#লেখক: Osman
#পার্ট: ৫
নাদিরা: আপনাকে অনেক আগেই বলতে চাচ্ছিলাম
এই কথাটা । কিন্তু সাহস হচ্ছিলো না।
আমি: বলেন।
নাদিরা: আমার আপনাকে ভালো লাগে ।
__আমি এমন কথা শুনে আমি অবাক হয়ে যাই। এই পর্যন্ত আমাকে কেউ বললো না আমাকে ভালো লাগে কিংবা আমাকে পছন্দ করে। আজ এমন কথা শুনে সত্যি অবাক লাগছে। আর নিজেকে সত্যি ভাগ্যমান মনে হচ্ছে । নাদিরা খুব সুন্দরী। আমি মনে মনে এমন একটা মেয়ে চাচ্ছিলাম আমি বলল।
আমি: ভালো । এই প্রথমবার এমন কথা শুনে ভালো লাগছে।
নাদিরা: প্লিজ আপনার নাম্বারটা দেন।
মোবাইল দিয়ে বলল । আমি মোবাইল এর মধ্যে আমার নাম্বার দিয়ে দিলাম।
নাদিরা: প্লিজ কল ধইরেন।
আমি: ওকে ।
নাদিরা: তাহলে আমি যাই।
আমি: সাবধানে যাইয়ো।
নাদিরা: হুম। আপনিও
নাদিরা চলে গেলো। এতক্ষন সুবর্ণার কথা মনেয় ছিলো না। চেয়ে দেখি সুবর্ণা বসে আছে। আমি গিয়ে বললাম।
আমি: আপু চলেন বাড়ি যাই।
সুবর্ণা: ঐ মেয়েটা কি বলছে?
আমি: তেমন কিছু না।
সুবর্ণা: বল।
আমি: আসলে কি জানেন আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ে আমাকে লাইক করেনি। এই প্রথম কোনো মেয়ে আমাকে পছন্দ করছে।
সুবর্ণা: পছন্দ করছে। 😁😁 তর মতো আবাল বোকারে কে পছন্দ করছে? ঐ মেয়েটা? ঐ মেয়েটার কোনো রুচিই নাই।
আমি: একটু বেশি বলে ফেলছেন না।
সুবর্ণা: আসলে তুই যেমন আবাল তর কপালে এমন আবালই জুটবে। দে তর মোবাইলটা দে ?
আমি: ধুর আপনার সাথে আর কথায় বলবো না।
আমি যাই।
সুবর্ণা বসা থেকে উঠে বলল। আর এদিকে সন্ধ্যা হয়ে গেছে।
সুবর্ণা: দাঁড়া আমিও যাবো।
আমি: না আমি আপনার সাথে যাবো না।
সুবর্ণা: ওকে তুই যাস না। কিন্তু তর মোবাইলটা দিয়ে যা ।
আমি: আমি কেনো আপনাকে আমার মোবাইল দিতে যাবো।
সুবর্ণা: আরে আজকে রাতের জন্য। তার বদলে তুই আমার মোবাইলটা নিয়ে যা।
আমি: জীবনে ও না। পরে একটা পেচে ফেলে আবার আমাকে মারতেন। আমি নাই।
সুবর্ণা: আরে না। সত্যি বলছি।
আমি: আমার মোবাইল নিয়ে আপনি কি করবেন?
সুবর্ণা: তেমন কিছু না। শুধু তর পিচ্চি গার্লফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলবো।
আমি: পরে একদিন নিয়ে আসলে ইচ্ছা মতো কথা বইলেন।
সুবর্ণা: আমি এতো কিছু জানিনা। তর মোবাইল আমার লাগবে। আর এখন তুই দিবি।
আমি: না দিবো না।
সুবর্ণা: ওকে তকে দেখে নিবো।
আমি: দেইখেন আমি গেলাম।
সুবর্ণা: ঐ রিকশা।
আমি আশেপাশে চেয়ে দেখি রিকশা একটা আর কোনো রিকশা নেই । রিকশা ধরতে গেলে প্রায় অনেক্ষানি পথ হেঁটে যেতে হবে। আমি ভাবলাম গেলে যাবো হেঁটে । প্রোবলেম কি? সুবর্ণা বলল।
সুবর্ণা: কিরে রিকশাতো একটাই । তুই যাবি কি করে?
আমি: আপনি যান। আমি আসবোনে আমার টেনশন আপনাকে করতে হবেনা।
সুবর্ণা: কেনো আমার সাথে আস?
আমি: মরেও গেলেও না।
রিকশা ওয়ালা: আরে মামা চলেন।
আমি: মামা আপনি আপুকে নিয়ে যান। আমি আসতাছি।
সুবর্ণা: যাহ তুই না আসলে আমার কি? ঐ মামা চলেন।
দেখি সুবর্ণা চলে যাচ্ছে। একটু সামনে গিয়ে রিকশা দাড় করালো । সুবর্ণা রিকশা থেকে নেমে সোজা আমার কাছে আসলো । আমার হাত ধরে টানতে টানতে রিকশার কাছে নিয়ে গেলো বলল।
সুবর্ণা: ওঠ রিকশায় ওঠ।
আমি: না আমি ওঠবো না।
সুবর্ণা: মাইর খাওয়ার আগে ওঠ।
আমি ভাবলাম নিশ্চয় না উঠলে চড় মেরে বসবে । তার চেয়ে ভালো ওঠে যাই। আমি রিকশায় উঠে পড়লাম। সুবর্ণা আমার পাশে ওঠে পড়লো একজনের শরীর আরেক জনের সাথে ধাক্কা লাগছে। আমি সুবর্ণার মুখের দিকে তাকালাম। দেখি সুবর্ণা জিনিসটা এনজয় করছে। আমি ভাবলাম ওর যদি কোনো প্রোবলেম না থাকে। তাহলে আমার কি প্রোবলেম। আমিও এনজয় করি। যখন আমরা এলাকায় ঢুকি সুবর্ণা বলল।
সুবর্ণা: মামা রিকশা দাঁড় করান।
আমি: রিকশা দাঁড় করান কেনো?
সুবর্ণা: এলাকায় ঢুকসত। এখন আমাকে আর তকে যদি এভাবে কেউ দেখে । তাহলে তর বারোটা বাজবে আমারো বারোটা বাজবে।
আমি: কি বারোটা বাজবে?
সুবর্ণা: ইস নেকা যেনো কিছু বুঝে না। নাম রিকশা থেকে। আরেক রিকশা নিয়ে আয়।
__আমি নেমে আরেক রিকশা নিয়ে বাড়িতে আসলাম। এসে পড়াত বসলাম। সামনে পরীক্ষা সব সময় রেজাল্ট খুব ভালো হয় না মোটামুটি হয় । আর অপেক্ষা করতে লাগলাম কোন সময় নাদিরা ফোন দেয়। সুবর্ণার সাথে আজকে একসাথে এক রিকশায় বসলাম । এখানে আমার কোনো দোষ ছিলো না। বিপদে পড়ে এমন হয়েছে। আমার তেমন কোনো ইচ্ছায় ছিলোনা। আমি পড়াত মন দিলাম। কে জানি দরজায় কলিং দিলো। মা গিয়ে দরজা খুলল।
__সুবর্ণার মনটা একটু ভালো না। আর কয়েক দিন পর নিলয়ের বিয়ে। নীলয়ের বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো সুবর্ণার সাথে ঐ বিয়ে হচ্ছে আরেকজনের সাথে এমন কথা ভাবতেই ভিতরটা কেঁপে ওঠে সুবর্ণার। ঐদিন রাতে সুবর্ণার মা ঘরে আসে । সুবর্ণার মা এসে বলে।
মা: কিরে এখন কি করবি? নিলয়তো বিয়ে করে ফেলতাছে।
সুবর্ণা: আমি করবো কি?
মা: তর বাবাকে রাস্তায় মানুষ জিজ্ঞেস করে তর বিয়ের কথা।
সুবর্ণা: সব দোষ নিলয়ের।
মা: সব দোষ তর আর তর বাবার। তুই যদি আমার কথা মতো বিয়ে করতি। তাহলে এমন হতো না। মেয়ের সাথে সাথে সাথে বাপেও তাল দিয়েছে। এখন বুঝো।
এমন সময় আব্বা ঘরে ঢুকে। মাকে বলে চলে যেতে।
আব্বা বলে।
বাবা: কিরে তর জন্য ছেলে দেখতাছি। তর কি পছন্দের কেও আছে?
সুবর্ণা: না আব্বা।
বাবা: আমি কি তর জন্য ছেলে দেখবো।
সুবর্ণা: না আব্বা আপনি আমাকে কিছুদিন সময় দেন। পরে আমি আপনাকে জানাই তাছি।
আব্বা: তরে এক মাস টাইম দিলাম। এক মাসের মধ্যে তুই কাকে বিয়ে করবি আমাকে জানা।
সুবর্ণা: ঠিক আছে আব্বা।
আব্বা: এক মাস পর । আমি যাকে বলবো তাকেই বিয়ে করতে হবে।
সুবর্ণা: ঠিক আছে আব্বা।
__এই বলে আব্বা চলে গেলো। এখন সুবর্ণা পাগলের মতো ছুটতাছে । কিন্তু কাউকে পায় না। একটা সময় ছিলো সুবর্ণার জন্য কতো ছেলে পাগল ছিলো নিলয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সবাইকে ইগনোর করেছে। সেই নিলয় কুত্তার বাচ্চা এখন অন্যাকে বিয়ে করতাছে। সুবর্ণা একজনকে পাইছে সেটা আর কেউ না সেটা হলো সাকিব। সাকিবকে যদি ভালো করে দেখে তাহলে সাকিব ভদ্র হ্যান্ডসাম । সব দিক দিয়ে পারফেক্ট । সমস্যা একটা সেটা হলো বয়সে ছোট। কিন্তু সে কি সুবর্ণাকে ভালোবাসবে । ধুর কোনো মতে বিয়ে করতে পারলেই হবে। ভালোবাসবে না তার কাছ থেকে ভালোবাসা আদায় করবো। এখন কাজ শুধু সাকিবকে লাইনে আনা।
আজকে ঠিক করলো সাকিবকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাবে। সেখানে গিয়ে দেখে এক মেয়ে এসে বলে সাকিবকে ভালোবাসে। এই মেয়ের বিচার করতে হবে। তাই বলেছিলো সাকিবের মোবাইল দিতে। কিন্তু সাকিবতো দিবে না। আর সুবর্ণা ও নাছড়বান্দা। রাতে গিয়ে সাকিবের বাসায় নক করলো। দুইবার নক করার পর সাকিবের মা এসে দরজা খুলল সুবর্ণা বলল।
সুবর্ণা: আন্টি আসসালামুয়ালাইকুম। কেমন আছেন?
সাকিবের মা: অলাইকুম আসসালামুয়ালাইকুম । তুমি যেনো কে? মনে পড়ছে তুমি সুবর্ণা।
সুবর্ণা: জী আন্টি আমি সুবর্ণা।
সাকিবের মা: ভিতরে এসো মা।
সুবর্ণা ভিতরে গেলো। দেখে সাকিবের মা রান্না করছে সুবর্ণা বলল।
সুবর্ণা: আন্টি মরিয়ম কোথায়?
আন্টি: ঐ রুমে।
সুবর্ণা প্রথমে মরিয়মের রুমে গেলো। মরিয়ম সুবর্ণাকে দেখেই দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো। মরিয়ম: সুবর্ণা আপু তুমি আসছো। আমিতো বিশ্বাসই করতে পারছি না।
সুবর্ণা: হুম। তুমি কেমন আছো?
মরিয়ম: জী আপু অনেক ভালো।
সুবর্ণা: দেখি তুমি কি করতেছো?
মরিয়ম সুবর্ণাকে অনেক গুলো ফুল দেখালো। যেগুলো মরিয়ম নিজের হাতে বানিয়েছে। তারপর কিছু বই দেখালো যেগুলো সে পরছে। আরো অনেক কিছু দেখালো শেষমেশ পরিক্ষার কিছু সাজেশন দিয়ে সুবর্ণা মরিয়মের রুম থেকে এসে সাকিবের মার কাছে এসে দেখে সাকিবের মা রান্না করছে। সুবর্ণা গিয়ে সাকিবের মাকে হেল্প করতে লাগলো।
সাকিবের মা: আরে কি করতেছো দেও আমি করি।
সুবর্ণা: আন্টি নুডলুস আমি খুব ভালো রান্না করতে পারি।
সাকিবের মা: আরে তুমি করতে যাবে কেনো ? তুমি আসছো আমাদের মেহমান ।
সুবর্ণা: আন্টি লজ্জা দিয়েন না। আপনি তো আমার মায়ের মতো। আপনাকে সাহায্য করা আমার কর্তব্য।
সাকিবের মা: মা তুমি যেনো কি করো?
সুবর্ণা: আন্টি আমি ব্যাংকে চাকরি করি।
সাকিবের মা: খুব ভালো। আর আমার পোলায় সারাদিন ঘুরে খায় । আর পরিক্ষায় ফেল করে
সুবর্ণা': সাকিবের কথা বলেন। ওতো খুব ভদ্র। আমার সাথে খুব ভালো ব্যাবহার করে।
সাকিবের মা: যাও এই নুডলুসটুকু সাকিব কে দিয়ে আসো। আর এটা মরিয়মকে।
সুবর্ণা: আন্টি আংকেল বাসায় নাই।
সাকিবের মা: না এখনো আসেনি
সুবর্ণা: ওহ ওকে । দিন আমাকে দিন ।
সুবর্ণা মরিয়মকে দিয়ে। সাকিবের ঘরে গিয়ে টুকা দিলো।
চলবে....
পাঠক-পাঠিকারা আমরা তোমাদের জন্য গল্প লেখি।
গল্পের এক পার্ট লেখতে আমাদের ২-৩ ঘন্টা চলে যায় । আর তোমাদের একটা রিয়েক্ট দিতে এক সেকেন্ড লাগবে। তাই কেউ রিয়েক্ট না দিয়ে যাবেন না। আর ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।
ভুল ক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
❤️💯
ReplyDelete