটু দাঁড়ান। । তাহলে আপনিও চলেন।
সুবর্ণা: না আমি যাবো না। ২ মিনিটের ভিতর কাজ শেষ কর।
আমি: ওকে।
আমি সামিদের কাছে যাই। সামি বলল
সামি: দোস্ত আসছত বস।
আমি: নারে সুবর্ণা আপু আসছে। কি বলবি বল?
সামি: আরে তারে আবার নিয়ে আসতে গেলি কেনো?
আমি: সেইতো আমাকে এখানে নিয়ে আসলো।
সামি: তারে বল চলে যেতে ।
আমি: পাগল নাকি। পরে আমার খবর আছে।
নাদিরা: প্লিজ ভাইয়া থাকেন না।
সামি: নাদিরা ঠিকই বলছে।
আমি: নারে দোস্ত আমি তদের সাথে পরে দেখা করবো।
__এই বলে আমি চলে আসলাম। সুবর্ণার কাছে। সুবর্ণা বলল
সুবর্ণা: চল ঐ দিকটায় যাই।
আমি: ওকে চলেন
আমরা দুজন হেঁটে সামনে গেলাম । দেখি আইসক্রিম এর দোকান। আমি সেখান থেকে গিয়ে আইসক্রিম আনলাম। সুবর্ণাকে একটা দিলাম। সুবর্ণা বলল
সুবর্ণা: চল ঐখানে গিয়ে বসি।
আমি: ওকে ।
__আমি আর সুবর্ণা গিয়ে বসলাম এক যায়গায়। আমি অনেকক্ষানি দুরে বসলাম। সুবর্ণা বলল
সুবর্ণা: তুই কি আমাকে ভয় পাস?
আমি: হুম অনেক।
সুবর্ণা: ভয় পাবি কেনো? আমি কি বাঘ না ভাল্লুক।
আমি: না আপনি অনেক রাগী । তাই আপনাকে অনেক ভয় করে।
সুবর্ণা: আরে না।
আমি: হুম।
সুবর্ণা: আসলে তকে অনেক মারছি । অনেক মারছি সে জন্য সরি।
__আমি কিছু বলতে যাবো। পিছন থেকে নাদিরা বলল
নাদিরা: সাকিব ভাইয়া আপনার সাথে কথা ছিলো?
আমি: আমার সাথে?
নাদিরা: হুম।
আমি: আপু একটু বসেন। আমি আসতাছি।
__আমি ওঠে নাদিরার সাথে গেলাম।
আমি: কি বলবা বলো?
নাদিরা: আপনাকে অনেক আগেই বলতে চাচ্ছিলাম
এই কথাটা । কিন্তু সাহস হচ্ছিলো না।
আমি: বলেন?
নাদিরা: আমার আপনাকে ভালো লাগে ।
চলবে....
পাঠক-পাঠিকারা আমরা তোমাদের জন্য গল্প লেখি।
গল্পের এক পার্ট লেখতে আমাদের ২-৩ ঘন্টা চলে যায় । আর তোমাদের একটা রিয়েক্ট দিতে এক সেকেন্ড লাগবে। তাই কেউ রিয়েক্ট না দিয়ে যাবেন না। আর ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।
ভুল ক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
❤️❤️❤️💯
ReplyDelete