গল্পঃ পাশের বাড়ির বড় আপু পার্ট: ০৬ | Pasher Barir Boro Apu Part 06

গল্পঃ পাশের বাড়ির বড় আপু পার্ট: ০৬ | Pasher Barir Boro Apu Part 06

#নাম: পাশের বাড়ির বড় আপু
#লেখক: Osman
#পার্ট: ৬

সুবর্ণা: আন্টি আংকেল বাসায় নাই।
সাকিবের মা: না এখনো আসেনি ‌
সুবর্ণা: ওহ ওকে । দিন আমাকে দিন ।
সুবর্ণা মরিয়মকে দিয়ে। সাকিবের ঘরে গিয়ে টুকা দিলো।

__আমি ভাবতাছি কে আসলো? কন্ঠ চেনা চেনা লাগতাছে। ধুর সেসব দেখে লাভ নাই। আমার পড়া আমি পড়ি। একটু পর কে জানি দরজায় টোকা দিলো আমি বললাম।

আমি: ভিতরে আসেন।

ভিতরে দেখি সুবর্ণা প্রবেশ করলো। সুবর্ণাকে দেখে আমি অবাক আমি বললাম।

আমি: আপনি এখানে?

সুবর্ণা: চুপ । এইনে নুডলুস খাঁ।

আমি: খাবো না। 

সুবর্ণা: আমি দিছি না । তর মা দিছে।
 
আমি: আপনি আমাদের বাসায় কি করছেন?

সুবর্ণা: এসেছি তর মার সাথে কথা বলতে।

আমি: মার সাথে কি বলবেন?

সুবর্ণা: বলবো তুই আজকে একটা মেয়ের থেকে প্রোপোজ পাইছত। এবং তর নাম্বার নিয়েছে । তরা আজকে রাতে কথা বলবি। আর বানিয়ে বলবো
তুই মেয়েকে কিস করছত। তরা একসাথে অনেক যায়গায় যাওয়ার প্লেন করছত।

__এমন কথা শুনে আমি স্তম্ভিত। সুবর্ণা বলে কি?

আমি: আপনি কি চান?

সুবর্ণা: তর মোবাইল। 

__আমি হেসে বললাম।

আমি: এটা আমাকে আগে বললে হতো না । এজন্য এসব মাকে বলতে যাবেন কেনো?

সুবর্ণা: তর মোবাইল রেডি কর। আমি যাওয়ার সময় নিয়ে যাবো।

আমি: কিন্তু আপনিও তো বলছিলেন । আপনার মোবাইলটা আমাকে দিবেন।

সুবর্ণা: এইনে ধর। লক 2580। 

আমি: হুম। 

সুবর্ণা: নুডলুস খাঁ। 

আমি: ওকে। 

__এই বলে সুবর্ণা চলে গেলো। কিন্তু আমার ভিতর থেকে ভয় যাচ্ছে না। যদি বলে দেয় সুবর্ণা মাকে। তাহলে আব্বার কানে গেলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিবে এমনিতেই পরিক্ষার রেজাল্ট ভালো না। আবার যদি শুনে আমি এগুলো করি। আমি আড়ি পেতে শুনতে লাগলাম সুবর্ণা মাকে কি বলে?
দেখি সুবর্ণা আর মা একসাথে বসছে নুডলুস খাওয়ার জন্য। মা সুবর্ণাকে বলল

মা: শুনছিলাম নিলয়ের সাথে তোমার বিবাহ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু নিলয়ের বিয়ের কার্ডে দেখলাম অন্য কেউ। 

এই কথা শুনে সুবর্ণা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠলো। 
আর কেঁদে কেঁদে বলতে লাগলো।

সুবর্ণা: আন্টি আমি কি ভুল করেছিলাম? নিলয় আমার সাথে কি করে এমনটা করতে পারলো।

মা: আরে কেঁদো না। কেঁদো না। 

__এই বলে মা সুবর্ণাকে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দিতে লাগলো। 

সুবর্ণা: আন্টি আমি কি দোষ করেছিলাম?

__সুবর্ণা কেঁদেয় চললো । সুবর্ণার চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগলো। সুবর্ণার কষ্ট দেখে আমার অনেক খারাপ লাগলো। আসলে সুবর্ণা অনেক কষ্টে আছে। 
আর চারদিন পর নিলয় ভাই এর বিয়ে। সেই দিন সুবর্ণা কি করবে যদি কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেলে। 

মা: জানি মা তোমার কোনো দোষ নেই। আসলে নিলয় তোমাকে বুঝতে পারেনি।

__মার শান্তনা দেওয়াতে । সুবর্ণা কান্না থামালো। এমন সময় দরজায় কলিং দিলো। মা গিয়ে দরজা খুললো। দেখি আব্বা আসছে। আব্বাকে দেখে সুবর্ণা মাথায় কাপড় দিলো । আর সালাম দিলো। আব্বা বললো

আব্বা:  তুমি যেনো কে?

মা: ও পাশের বাড়ির সুবর্ণা।

আব্বা: তুমি কেমন আছো?

সুবর্ণা: জী আংকেল ভালো।

আব্বা: খাওয়া দাওয়া করছো?

সুবর্ণা: জী আংকেল ।

আব্বা: কী খাওয়া দাওয়া করছো। আমাদের সাথে ডিনার করে যাবে। 

সুবর্ণা: জীনা আংকেল আমি খেয়েছি। 

আব্বা: সাকিবের মা ডিনার রেডি করো। তুমি খেয়ে যাবে। 

মা: মা তুমি এসো আমাদের সাথে।

সুবর্ণা মার সাথে রান্না ঘরে চলে গেলো। ঐখান থেকে কথা তেমন আসে না। এরপরে শুনা যাচ্ছে ।
সুবর্ণা বলছে।

সুবর্ণা: দেন আন্টি আমি করি।

মা: তুমি করতে যাবে কেনো? তুমি আসো গিয়ে সাকিবের পড়াতে একটু সাহায্য করো। 

সুবর্ণা: দেন আন্টি আমি এটা করে যাই।

__আমি ভাবলাম সুবর্ণা তাহলে আমার রুমে আসবে। 
আমি সুবর্ণার মোবাইল টিপতে লাগলাম। ওরা ধুরা কতক্ষন ছবি তুললাম। সুবর্ণার মোবাইল আমার থেকে অনেক ভালো আর দামি। এমন সময় সুবর্ণা ঘরে প্রবেশ করলো বলল।

সুবর্ণা: কিরে পড়ালেখা কেমন চলছে?

আমি: ভালো।

সুবর্ণা: ভালো না ছাই।

আমি: আপু আপনার মোবাইলের সাথে আমার মোবাইল চেন্জ করবেন।

সুবর্ণা: আমার মোবাইল তর পছন্দ হয়েছে?

আমি: হুম। 

সুবর্ণা: যাহ আজ থেকে আমার মোবাইল তর।

আমি: সত্যি।

সুবর্ণা: হুম। 

আমি: আরে মজা করছিলাম। আমার এতো লোভ নাই।

সুবর্ণা: তুইনা বলে ব্যাংক একাউন্ট খুলবি।

আমি: ইচ্ছা ছিলো । কিন্তু আপনিতো আমাকে মেরেই ফেলতেন। যদি আপনার সামনে পরতাম।

সুবর্ণা: হ তরে বলছে। দে তর ফরমটা। 

__ফর্মটা নিয়ে কি জানি করলো? আর বলল আইডি কার্ডের ফটোকপি দিতাম। ফর্মটা নিয়ে আর কলম‌ নিয়ে মোবাইল নিয়ে মার কাছে গেলো। কিছুক্ষণ পর ফিরে আসলো বলল.

সুবর্ণা: তুই কিছুদিন পর গিয়ে ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে আসবি। 

আমি: ওকে  আপু। 

সুবর্ণা: দেখি তুই কি পড়াশোনা করতাছত?

__সুবর্ণা আমার বই নিয়ে দেখতে লাগলো। সুবর্ণা এটা সেটা জিজ্ঞেস করতে লাগলো। আমি সুবর্ণার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আসলে সুবর্ণা অনেক সুন্দরী। কেনো জানি মনে হচ্ছে সুবর্ণার মতোই একটি মেয়ে আমি খুঁজতে ছিলাম। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক মুখে তেমন মেকাপের ছোঁয়া নাই। তেমন মোটা না আবার তেমন চিকন ও না। বলা যায় মাঝামাঝি। বয়সের তুলনায় একদম পারফেক্ট। কিন্তু সমস্যা একটা রয়েই যায়। আমার থেকে বড় যদি ভালোবাসার কথা বলি । না জানি আমাকে খুন করে ফেলে। তারচেয়ে ভালো সেই মিষ্টি মেয়ে নাদিরার সাথে প্রেম করা। 

সুবর্ণা: কিরে আমার দিকে তাকিয়ে কি ভাবতাছত?

আমি: না ভাবতাছি আপনি অনেক সুন্দরী।

সুবর্ণা: কি বললি আবার বল।

আমি: কিছু না।

__সুবর্ণা বসা থেকে উঠে । আমার কাছে আসলো। বলল।

সুবর্ণা: এবার বল।

__ আমি আপুর কানের কাছে গিয়ে বললাম।

আমি: আপু আপনি অনেক সুন্দরী।

__এই বলে আমি দৌড় দিয়ে বাথরুমে চলে গেলাম। কিছুক্ষণ পর বের হলাম। দেখি মা ডাকছে খাওয়ার জন্য। আমরা সবাই মিলে ডিনার করলাম সাথে সুবর্ণাও। ডিনার শেষ করার পর। আব্বা বলল সুবর্ণাকে বাসায় দিয়ে আসতে। আমি আর সুবর্ণা লিফটে উঠলাম। লিফটে ওঠে  সুবর্ণা বলল।

সুবর্ণা: আসলে আমি একটু ও সুন্দরী না। যদি এতই সুন্দরী হতাম তাহলে নিলয় কেনো আমার সাথে এমন করবে কেনো?

আমি: তা জানিনা। 

সুবর্ণা: দে তর মোবাইল দে।

__আমি আমার মোবাইল দিয়ে দিলাম। আমি সুবর্ণাকে বাসায় দিয়ে আসলাম। বাসায় এসে শুয়ে শুয়ে সুবর্ণার ফেসবুক আইডি দেখতেছিলাম।  দেখি তার সিগারেট খাওয়া ছবি গুলো। কোনো কিছুই না ভেবে সবগুলো ছবি ডিলিট করে দিলাম। না জানি পরে কি করে। ধুর দেখা যাবে। সুবর্ণা মোবাইল নিলো কি জন্য?  সেটাইতো বুঝলাম না। রাতেতো নাদিরার ফোন দেওয়ার কথা। তাহলে কি নাদিরার সাথে কথা বলার জন্য নিয়েছে। ঘুমাই সকালে ঘুম থেকে উঠে কলেজে গেলাম। গিয়ে সামির সাথে দেখা। সামি বলল।

সামি: তর মোবাইল সুবর্ণার কাছে দিয়েছত কেনো?

আমি: আমি দিতে চাইনি জুড় করে নিয়েছে। তুই জানলি কি করে ?

সামি: জানবো না। রাতে নাদিরা তর মোবাইলে ফোন দিয়েছিলো। পরে সুবর্ণা ধরছে । ধরে নাদিরাকে অনেক বাজে কথা বলছে। বলছে যদি তর আশেপাশে তারে দেখে তার খবর আছে। মেয়েটি খুব আশা করে তকে বলেছিলো।

আমি: আমি যদি জানতাম এরকম কিছু হবে । তাহলে জীবনেও দিতাম না। আর সুবর্ণা আমাকে ট্রেট দিয়েছে। যদি মোবাইল না দেই । তাহলে বলে দিবে আমার আর নাদিরার কথা।

সামি: কি বলবে। তদের তো আগামীকাল দেখাই হলো আর প্রথম কথা বললি।

আমি: সুবর্ণাকে তুই চিনিস না। ও বানিয়ে বানিয়ে কতো কিছু বলতো।

সামি: দেখ কখন থেকে কাঁদতাছে।।

__দেখি সত্যিই সত্যিই নাদিরা কাঁদতাছে। তার কাঁদা দেখে আমারও খারাপ লাগছে। 

আমি: এখন আমি কি বলবো?

সামি: তুই গিয়ে সরি বল। 

আমি: ওকে সরি বলবো। কিন্তু তুই নাদিরাকে বলে দিস। ও যেনো আমাকে আর না কল দেয়।

সামি: ওকে বলে দিবো। তুই এখন গিয়ে সরি বল।

__আমি গিয়ে নাদিরার কাছে সরি বললাম। সুবর্ণা কাজটা কি করলো? মেয়েটির সাথে কি বাঝেই ব্যাবহারটায় না‌‌ করলো। আমি রিকশা দিয়ে আসার সময় দেখি সুবর্ণা তার ব্যাংকের সামনে বসে আছে।
আমি কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।

চলবে.....

পাঠক-পাঠিকারা আমরা তোমাদের জন্য গল্প লেখি।
গল্পের এক পার্ট লেখতে আমাদের ২-৩ ঘন্টা চলে যায় । আর তোমাদের একটা রিয়েক্ট দিতে এক সেকেন্ড লাগবে। তাই কেউ রিয়েক্ট না দিয়ে যাবেন না। আর ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।
ভুল ক্রটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

1 Comments

Post a Comment
Previous Post Next Post